মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:১৬ অপরাহ্ন

আন্তর্জাতিক মোসাদ ও আইএসআই ষড়যন্ত্রের কবলে তাবলীগ

আন্তর্জাতিক মোসাদ ও আইএসআই ষড়যন্ত্রের কবলে তাবলীগ

বিশেষ প্রতিনিধি, তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম| ২০১৬ এর শেষের দিকে নিউইয়র্কে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আলমী ফিৎনা শুরু হয়। আমেরিকাতে বসে ইহুদী লবীর শক্তিশালী এজেন্ট ড. আউয়াল তার ঘনিষ্ট দুই বন্ধু আব্বাস প্যাটেল ও সাবের কাপাডিয়াকে নিয়ে তাবলীগের চলমান সংকট তৈরির মাষ্টার প্ল্যান তৈরি করেন। তাবলীগ নিয়ে আন্তর্জাতিক মোসাদ, আইএসআইসহ নানান গোয়েন্দা সংস্থার ষড়যন্ত্রের ভয়ংকর তথ্য বেরিয়ে আসছে।

কিভাবে বিভিন্ন বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থা ও এজেন্টদের সরাসরি হস্তক্ষেপে বাংলাদেশে এই সংকট তৈরি হয়?

হেফাযতে ইসলাম, খেলাফত মজলিশসহ আরো কিছু নামস্বর্বস্ব ইসলামী দল ও কতিপয় ডাকসাইটে বক্তাকে হাত করে বাংলাদেশে ‘জমহুর’ নামক একটি আন্দোলনের জন্ম দেওয়া হয়। আমেরিকা থেকে ড. আউয়াল এ বিষয়ে ঘন ঘন পাকিস্তান সফর করেন। একাধিক সূত্রে জানা যায়, পাকিস্তানে আইএসআইর মধ্যস্থতায় বেশ কয়েকবার আব্বাস প্যাটেল, সাবের কাপাডিয়া ও ড. আউয়ালের সাথে বাংলাদেশের প্রাক্তন শুরা মাওলানা উমর ফারুক, মাওলানা আব্দুল মতিন, উবায়দুল্লাহ ফারুকদের বৈঠক হয়। তাদের পাসপোর্ট জব্দ করলেই প্রসাশনের কাছে এসব তথ্য স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে পর্যবেক্ষক মহল মনে করছেন।

তাবলীগের কাজকে দমনের লক্ষ্যে বিগত ১০০ বছর ধরে বিভিন্ন বাতিল শক্তি নানান ষড়যন্ত্র করে আসছিল। বিশেষ করে নিজামুদ্দিন মারকাজ ও মাওলানা ইলিয়াস রহ এর খান্দানকে দুনিয়া থেকে মিটিয়ে দিতে একের পর এক ঘরে-বাইরে শত্রু তৈরি ও চক্রান্তের জাল পাঁতা হচ্ছিল। সর্বশেষে আমেরিকাতে বসে আন্তর্জাতিক মোসাদ, সিআইএর ষড়যন্ত্রে সেই মিশন নিয়ে মাঠে নামানো হয় কথিত নাসার বিজ্ঞানী পরিচয়ধারী বাঙ্গালী ড. আব্দুল আউয়ালকে।

এই ড. আব্দুল আউয়াল মূলত এর আগে বাংলাদেশে গড়ে উঠা কাকরাইল ও নিজামুদ্দিন বিরোধী বিদ্রেহী “মুশফিক গ্রুপ” এর অন্যতম নিতিনির্ধারক ছিলেন। যাদের বিরুদ্ধে আজ থেকে দশ বছর আগে কাকরাইলের তৎকালীন শুরা ক্বারী জুবায়েরের নেতৃত্বে হাটহাজারী, পটিয়া ও বসুন্ধরা মাদরাসাসহ বড়বড় দ্বীনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ফতোয়া আনা হয়েছিল। যা বই আকারে এখনো অনেকের কাছে রয়েছে। আজ আন্তর্জাতিক চক্রের ফাঁদে পরে ক্বারী জুবায়ের, ড. আব্দুল আউয়াল ও মুশফিক গ্রুপ একই প্লাটফর্মে অবস্থিত।

ড. আউয়াল প্রথমে এটিকে আমেরিকা ও ইউরোপে ‘খাওয়ানো’র চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াতে বিদ্রোহ ঘটানোর চেষ্টা করে আবারো বিফল হয়। তারপর এরা পাকিস্তানের দিকে এগোয়। পাকিস্তানে হযরত হাজী আব্দুল ওয়াহাব সাহেবের খাদেম ফাহিমকে ব্যবহার করে তারা কথিত ‘মিশন’ বাস্তবায়নে চেষ্টা করে। এর সাথে যুক্ত হয়ে গোপনে অর্থায়নে নামে পাকিস্তান গোয়ান্দা সংস্থা আইএসআই। যাতে করে ভারত থেকে তাবলীগের মারকাজের ক্ষমতা পাকিস্তানে চলে আসে। আর এই বিতর্ক ও সংঘাতে পড়ে যেন বাংলাদেশে তাবলীগের বিশ্ব ইজতেমা থেকে সারা দুনিয়া মূখ ফিরিয়ে নেয়।

পাকিস্তানের মৌলভী ফাহিমের নেতৃত্বে পাকিস্তান ইজতেমার সময় কথিত আলমী শুরার নাম ব্যবহার করে নিজামুদ্দিন মারকাজের ভিতরে স্বার্থান্বেষী ক্ষুদ্র একটি গ্রুপকে ব্যবহার করা হয়। ভারতে সেই গ্রুপটি পুরাপুরি ব্যর্থ হয়ে অবশেষে বাংলাদেশের ক্বারী জুবায়ের ও তার কতিপয় ঘনিষ্ঠকে ২০১৭ সালে পাকিস্তানের ইজতিমায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ফিরে এসেই সম্পূর্ণ নতুন চেহারায় আবির্ভূত হন ক্বারী জুবায়ের ও সাঙ্গপাঙ্গরা। পাকিস্তান থেকে ফিরে এসেই ১৪/১১/২০১৭ তারিখে কাকরাইলের সাপ্তাহিক মাশোয়ারা চলাকালীন ক্বারী জুবায়েরের পরোক্ষ ইংগিতে প্রথম মারামারির ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে আজোবধি দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও মারামারির ধারা চলেই আসছে। যার সূত্রধরে ১লা ডিসেম্বর টঙ্গী ট্রাজেডিতে রক্তপাতসহ খুনের মত ঘটনাও ঘটে।

বাংলাদেশে বিভিন্ন মন্ত্রনালয় ও মিডিয়াতে ড. আওয়াল নিজেকে নাসার বিজ্ঞানী পরিচয় দিয়ে ফোন ও মেইল করে তাবলীগ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করেন। অপর দিকে মিশরের নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গিসংগঠন ইখওয়ানুল মুসলিমিনের বাংলাদেশের এজেন্ট হিসাবে জেলখাটা উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরস্থ এক মসজিদের খতিব একজন বাদ্রারহুড নেতার মাধ্যমেই সর্বপ্রথম ‘ওজাহাতি জোড়’ এর আয়োজন করা হয়। এখান থেকেই বাংলাদেশের সরলমনা উলামায়ে কেরামকে তাবলীগ ইস্যুতে ক্ষেপিয়ে তোলে মূলধারার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি মিরপুরের ‘শ’ অদ্যাক্ষরের এক মাওলানাকে ব্যবহার করে ওজাহাতি ফান্ডিং আমেরিকা ও পাকিস্তান থেকে আসতে থাকে। তাদের সাথে বাংলাদেশের অর্থলোভী দুই সহোদর ছাহেবজাদা সংযুক্ত হয়ে মাঠে নামেন। মোটা অংকের টাকা দিয়ে খরিদ করা হয় চট্টগ্রামের এক ছাহেবজাদাকে।

কে এই ফিৎনার হোতা? কি ছিল তার অপকর্ম?

অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, আমেরিকায় নির্বাসিত বাংলাদেশী ড. আব্দুল আউয়ালই সকল ষড়যন্ত্রের ‘নাটেরগুরু’। তার এক ছাত্রের পাঠানো নিচের ইমেইলে তার অপকর্মের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। নিউইয়র্ক থেকে উত্তর আমেরিকার শুরাদের বরাবর ড. আব্দুল আউয়ালের ক্রিয়াকলাপ নিয়ে মোহাম্মদ হুসাইনের কিছু ইমেইল প্রকাশিত হয়।

—–Original Message—–

From: iqbal teli <iqbalteliny@gmail.com>

To: abdulawalbd <abdulawalbd@gmail.com>

Cc: akhan272 <akhan272@aol.com>; makhalid99 <makhalid99@hotmail.com>; markrr786 <markrr786@gmail.com>; matohamy <matohamy@sympatico.ca>; mmhaque15 <mmhaque15@gmail.com>; mmhaque5 <mmhaque5@yahoo.com>

Sent: Fri, Feb 17, 2017 11:13 pm

Subject: Fwd: Letter to Dr. Abdul Awaal ; CC: NA shura members.

———- Forwarded message ———

From: iqbal teli <iqbalteliny@gmail.com>

Date: Fri, Feb 17, 2017 at 11:09 PM

Subject: Fwd: Letter to Dr. Abdul Awaal ; CC: NA shura members.

To: iqbal teli <iqbalteliny@gmail.com>

———- Original message ———

From: Mohammed Hossain<mohammed.hossain@gmail.com>

Date: Fri, Feb 17, 2017 at 11:06 PM

Subject: Letter to Dr. Abdul Awaal ; CC: NA shura members.

To: iqbal teli <iqbalteliny@gmail.com>

মোহাম্মদ হোসেন তার ইমেল বার্তার শুরুতেই বলেন, “আমি আপনার খুবই অনুগত এবং বিশ্বস্ত একজন ছাত্র। বলতে পারেন আমি সবসময় মাথার তাজ হিসাবে আপনাকে শ্রদ্ধা করেছি। দাওয়াতে তাবলীগের কাজের বিরুদ্ধে আপনার সাম্প্রতিক কর্মকান্ড আপনার ব্যাপারে খোলাসা করতে বাধ্য করেছে। আমি বহু সফরে আপনার সাথে ছিলাম। আপনার থেকে অনেক কিছু শিখেছি। আল্লাহ আপনাকে এজন্য সর্বোচ্চ প্রতিদান দান করুন এবং আপনাকে আবারো হেদায়েতের পথে ফিরিয়ে নিয়ে আসুন। যেহেতু আমি অনেক কিছু দেখেছি যা সম্পূর্ণ ইসলাম বিরোধী, তাই আর গোপন রাখতে পারলাম না। আমি মনে করি, যদি আমি এগুলো প্রকাশ না করি তাহলে বিচার দিবসে আমাকে জিজ্ঞাসা করা হবে। আমি বহুবার আপনাকে পরোক্ষভাবে বলেছি, এসব আল্লাহর উপরে ছেড়ে দিন। কিন্তু আপনি তা মোটেই গুরুত্ব দেননি। আমি আপনাকে মনে করিয়ে দিচ্ছি যে, নিচের কান্ড-কলাপ সমূহ আপনার দ্বারা সম্পাদিত হয়েছে।”

ইমেইলের তথ্য মতে আমেরিকার সিনেটর অফিস থেকে ড. আউয়াল চিঠি পেয়েছেন। সেখানে বাংলাদেশ সরকার এবং ভারতীয় হাই কমিশনকে উদ্বুদ্ধ করতে তারা নিজামুদ্দিনের জামাতের টঙ্গী ইজতেমায় যাওয়া বন্ধ করতে ২০১৬ সালে নির্দেশ দেয়া হয়।

ড. আউয়ালকে ব্যবহার করে উচ্চপদস্থ লোকজন ব্যবহার করে নয়া দিল্লী দূতাবাসে প্রেসার/চাপ দিয়েছেন যাতে মাওলানা সাদ সাহেবকে ভিসা দেয়া না হয়। ঢাকার ফরিদাবাদ মাদরাসার এক বেফাক নেতার সাথে কথা বলেন (সেখানে ড. আউয়ালের ছেলে পড়াশোনা করেতো), তাঁর সাথে আলাপ করেন যাতে হাটহাজারীর আল্লামা শফীসহ বাংলাদেশের উলামায়ে কেরামকে মাওলানা সাদ সাহেব এবং নিজামুদ্দিনের বিরুদ্ধে জড়িত করা যায়। কাকরাইলের শূরাদের সামনে তিনটি শর্ত দিতে বলেছিলেন এবং তাঁরা তাই করেছিলেন। বিস্তারিত লাগবে? অডিও রেকর্ড আছে।

ড. আবদুল আউয়াল বাংলাদেশের শূরাদের সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা ফোনে কথা বলেছেন। এসময় তাঁদের কনভিন্স করার চেষ্টা করেছেন যাতে তাঁরা মাওলানা সাদ সাহেবকে টঙ্গী ইজতেমায় না আনেন। অপর দিকে জেলখাটা বাদ্রারহুড নেতার মাধ্যমে ঢাকার কিছু উঠতি আলেমের পেছনে অর্থায়ন করা শুরু করেন। তারা প্লেন ভাড়া করে বারবার চট্টগ্রামে উড়াল দেন। টঙ্গীর ঘটনার পর নির্বাচনের পূর্বে এরাই ধর্মীয় সংঘাত তৈরির লক্ষ্যে কোটি কোটি টাকা খরচ করে সারাদেশে ভুয়া পোষ্টার সাঁটানো হয়। এই টাকার উৎসও পাকিস্তান গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এর অর্থায়ন কি না তা নতুন করে গোয়ান্দাদের খতিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করছেন তাবলীগের মুরুব্বীরা।

আন্তর্জাতিক উলামায়ে কেরামের নামে গত বছর আমেরিকা থেকে তখন একটি চিঠি চালিয়েছেন ড. আউয়াল। অথচ এই চিঠির লেখক ছিলেন, আল-আমিন, ড. সিদ্দিকী, আব্বাস প্যাটেল, সাবের কাপাডিয়া। উপরোক্ত ইমেইলে এমন তথ্যই প্রকাশ করা হয়। তারা বৃহস্পতিবার রাতের প্রোগ্রামের পরে মসজিদ ‘আল ফালাহ’ এর দোতলায় এই চিঠি লিখেন। এই চিঠি তিনি তার ছেলে ওবাইদুল্লাহর নিকট পাঠান যাতে সে সবার কাছে এই চিঠি মুফতি জামাল উদ্দিন এবং মুফতি রুহুল আমিনের নামে ইমেইল করেন। যাতে তারা প্রসাশন ও সরকারে প্রভাব খাটিয়ে বাংলাদেশের পরিবেশকে নষ্ট করতে পার।

সুলেখক শামীম হামিদীর এরকম নানান তথ্যবহুল লেখায় সম্প্রতি এসব তথ্য বেরিয়ে আসে। এসব বিষয়ে ধারাবাহিক ৫০০পর্বের কিস্তিতে কথা বলেছেন লন্ডনের মাওলানা মেহবুব সাহেব।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com