শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ০৬:৫৪ অপরাহ্ন

ঢাকায় আবারো উস্তাদকে মারধর করলো বাইতুস সালাম মাদরাসার ছাত্ররা (ভিডিও সহ)

ঢাকায় আবারো উস্তাদকে মারধর করলো বাইতুস সালাম মাদরাসার ছাত্ররা (ভিডিও সহ)

ষ্টাফ রিপোর্টার, তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম | কোন পথে যাচ্ছে কওমী মাদরাসা? আজ (২৪,১২,২০১৮) সোমবার ঢাকায় নিজ ছাত্রদের হাতে নির্যাতিত হলেন এক সিনিয়র মাদরাসা শিক্ষক। উত্তরা বাইতুস সালাম মাদরাসার সাবেক উস্তাদ মুফতী শাসুদ্দীন কাসেমী সাহেব উক্ত মাদরাসার মসজিদে জুহরের নামাজ আদায়ের জন্য গেলে নামাজ শেষে মাদরাসার ছাত্রদেরকে উষ্কানী নিয়ে মুফতী শামসুদ্দীন কাসেমী সাহেবের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয় কতিপয় হেফাযতপন্থী উস্তাদ।

ছাত্ররা তার গাড়ি ঘিরে ধরে টেনে হিঁচড়ে বের করে তার উপর হামলে পরে। এ নৃশংস হামলায় তিনি মারাত্মক আহত হোন এবং তার বহনকারী গাড়িটিও ব্যপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ ঘটনায় চিন্তাশীল আলেমদের মাঝে নিন্দার ঝড় উঠেছে। তারা বলছেন, একের পর এক ঘটে যাওয়া এসব উগ্রতার শেষ কোথায়? কারা পরিকল্পিতভাবে মাদরাসার ছাত্রদের উস্কে দিয়ে উগ্রতা ও বেয়াদবি শিক্ষা দিচ্ছে? গত দু’সপ্তাহে সারাদেশে অন্তত ৭ জন শিক্ষক নিজ মাদরাসার ছাত্রদের উগ্রতার শিকার হয়ে লাঞ্চিত হন। তাদের অনেকের বক্তব্য ইতোমধ্যে অনলাইনে ভাইরাল হয়ে নিন্দার ঝড় তুলেছে।

উল্লেখ্য যে, উত্তরা বাইতুস সালাম মাদরাসাতে সুদীর্ঘ দেড় যুগ সুনামের সাথে শিক্ষকতা করেন মাজলুম আলেমে দ্বীন মুফতী শামসুদ্দীন কাসেমী সাহেব। তার একাধিক ছাত্র এই মাদরাসাতেই এখনো সুনামের সাথে শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন করে আসছে। ২০০৬ সালে মুহতামিম মুফতী আবদুল হাই সাহেব উমরায় গেলে অন্তরবর্তিকালীন সময়ে মুফতী শামসুদ্দীন কাসেমী সাহেব ভারপ্রাপ্ত মুহতামিমের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। দাওয়াত ও তাবলীগের বিশ্বমারকায দিল্লীর নিজামুদ্দিনের অনুসরণকারী মূলধারার সাথে তিনি দাওয়াতের মেহনত করেন। এটিই তার অপরাধ।

আজকের এই ঘটনায় হতভম্ব হয়ে পড়েন চাক্ষুষদর্শী মুসল্লীবৃন্দ। কোন কোন মুসল্লীকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে দেখা গেছে। আজ বায়তুস সালামের একাধিক ছাত্র তাবলীগ নিউজ বিডি ডটমককে এই ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে জানান এবং উগ্র ছাত্রদের আচরণে তারাও মর্মাহত হন।

কেউ কেউ মন্তব্য করেন, পরমতসহিষ্ণতা ও সহনশীলতার অভাবে দিনদিন জনবিচ্ছিন্ন হয়েই চলেছেন কওমির হুজুররা। আজকের ঘটনাটি জনমনে আরো ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। এই উগ্রতার ফলে জনসাধারণের অন্তরে ‘হুজুর সমাজ’ এর দূরত্ব আরো বেড়ে গেলো। এভাবে চলতে থাকলে ‘হুজুররা’ খুব দ্রুতই সমাজ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। ইতিহাস বলে, এমন পরিস্থিতি যতবার এসেছে ততবারই হুজুররা অস্তিত্বসংকটে পড়েছে। আজকের ঘটনাটি এই পথেই ‘হুজুর সমাজ’কে আরো একটু এগিয়ে নিয়ে গেলো।

বাইতুস সালামের প্রাক্তন ছাত্ররা উক্ত ঘটনায় চরম মর্মাহত হয়েছেন। তাদের দাবী, নিজ উস্তাদদের ব্যপারে ছাত্রদের এমন হিংস্র আচরণ অনেক ভয়ংকর কিছুর ইঙ্গিত বহন করে। যা নিতান্তই উদ্বেগজনক। কওমি অঙ্গনের ভবিষ্যৎ অন্ধকার বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। প্রশ্ন উঠছে, হালে কোন পথে চলছে কওমি অঙ্গন?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদরাসার একজন ষ্টাফ বলেন, সূচনালগ্ন থেকেই আমরা খুব চাঁপের মধ্যে আছি। পাশেই র্যাব-১ এর প্রধান কার্যালয় থাকায় মাদরাসার উপর প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কড়া নজরদারী থাকে সবসময়। মাদরাসায় কিংবা মসজিদে বড় কোন আয়োজন করতে হলে র্যাব-১ কতৃপক্ষ থেকে অনুমতি নিতে হয়। এমন স্পর্শকাতর এলাকায় এধরণের উগ্রতা প্রদর্শন আমাদেরকে বিপাকে ফেলে দিয়েছে। ‘বড় হুজুর’সহ আমরা সবাই মহাচিন্তিত। নামাজের পরপরই ঘটনাটি ঘটায় নামাজ পড়তে আসা র্যাবের একাধিক অফিসার স্বচক্ষে বিষয়টি অবলোকন করেন। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তাদেরকে বেশ উদ্বিগ্ন মনে হয়েছে। তাই আমরা আশঙ্কা করছি, নির্বাচনপূর্ব এমন ক্রিটিক্যাল মূহুর্তে এধরণের দুর্ঘটনা মাদরাসাটিকে অস্তিত্বসংকটে ফেলে দিতে পারে। বিগত ২০০৫ সালে বিকালের তা’লীমকে কেন্দ্র করে এধরণের আরেকটি ঘটনা ঘটেছিলো। তখনো মাদরাসাটি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিলো।

তরুণ আলেমে দ্বীন ও বাইতুস সালামের একজন প্রাক্তন ছাত্র দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, মাযলূমের দু’আ আল্লাহ তা’আলা পর্যন্ত পৌঁছতে কোন পর্দা থাকে না। আজকের দুর্ঘটনাটি আমাদেরকে একটি কঠিন বার্তা দিয়ে গেলো। উগ্রতা ও হিংস্রতার প্রশিক্ষণকেন্দ্র এধরণের প্রতিষ্ঠানগুলো ইসলাম ও মুসলিমের উপকারের চেয়ে ক্ষতিই করেছে বেশি। দুষ্টু গরুর চেয়ে শুন্য গোয়াল যেমন উত্তম ঠিক তেমনই এধরণের বেয়াবদ ও হিংস্র আলেম হওয়ার চেয়ে না হওয়াই উত্তম। এখনই অভিভাবকদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। তাদের আমানতের সন্তান আজ চরম খেয়ানতের শিকার। এধরণের প্রতিষ্ঠান কখনোই সুনাগরিক ও ভালো মানুষ উপহার দিতে পারবে না। এমন অনিরাপদ প্রতিষ্ঠান থেকে এখনই সন্তানদেরকে হেফাযত করা উচিৎ। নতুবা পরবর্তীতে এরা বড় ধরণের জঙ্গীবাদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে যেতে পারে। মাদরাসা কতৃপক্ষ যদি অতিদ্রুত মুফতী শামসুদ্দীন কাসেমী সাহেবের কাছে ক্ষমা চেয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি না করে তাহলে র্যাবের একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার মাধ্যমে র্যাব-১ কতৃপক্ষের কাছে মামলা করা হবে। যা হয়তো প্রতিষ্ঠানটির জন্য দুর্দিনের কারণ হতে পারে। এমনকি অস্তিত্বও হারাতে পারে আদর্শচ্যুত এই ঐতিহ্যবাহী মাদরাসাটি।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!