রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন

ইজতেমাকে তারা এতো ভয় পান কেন?

ইজতেমাকে তারা এতো ভয় পান কেন?

ষ্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশে তাবলীগের ইজতেমা নতুন নয়। যুগযুগ ধরে চলক আশা এসব ইজতেমাতে মানুষের ঈমান আমক তৈরির আখেরাতমূখি জীবন ও উম্মাহর ভ্রাতৃত্ব কল্যান নিয়ে তাবলীগের দেশ বিদেশি মুরব্বিগন বয়ান করে আসছেন। কখনো বাংলাদেশের শীর্ষ কোন আলেম, রাজনৈতিক নেতা বা বাজারি বক্তা ইজতেমাতে বয়ান করেন নি। এনিয়ে তাদের ভিতর ক্ষোভ থাকাটাই স্বাবাভিক। যদিও ইজতেমায় খোদ তাবলীগের কোন মুরব্বি বয়ান করেন তার নাম কখনো মাইকে ঘোষনা করা হয় না।

সম্প্রতি তাবলীগ জয়মাতের বিশ্ব আমির মাওলানা সাদ কান্ধালভীকে ঘিরে বাংলাদেশের কিছু রাজনৈতিক আলেম নতুন বিতর্ক শুরু করেন। এনিয়ে তারা রাজনৈতিক স্টাইলে ওজাহাতি সমাবেশ করে এবার সারাদেশে ইজতেমা বন্ধ ও জোর করে তাবলীগ নিয়ন্তনের চেষ্টা করছেন। এনিয়ে সাধারন দ্বীনদ্বার মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ কাজ করছে। চিন্তাশীল ও ভদ্রজনরা এমন উগআচরণে বিস্মিত। ইজতমাতে ঈমান আমলপর বয়ান হয়। মানুষকে কলিমা, নামাজ শিখানোর জন্য আল্লাহর রাস্তায় বেড করা হয়। এমন একটি নির্মোহ একটি দ্বীনী ঐতিহ্যবাহী কাজে বাধা তারা কেন দিচ্ছেন।
কেন ইজতেমা নিয়ে কিছু আলেমের এতো ভয়। কই দেওবন্দতো ভারতের কোন ইজতেমায় বাধা দেয় নি বা যেতে নিষেধ করেন নি। তাহলে বাংলাদেশের আলেমরা কাদের অনুসরণ করছেন। এমন প্রশ্ন আজ কোটি কোটি মুসলমানের? দীর্ঘদিন ধরে নিজামুদ্দিন মার্কাজ বিরোধী হেফাজত সমর্থিত আলেম ও মাদরাসা ছাত্রদের নিরিহ তাবলিগের সাথীদের উপর নানান নির্যাতন ও দ্বীনি কাজে বাধা প্রদানের কারণে সাধারন মুসল্লীদের মাঝে একটি চাপা ক্ষোভ কাজ করে আসছিল। ঢাকা জেলা ইজতেমার জন্য এসব বাধার কারণে চারবার স্থান বদল করতে হয়েছে মূলধারা তাবলীগের সাথীদের। সর্ব শেষ গত সাপ্তাহে ঢাকার মিরপুরের ইষ্টান হাউজিংএ মাঠের কাজ আশি ভাগ সমাপ্ত করেন তাবলিগের সাথীরা। গত শুক্রবারে প্রায় তিশ হাজার তাবকীগের সাথীরা সেচ্ছাশ্রমে সেখানে ময়দানের কাজ করেন। শতশত অযুখানা, টয়লেট, ও বিশাল সামিয়ানা তৈরি করেন। কিন্তু রাতে হেফাজতপন্থীদের রাজনৈতিক চাপে পুলিশ তা বন্ধ করে দিয়ে তাবলীগের সাথীদের ময়দান থেকে বের হয়ে যেতে বাধ্য করে।
গতকাল রাত থেকে ইজতেমার ময়দান কেরানীগঞ্জের খোলামুড়ে মুসল্লিদের ঢল নামতে থাকে। বাদ ফজর কাকরাইলের মুরুব্বি মাওলানা মুহাম্মদ উল্লার আম বয়ানের মধ্য দিয়ে লাখ লাখ মুসল্লিদের অংশ গ্রহনে ঢাকা জেলা ইজতেমা শুরু হয়। আজ থেকে শতাব্দীকাল আগে ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলমানদের চরম ক্রান্তিলগ্নে ১৯১০ সালে ভারতের এক জনবিরল অঞ্চল মেওয়াত থেকে হাতে গোনা ক’জন মানুষ নিয়ে হযরত মাওলানা ইলিয়াছ কান্ধলভী (রহ.) পবিত্র কুরআন ও সুন্নার আলোকে দাওয়াত ও তাবলিগের এ মকবুল মেহনত শুরু করেন। তাবলীগের এ মেহনত এখন সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে।হজরত ইলিয়াছ (র.) ১৩৫১ হিজরি সালে হজ্ব থেকে ফিরে আসার পর সাধারণ মুসলমানদের দুনিয়া ও সংসারের ঝামেলা থেকে মুক্ত করে ছোট ছোট দলবদ্ধ করে মসজিদের ধর্মীয় পরিবেশে অল্প সময়ের জন্য দ্বীনি শিক্ষা দিতে থাকেন। তারপর এ কাজকে আরও বেগবান ও গতিশীল করার জন্য এ উপমহাদেশের সর্বস্তরের আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ ও বুজর্গদের কাছে দোয়া প্রার্থনা করা হয় এবং দিল্লীর কাছে মেওয়াতে সর্বস্তরের মুসলমানদের জন্য ইজতেমা বা সম্মেলনের ব্যবস্থা করা হয়।
এরপরই ক্রমেই তাবলীগের কার্যক্রম বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানের গন্ডি ছাড়িয়ে পৌঁছে যায় বিশ্বের সর্বত্র। হযরত মাওলানা আবদুল আজিজ (রহ.) এর মাধ্যমে ১৯৪৪ সালে বাংলাদেশে তাবলীগ শুরু হয়। তারপর ১৯৪৬ সলে বিশ্ব ইজতেমা সর্বপ্রথম অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশের তাবলীগের মারকাজ কাকরাইল মসজিদে। পরে ১৯৪৮ সালে চট্টগ্রাম হাজী ক্যাম্পে ইজতেমা হয়। এরপর ১৯৫৮ সালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে, তারপর ১৯৬৫ সালে টঙ্গির পাগারে এবং সর্বশেষ ১৯৬৬ সালে টঙ্গির ভবেরপাড়া তুরাগ তীরে অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ব ইজতেমা সেই থেকে এ পর্যন্ত সেখানেই ১৬০ একর জায়গায় তাবলীগের সর্ববৃহৎ ইজতেমা বা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে ।
ভারতের মুম্বাই ও ভূপালে এবং হালে পাকিস্তানের রায় বেন্ডে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হলেও জনসমাগমের বিচারে টঙ্গির বিশ্ব ইজতেমাই বড় এবং বিশ্ব দরবারে বিশ্ব ইজতেমা বলতে বাংলাদেশের টঙ্গিতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ইজতেমাকেই বুঝায়।মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণের কারণে জায়গা সংকোলান না হওয়ায় টঙ্গীর পাশাপাশি জেলা ভিত্তিকও ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।বিভিন্ন প্রকার অপপ্রচার-প্রোফাগান্ডা ও বাধা বিপত্তি সত্যেও বিশ্বের লাখো মানুষ এ মকবুল মেহনতের দ্বারা উপকৃত হচ্ছেন, অনেক পথহারা মানুষ পাচ্ছেন সঠিক পথের দীশা।এটা বিশ্ববাসীর জন্য এক রহমত।

 

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!