শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:২৮ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম ::
হাটহাজারী মাদরাসা বন্ধ ঘোষনা এক আল্লাহ জিন্দাবাদ… হাটহাজারী মাদরাসায় ছাত্রদের বিক্ষোভ ভাঙচুর : কওমীতে নজিরবিহীন ঘটনা ‘তাবলিগের সেই ৪ দিনে যে শান্তি পেয়েছি, জীবনে কখনো তা পাইনি’ তাবলীগের কাজকে বাঁধাগ্রস্থ করতে লাখ লাখ রুপি লেনদেন হয়েছে: মাওলানা সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী দা.বা. (অডিওসহ) নিজামুদ্দীন মারকাজ বিশ্ব আমীরের কাছে বুঝিয়ে দিতে আদালতের নির্দেশ সিরাত থেকে ।। কা’বার চাবি দেওবন্দের বিরোদ্ধে আবারো মাওলানা আব্দুল মালেকের ফতোয়াবাজির ধৃষ্টতা:শতাধিক আলেমের নিন্দা ও প্রতিবাদ একান্ত সাক্ষাৎকারে সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী :উলামায়ে হিন্দ নিজামুদ্দীনের পাশে ছিলেন, আছেন, থাকবেন তাবলীগের হবিগঞ্জ জেলা আমীর হলেন বিশিষ্ট মোহাদ্দিস মাওলানা আব্দুল হক দা.বা.
উবায়দুল্লাহ ফারুকের আসল রূপ ! কোথায় নিয়ে যাচ্ছো কান্ডারী? (ফোনালাপসহ)

উবায়দুল্লাহ ফারুকের আসল রূপ ! কোথায় নিয়ে যাচ্ছো কান্ডারী? (ফোনালাপসহ)

মাওলানা আহমদ জামিল, তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম | জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনিত সিলেট ৫ (জকিগঞ্জ -কানাইঘাট) আসনে নির্বাচনে সংসদ সদস্য প্রার্থী হচ্ছেন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সিনিয়র সহ সভাপতি, হেফাজত নেতা, স্বনামখ্যাত ওজাহাতি আলেম মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক।

কে এই মাওলানা? কি তার পরিচয়?

তিনি বারিধারা মাদরাসার মুহাদ্দিস। হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতা। জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি। এর বাহিরে তার আরেকটি বড় পরিচয় সম্প্রতি সারা দেশে পরিচিতি লাভ করেছে। তিনি একজন খ্যাতিমান ওজাহাতি আলেম। অর্থাৎ তাবলীগ নিয়ে চলমান ওজাহাতি সমাবেশগুলির তিনি অন্যতম কান্ডারী।

আরেকটু গভীরভাবে বললে, তাবলীগের বিশ্ব আমীর মাওলানা সাদ কান্ধলভী বিরোধী আন্দোলনে পাকিস্তানি আলমী শুরার এজেন্ডা বাস্তবায়নে বাংলাদেশের মূল কারিগর তিনি। তার নেপথ্যের প্রচেষ্টায়ই বাংলাদেশে কথিত জমহুর আলেম প্লাটফর্ম তৈরি হয়।

এই মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকই মূলত প্রথম মাওলানা সাদ কান্ধলভীকে নিয়ে প্রথম বাংলা ভাষায় কোন প্রকার রেফারেন্স ছাড়া ১০০% মিথ্যা, বানোয়াট, চটি বই “সাদ সাহেবের আসলরূপ” নামে বাজারে ছাড়েন। তাহকীক ছাড়া সরল বিশ্বাসে তার এই মিথ্যা বই পড়ে বিভ্রান্ত হন সরলমনা উলামায়ে কেরাম। এমনকি নুরুল ইসলাম ওলীপুরীর মতো বক্তাকেও এই চটি বই হাতে নিয়ে হাস্যকর দলীল হিসাবে বয়ান করে মুসলমানদেরকে বিভ্রান্ত করতে দেখা যায়। চটিটি রচনার পর রেফারেন্স সংগ্রহের জন্য উবায়দুল্লাহ ফারুকের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি দলীল-প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হোন এবং ফোনকারীর সাথে রাগারাগি শুরু করে দেন। পাঠকদের কৌতুহল মেটাতে প্রতিবেদনটির একদম নীচে ফোনালাপটি সংযুক্ত করে দেওয়া হলো।

এই উবায়দুল্লাহ ফারুকই মূলত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কতৃক তৈরিকৃত ৫ সদস্যবিশিষ্ট দেওবন্দ-নিযামুদ্দিনগামী প্রতিনিধি দলের আমীর ছিলেন। যিনি দেওবন্দ ও নিযামুদ্দীন মারকাজ এবং মাওলানা সাদ কান্ধলভীকে নিয়ে বাংলাদেশে এসে সত্যগোপন করে আলেমদের কাছে দুইসহচরসহ মিথ্যা বলে বলে আজকের এই ধর্মীয় সংঘাত ও সংকটময় পরিস্থিতি তৈরি করেছেন।

তাবলীগ বিরোধী এদেশীয় ষড়যন্ত্রের মূল খলনায়ক এই উবায়দুল্লাহ ফারুক তাবলীগকে সহী নেহাজ ও উসুলে আনার কথিত মিশন নিয়ে বিগত আট মাস সারাদেশে মাঠে-ময়দানে ওজাহাত করে বেরিয়েছেন। নির্বাচনের আগে সরলমনা মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকদের বিভ্রান্ত করে বড়বড় ওজাহাতি সমাবেশ করে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন ও বিএনপি জোট থেকে নমিনেশন আদায় করাই ছিল তার ও তার সহচর অন্যান্য রাজনৈতিক জমহুর আলেমদের মূল টার্গেট, এমনটিই মনে করছেন সচেতন মহল।

যিনি তাবলীগকে ইসলাম ও ঈমানের উপর তোলার মিথ্যা আশ্বাস দেখিয়ে এতো বড় আন্দোলন করে পুরো দেশের সরলমনা আলেমদেরকে উস্কে দিলেন, এখন দেখার বিষয় সেই উবায়দুল্লাহ ফারুক নিজেই কতোটা ইসলাম ও ঈমানের উপর আছেন?

বামপন্থী নেতা ও কাদিয়ানীদের দোসর ড.কামালকে নিয়ে তিনি এদেশে কাদের মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছেন সেটি নতুন করে ভাবার প্রয়োজন নেই।

এই উবায়দুল্লাহ ফারুক যে জোটের মনোনিত প্রার্থী সেই “জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট” গতকাল নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। যে ইশতেহার নিয়ে জমহুরদের সিপাহসালার, ওজাহতি কান্ডারি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক এখন নির্বাচনের মাঠে-ময়দানে, ভোটারদের দোয়ারে দোয়ারে ঠুকড়ে বেড়াচ্ছেন।

‘প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ’ শিরোনামে ঘোষিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহারের ভেতরে যাই থাকুক, কোন মুমিনের পক্ষে এই ইশতেহার সমর্থন করা সম্ভব নয়। ইসলামের বিশ্বাসমতে “সকল ক্ষমতার মালিক একমাত্র আল্লাহ”। জনগন বা মানুষ আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে আল্লাহপ্রদত্ব ক্ষমতার প্রয়োগকারী মাত্র।

অথচ একজন মাওলানা কিভাবে এটিকে সমর্থন করে নির্বাচন করতে পারেন? তাও কথিত জমহুর আলেমদের একজন সিপাহসালার! সাদ বিরোধী আন্দোলনের মুল নায়ক। তাবলীগ বিরোধী আন্দোলনের নেপথ্যের মূল কারিগর। এতোবড় একজন ওজাহাতি আলেম কি আজ “প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ” বলেই ওজাহাত করবেন? আর তাকে ও তাদেরকে মেনেই তাবলীগের এই মহান ও পবিত্র কাজ করতে হবে তার বন্ধু ক্বারী জুবায়েরের নির্দেশে? ঈমানী বিশ্বাস, ইসলামের মৌলিক দাওয়াত, তাবলীগী মেহনতের নেহাজ-পদ্ধতি, সর্বোপরি কুরআন ও হাদীসের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক এই ঈমানবিধ্বংশী আহবান নিয়েই কি এই ওজাহাতিরা তাবলীগ চালানোর দুঃসাহস ও খায়েশ করেন? তাহলে কি এবার লক্ষ-কোটি তাবলীগীদের নির্বাচনী আক্বীদা-বিশ্বাস নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে?

অথচ কোন মুসলিম কোনভাবেই “সকল ক্ষমতার মালিক আল্লাহ তায়ালা” এই বিশ্বাস বিসর্জন দিতে পারেনা। কেউ যদি ঘোষণা দিয়ে আল্লাহর স্থলে অন্য কাউকে “সকল ক্ষমতার মালিক” বলে ঘোষণা করে তাহলে তার ঈমানের অবস্থা যাঁচাই করার জন্য ফতোয়ার আড়তদারদের নিকট প্রশ্ন থাকলো।

ধানের শীষ নিয়ে যেসব ইসলামী দল ও উবায়দুল্লাহ ফারুকের মতো জমহুর আলেমদের প্রতিনিধিত্বশীল ইসলামপন্থীরা নির্বাচন করছেন তারা কি এখন “সকল ক্ষমতার মালিক জনগন” এই নীতির দিকে মানুষকে আহবান করবেন?

আর ক্বারী জুবায়ের কে নিয়ে নির্বাচনের পর ঈমানী আন্দোলন দখলে নেবার জন্য ফের অপতৎপরতা করবেন? আবার তাবলীগ নিয়ন্ত্রণের ওজাহতি ঠিকাদারী নিয়ে মাঠে নামবেন? হয়তো সবই সম্ভব। কেননা লজ্জাশীলরা কখনো রাজনৈতিক নেতা হতে পারে না। এটিই উবায়দুল্লাহ ফারুকদের দ্বীন ও ঈমান বিক্রির নির্লজ্জ দালালীর আসলরূপ।

দাওয়াত ও তাবলীগের বিশ্বআমীর শায়খুল হাদিস আল্লামা সা’দ কান্ধলভী হাফিযাহুল্লাহর বয়ানের চূলচেঁড়া বিশ্লেষণ করে তাঁকে বেঈমান-নাস্তিক-মুরতাদ বানাতে খড়্গহস্ত এই ওজাহাতি মৌলভি নিজেই ঈমানহর্ষক কর্মকাণ্ডে জড়িত। সর্ষের ভূততাড়োয়া এই ওজাহাতি নিজেই ভূতগ্রস্ত হয়ে উক্ত ঈমানসংহারক ঘোষনা দিয়ে জনগণকে সূক্ষ্ম শিরকের দিকে যেভাবে আহবান করে চলেছেন, এতে নিজের ঈমানের ওজাহাতই এখন অপরিহার্যতার দাবী রাখে।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com