বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:১৭ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম ::
হাটহাজারী মাদরাসার সামনে পুলিশের সতর্ক অবস্থান : রুহিকে গনধোলাই কেন হাটহাজারী মাদরাসা ছাত্র আন্দোলনে উত্তাল? হাটহাজারী মাদরাসায় ছাত্রদের বিক্ষোভ ভাঙচুর : কওমীতে নজিরবিহীন ঘটনা ‘তাবলিগের সেই ৪ দিনে যে শান্তি পেয়েছি, জীবনে কখনো তা পাইনি’ তাবলীগের কাজকে বাঁধাগ্রস্থ করতে লাখ লাখ রুপি লেনদেন হয়েছে: মাওলানা সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী দা.বা. (অডিওসহ) নিজামুদ্দীন মারকাজ বিশ্ব আমীরের কাছে বুঝিয়ে দিতে আদালতের নির্দেশ সিরাত থেকে ।। কা’বার চাবি দেওবন্দের বিরোদ্ধে আবারো মাওলানা আব্দুল মালেকের ফতোয়াবাজির ধৃষ্টতা:শতাধিক আলেমের নিন্দা ও প্রতিবাদ একান্ত সাক্ষাৎকারে সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী :উলামায়ে হিন্দ নিজামুদ্দীনের পাশে ছিলেন, আছেন, থাকবেন তাবলীগের হবিগঞ্জ জেলা আমীর হলেন বিশিষ্ট মোহাদ্দিস মাওলানা আব্দুল হক দা.বা.
দেওবন্দ বনাম কথিত জমহুরিয়াত আন্দোলন কোন পথে?

দেওবন্দ বনাম কথিত জমহুরিয়াত আন্দোলন কোন পথে?

ইসহাক আহমদ। আজ মওলানা  সাদ কান্ধলভীর ইস্যুতে দেশের কথিত জমহুর আলেমগন দেওবন্দের নামে, ধর্মের নামে, ইসলামের দোহাই দিয়ে একপক্ষে।  অপর দিকে তরজুমানে আহলে হক, দেওবন্দের সূর্য  সন্তান  আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ অপর পক্ষে মুখোমুখি।  দেওবন্দ বনাম সাদ সাহেব ও বাংলার কথিত জমহুর বনাম আল্লামা মাসউদকে নিয়ে অনেক জল গোলা করা হচ্ছে। কিন্তু আসলে  কি হয়েছে। দেওবন্দ কি করছে আর বাংলাদেশে দেওবন্দের নামে কি হচ্ছে। আর ইসলামের দোহাই দিয়ে এসব কেন হচ্ছে? নবী সা এর সীরাতের সাথে আদৌ কি এই সাম্প্রদায়িক উগ্রপন্থী আচরণের কোন সম্পর্ক আছে? জানতে হলে নিচের সংক্ষিপ্ত  সরল বিশ্লেষণটি পড়ুন।(সম্পাদক
দেওবন্দ বলে নাই সা’দ কান্ধলভী  গোমরাহ, মাওলানা ফরীদ মাসঊদও বলেন নাই, তবে কথিত জমহুররা বলেছেন।

দেওবন্দ মাওলানা সা’দ কান্ধলবী সাহেব দা.বা. কে চোর, বদমাইশ, গুণ্ডা ইত্যাদি বলে নাই, মাওলানা ফরীদ মাসঊদও বলেন নাই, তবে কথিত জমহুর বলেছে।

দেওবন্দ মাওলানা সা’দ সাহেবকে ভারতের কোন ইজতেমায় অংশ নিতে বাঁধা দেয় নাই, মাওলানা ফরীদ মাসঊদ বাঁধা দানকারীদের দলে যোগ দেন নাই, তবে কথিত জমহুর তাঁকে বাঁধা দিয়েছে।

দেওবন্দ মাওলানা সা’দ সাহেব কে নিজামুদ্দিন ত্যাগ করতে নিষেধ করে নাই, মাওলানা ফরীদ মাসঊদ সা’দ সাহেবের অনুসারীদের কাকরাইল সহ দেশের বিভিন্ন মসজিদ-মাদরাসা থেকে বের হয়ে যেতে বলেন নাই, তবে জমহুর বলেছে ।

দেওবন্দ মাওলানা সা’দ সাহেব কে নিজামুদ্দিন থেকে পিটিয়ে বের করে দেয় নাই, মাওলানা ফরীদ মাসঊদও সা’দ সাহেবের অনুসারীদের পিটিয়ে মসজিদ থেকে বের করে দেন নাই, তবক জমহুর দিয়েছে।

দেওবন্দের উস্তাযগণ কোন ওয়াজাহাতী জোড়ে যোগ দেন নাই, এমনকি সা’দ সাহেবের ভ্রান্তির বিরুদ্ধে সবচেয়ে মজবুত লোক হযরত মাওলানা আরশাদ মাদানী দা.বা. দেশে এসে কোন ওয়াজাহাতী জোড়ে যোগ দেন নাই, জনাব শাকিল বারবার আলেমদের কাছে কাকুতিমিনতি করেছেন হযরত কে দিয়ে একটি ওয়াজাহাতী জোড়ের আয়োজন করতে, তাও হয় নাই। মাওলানা ফরীদ সাহেব কোন ওয়াজাহাতী জোড়ে যোগ দেন নাই, জমহুর তো নিজেই ওয়াজাহাতী।

দেওবন্দ বলেছে তাবলীগের আভ্যন্তরীণ বিবাদের সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই, মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ দা.বা. এটা তো বলেছেনই সাথে আরো যারা এই বিবাদে নিজেদের জড়িয়ে ফেলছেন তাঁদের অনুরোধ করেছেন না জড়াতে। আর জমহুর…

এখন জমহুর কি চায় মাওলানা ফরীদ সাহেবের কাছে? তিনি যেন তাঁদের সাথে তাল মিলিয়ে এগুলো করেন। না করলেই আপনে দোষী। আমাদের ‘জমহুরের’ কাছে তথাকথিত সা’দপন্থী হওয়ার আলামত-প্রমাণ হলো, মাওলানা সা’দ সাহেবকে গোমরাহ না বলা। মাওলানা সা’দ সাহেবকে এয়ারপোর্টে না ঠেকানো। তথাকথিত সা’দপন্থীদের মসজিদ থেকে পিটায়া বের না করে দেয়া। সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো, তাবলীগকে তাবলীগের মত ছেড়ে দিয়ে তাদের আভ্যন্তরীণ বিবাদে নাক না গলানো।

অতএব সুতরাং, দেওবন্দ তো আগেই সা’দপন্থী ছিলো, গতকাল দেখলাম শাইখুল ইসলাম মাওলানা হুসাইন আহমদ মাদানী নাওয়ারাল্লাহু মারকাদাহু-ও অতীতের সা’দপন্থী…

অতীতে চার বার পরাজিত হয়ে আজ আবারো আমাদের জমহুর মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ দা.বা. কে নিজেদের প্রতিপক্ষ বানিয়েছে। এখন পর্যন্ত ফলাফল কি?

এক বছর আগে মোটামুটি সারা বিশ্বেই তাবলীগে আভ্যন্তরীণ হালকা-পাতলা গোলযোগ চলছিলো। ইজতেমা ছিলো একটা উত্তম অবস্থান এই গোলযোগ দূর করতে। জমহুরের সফলতায় সেটা হয়ে উঠেনি।

এরপর? গত একবছরে সারা বিশ্বেই মোটামুটি স্থিতিশীল অবস্থা চলে আসছে। আমাদের জমহুররা ‘ইজরায়েলী দূতাবাস’ ঘেরাও নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও গোটা বিশ্বের সবাই দেখছে দেওবন্দের বাড়াবাড়া-ছাড়াছাড়ি বিহীন মধ্যমপন্থী অবস্থান। দেখছে কিভাবে দেওবন্দ নাক না গলিয়ে চমৎকার ভাবে বাইরে থেকে নিজের দেশে তাবলীগের কাজকে সামলে রাখছে। ফলে ধীরে ধীরে দেখুন সব মিটে আসছে। বিশ্বের বেশ কয়েক জায়গায় মাওলানা সা’দ সাহেবের উপস্থিতিতে ভরপুর ইজতেমা হয়েছে। বিবাদ থাকবেই, বিবাদ সাথে নিয়েই উম্মতের জন্য কাজ করে যেতে হবে। ইখতিলাফ মুক্ত দুনিয়া কেবল কল্পনাতেই ধরা দেয়।

পরিস্থিতি এভাবে স্থিতিশীল হয়ে আসার পেছনে আরেকটা কারণ আছে। সেটা বললে আমাদের জমহুররা তেলেবেগুনে জ্বলে উঠবেন। বুদ্ধিমানরা নিকট অতীতের ইতিহাসের পাতায় চোখ বুলিয়ে নিলেই বের করে ফেলতে পারবেন।

কিন্তু বাংলাদেশে কি হয়েছে? কি হচ্ছে? কেন হচ্ছে? সম্প্রদায়প্রীতি ত্যাগ করে ঠাণ্ডা মাথা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করুন। হাদীসে তো এটাকেই সাম্রদায়িকতা বলা হয়েছে।

এতো দিনেও কারো মাথা ঠাণ্ডা হচ্ছে না। সুস্থ ভাবে চিন্তা করতে পারছেন না। উল্টো আরো তথাকথিত সা’দপন্থী মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছেন।

মাওলানা সা’দ সাহেবকে ঠেকিয়ে দিয়ে ৬ই এপ্রিল ২০১৩ এর মত বিরাট বিজয় নিয়ে যখন আমাদের জমহুররা দাঁড়িতে হাত বুলাচ্ছিলেন, তখন মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ দা.বা. একদিন বলেছিলেন, এই দেশে প্রিন্স আগা খান এসে ঘুরে যেতেপোপ আসতে পারে ( কি আশ্চর্য্য, আমরা না হয় তিন মাস আগেই দাওয়াত পেয়েছি, কিন্তু কথা নেই বার্তা নেই কিসের নেশায় কিসের আশায় একজন ওয়াজাহাতী নেতা সা’দ সাহেবকে ঠেকিয়ে পোপকে স্বাগতম জানিয়ে বিরাট এক বিবৃতি পাঠিয়ে দিলেন গণমাধ্যমে! আমরা তো পোপকেও বাঁধা দেইনি, মাওলানা সা’দ কান্ধলবী সাহেব দা.বা. -কেও না। ) আর একজন মুসলমান আসতে পারবে না!

এখন তো তাই-ই দেখছি। এই দেশে হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান-নাস্তিক থাকতে পারবে, ফরহাদ মজহারের মত ধর্মদ্রোহী হুযুরদের তাত্ত্বিক গুরু হতে পারবে, মাহমুদুর রহমানের মত একজন প্রকাশ্য ফাসেক হুযুরদের নেতা হতে পারবে (ফলাফল, নেতা থেকে এখন যুক্তফ্রন্টের মঞ্চে একজন শাইখুল হাদীসের নামাযের ইমাম হয়ে বসেছেন একজন প্রকাশ্য ফাসেক), দেওয়ানবাগী ভণ্ডরা থাকতে পারবে, সর্বসম্মতিক্রমে গোমরাহ জামায়াত সহ সমস্ত দল থাকতে পারবে, পারবে না কেবল তথাকথিত সা’দপন্থীরা। কেন?

কারণ তারা আলেমদের গায়ে হাত তুলেছে। আলেমদের সম্মান কি আজ (নাঊযুবিল্লাহ) আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলের চেয়ে বেশি হয়ে গেল? যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রক্ত ঝরানো কাফেরদের শাস্তি দিতে জিবরাঈল কে নিষেধ করেছেন, সেই নবীর থেকে আজ আপনার মর্যাদা বেশি হয়ে গেল? যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চাচাকে নৃশংস ভাবে হত্যা করার পরও হত্যাকারী কে কালিমা পড়ার কারণে মাফ করে দেন, সেই নবীর চাচার চেয়ে আপনার রক্ত দামি হয়ে গেল? সা’দপন্থী কারো ক্বলবেই কি কালিমা নেই? কি মনে করছেন নিজেকে? হেদায়াত আপনার হাতে? না। ধর্মের টেন্ডারবাজী করছেন আজ? ওয়াহশী যদি রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হতে পারেন, জান্নাতের ওয়াদা পেতে পারেন, তাহলে জেনে রাখুন, টঙ্গীতে যে হাত আপনার রক্ত ঝরিয়েছে সেই হাতকে আল্লাহ্‌ তা’আলা আপনার থেকে শ্রেষ্ঠ বানিয়ে দিতে পারেন। ওয়াল্লাহু গনিয়্যুন ‘আনিনিল ‘আলামীন। স্রেফ আলেম হয়ে নিজেকে নবী-সাহাবীদের থেকে শ্রেষ্ঠ ভাবা শুরু করেছেন?

মসজিদ কি আপনার বাপের? যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন অমুসলিমকে মসজিদে পেশাব করা অবস্থায় তেড়ে যাননি, তাঁকে পেশাব করা অবস্থায় বের করে দেন নি, সেই নবীর উম্মত কে আপনি মসজিদ থেকে বের করে দেন? লজ্জা করে না নিজেকে ওয়ারিসে নবী দাবি করতে?

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com