মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন

ঢাকায় ক’জন শীর্ষ আলেম নৌকায়। সারাদেশের জুমহুর আলেম ধানের শীষে।

ঢাকায় ক’জন শীর্ষ আলেম নৌকায়। সারাদেশের জুমহুর আলেম ধানের শীষে।

ষ্টাফ রিপোর্টার; তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলেমগণ ব্যপকভাবে রাজনৈতিক পল্টিবাজিতে মেতে উঠেছেন। সারাদেশের অধিকাংশ আলেমরা বিএনপির সাথে মাঠে ময়দানে নির্বাচনী কাজ করলেও রাজনৈতিক সুবিধা হাসিলের জন্য ঢাকার মাত্র কয়েকজন শীর্ষ আলেম মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব আসাদুজ্জামান খান কামালের নির্বাচনী জনসভায় ও দলীয় বৈঠকে হাজির হয়ে নিজেদেরকে নৌকার পক্ষের লোক প্রমাণে চেষ্টা করছেন। কিন্তু বাস্তবে সারাদেশের আলেমরা বিএনপির পক্ষে মাঠে ময়দানে প্রত্যক্ষভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

নির্বাচনের মাত্র দু’মাস আগে প্রধানমন্ত্রীকে শুকরিয়া সংবর্ধনা ও ‘কওমী জননী’ উপাধী দেয় কওমী মাদরাসার জাতীয় শিক্ষাবোর্ড “হাইআতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ।” এরপর ধারণা করা হয়েছিলো, অধিকাংশ আলেম আওয়ামীলীগের পক্ষে কিংবা বিএনপি জোটের বিপক্ষে অবস্থান নিবেন। অথবা অন্তত নীরব ভূমিকা পালন করবেন। কিন্তু নির্বাচনের সময় দেখা যাচ্ছে, দেশের শীর্ষ শতাধিক রাজনৈতিক ‘জুমহুর’ আলেম ধানের শীষ থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়ন লাভের চেষ্টা করেন। তাদের অধিকাংশই কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাক ও ‘হইআতুল উলয়া’র কেন্দ্রীয় নেতা। এর মাঝে অনেকেই এখন ঐক্যফ্রন্ট থেকে মনোনীত হয়ে ধানের শীষে লড়ছেন।

অনেকেই মনে করছেন, নির্বাচনের আগে তাবলীগের বিশ্ব আমীর মাওলানা সা’দ কান্ধলভীকে নিয়ে ‘ওজাহাতি জোড়’ নামীয় সমাবেশ ছিলো মূলত আলেমদের নমিনেশন লাভের জন্য শক্তিপ্রদর্শনের একটি মহড়া। এতে করে অনেক জায়গায় তারা সফলও হয়েছেন। এই ‘ওজাহাতি জোড়’এর অন্যতম দুই কাণ্ডারী মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক ও মুফতী ওয়াক্কাস ধানের শীষ নিয়ে লড়ছেন। তারা সেদিন প্রধানমন্ত্রীর শুকরিয়া মাহফিলের মঞ্চেও ছিলেন। অপরদিকে হেফাযতের মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী প্রকাশ্যে সরকারের বিরুদ্ধে নির্বাচনী কবিতা লিখে অডিও-ভিডিও ছেড়েছেন এবং বিবৃতিও দিয়েছেন, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গত কয়েকদিনে ব্যপকহারে ভাইরাল হয়েছে। হেফাযত ও বেফাকের অধিকাংশ সহসভাপতি ও কেন্দ্রীয় নেতা প্রকাশ্যে বিএনপি বলয়ে ধানের শীষের পক্ষে আছেন। আল্লামা আহমাদ শফীর অবস্থানও নীরব। আলেমদের দুই বলয়ের এই রাজনৈতিক পল্টিবাজীতে হতাশ সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ।

মূলত ঢাকায় বেফাকের কয়েকজন নেতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে থেকে ইজতিমার সময় তাবলীগ বিষয়ে নানা সহযোগিতা পাওয়ার আশায় তাকে প্রভাবিত করার মিশন নিয়েই রাজনৈতিক নেতাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন মাওলানা আশরাফ আলী। তিনি তাবলীগ নিয়ন্ত্রণ কমিটির আহ্বায়কও নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি শুরু থেকেই স্বারাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে রয়েছেন। কিন্তু তাদের নিয়ন্ত্রিত ও ঘনিষ্টজনদের অধিকাংশই রয়েছেন বিরোধীদলের পক্ষে। এদের মাঝে উবায়দুর রহমান খান নদভী নিজ জেলা কিশোরগঞ্জ থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। শেষমেশ ব্যর্থ হয়ে নৌকার যাত্রী হয়ে পড়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সেই বৈঠকে তাকেও আওয়ামী স্তুতি গাইতে দেখা গেছে।

এ বিষয়ে তাবলীগের একজন আলেমের সাথে কথা বললে তিনি জানান, এই আদর্শহীন মৌলভীদের একমাত্র কেবলা হলো স্বার্থ। স্বার্থের টানে হালাল-হারামের নীতিমালাও তাদের কাছে মাযলূম। স্বার্থের খাতিরেই তারা দু’মেরুতে ভাগ হয়েছে। যদি আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসে তাহলে আওয়ামীপন্থী ‘বেফাক’ এর ব্যানারে তারা পথ চলবেন। আর যদি বিএনপি ক্ষমতায় চলে আসে তাহলে বিএনপিপন্থী হেফাযতের ব্যানারে তারা কার্যক্রম চালাবেন। এক কথায়, হুকুমতনির্ভরতা থেকে বাহির হওয়া তো দূরের কথা, দিন দিন তারা তাগুতের পদলেহীতে পরিণত হয়ে যাচ্ছেন।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com