মঙ্গলবার, ২২ Jun ২০২১, ০৪:০১ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম ::
চলতি মাসেই চালু হচ্ছে ৫০ মডেল মসজিদ অনলাইনে বিভিন্ন গ্রুপ ও পেইজ এডমিনদের নিয়ে মাশোয়ারার  বাংলাদেশে আরবি বিস্তারের মহানায়ক আল্লামা সুলতান যওক নদভী (দা.বা) দেওবন্দে গেলেন হযরতজী মাওলানা সাদ কান্ধলভী দা.বা. মনসুরপুরীকে নিয়ে সাইয়্যেদ সালমান হুসাইনি নদভির স্মৃতি চারণ আল্লামা ক্বারী উসমান মানসুরপুরীর ইন্তেকালে বিশ্ববরেণ্য আলেমদের শোক আমীরুল হিন্দ আল্লামা ক্বারী উসমান মানসুরপুরীঃ জীবন ও কর্ম আমার একান্ত অভিভাবক থেকে বঞ্চিত হলাম : মাহমুদ মাদানী মানসুরপুরীর ইন্তেকালে জাতীয় কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের গভীর শোক প্রকাশ দেওবন্দের কার্যনির্বাহী মুহতামিম সাইয়েদ কারী মাওলানা উসমান মানসুরপুরী আর নেই
হেফাজতের ক্রমাগত উগ্রতায় উদ্বিগ্ন বিশ্ব | গণমাধ্যমে তোলপাড়

হেফাজতের ক্রমাগত উগ্রতায় উদ্বিগ্ন বিশ্ব | গণমাধ্যমে তোলপাড়

ষ্টাফ রিপোর্টার, তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম| উগ্রতার জন্য বাংলাদেশ জামাতে ইসলামীকে দায়ী করে এতোদিন হুমকী হিসাবে মনে করে আসছিল বিশ্ব। কিন্তু ইদানিং একই কায়দায় ক্রমাগ্রত উগ্রতার জন্য জামাত -শিবিরের সাথে বিশ্ব দরবারে ও আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে উঠে এসেছে হেফাজতে ইসলামের নাম। বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসাবে এখন বিশ্বব্যাপী কওমি মাদরাসা ভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের নাম উঠে এসেছে। ওই কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে থামাতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে বিশ্ব নেতাদের পক্ষ থেকে। এছাড়া হেফাজতের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানে অর্থায়ন এবং তাদের সঙ্গে অংশীদারী বন্ধ করতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

যেখানে কওমী সনদের স্বীকৃতির পর টেকসই উন্নয়নে কওমী অঙ্গনের ইতিবাচক বিষয়গুলো আলোচিত হবার কথা ছিল, সেখানে হেফাজতকে উন্নয়নের জন্য হুমকী এবং বাংলাদেশে তাদের সাথে সম্পর্ক রাখলে অর্থায়ন বন্ধের প্রস্তাবনা আলেমদের স্থিতিশীল ও বুদ্ধিভিত্তিক পরাজয় বলে মনে করছেন চিন্তাশীল আলেমরা। ধর্মের নামে নানান অপব্যক্ষা করে ভিন্ন চিন্তা ও বিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি লালনকারী ব্যক্তি ও সংগঠনের উপর ক্রমাগত হেফাজত নেতাদের নেতৃত্বে দমন, পীড়ন ও নির্যাতনের কারনেই এমন বদনামের ভাগিদার হচ্ছে সংগঠনটি।

চ্যানেল ২৪ এর ওয়েবসাইটে প্রাসঙ্গিক সংবাদে বলা হয়, হেফাজতের মতো গণতন্ত্রের প্রতি হুমকি হয়ে ওঠা দলগুলোকে থামাতে বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন কংগ্রেস। চলতি সপ্তাহে এ সংক্রান্ত এক প্রস্তাবে, ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রের জন্য হুমকি আখ্যা দেয়া হয়।

“স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি জামায়াত-শিবির হেফাজত” শিরোনামে গত ২৮ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে কালের কন্ঠ লিখেছে, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবির ও হেফাজতে ইসলামের মতো কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ও অসাম্প্রদায়িক গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে মার্কিন কংগ্রেসে উত্থাপন করা এক প্রস্তাবে। তাতে ওই কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে থামাতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

পাশাপাশি ওই গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানে অর্থায়ন এবং তাদের সঙ্গে অংশীদারি বন্ধ করতে আহ্বান জানানো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (ইউএসএআইডি) প্রতি।
মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধিসভায় গত বুধবার রাতে (বাংলাদেশ সময়) প্রস্তাবটি এনেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্য থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধি জেমস ই ব্যাঙ্কস। প্রস্তাবটি উত্থাপনের পর তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য প্রতিনিধিসভার পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।
‘বাংলাদেশে ধর্মের নামে পরিচালিত গোষ্ঠীগুলোর কারণে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি সৃষ্ট হুমকির কারণে উদ্বেগ প্রকাশ’ শীর্ষক ওই খসড়া প্রস্তাবে চারটি দফা রয়েছে।

দৈনিক প্রথম আলোর রিপোর্টে বলা হয়েছে,
‘বাংলাদেশে ধর্মের নামে পরিচালিত গোষ্ঠীগুলোর কারণে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি সৃষ্ট হুমকির কারণে উদ্বেগ প্রকাশ’ শীর্ষক উত্থাপিত ওই প্রস্তাবে গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানে অর্থায়ন এবং তাদের সঙ্গে অংশীদারি বন্ধ করতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবির ও হেফাজতে ইসলামকে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ও অসাম্প্রদায়িক গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে এসব গোষ্ঠীকে থামাতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে এক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে।

দৈনিক ডেইলি ষ্টারের প্রতিবেদনে সম্প্রতি বলা হয়েছে, ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের নির্বাচিত প্রতিনিধি জিম ব্যাঙ্কস গত ২০ নভেম্বর ‘বাংলাদেশে ধর্মের নামে পরিচালিত গোষ্ঠীগুলোর কারণে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি সৃষ্ট হুমকির কারণে উদ্বেগ প্রকাশ’ শীর্ষক এই প্রস্তাবটি এনেছেন।

ওই প্রস্তাবে ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানে অর্থায়ন এবং তাদের সঙ্গে অংশীদারি বন্ধ করতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

প্রস্তাবে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি নির্বাচনে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে, কমিশনের অনুরোধে সাড়া দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। হেফাজতসহ অন্যান্য ধর্মভিত্তিক দলগুলো বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা এবং ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব কট্টরপন্থি দলের সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও ইউএসএআইডিকে সব ধরনের অংশীদারিত্ব ও অর্থায়ন বন্ধের আহ্বানও জানানো হয়।

এ ব্যপারে হেফাযতের কাউকে কোন মন্তব্য করতে দেখা যায় নি। অনুসন্ধানে জানা যায়, আত্ম-অহমিকার মাদকতায় নিমজ্জিত হেফাযতনেতারা এবার নড়েচড়ে বসেছেন। গত ১লা ডিসেম্বর টঙ্গী ট্রাজেডির সাথে এই মার্কিন প্রস্তাবের যোগসূত্রও খুঁজে পেয়েছেন অনেকে। তাদের দাবি, প্রশাসন পূর্ব-অবহিত থাকা স্বত্বেও ছাত্রদেরকে বাঁচাতে এগিয়ে না আসাটাই প্রমাণ করছে, প্রশাসন সেই মার্কিন প্রস্তাব মেনে নিয়েই আমাদের বিরুদ্ধে লেগেছে।

তাবলীগের মূলধারার একজন আলেম এ প্রসঙ্গে বলেন, সহীহ মুসলিম শরীফে বর্ণিত আছে “যখন আল্লাহ কোন বান্দাকে মহব্বত করেন তখন জিবরীলকে ডেকে বলেন, আমি অমুক বান্দাকে মহব্বত করি। তুমিও তাকে মহব্বত করো। অতঃপর জিবরীল পুরো আসমানবাসীর সামনে ঘোষণা দেয়, আল্লাহ অমুককে মহব্বত করেন। অতএব তোমরাও তাকে মহব্বত করো। অতঃপর তার মহব্বত দুনিয়াবাসীর অন্তরেও ঢেলে দেওয়া হয়। পক্ষান্তরে আল্লাহ যাকে অপছন্দ করেন তার ব্যপারে জিবরীলকে ঘৃনা করার নির্দেশ দেন। জিবরীলও এই ব্যক্তিকে ঘৃনা করার জন্য আসমানবাসীকে নির্দেশ দেন। অতঃপর সমস্ত জমীনবাসীর অন্তরেও তার ব্যপারে ঘৃনা ও বিদ্বেষ ঢেলে দেওয়া হয়।”

যারা আজ ‘আলেন বিদ্বেষী’ বলে বলে জিহ্বা ক্ষয় করে ফেলতেছেন তারা যেন এই হাদিসটি খেয়াল করেন। কেন আজ মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে সমস্ত জমিনবাসী তাদের বিরুদ্ধে লেগেছেন?

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com