শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:৫০ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম ::
এক আল্লাহ জিন্দাবাদ… হাটহাজারী মাদরাসার সামনে পুলিশের সতর্ক অবস্থান : রুহিকে গনধোলাই কেন হাটহাজারী মাদরাসা ছাত্র আন্দোলনে উত্তাল? হাটহাজারী মাদরাসায় ছাত্রদের বিক্ষোভ ভাঙচুর : কওমীতে নজিরবিহীন ঘটনা ‘তাবলিগের সেই ৪ দিনে যে শান্তি পেয়েছি, জীবনে কখনো তা পাইনি’ তাবলীগের কাজকে বাঁধাগ্রস্থ করতে লাখ লাখ রুপি লেনদেন হয়েছে: মাওলানা সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী দা.বা. (অডিওসহ) নিজামুদ্দীন মারকাজ বিশ্ব আমীরের কাছে বুঝিয়ে দিতে আদালতের নির্দেশ সিরাত থেকে ।। কা’বার চাবি দেওবন্দের বিরোদ্ধে আবারো মাওলানা আব্দুল মালেকের ফতোয়াবাজির ধৃষ্টতা:শতাধিক আলেমের নিন্দা ও প্রতিবাদ একান্ত সাক্ষাৎকারে সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী :উলামায়ে হিন্দ নিজামুদ্দীনের পাশে ছিলেন, আছেন, থাকবেন
চাঁপের মুখে মুফতী তাকী উসমানী ভয়েজ ম্যাসেজে যা বললেন…

চাঁপের মুখে মুফতী তাকী উসমানী ভয়েজ ম্যাসেজে যা বললেন…

নিউজ ডেস্ক, তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম| বিশ্ব বরেণ্য আলেমে দ্বীন আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ ডিসেম্বরের শুরুতে দুবাইয়ে একটি আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে যোগ দিতে যান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের মুফতি তাকি উসমানিও। কনফারেন্সে তাকি উসমানির সঙ্গে দেখা হলে তিনি বলেন, মাওলানা সাদের ব্যাপারে দেওবন্দের ফতোয়াই হয় নি। উপরোক্ত মন্তব্য করেন বলে মাওলানা মাসঊদ দাবি করেন তার বক্তব্যে। অপরদিকে আল্লামা মাসউদ এটিও বলেছেন, আমি তাকী উসমানীর সাথে একমত নই। দেওবন্দ যা বলেছে তার সাথে একমত। দেওবন্দের বাহিরে গিয়ে যারা বাড়াবাড়ি করছে তাদের সাথেও আমি একমত নই।

ভয়েজ রেকর্ডের শুরুতেই মুফতী তাকী উসমানী বলেন, ‘আমি তাকী উসমানি বলছি। এর আগেও আমি আপনাকে এ বিষয়ে ম্যাসেজ পাঠিয়েছি”। অথাৎ বিষয়টি নিয়ে তাকে বারবার ক্রমাগত চাপ দিচ্ছিলেন মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ গংরা। এ বিষয়ে আগেও তাকী উসমানী ম্যাসেজ দিয়েছেন। কিন্তু কথিত ওজাহাতি নেতাদের মনোপূত হয় নি। তাই বারবার চাপে বিরক্ত হয়েই বলেছেন, “এর আগেও আমি আপনাকে এ বিষয়ে ম্যাসেজ পাঠিয়েছি।”

এরপর তাকী উসমানী বলেছেন, “মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ সাহেবের সঙ্গে আমার সাক্ষাত হয়েছে কিনা, সে ব্যপারে আমার মনে পড়ছে না।

তাকী উসমানী আর আল্লামা মাসউদের হাত ধরে ঘনিষ্ট ছবিটি সেদিনই স্যোসাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল। আর এখন বাঙ্গালী আলেমদের চাঁপে তিনি বলছেন, “সাক্ষাৎ হয়েছে কি না মনে পড়ছে না” এটি কি সম্ভব যে তাকী উসমানী খুব দুর্বল জেহেনের লোক! এক সাপ্তাহেই ভুলে গেলেন সব?

আবার বলেছেন, “বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অনেক মানুষের সঙ্গে আমার সাক্ষাত হয়, কথা হয়, আমি চিনিও না। হতে পারে তার সঙ্গে আমার সাক্ষাত হয়েছে।” এটি কি সম্ভব যে, আল্লামা মাসউদকে তাকী উসমানী চিনেন না? বিশ্বাস যোগ্য? তাই চাঁপের মুখে কৌশলে ফের বলেছেন, “হতে পারে তার সঙ্গে আমার সাক্ষাত হয়েছে।”

বাংলাদেশের কতিপয় আলেম বারবার ম্যাসেজে ও ফোনে মুফতী তাকী উসমানীকে চাঁপ দিয়ে বিরক্ত করতে থাকেন যা ভিডিওর কথা ও নানান সূত্রে নিশ্চিত জানা য়ায়। এক পর্যায়ে তাদের ক্রমাগত জ্বালাতনে অনেকটা বাধ্য হয়েই তিনি সংক্ষিপ্ত একটি ভয়েজ রেকর্ড পাঠান তাদের ভার্চুয়াল উৎপাত থেকে মুক্ত হতে। গতকাল নানান অপব্যাখ্যা দিয়ে রেকর্ডটি ভাইরাল করেন, বাংলাদেশের কথিত জমহুরগন।

ভয়েজ বার্তায় আরো বলেন, “কেউ আমাকে এমন কিছু জিজ্ঞেস করেছে বলেও আমার মনে পড়ছে না”

সেখানে তাকী সাহেব চমৎকারভাবে নিজের প্রজ্ঞাপূর্ণ বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন।

বাস্তবেও তিনি এমন কোন কথা বলেন নি – এর মানে আমি এমন কোন কথা বলিনি তথা প্রকাশ্যে বলিনি।

বাকি সব কিছু চাঁপিয়ে দিয়েছেন “মনে থাকা-না থাকার” উপর। আবার একেবারে অস্বীকারও করেননি।

সেই সাথে তিনি দেওবন্দের ফতওয়ার ব্যাপারে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে কিছু বলাটা এড়িয়ে গিয়েছেন। অথচ পুরো বিষয়টাই তো এই নিয়ে। এই ফতওয়ার ব্যাপারে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করা বা দেওবন্দের ফতোয়ার প্রতি সমর্থনসূচক কোন বক্তব্য তিনি দেননি। কিছুই বলেন নি এই প্রসঙ্গে।

এর কারণ হলো তিনি একজন প্রতিভাবান ও জ্ঞানী আলেম। দুনিয়ার সমস্ত বিশেষজ্ঞই কোন বিষয়ে মতামত দিয়ে সেটা থেকে ফিরে আসলেও নিজের জ্ঞান-বুদ্ধির গায়রতে সেই মতের পক্ষে কথা বলেন না।

এটা কবি-সাহিত্যিক থেকে নিয়ে শুরু করে ডাক্তার-আইনজীবী এমনকি উদারবাদী বিজ্ঞানী-গবেষকসহ সবাই আছে। এ ক্ষেত্রে তারা পরমতের বিষয়ে নিজের বক্তব্য থেকে ফিরে আসে বা তার বক্তব্য মেনে নেয়, কিন্তু সমর্থন করে না।

হাজার বছর ধরে বুদ্ধিমান আলেমগণ নানা চাঁপের মুখে এই ধরণের চাতুর্যের সাথে বক্তব্য উপস্থাপন করে আসছেন। কওমীসংশ্লিষ্ট সবাই এ সম্পর্কে অবগত।

তিনি যে চাঁপের মুখে আছেন এর প্রমাণ হলো, অডিও বার্তাটি প্রদানের সময় তিনি বিমানের ভেতর। যেকোন মুহুর্তে বিমান আকাশে উড়াল দেবে। কেবিন ক্রুর গলার আওয়াজ শুনা যাচ্ছে সিটবেল্ট বাঁধতে। ফ্লাইট শুরুর আগে যে নিরাপত্তা নির্দেশনা সামনের স্ক্রিনে ভাসে এর আওয়াজ পুরো অডিও জুড়ে শোনা গিয়েছে।

তাঁর মত একজন অভিজ্ঞ পর্যটকের ভালো মতই জানা আছে এই সময়ে মোবাইল ব্যবহার করা বিমান কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে বিরাট অপরাধ। এমনকি প্রয়োজনে কেবিন ক্রু যাত্রীর হাত থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বন্ধ করে দেয়ার ক্ষমতা রাখে।

একজন মানুষ কতটা চাঁপের মুখে থাকলে এই সময়ে এমন বার্তা দেয়া বা একটা বিষয়ে কথা বলার উন্মুখ – উতলা হয়ে উঠতে পারে!!

চাঁপটা কিসের? দেওবন্দকে এড়িয়ে গিয়ে দীনী কাজের যিম্মাদারী-নেতৃত্ব নেয়ার মত অবস্থান গত ৭১ বছরেও পাকিস্তানী আলেমগণ অর্জন করতে পারেন নি, ভবিষ্যতেও পারবেন না বলে অনুভব হয়। প্রকাশ্যে দেওবন্দের বিপরীতে অবস্থান নিয়ে কোন পাকিস্তানী আলেমের টিকে থাকার সামর্থ্য নেই।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com