শুক্রবার, ১৬ অগাস্ট ২০১৯, ০৯:১১ অপরাহ্ন

সাক্ষাৎকার: দারুল উলুম দেওবন্দ এবং নিজামুদ্দিন পরস্পর দুই ভাইয়ের মতো

সাক্ষাৎকার: দারুল উলুম দেওবন্দ এবং নিজামুদ্দিন পরস্পর দুই ভাইয়ের মতো

মুফতী ফয়জুল্লাহ আমান কাসেমী

(কে এই মেধাবী আলেম?
দারুল উলুম দেওবন্দের দফতরে ইহতিমামে দাওরায়ে হাদীসের উস্তাদ হঠাৎ আলোচনা শুরু করলেন এই বলে, আমি একটা পরীক্ষার খাতা দেখলাম। সে নিশ্চয় বাংলাদেশে বেশ কয়েক বছর হাদীসের দরস দিয়ে দেওবন্দে এসেছে পড়ার জন্য। খাতাটা আমি আলাদা করে রেখেছি।

সাথে সাথেই আরেকজন উস্তাদ বলে উঠলেন আমিও এমন একজনের খাতা আলাদা করে রেখেছি। খাতা দুটো এনে দেখা গেল একই ছাত্রের খাতা। তৎক্ষণাৎ সেই ছাত্রকে দফতরে ইহতেমামে তলব করা হল। দফতরে উপস্থিত হল ১৭/১৮ বছর বয়সের দুর্বল পাতলা শুশ্রুবিহীন এক কিশোর। তাকে দেখে সবাই সমস্বরে বলে উঠলেন ইয়ে ত বাচ্চা হে!

জ্বী জনাব! দারুল উলুম দেওবন্দের আসাতিযায়ে কেরামকে নিজের মেধা ও হাদীসের পাণ্ডিত্য দিয়ে হতবাক করে দেওয়া সেদিনের সেই কিশোর আজকের তরুণ বিদগ্ধ গবেষক আলেমে দ্বীন,দাঈ, মুফতি ফয়জুল্লাহ আমান কাসেমী। আল্লামা কাজী মু’তাসিম বিল্লাহ রহঃ এর শাগরেদ এই মেধাবী আলেমের মত এমন আকাশচুম্বী জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দিয়ে নিকট অতীতে দেওবন্দে কোন ছাত্র বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করে নি।

হাদিস, ফিকাহ, তাফসির, উলুমে হাদিস , উসুলে ফিকাহ, উসুলে তাফসির, ধর্মতত্ব, ইতিহাস, বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সাহিত্য,কাব্য, লেখালেখি, বক্তৃতা, বিতর্ক, গবেষণামূলক আন্তর্জাতিক সেমিনার কোথায় নেই এই বিদগ্ধ আলেমের সরব পদচারণা। শায়খুল ইসলাম সৈয়দ হুসাইন আহমদ মাদানী রহ এর আত্মজীবনী “নকশে হায়াতের ” অনুবাদক তিনি। লিখেছেন, অনেক মৌলিক সৃজনশীল গ্রন্থ ও দারসী কিতাবের শরাহ।

উস্তাদুল মুহাদ্দিসীন আল্লামা কাজী মুতাসীম বিল্লাহ রহঃ এর ইচ্ছায় জামিয়া ইকরা হওয়ার পরে নিজের প্রিয় শাগরেদ ফয়জুল্লাহ আমানকে ইকরা জামিয়ায় নিয়ে আসেন।

মনে পড়ে ছাত্রদের তারবিয়াতী জলসায় আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ দা.বা. বলতেন যদি ইলমের শাওক যওক পয়দা করতে চাও তাহলে ফয়জুল্লাহ আমানের কামরার সামনে দিয়ে বেশি বেশি যাতায়াত কর। নিশুতি রাত হোক বা নিদাঘ দুপুর তাকে দেখা যায় আকাবিরে আসলাফের ন্যায় কিতাবে আকন্ঠ নিমজ্জিত। এই কুৎসা আর পুঁতিগন্ধময় সময়েও কেউ যদি ইলমের স্বাদ পেতে চায়, কেউ যদি চায় এমন কার সোহবত, যার সান্নিধ্যে গেলে ইলমের পিপাসা জাগ্রত হবে, তাহলে সে ফয়জুল্লাহ আমান কাসেমীর কাছে চলে আসুক।

দেখবে জ্ঞান বিজ্ঞানের এক অপার সমুদ্র তার সামনে বিরাজমান, কালামে ইলাহী থেকে হাদিসে রাসূল,সালফে সালেহিন থেকে আকাবীরে দারুল উলুম দেওবন্দ , ইসলামি ইতিহাস থেকে নিয়ে পাশ্চাত্য দর্শন ও সভ্যতা, বিভিন্ন ধর্মতত্ব, স্বরচিত বাংলা ও আরবী কাব্য রচনা থেকে গোটা বিশ্ব সাহিত্য সহ সকল বিষয়ে পাণ্ডিত্য রাখা এক জ্ঞানতাপস চিন্তাশীল আলেমদ্বীন।)

================================
সাক্ষাৎকার গ্রহন আব্দুল্লাহ শাকিল অনুলিখনঃ শিব্বির আহমদ
শামীম হামিদী , সম্পাদনায়, সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ
================================

প্রশ্নঃ আব্দুল্লাহ শাকিল|
হযরত, বাংলাদেশে আলেমরা মাওলানা সাদ সাহেবকে আমীর হিসেবে এতায়েত করেন তাদের আমল বিভিন্ন মসজিদে বন্ধ করার, জন্য মিছিল-মিটিং, বাঁধা প্রদান এবং রাজনীতির জন্য মাদ্রাসার ছাত্রদের ব্যবহার করে রাস্তায় নামাচ্ছেন, বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখছেন?

উত্তরঃ মুফতী ফয়জুল্লাহ আমান কাসেমী|
আপনি যে কথা বলছেন ‘বাংলাদেশের আলেমরা এমন করছে’, এই কথাটি খুবই আপত্তিকর। যেমন দেখুন আমরা যে মাদ্রাসায় আছি এবং এমন অসংখ্য মাদ্রাসা এবং অসংখ্য উলামাকেরাম আছেন যারা এটা কোন ভাবেই পছন্দ করেন না, আমাদের আকাবীর ওলামায়ে দেওবন্দ এরা কখনই এটা পছন্দ করেন নাই এবং শায়েখুল হাদীস জাকারিয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর আপবীতিতে এবং বিভিন্ন কিতাবে স্পষ্ট বলেছেন “সীয়াসাত তলবা কা লিয়ে সামনে কাতিল হে” মানে “ তাদের ছাত্র জীবনকে হত্যাকারী বিষের মত রাজনৈতিক পোগ্রাম বা এই সমস্ত কিছু করা।” ছাত্রদের এই ধরনের পোগ্রামে শরীক করার ব্যাপারে তারা সব সময় আপত্তি করে এসেছেন এবং এর ঘোর বিরোধিতা করেছেন। তো আমরাও এর বিরোধিতা করি। কিন্তু যেটা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘কিছু আলেম’ এটা বলতে পারেন।

প্রশ্নঃ আব্দুল্লাহ শাকিল|
আমি আসলে বুঝিয়েছে যারা নিজেদের জমহুর (অধিকাংশ) হিসেবে দাবী করেন। নিজেদের ব্যাপারে যারা এই শব্দ টা ব্যবহার করেন তাদের সম্পর্কে আমি জিজ্ঞেস করেছি।

উত্তরঃ মুফতী ফয়জুল্লাহ আমান কাসেমী|
না, না, আপনি যা বলছেন, জমহুর আলেম এই সমস্ত কিচ্ছু না। কিছু স্বার্থান্বেষী মহল বলতে পারেন, যারা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য তারা ছাত্রদের ব্যবহার করছে, এটা খুবই পরিষ্কার, অস্পষ্টতার কিছুই নেই। যে সব আলেমরা করছেন তারা সম্পূর্ণ নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য করছেন। আর শরঈ দৃষ্টিকোণ থেকে এর কোন অবকাশ আমরা দেখি না।

প্রশ্নঃ আব্দুল্লাহ শাকিল|
মাওলানা আরশাদ মাদানী সাহেব দামাত বারকাতুহুম বলেছেন “তোমরা ছাত্রদের তাবলীগের পক্ষ-বিপক্ষ বিষয় নিয়ে ব্যবহার করো না। এটা মাদ্রাসার জন্য বড়ই ক্ষতিকর হয়ে যাবে। এই ব্যাপারে আপনার কি বক্তব্য?

উত্তরঃ মুফতী ফয়জুল্লাহ আমান কাসেমী|
জি আমি আপনাকে বলতে পারি, দারুল উলুম দেওবন্দ এবং দেওবন্দের আসাতিজায়ে কেরাম এখানে দায়িত্বশীল। তাঁরা যে মত অবলম্বন করবেন আমাদের উচিত আমরা তাদের ছাত্র হয়ে – বাংলাদেশের যে সমস্ত আলেম এবং সারা বিশ্বের যে সমস্ত ওলামায়ে হাক্কানী তাদের ওস্তাদ হলেন দারুল উলুম দেওবন্দ। তাঁদের মতের বাইরে একচুল নড়াও আমি বিভ্রান্তির আলামত মনে করি।

তো দারুল উলুম দেওবন্দ তাবলীগের যে বর্তমানে বিশ্বব্যাপী একটা কোন্দল বা এক ধরনের মতানৈক্য বা এখতেলাফ চলছে এ বিষয়ে তাদের অবস্থান হল, তাঁরা কোন দিক গ্রহণ করেননি এবং শূরার পক্ষ কখনোই নেন নি। এক্ষেত্রে আমাদের দেশে যারা শূরার পক্ষ নিয়ে এভাবে মারকাজ দখলের চেষ্টা করছেন, আলমী শূরার নাম করে যা কিছু করছেন এটা যে দারুল উলুম দেওবন্দের সম্পূর্ণ বিরোধিতা এ বিষয়ে আমাদের কাছে আর অস্পষ্টতা নেই। আমি মনে করি যারা করছেন তারা মোটেই ঠিক করছেন না।

প্রশ্নঃ আব্দুল্লাহ শাকিল|
আপনার কি মনে হয় বাংলাদেশের কিছু কিছু ওলামায়ে কেরাম দেওবন্দ যতটুকু বলেছে তার থেকে বেশি করছেন?

উত্তরঃ মুফতী ফয়জুল্লাহ আমান কাসেমী|
দারুল উলুম দেওবন্দের সম্পূর্ণ বিপরীত মাওকিফ তারা অবলম্বন করেছে এবং আমরা মনে করি এটা দারুল উলুম দেওবন্দের সাথে এক ধরনের আদবের খেলাফ করছেন এবং নিজেদের দারুল উলুম দেওবন্দের আলেমদের চেয়ে – আমার সাথে অনেকের কথা হয়েছে তারা এই কথা দাবি করছেন, দেওবন্দের মাশায়েখদের থেকে বাংলাদেশের যে সমস্ত আলেম তারা এলেমের দিক থেকে অনেক বড়।

ঠিক আছে, আমি সেটা অসম্ভব মনে করি না। কিন্তু দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠান হিসেব সারা বিশ্বে তার যে অবস্থান, যে গ্রহণযোগ্যতা এবং প্রায় দেড়শ বছর ধরে একটা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে পৃথিবীতে এমন আর কোথাও নাই, তার ভূমিকা অনেক বেশি। সে দিকটা অবশ্যই খেয়াল করা উচিত এবং বাস্তবতা সামনে রেখে মানুষের কথা বলা উচিত।

তো যারা দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে নিজেদের বড় মনে করে বিভিন্ন ফতোয়া হাজির করছেন, জাহির করছেন, আমাদের ক্ষুদ্র খেয়ালে তাদের এই পদক্ষেপ টা সঠিক মনে হচ্ছে না। আরো ভেবে চিন্তে – এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একাকী কিংবা এই রকম কোন ফতোয়া দেওয়া বা কথা বলা এটা মানুষের মাঝে একটা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছে। এই সমস্ত বিভ্রান্তি থেকে মানুষকে বাঁচানো উচিত। এ সমস্ত অসতর্ক এবং অসচেতন কথা বলা থেকে বিরত থাকা উচিত।

ভাই আমি একটা কথা বলতে চাই, বর্তমানে বিষয়টি যেভাবে ছড়িয়েছে, বাংলাদেশটা ফিৎনার আঁকর হয়ে গিয়েছে। সারা দুনিয়ায় শুধু দেওবন্দ না, এমনকি পাকিস্তান যেখান থেকে মূল ফিৎনার উৎপত্তি এমন একজন আলেমও এই ফতোয়া দেন নি যে, মাওলানা সাদ সাহেব তিনি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত থেকে খারিজ হয়ে গিয়েছেন। এমন কি হযরত মাওলানা তাকী উসমানী, মাওলানা তারিক জামিল সাহেব তাঁরা সাদ সাহেবের পক্ষের লোক নন। নীতিগত ভাবে তাঁর সাথে একটা এখতেলাফ আছে। তা সত্ত্বেও তাঁরা এ ধরনের ফতোয়া দেননি এবং সারাবিশ্বে একজন আলেম খুঁজে পাওয়া মুশকিল হবে।

কিন্তু এখন বাংলাদেশকে টার্গেট বানানো হয়েছে। নেটের মাধ্যমে, ফেইসবুক, টুইটার. হোয়াটসয়্যাপ এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সরলমনা আলেমদের কান ভারী করা হয়েছে। তাদের টার্গেট বানিয়ে এই ফিৎনায় জড়ানো হয়েছে। এই যে পরিস্থিতি, এই পরিস্থিতিতে আমাদের মনে হয় দুই পক্ষের খুব ভাবা উচিত এবং সাবধানে অগ্রসর হওয়া উচিত। আমরা তাবলীগওয়ালা ভাইদের সব সময় বলে আসছি ওলামায়ে কেরামের এই সামান্য সময় ভুলের কারণে তাদের সাথে এমন বেয়াদবীমূলক আচরণ অবশ্যই করবেন না, যে পরবর্তীতে তারা যদি আবার ফিরে আসেন এবং আসবেন ইনসাআল্লাহ্। সে সময় তাদের সাথে মিশতে লজ্জার একটা ব্যাপার হবে।

হাদীস শরীফে আছে তোমাকে যদি কারো সাথে শত্রুতা করতে হয় তাহলে এতটুকু পরিমান করো, যদি সে সামনে তোমার বন্ধু হয়ে যায় যেন তার সাথে মুখ দেখানো যায়।

এ বিষয়টা অবশ্যই খেয়াল করা উচিত। এবং যে সমস্ত ছেলেরা, মাদ্রাসা ছাত্ররা তাদের ওস্তাদদের কথা শুনে বাড়াবাড়ি করছে, এদেরকে আমি বলব যে দাওয়াতে তাবলিগের নিজের বাবার সঙ্গে তুমি বেয়াদবি করছ।

আমি মনে করি এলাকার মুরুব্বিরা যারা বহু বছর ধরে দাওয়াতে তাবলীগের কাজের সঙ্গে আছেন তাদের সঙ্গে বেয়াদবিমূলক আচরণ না করে, ব্যাস নিজেদের পড়াশুনায় নিমগ্ন থাকো এবং কিছুটা ভারসাম্যের সঙ্গে চলা, প্রত্যেকটা তালেবে এলেমের জন্য জরুরী।

প্রশ্নঃ আব্দুল্লাহ শাকিল|
আপনি তো একটি বড় মাদ্রাসার ওস্তাদ এবং আপনি দেওবন্দ মাদরাসা থেকে ফারেগ হয়েছেন। এখন অনেকে বলেছেন, মাদ্রাসার ছাত্রদেরকে মিছিলে, মিটিংয়ে, তাবলীগী কাজে বাধা প্রদান ইত্যাদি কাজে ব্যবহার করা নাকি তাদের ঈমানী দায়িত্ব হিসেবে করছেন। এ ব্যাপারে আপনার মতামতটা কি?

উত্তরঃ মুফতী ফয়জুল্লাহ আমান কাসেমী|
আমি আপনাকে একটা কথা বলতে পারি সেটা হচ্ছে, এখন এই ফিৎনার সময়ে প্রত্যেকে যার যার মতলব সিদ্ধির জন্য নানান রকম কথা বলতে পারে এবং কুরআন-হাদীসের দোহাই দিয়েই কথা বলতে পারে। যেমন যে কাদিয়ানী সেও নিজের মতামত সাব্যস্ত করার জন্য কুরআনের দলিল দিয়ে থাকে। জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রত্যেকটা কথাতেই কুরআন-হাদিস টেনে নিয়ে আসে। এখন কে কি বলল সে দিকে না তাকিয়ে আমাদের প্রত্যেকের যার যে অঙ্গন আছে, সে অঙ্গনে, সে ক্ষেত্রে এখলাস এবং নিবিষ্ট মনে কাজ করে যাওয়া উচিত।

যারা দাওয়াতের ময়দানে আছেন তাদের উচিত তাদের যারা নিজামুদ্দীনের আকাবির হযরতরা আছন তাদের পরামর্শ, তাদের নির্দেশ অনুযায়ী চলা। যারা মাদ্রাসায় আছেন তাদের উচিত দারুল উলুম দেওবন্দের নির্দেশনা অনুযায়ী চলা। দারুল উলুম দেওবন্দ এবং নিজামুদ্দিন, এ দুটোকেই আমাদের রাখতে হবে। দুটিই অনেক বড় প্রতিষ্ঠান এবং পরস্পর দুই ভাইয়ের মতো। আমাদের জন্য বাপ এবং চাচার মত। তাদের পারস্পরিক কিছু বিষয় নিয়ে রেষারেষি হলে, এখতেলাফ হলে নিজেরাই সেটা মিটমাট করবেন। আমাদের এখানে নাক গলানো মোটেই ঠিক নয় এবং এখানে হস্তক্ষেপ করার কোনো অবকাশ নেই।

সারা বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশের যে বদনাম হয়েছে আমাদের উচিত এখান থেকে ফিরে আসা। আমাদের আকাবিরে আসলাফ এবং উলামায়ে দেওবন্দের সাথে জুড়ে থাকা এবং আকাবিরদের সিদ্ধান্তের বাহিরের কোন পথে পা না রাখা।

প্রশ্নঃ আব্দুল্লাহ শাকিল|
আপনার কি মনে হয় এই বিষয়টা নিয়ে ঘরোয়াভাবে আলোচনা করে সমাধান সম্ভব, নাকি রাস্তা ঘাটে এরকম হাঙ্গামা করে, মসজিদে মসজিদে চিল্লা চিল্লি করে, কাজের ভিতর প্রতিবন্ধকতা করে সমাধান করা সম্ভব?

উত্তরঃ মুফতী ফয়জুল্লাহ আমান কাসেমী|
আপনাকে আমি সংক্ষেপে একটা বিষয় বলি সারা বিশ্বে বাংলাদেশকে ফিৎনাবাজরা টার্গেট বানিয়েছে কারণ হচ্ছে, বাংলাদেশের যে সকল তরুণ আলেম আছে মাত্রই ইন্টারনেটের সংস্পর্শে এসেছে। এদের ফেসবুক আইডি মাত্র তারা খুলেছে। টুইটারে, গুগলে কিংবা হোয়াটসঅ্যাপের ব্যবহার সম্পর্কে তাদের অভিজ্ঞতা না থাকার কারণে এমন এক মুহূর্তে বাইরে থেকে তাদের বিভ্রান্ত করছে। এভাবে এখানে বিভিন্ন সংবাদ পরিবেশন করে তাদের বিভ্রান্ত করছে। আপনি জানেন ভারতে, পাকিস্তানে অনেক আগেই ইন্টারনেট এসেছে। আমাদের দেশে দেরিতে আসার কারণে, মাত্র যেহেতু তারা পেয়েছে, যে কোন সংবাদ আসে খুঁটিয়ে-খুঁটিয়ে সারাদিন হোয়াটসঅ্যাপ নিয়ে পড়ে থাকে এবং সেগুলো শুনে। এগুলো শুনলে একজন ভালো মানুষও চরম বিভ্রান্ত হয়ে যায়।

এর আসল চিকিৎসা, সামনে কি হবে এ ব্যাপারে আমরা আকাবিরদের দিকে তাকিয়ে আছি কি দিক নির্দেশনা দিবেন। আর আমাদের সবার উচিত আল্লাহর কাছে দোয়া করা, না হলে যে ভয়াবহ ফেতনার রূপ ধারণ করছে এখান থেকে বাঁচা আসলেই বড় মুশকিল।

ঘরোয়া ভাবে বসে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব এবং শেষ পর্যন্ত এটাই হবে। এখন যে পরিস্থিতি চলছে আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করতে থাকি, প্রত্যেকে যার যার ক্ষেত্রে কাজ করতে থাকি, মেহনত করতে থাকি, এটাই ভাল হবে।

অডিও লিঙ্কঃ https://youtu.be/nmAUr5II_JA

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!