বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ০৮:০২ পূর্বাহ্ন

তাবলীগীর সন্তানকে আয়রনের ছ্যাকা দিয়ে হেফাজতপন্থী শিক্ষকের নির্যাতন | ২ ওজাহাতি গ্রেফতার

তাবলীগীর সন্তানকে আয়রনের ছ্যাকা দিয়ে হেফাজতপন্থী শিক্ষকের নির্যাতন | ২ ওজাহাতি গ্রেফতার

যশোর প্রতিনিধি; তাবলীগ নিউজ বিডি ডটকম। হেফাজতপন্থী শিক্ষকদের দ্বারা মূলধারার সাথীদের কোমলমতি নিস্পাপ সন্তানরা গত তিন সাপ্তাহ ধরে একেরপর নির্মম নির্যাতিত হয়ে আসছে বিভিন্ন মাদরাসায়। যা পৃথিবীর সকল বর্বরতার ও উগ্রতাকে হার মানিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে যশোরের উপশহরে অবস্থিত তাবলীগের মারকায মসজিদ মাদ্রাসায়।পিতার উপর রাজনৈতিক আক্রোশ মেটাতে না পেরে এবার সন্তানের উপর ঝাল মিটিয়ে নির্মম নির্যাতন করেছেন হেফাজতপন্থী ওজাহাতি ৩ শিক্ষক। কথিত জমহুরদের একের পর এক অমানবিক ছাত্র নির্যাতনের ঘটনায় এই প্রথম দুজনকে আটক করেছেমা মাগুরা  থানার পুলিশ।

 

জানা যায়, ঘটনা জানাজানির পর তদন্তের জন্য পুলিশ আসলে শিক্ষকরা মিথ্যা বলে মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে চায়। তাদের দাবী, দুই শিশু শিক্ষার্থীর মধ্যে বাকবিতন্ডা হলে শিক্ষক তরীকুল ইসলাম ক্ষুব্ধ হয়ে শাস্তিস্বরূপ ইলেক্ট্রিক আয়রন গরম করে হাতে ছ্যাকা দেন। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান শিক্ষার্থীদের বাবা মূূূলধারার তাবলীগের সাথী।  পিতা মাওলানা সাদ কান্ধলর অনুসারী হওয়ায় ওজাহাতি হেফাজতপন্থী শিক্ষক কোমলমতি নিস্পাপ বাচ্চাদের উপর নির্মম নির্যাতন করেছে।

এঘটনায় মামলা হয়েছে তিন শিক্ষকের  নামে। তাদের মধ্য দুজনকে পরে পুলিশ আটক করেছে। আটককৃতরা হলেন মুফতি মাজেদুর রহমান (৩৮) এবং হাফেজ আজাহারুল ইসলাম (৩৭)। আর মূল আসামি শিক্ষক তরিকুল ইসলাম (৩৮) এখনো পলাতক আছেন।

আহত সাকিব ও সিয়াম

যশোর শহরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের রবিউল ইসলাম অভিযোগ করেন, তার ভাগ্নে সাকিব আল হাসান সিয়াম (৯) ওই মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে। গত বুধবার বিকেল ৪টার দিকে মাদ্রাসার মক্তব বিভাগের শিক্ষক তরিকুল ইসলাম পড়াচ্ছিলেন। সে সময় আরো ছাত্রের মধ্যে শিশু শিক্ষার্থী মাগুরার সদর উপজেলার লস্করপুর গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে হুজাইফা হামজাও (৭) ছিল। কোন এক তুচ্ছ কারণে শিক্ষক তরিকুল ক্ষিপ্ত হন এবং তাদের মারপিট করেন। অপর দুই শিক্ষক একটি ইলেকট্রিক আয়রন গরম করে নিয়ে এসে শিক্ষক তরিকুল ইসলামের হাতে দেন। তিনি দুই শিশু শিক্ষার্থীর ডান হাতের তালুতে ছ্যাকা দেন। তারা চিৎকার চেঁচামেচি করলে তাদেরকে একটি রুমে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখা হয়। ঘটনা জানতে পেরে রবিউল ইসলাম তার ভাগ্নেকে দেখতে মাদ্রাসায় যান এবং দুইজনকে আহত অবস্থায় পান। বিষয়টি শিক্ষক তরিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি উল্টো তাকে হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেন। পরে ওই দুই শিশুকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা করান এবং পুলিশে অভিযোগ করেন। পরে পুলিশ গিয়ে শিক্ষক মাজেদুর রহমান এবং হাফেজ আজাহারুল ইসলামকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। দুজনই হিফজ বিভাগের শিক্ষক। তবে মুল অভিযুক্ত শিক্ষক তরিকুল ইসলাম ততক্ষণে পালিয়ে যান।

এ বিষয়ে কোতয়ালি থানার এসআই এইচএম মাহমুদ বলেছেন, অভিভাবকের অভিযোগের ভিত্তিতে দুই শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। তবে মূল আসামি পলাতক রয়েছেন।

ঘটনাটি গত ১২/০৯/২০১৮ তারিখে ঘটলেও যশোরবাসীর অন্তর থেকে এখনো ক্ষত শুকায় নি। দুজন শিক্ষক আটকের ঘটনায় কোনঠাসা হয়ে চুপসে যান অন্যান্য শিক্ষক। ফলে অভিভাবকদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এলেও পুরোপুরি শঙ্কাহীন হতে পারছেন না কেউ।

মূলধারার কয়েকজন আলেম দাবী করেন, এধরণের ঘটনা শুধু যশোরেই নয়। সারাদেশের বিভিন্ন জায়গায় হেফাযতী শিক্ষকদের দ্বারা নিরীহ ছাত্ররা নির্যাতিত হচ্ছে। এই লক্ষ্যে দেশব্যপী হক্বানী উলামায়ে কেরামের তত্বাবধানে দাওয়াত, তালীম ও তাযকিয়ার সমণ্বয়ে আদর্শ মাদরাসা কায়েম করা হচ্ছে, আলহামদু লিল্লাহ। মাস দু’একের মধ্যেই আমাদের সন্তানদেরকে আমরা নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরিয়ে নিতে পারবো, ইনশা আল্লাহ।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com