শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০, ০৫:৩০ অপরাহ্ন

আবারোও মাদরাসার ছাত্রদের নাম ভাঙ্গিয়ে বিদেশে অর্থ বানিজ্যের ভয়ংকর তথ্য ফাঁস

আবারোও মাদরাসার ছাত্রদের নাম ভাঙ্গিয়ে বিদেশে অর্থ বানিজ্যের ভয়ংকর তথ্য ফাঁস

ষ্টাফ রিপোর্টার , তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম | আবারো টঙ্গীর ময়দানে মাদরাসার ছাত্র হতাহতের গুজব ছড়িয়ে বিদেশ থেকে টাকা কালেকশনে নেমেছেন ঢাকার কথিত জমহুর আলেমগণ। এর আগে ২০১৩ সালে হেফাজতের আন্দোলনের সময় হতাহতের গুজব রটিয়ে কোটি কোটি টাকা বিদেশ থেকে চাঁদা তুলে এনে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছিল অনেক হেফাজতী আলেমদের উপর।

গতমাসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শুকরিয়া মাহফিলে ৫মে শাপলা চত্ত্বরে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, এটা নিরবে আলেমরা স্বীকার করেছেন। কিন্তু তখন আজকের টঙ্গীর ছাত্রদের হতাহতের গুজবের মতোই সেদিন মিথ্যা রটনার পেছনে মূলত বানিজ্যিক উদ্দেশ্যই বিদ্যমান ছিল। কথিত শাপলা শহীদদের নাম ভাঙ্গিয়ে ও আহত মাদরাসার ছাত্রদের চিকিৎসার নামে তখন ইউরোপ আমেরিকা ও মধ্যপাচ্য থেকে কোটি কোটি টাকা কালেকশন করে অনেক হেফাজত নেতার গাড়ী-বাড়ির মালিক হওয়ার কথাও মিডিয়াতে এসেছে।

একই কায়দায় পুরানো বানিজ্যিক পথে এবারো হাটছেন সেই পুরানো রক্তের সওদাগররা। টঙ্গীর ময়দানে তাবলীগের সাথীদের সাথে মাদরাসার ছাত্রদের সংঘর্ষের ঘটনাকে নানান গুজব ও রটনায় ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে সারা দুনিয়াতে প্রচার করা হচ্ছে একই ধান্ধায়। সারাদেশে রঙ্গ-বেরঙ্গের কথিত ফাঁসির পোষ্টারিং করে বিষয়টিকে একই উদ্দেশ্যে বড় করে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে।

মিথ্যা বানোয়াট পুরানো ছবি দিয়ে কোটি কোটি টাকায় চার কালারের যে রঙ্গীন পোষ্টারিং করা হচ্ছে, এর চেয়ে অনেক কম টাকাতেই আহত ছাত্রদের চিকিৎসা হয়ে যেত বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তখনো মাদরাসার ছাত্রদের নামে কোটি টাকার বানিজ্য ও বিদেশী চাঁদা থেকে হেফাজতের আহত ছাত্ররা কোন অংশ যেমন পায় নি, এবারো কতটুকো পাবে সে প্রশ্ন এখন সবার মাঝে। অনেক অভিভাবকই মনে করছেন, কতিপয় স্বার্থপর আলেমদের মাদরাসার ছাত্রদের সংঘাতময় কাজে ব্যবহারের পিছনে মূলত এরকম নানান ধান্ধা ও বানিজ্যিক চিন্তা তাদের সামনে থাকে।

গত কয়েকদিন আগে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া পাকিস্তান শুরাপন্থী তাবলীগের মুরুব্বী মাওলানা জুবায়েরের শ্যালক ও তার ডানহাতখ্যাত মাওলানা আবু উবায়দার একটি ফোনালাপ ভাইরাল হয়। এতে দেখা যায়, একজন প্রবাসীর কাছে টঙ্গীতে আহত মাদরাসার ছাত্রদের নানান মিথ্যা বর্ণনা দিয়ে সারা বিশ্বে এর জন্য চাঁদা কালেকশনের কথা বলা হচ্ছে। এবং সেই প্রবসীকে নিজের ব্যাংক একাউন্ট ম্যাসেজে দেয়ার কথা শোনা যায়। তাছাড়া সম্মিলিতভাবে ছাত্রদের নামে বিদেশ থেকে টাকা তোলার কথাও তার ফোনালাপে ফুটে উঠে।

একই ধরনের ঘটনা ২০১৩ সালের হেফাজতের সময়ও কিছু আলেম লন্ডনসহ নানান দেশে গিয়ে চাঁদা করেছেন। এ বিষয়ে তখনকার সময় আহত ছাত্রদের চিকিৎসার জন্য ইউরোপে টাকা কালেকশনের একটি বর্ণনা এভাবেই সুলেখক সৈয়দ মবনু লিখেছিলেন, “জুনায়েদ আল হাবিব যেদিন লন্ডন থেকে আমার সাথে বার্মিংহাম আসেন সেদিন থেকে মূলত তাঁর প্রতি আমার হৃদয়ে ঘৃণা। আমি এবিষয়ে সাথে সাথে ফেইসবুকে লিখেছিও। ঘটনাটা বলি, আমি লন্ডন থেকে বার্মিংহাম ফিরছি, নিজে ড্রাইভ করে। আমার এক আত্মীয় যার কাছে মেহমান হয়েছেন জুনায়েদ আল হাবিব, তিনি আমাকে অনুরোধ করলেন যদি দয়া করে আমি জুনায়েদ আল হাবিবকে আমার সাথে বার্মিংহাম নিয়ে যাই তবে তারা কৃতজ্ঞ হবেন। আমি একাই যাচ্ছিলাম, গাড়িতে আরও চারটা সিট খালি। তিনি যেতে তো আপত্তি নেই। তবে একটু অসুবিধা ছিলো আমি পথে লুটনে উঠবো যুক্তরাজ্য জমিয়ত নেতা লুটন ব্যারিপার্ক ইসলামিক সেন্টারের প্রধান এবং জামে মসজিদের খতিব শ্রদ্ধেয় মুফতি আব্দুল হান্নান সাহেবের সাথে দেখা করতে। মুফতি সাহেব সেই নব্বই খ্রিস্টাব্দ থেকেই আমাকে খুব স্নেহ করেন। আমার বন্ধু মাওলানা ফরহাদের সাথে কথা হয়েছে তাঁর ঘরে উঠে খাওয়া-দাওয়া করে পরে যাবো মুফতি সাহেবের সাথে দেখা করতে। আমি এই অসুবিধার কথা আমার আত্মীয়কে জানাই, তিনি বলেন অসুবিধা নেই, ওনি একবার গিয়ে পৌঁছলেই চলবে। আমার এক বন্ধুর বাসায় আমি ছিলাম, আমি সেখান থেকে বেরিয়ে আমার আত্মীয়ের কর্মস্থান থেকে জুনায়েদ আল হাবিবকে উঠাই। তখন ইংল্যান্ডে সামার চলছে। প্রচণ্ড গরম। আমার গায়ে একটা টি-শার্ট এবং প্যান্ট, রোদের জন্য চোখে চশমা। গাড়ি চালাচ্ছি সাউথ থেকে নর্থের দিকে। জুনায়েদ আল হাবিব গাড়িতে উঠে আমার সাথে কোন কথা নেই। তিনি হয়তো ভেবেছেন আমি কোন সাধারণ ড্রাইভার, তাকে নিয়ে বার্মিংহামে যাচ্ছি। তিনি গাড়িতে উঠেই মোবাইল ফোনে দেশে ফোন করেন। কথা বলেন তাঁর স্ত্রীর সাথে, মেয়ের জামাইর সাথে। কত টাকা পাঠিয়েছেন এবং টাকাগুলো কি করতে হবে তা বলেন। সবচে খারাপ লাগে যখন তিনি স্ত্রীকে বলেন মেয়ের জামাইয়ের মাধ্যমে কিছু টাকা নুর হোসেন কাসেমিকে দিতে। ভাষাটা এমন ছিলো যে, ওকে কিছু দিয়া মুখ বন্ধ কইরা রাখবা।

তখন আমার কাছে প্রশ্ন জাগে তিনি এখানে হেফাজতে ইসলামের নামে যে টাকা উত্তোলন করছেন তা তো সাংগঠনিক নিয়মে আসবে আমীরের কাছে, নতুবা ঢাকার দায়িত্বশীল হিসাবে মাওলানা নূর হোসেন কাসেমির কাছে, সেগুলো তাঁর স্ত্রী আর মেয়ের জামাইর কাছে যাবে কেন? এই প্রশ্ন এখানে থাক। আমি তো একদিনের হিসাব জানলাম, অতঃপর প্রতিদিন বৃটেনের বিভিন্ন শহরে তিনি গেছেন এবং মিটিং করে-জনসভা করে টাকা উঠিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের নামে। সেগুলোর হিসাব কে রাখে?”

সেই শাপলার গুজবের মতোই আবার টঙ্গীর ঘটনার গুজব ছড়িয়ে বিদেশ থেকে টাকা কালেকশনের বানিজ্য কি একই সূত্রে গাথা? এমন প্রশ্ন আজ অগণিত সচেতন মানুষের মাঝে।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!