শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:০৭ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম ::
হাটহাজারী মাদরাসা বন্ধ ঘোষনা এক আল্লাহ জিন্দাবাদ… হাটহাজারী মাদরাসায় ছাত্রদের বিক্ষোভ ভাঙচুর : কওমীতে নজিরবিহীন ঘটনা ‘তাবলিগের সেই ৪ দিনে যে শান্তি পেয়েছি, জীবনে কখনো তা পাইনি’ তাবলীগের কাজকে বাঁধাগ্রস্থ করতে লাখ লাখ রুপি লেনদেন হয়েছে: মাওলানা সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী দা.বা. (অডিওসহ) নিজামুদ্দীন মারকাজ বিশ্ব আমীরের কাছে বুঝিয়ে দিতে আদালতের নির্দেশ সিরাত থেকে ।। কা’বার চাবি দেওবন্দের বিরোদ্ধে আবারো মাওলানা আব্দুল মালেকের ফতোয়াবাজির ধৃষ্টতা:শতাধিক আলেমের নিন্দা ও প্রতিবাদ একান্ত সাক্ষাৎকারে সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী :উলামায়ে হিন্দ নিজামুদ্দীনের পাশে ছিলেন, আছেন, থাকবেন তাবলীগের হবিগঞ্জ জেলা আমীর হলেন বিশিষ্ট মোহাদ্দিস মাওলানা আব্দুল হক দা.বা.
একনজরে; বিশ্ব আমীর আল্লামা সা’দ কান্ধলভি হাফি. এর (সংক্ষিপ্তি) জীবনী

একনজরে; বিশ্ব আমীর আল্লামা সা’দ কান্ধলভি হাফি. এর (সংক্ষিপ্তি) জীবনী

তাবলীগ জামাতের বর্তমান বিশ্ব আমীর শায়খুদ দাওয়াত ও শায়খুল ইসলাম আল্লামা সাদ কান্ধলভি হাফিযাহুল্লাহ সম্প্রতি বাংলাদেশ ও বিশ্ব মিডিয়ায় আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। সারা দুনিয়ায় যার বয়ান শুনতে হাজির হয় কোটি কোটি মানুষ। অনেকেই তাকে একজন তাবলিগের মুরব্বি হিসেবে জানলেও তার পারিবারিক ঐতিহ্য, বর্ণাঢ্য শিক্ষা ও কর্মময় জীবন সম্পর্কে তেমন কিছুই জানেন না। সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও পাঠকের কৌতূহল সামনে রেখে মাওলানা সা’দ কান্ধলভির সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরলেন মাওলানা আহমদ জামিল।

জন্ম ও পরিবার : ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দ মোতাবেক ১৩৮৫ হিজরিতে দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজে জন্মগ্রহণ করেন।

দিল্লির নিজামুদ্দিনে তাবলিগী মারকাজের প্রতিষ্ঠাতা হজরতজী মাওলানা ইলিয়াস (রহ.)-এর পৈতৃক ভিটায় বড় হয়েছেন। তার বংশধরগণ এখনও দিল্লি মারকাজে বসবাস করছেন।

আল্লামা সাদ কান্ধলভি হজরত ইলিয়াস (রহ.)-এর প্রপৌত্র। তার পিতা হজরত মাওলানা হারুন কান্ধলভি (রহ.) ছিলেন হজরত ইউসুফ (রহ.)-এর একমাত্র ছেলে। আর ইউসুফ (রহ.) ছিলেন হজরত ইলিয়াস (রহ.)-এর ছেলে।

আল্লামা সা’দ কান্ধলভির বংশপরম্পরা ইসলামের প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। এজন্য তাদের খান্দানকে সিদ্দিকিও বলা হয়।

ভারতের উত্তর প্রদেশের কান্ধলা জেলার দিকে সম্পৃক্ত করে তাদের কান্ধলভি বলা হয়। মাওলানা সা’দ কান্ধলভির পূর্বপুরুষগণ এ জেলায় বসবাস করতেন। তারা ছিলেন কান্ধলার অন্যতম ধনাঢ্য মুসলিম পরিবার।

হজরত মাওলানা ইলিয়াস (রহ.)-এর পিতা মাওলানা ইসমাইল কান্ধলভি দিল্লির নিজামুদ্দিনে এসে বসবাস শুরু করেন। তার হাতেই এই এলাকা আবাদ হয়েছে বলে জানা যায়। সাধারণ মানুষের হৃদয়ে ইসলাম ও ইসলামী শিক্ষা বিস্তারে মাওলানা ইসমাইল কান্ধলভির ভূমিকা অপরিসীম। এ জন্য নিজামুদ্দিনে মাওলানা সা’দ ও তার পরিবারের প্রভাব অত্যন্ত বেশি।

কান্ধলা থেকে দিল্লিতে বসবাস শুরু করলেও আল্লামা সা’দ ও তার পরিবার এখনও কান্ধলার বিপুল পরিমাণ ভূ-সম্পত্তির মালিক।

শিক্ষা ও শৈশব : আল্লামা সাদ কান্ধলভি দিল্লির নিজামুদ্দিনেই বেড়ে উঠেছেন। তার লেখাপড়াও এখানেই। বিংশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ সাইয়েদ আবুল হাসান আলি নদভি (রহ.)-এর কাছে মাওলানা সা’দের হাতেখড়ি হয়। তিনি তাকে মসজিদে নববীর রওজাতুম-মিন রিয়াজিল জান্নাতে বসে প্রথম পাঠদান করেন।

নিজামুদ্দিন মারকাজে অবস্থিত কাশিফুল উলুম মাদ্রাসায় তিনি ১৯৮৭ সালে তাকমিল সম্পন্ন করেন।

ছাত্র জীবনে তার সার্বিক নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে ছিলেন মাওলানা ইজহারুল হাসান (রহ.)। তার শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন, মাওলানা ইনামুল হাসান (রহ.), মাওলানা উবায়দুল্লাহ বলিয়াভি (রহ.), মাওলানা ইলিয়াস বারাবানকি, মাওলানা ইবরাহিম দেওলা, মাওলানা মুঈন (রহ.), মাওলানা আহমদ গুদনা (রহ.), মাওলানা সাব্বির (রহ.) প্রমুখ।

কর্মময় জীবন : আল্লামা সা’দ কান্ধলভি লেখাপড়া শেষ করে তাবলীগে এক সাল লাগান। তারপর নিজামুদ্দিনের কাশিফুল উলুমে শিক্ষকতা শুরু করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুনানে আবু দাউদ ও সহিহ বুখারি শরীফের পাঠদান করছেন। এ ছাড়াও তিনি নিজামুদ্দিন মারকাজের নানা দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ‘আমীর’ হিসেবে বিশ্ব তাবলীগ পরিচালনার যাবতীয় দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়ে অাসছেন।

বিয়ে ও পরিবার : ১৯৯০ আল্লামা সা’দ কান্ধলভি ভারতের বিখ্যাত দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাজাহিরুল উলুম সাহরানপুরের মুহতামিম মাওলানা সালমানের কন্যা বিয়ে করেন। দাম্পত্য জীবনে তিনি ৩ ছেলে ও ২ মেয়ের পিতা। তার বড় ২ ছেলে কাশিফুল উলুম থেকে তাকমিল সম্পন্ন করেছেন এবং ছোট ছেলে এখনও অধ্যয়নরত।

আধ্যাত্মিক সাধনা ও খেলাফত লাভঃ প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়ার পাশাপাশি আল্লামা সা’দ কান্ধলভি আধ্যাত্মিক সাধনায়ও আত্মনিয়োগ করেন। তিনি দু’জন মহান ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে খেলাফত লাভ করেন। তারা হলেন, সাইয়েদ আবুল হাসান আলি নদভি (রহ.) ও মুফতি ইফতিখারুল হাসান কান্ধলভি। তিনি মাত্র ১৯ বছর বয়সে খেলাফত লাভ করেন।

এ ছাড়া তিনি মাওলানা ইনামুল হাসান (রহ.), মাওলানা সাঈদ আহমদ খান মক্কি (রহ.), মাওলানা উবায়দুল্লাহ বলিয়াভি, হাজি আবদুল ওয়াহাব, মুফতি যাইনুল আবিদিন প্রমুখের সান্নিধ্য লাভ করেন।

বিশ্ব তাবলীগের নেতৃত্বে যেভাবেঃ

পারিবারিক সূত্রে আল্লামা সা’দ কান্ধলভি তাবলিগি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। শৈশব থেকেই তিনি তাবলিগের কাজে মেহনত করছেন। আরব বিশ্ব ও গোটা দুনিয়াতে বিগত ২০ বছর ধরে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তার হাতে গোটা দুনিয়ায় হাজার হাজার মানুষ ইসলাম গ্রহন করেছেন। আলোর সন্ধান পেয়েছেন বিশ্বের কোটি কোটি বনী আদম।

তাবলিগের কাজে তার শ্রম ও নিষ্ঠার কারণেই হজরত ইনামুল হাসান (রহ.) ১০ সদস্যের শূরা কমিটির অন্তর্ভুক্ত করেন তাঁকে এবং অনেক প্রবীণ ও বিজ্ঞ লোকের উপস্থিতিতে তাকে ৩ জন আমীরে ফায়সালের একজন মনোনীত করা হয়। এই ১০ জন বিশ্ব মনীষীর মধ্যে একমাত্র জীবিত কিংবদন্তি হিসাবে তিনিই বেঁচে আছেন। ২০১৪ সালের মার্চে মাওলানা জুবাইরুল হাসান (রহ.)-এর ইন্তেকালের পর তাকে তাবলীগের সারা দুনিয়ার জিম্মাদারগণ তাবলিগ জামাতের বিশ্ব আমীর হিসাবে মনোনিত করেন।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com