সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:১৭ অপরাহ্ন

ওলিয়ে কামিল ত্বালহা কান্ধলভীর শয্যাপাশে পীর যুলফিকার নক্বশবন্দী

ওলিয়ে কামিল ত্বালহা কান্ধলভীর শয্যাপাশে পীর যুলফিকার নক্বশবন্দী

নিউজ ডেস্ক, তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম| ভারতের ঐতিহ্যবাহী ইসলামী বিদ্যাপিঠ মাযাহেরে উলুম সাহারানপুরের অন্যতম রুকনে শুরা, শাইখুল হাদীস মাওলানা যাকারিয়া কান্ধলবী রহ.-এর ছেলে ও খলীফা, ওলীয়ে কামেল মাওলানা ত্বালহা কান্ধালভী হাফিযাহুল্লাহ কে দেখতে গতকাল মক্কার হাসপাতালে যান বিশ্বখ্যাত ইসলামী ব্যক্তিত্ব, পীর মাওলানা যুলফিকার আহমাদ নক্বশবন্দী৷

মাওলানা ত্বালহার অসুস্থতার খবর পেয়ে প্রতিনিয়তই মক্কা নগরীতে তাকে এক নজর দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন ভক্তবৃন্দ৷ ছুটে আসছেন বিভিন্ন রাষ্ট্রের ইসলামী ব্যক্তিবর্গও৷ নিয়মিত তাকে দেখতে আসছেন বিশিষ্ট আলেমগণও৷

মাওলানা ত্বালহার পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মাওলানা ত্বালহা অসুস্থ হওয়ার পর থেকেই নিয়মিত ফোনে তার খোঁজ খবর নিতেন পীর যুলফিকার আহমাদ নক্বশবন্দী৷ তিনি তাকে দেখতে ভারতেই আসার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছিলেন তখন৷

গতকাল মক্কার হাসপাতালে সান্ত্বনা ও কুশল বিনিময়সহ নানা বিষয়ে মাওলানা ত্বালহার সাথে আলোচনা করেন পীর মাওলানা যুলফিকার আহমাদ নক্বশবন্দী৷ তিনি তখন মাওলানা ত্বালহার সুস্থতার জন্য দুয়াও করেন।

জানা যায়, বেশ কিছুদিন পূর্বে সাহরানপুরে তার নিজ বাসবভনে থাকাবস্থায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন মাওলানা ত্বালহা৷ অসুস্থতা তীব্র থেকে তীব্রতর হলে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেয়া হয়৷ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ডাক্তারগণ তার অবস্থায় আশঙ্কা প্রকাশ করে ফেরত দেন।

কিছুদিন তার নিজ বাসবভনে রেখেই উল্লেখযোগ্য ডাক্তারদের মাধ্যমে চলতে থাকে চিকিৎসা৷ কিন্তু অবস্থার পরিবর্তন না আসায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সৌদিতে নিয়ে যাওয়া হয়৷

উল্লেখ্য, মাওলানা ত্বালহা বহুদিন যাবৎ হৃদরোগসহ আরো গুরুতর কয়েকটি অসুস্থতায় আক্রান্ত থাকলেও দ্বীনের খেদমত আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছিলেন নিয়মিতই৷ তিনি অসুস্থ এটা প্রকাশও করতে চাচ্ছিলেন না৷ অসুস্থতা তীব্র থেকে আরো তীব্রতর হলে তখন অনেকটা জোরপূর্বকই স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে৷

জানা গেছে, তিনি মক্কায় যাওয়ার পর এ পর্যন্ত চারবার হার্টএট্যাক করেন৷ তাকে সেখানকার একটি হাসপাতালে ইমার্জেন্সি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে৷ ইমার্জেন্সি বিভাগে ভর্তির পর থেকে এখনো পর্যন্ত তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন সে হাসপাতালেই৷

চিকিৎসার উদ্দেশ্যে চলে যাওয়ার সময় তার বাবার রেখে যাওয়া মিশনকে এগিয়ে নিতে তিনি খানকায়ে যাকারিয়া রহ.-এর যিম্মাদারী বুঝিয়ে দিয়ে যান সাহরানপুর মাদরাসার মহাপরিচালক ও তাবলীগের বিশ্ব অামীর মাওলানা সা’দ কান্ধলভীর শ্বশুর মাওলানা সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ সালমানকে৷ তাকে তিনি খানাকায়ে যাকারিয়া রহ.-এর জানেশীনও ঘোষণা করে গেছেন যাওয়ার আগে।

উল্লেখ্য, শাইখুল হাদীস হযরত যাকারিয়া রহ. তার শেষ বয়সে এসে স্থায়ীভাবে মক্কায় চলে যান৷ মক্কায় যাওয়ার প্রাক্কালে তিনি দ্বীন ও ইসলামের খেদমত আঞ্জাম দিতে তার মিশনের কার্যক্রম সোপর্দ করে যান পরিবারের কাছে৷ তিনি তার পরিবারের কাছে নিজ খানকার সকল যিম্মাদারীও বুঝিয়ে দিয়ে যান তখন৷

শাইখুল হাদীস মাওলানা যাকারিয়া রহ.-এর অনুপস্থিতে সেই সময় থেকে দীর্ঘকাল ধরে মাওলানা ত্বালহা তার বাবার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে বাবার রেখে যাওয়া মিশনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন সাহরানপুরে থেকেই।

তিনি সাহরানপুরে থেকে বাবার খানকার যিম্মাদারী পালনের পাশাপাশি মাযাহেরে উলুম সাহরানপুরের মজলিসে শুরার সদস্য হিসেবে যুক্ত ছিলেন দীর্ঘকাল৷ তার অসুস্থতায় সাহরানপুর মাদরাসাসহ ভারতের বিভিন্ন জায়গায় সুস্থতার জন্য একাধিকবার দোয়ার আয়োজন করেছেন বিভিন্ন মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকগণ। তিনি সুস্থতার জন্য দোয়াও চেয়েছেন সবার কাছে৷

উল্লেখ্য যে, গত ঈদুল ফিতরের পরদিন মাওলানা ত্বালহার সহধর্মিণী ইন্তেকাল করেন। সাহারানপুরেই লক্ষ লক্ষ লোকের অংশগ্রহণে মরহুমার জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। দেওবন্দ ও সাহারানপুর সহ আশপাশের বড় বড় মাদরাসার কয়েক হাজার উলামায়ে কেরাম উক্ত জানাযায় অংশগ্রহণ করেন। মাওলানা ত্বালহার অনুরোধে জানাযার ইমামতি করেন তাবলীগের বিশ্ব আমীর শায়খুল হাদীস আল্লামা সা’দ হাফিযাহুল্লাহ। দাওয়াত ও তাবলীগের এই সংকটকালে দেওবন্দী আলেমদের উপস্থিতিতে আল্লামা সা’দ সাহেবকে দিয়ে জানাযা পড়ানোর মাধ্যমে ত্বালহা সাহেব একদিকে যেমন নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন, সাথে সাথে আকাবির উলামায়ে কেরামের নিকট সা’দ সাহেবের গ্রহণযোগ্যতাও প্রমাণ করেছেন।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com