মঙ্গলবার, ১৩ অগাস্ট ২০১৯, ০৮:০৩ অপরাহ্ন

জামাতের কাছে প্রকাশ্য ক্ষমা চেয়ে একাত্মতা ঘোষণা করলো ‘ওজাহাতি’ উবায়দুল্লাহ ফারুক

জামাতের কাছে প্রকাশ্য ক্ষমা চেয়ে একাত্মতা ঘোষণা করলো ‘ওজাহাতি’ উবায়দুল্লাহ ফারুক

বিশেষ রিপোর্টার| তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম| নীতি-আদর্শ জলাঞ্জলী দিয়ে অবশেষে জামাতের সাথে হাত মেলালেন জমিয়তনেতা ওজাহাতী উবায়দুল্লাহ ফারুক। গিরগিটির মত ক্ষণে ক্ষণে রং পাল্টানো এই নীতিভ্রষ্ট লোকটি এবার সিলেট – ৫ আসন (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্যপ্রার্থী। তিনি ‘জমিয়ত’ একাংশের অপরনেতা নূর হুসাইন কাসেমী পরিচালিত ‘জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা’র শায়খুল হাদীস। তার একের পর এক এহেন নির্লজ্জ কর্মকাণ্ডে লজ্জাবোধ করছেন অনেক জমিয়তকর্মী। একাধিক জমিয়তকর্মী আফসোস করে বলছেন, নীতি-আদর্শ থেকে শুরু করে সর্বদিক থেকে ‘জমিয়ত’ যে এতটাই দেউলিয়া, এটা আগে জানলে জীবনের অফেরতযোগ্য এতগুলো বছর নষ্ট হতো না।

গতকালের এই নির্লজ্জ ঘটনার পর জমিয়তের এক প্রবীণ নেতা তাবলীগ নিউজ বিডিকে জানান, উবায়দুল্লাহ ফারুক আসলে একজন আদর্শহীন স্বার্থপর লোক। স্বার্থে টান পড়লে তিনি যেকোন কিছুই করতে পারেন। ব্যপারটি আমরা আগে থেকে জানলেও দলের বৃহত্তরস্বার্থে সবকিছু সহ্য করেছি। কিন্তু এখন চুপ থাকার সুযোগ নেই। ‘যেদিকে বৃষ্টি সেদিকে ছাতা ধরা’র মত তিনি একজন মৌসুমী বকধার্মিক। একসময় জামাত-শিবির নিয়ে দেশে খুব তোলপাড় চলছিলো। তখন তড়িঘড়ি করে “মওদুদীবাদ” নামক একটি বস্তাপচা বই লেখে আলোচনার প্রথম সারীতে আসার চেষ্টা করেন। এতে কিছু সস্তা বাহবা পাওয়ার পাশাপাশি বিক্রয়লব্ধ পয়সা দিয়ে রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার স্বপ্ন ছিলো। কিন্তু ফলাফল আশানুরূপ না হওয়ায় বিভিন্ন মাদরাসায় গিয়ে গিয়ে নিজেই নিজের মার্কেটিং করতে থাকেন। কথায় কথায় জামাত-শিবিরকে কাফের, বেঈমান ও জাহান্নামী বলা তার মুদ্রাদোষে পরিণত হয়।

দেখুন নিচের ভিডিওটিতে কিভাবে তিনি প্রকাশ্যে জামাত-শিবিরকে বেঈমান বলছেন।

জামাত-শিবিরের বিরুদ্ধে তার রচিত বই মওদূদীবাদ

এবার শুনুন, কিভাবে আগের অবস্থান থেকে পল্টি মারলো এই ওজাহাতী মৌলভী

জামাত-শিবিরের আজ এক টেবিলে ‘মওদুদীবাদ’এর লেখক উবায়দুল্লাহ ফারুক

জমিয়তের আরেক প্রাক্তন সদস্য বলেন, ঝোপ বুঝে কোপ দেওয়ার ক্ষেত্রে উবায়দুল্লাহ ফারুকের জুড়ি মেলানো দুষ্কর। জমিয়তের অনেক কর্মীই তাকে ‘কোপা শামসু’ নামে ডাকে। গত বছর দাওয়াত ও তাবলীগের একটি আভ্যন্তরীন মতানৈক্যের খবর আসে তার কানে। খোঁজ-খবর নিয়ে তিনি বুঝলেন, এটাই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় ‘ঝোপ’। সাথে সাথে ‘কোপ’ দেওয়ার জন্য “সাদ সাহেবের আসল রূপ” নামে একটি চটি বই রচনা করে ফেলেন। আদ্যোপান্ত মিথ্যা এই বইটি প্রকাশের পর আমিসহ অনেকেই মর্মাহত হই। তার সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বললে আমাদেরকেও অনেক কটু কথা শুনিয়ে দেন। সবকিছু দলীয়স্বার্থে মুখ বুঁজে সয়েছিলাম। কিন্তু এখন নিজেকে অনেক বড় অপরাধী মনে হচ্ছে। এই একটি বই-ই সর্বপ্রথম দেশব্যপী উলামায়ে কেরামকে বিভ্রান্ত করার জন্য প্রথম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিলো। তারপর গত বছরের ২৫শে নভেম্বর ২০১৭ তারিখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের তৈরিকৃত ৫ সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধিদলের জিম্মাদার ছিলেন তিনি। সফর শেষে অনেক তথ্য গোপন করে তার বই বিক্রির ধারা জারী রাখেন। নতুবা সা’দ সাহেবের রুজুর প্রকৃত তথ্য যদি তারা গোপন না করে ৬ই জানুয়ারী ২০১৮ তারিখে উত্তরার আয়েশা মসজিদে অনুষ্ঠিত সর্ববৃহৎ ওজাহাতী জোড়ে প্রকাশ করে দিতেন তাহলে পরিস্থিতি আজ এ পর্যন্ত গড়াতো না। এধরণের আরো হাজারো ফেতনার মহানায়ক এই উবায়দুল্লাহ ফারুক।

বিষয়টি একাধিক আলেমের সাথে আমাদের প্রতিনিধি কথা বলেছেন। তারা জানান, আমরা তো তাকে অনেক বড় আলেম ভেবেছিলাম। যখন শুনেছি, তিনি নূর হুসাইন কাসেমীর মাদরাসার শায়খুল হাদীস তখন তার কথা নির্দ্বিধায় মেনে নেই। তার কথা শুনেই আমরা নিযামুদ্দীনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলাম। এর আগে আমরা অনেকেই ‘নিযামুদ্দীন’ নামটিও শুনি নাই। বেশকিছু দিন যাবত বিশেষ করে টঙ্গীর ঘটনার পর আমরা নতুন করে ভাবতে শুরু করলাম। ইসলামের বিজয়তো জনসংখ্যা দিয়ে আসে নি। এসেছে ঈমানের শক্তি দিয়ে। তাহলে হাজার হাজার ছাত্র-শিক্ষক কেন পরাজিত হলো? তাহলে কি ঈমানের শক্তিতে তাবলীগীরাই এগিয়ে আছে? বিষয়গুলো নতুন ভাবনার জন্ম দিয়েছিলো। তখন সর্বপ্রথম আমি ও আমার আশপাশের কয়েকজন আলেমকে সাথে নিয়ে ‘তাহক্বীক’ করতে নামি। এরপর থেকে আমাদেরকে উষ্কানীদাতা এসব ওজাহাতীদের ব্যপারে এমন সব তথ্য পাচ্ছি যা আমাদের চোখকে ছানাবড়া করে দিচ্ছে। জিহ্বায় কামড় দিয়ে ভাবছি, কী করলাম এতদিন? কাদের পিছনে ছুটছিলাম?

তাবলীগের মূলধারার একজন তরুণ আলেমে দ্বীনের সাথে এ বিষয়ে কথা বললে তিনি জানান, ইলিয়াস রাহিমাহুল্লাহ এই কথা বলতেন, “আমার এই মেহনত হলো, দুই ফলাবিশিষ্ট ধারালো তরবারীর মত। যে-ই এই মেহনত নিয়ে খেলতে আসবে সেই টুকরো টুকরো হয়ে যাবে।” এটি সীরাতেও প্রমাণিত। পারস্যের বাদশা ‘মুকাউকিস’এর কাছে রাসূল যখন চিঠি পাঠালেন তখন সে রাসূলের চিঠি ছিড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলে। এই সংবাদ রাসূলের নিকট পৌঁছলে তিনি বলেন, পারস্যের বাদশা আমার চিঠি ছিড়ে নি। বরং সে তার রাজত্য ছিড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলেছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে তাই ঘটেছিলো। আজও যেসব ওজাহাতী হযরতরা তাবলীগ নিয়ে খেলতে নেমেছে তাদের জন্য আল্লাহ তা’আলাই যথেষ্ট। তুরাগের নাকানি-চুবানি থেকে যারা শিক্ষা নিয়েছে তারাতো বেঁচে গেলো। পক্ষান্তরে যারা আরো উগ্র হয়েছে তাদের পরিণতি ‘মুকাওকিস’এর চেয়ে ভালো কিছু হবে না। যার আলামত ইতোমধ্যে প্রকাশ পেতে শুরু করেছে।

ঢাকার একটি বড় ও ঐতিহ্যবাহী মাদরাসার শায়খুল হাদীসের যদি এই অবস্থা হয় তাহলে অধঃস্তন শিক্ষকদের কী অবস্থা তা সহজেই অনুমেয়। কওমী অঙ্গন আজ আমূল পরিবর্তনের দাবী রাখে।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!