বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:৩৮ অপরাহ্ন

বিশ্ব আমীর আল্লামা সা’দ কান্ধলভীর ২০১৮ সালের সফরনামা

বিশ্ব আমীর আল্লামা সা’দ কান্ধলভীর ২০১৮ সালের সফরনামা

অতিথি রিপোর্টার; তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম| আল্লাহ যাকে ইজ্জত দিতে চান তাকে কেউ বেইজ্জত করতে পারে না। বছরের শুরুতে তাবলীগের ইতিহাসের সবচেয়ে ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটান বাংলাদেশের কতিপয় বিপথগামী উলামায়ে কেরাম। তারা তাবলীগ জামাতের বিশ্ব আমীর হজরতজী শায়খুল হাদিস মাওলানা সা’দ সাবকে ঢাকা এয়ারপোর্টে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এক পর্যায়ে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপে তাকে কাকরাইল মসজিদে নিয়ে আসা হয়। গোলযোগের আশংকায় তিনি টঙ্গী ইজতেমায় যান নি। আসলে এরপর থেকেই শুরু হয় তার পুরা পৃথিবী সফর। পুরা পৃথিবীই তাকে ইস্তেকবাল করেছে। সমস্ত ইজতেমায় তিনি বয়ান ও দোয়া করেছেন।

১। আওরঙ্গবাদ ইজতেমাঃ আল্লাহ তায়ালার ফজলে পৃথিবী সম্ভবত প্রথম বারের মত কোটি মানুষের ইজতেমা দেখতে পায় আওরঙ্গবাদে। ৩০,০০০ এর উপর উলামা এই ইজতেমায় অংশ গ্রহণ করেন। ইজতেমার দুয়া করেন হজরতজী মাওলানা সা’দ কান্ধলভী। ১৩,০০০ জামাত বের হয় এই ইজতেমা থেকে। উল্লেখ্য ২০১৭ সালের টঙ্গী ইজতেমা থেকে জামাত বের হয়েছিল প্রায় ৬০০০। ২০১৮ তে এই সংখ্যা কমে দাড়ায় ২২০০ তে। কারন খুবই সুস্পষ্ট।

২। ইন্দোনেশিয়া ও মালয়শিয়ার ইজতেমাঃ আওরঙ্গবাদের ইজতেমার পর হজরতজী সর্ববৃহৎ মুসলিম দেশ ইন্দনেশিয়া সফরে যান। এই সফরেই বোঝা যায় ইন্দনেশিয়ার প্রায় সমস্ত আলেম হজরতজীর সাথে আছেন। সফরের পূর্বে কিছু এখতেলাফ থাকলেও এক বুজুর্গ স্বপ্নে হজরতজীকে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে দেখার পর সেই এখতেলাফও মিটে যায়। মালায়শিয়ার ইজতেমা মোটামুটি ছোটখাটো এক বিশ্ব ইজতেমার রূপ পরিগ্রহ করে। ইউরোপ আর আফ্রিকা বাদে প্রায় ৫০ দেশের জিম্মাদার সাথীরা এই ইজতেমায় শরিক হন। সবাই হজরতজীর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেন।

৩। হজের সফরঃ হজের সফরেই মোটামুটি পুরা পৃথিবীর সামনে পরিষ্কার হয়ে যায়, জমহুর আরব সাথীরা নিজামুদ্দিনের সাথেই আছে। হজের সফরে প্রায় ১০০ এর উপর মজমা করেন হজরতজীর জামাতের সাথিরা। এই সফরে হজরতজীর সাথে ছিলেন বাংলাদেশের শুরা ভাই ওয়াসিফ সাব ও পাকিস্তানি মশহুর আলেম মুফতি নাঈমুল্লাহ খান (দা বা)।

৪। আফ্রিকা সফরঃ সেপ্টেম্বরে হজরতজী আফ্রিকার তিন দেশে সফর করেন। কেনিয়া, উগান্ডা এবং তাঞ্জানিয়া এই তিন দেশেই ছিল পুরান সাথিদের জোড়। কিন্তু হযরতজী সা’দ সাহেবের উপস্থিতির কথা জানাজানি হওয়ার পর পুরা আফ্রিকার পুরান সাথিরা এই জোড়ে উপস্থিত হন। তিন জোড়ে উপস্থিতি ছিল যথাক্রমে ৪০০০, ১০,০০০ ও ২০,০০০। জামাত বের হয় যথাক্রমে ৬৫, ৭১ এবং ২৪০।বাংলাদেশ আরব, ইউরোপ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সাথিরা এই জোরে শরিক হয়েছিলেন। খুবই নুরানি পরিবেশ ছিল জোড়গুলোতে।

৫। ইউরোপ সফরঃ পুরা পৃথিবীর নিয়ন্ত্রন হারানোর পর আলমি শুরাওয়ালারা ইউরোপ কেই তাদের শেষ ঘাটি ভেবেছিলো। কিন্তু ব্রিটেনের ইজতেমা আর ইউরোপের এই মাসোয়ারা তাদেরকে ভুল প্রমাণিত করে। ইউরোপের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ এই ইজতেমায় ৫৬ দেশের প্রায় ৫০,০০০ সাথী অংশ নেয়। এমনকি ফ্রান্স থেকে পায় ২০০ সাথী আসে শেখ ওয়িসাম এর সাথে। প্রায় ২৫০০ উলামা মাশায়েখ এই ইজতেমায় শরীক হন যাদের মধ্যে ছিলেন শায়েখ জাকারিয়া (রহ) এর প্রবীণ খলিফা শায়েখ ইয়ুসুফ মুতালা সাব (দা বা)।এই ইজতেমায় শায়েখ ইয়ুসুফ মুতালা সাব হজরতজীকে সম্বোধন করে বলেন “আপনিই আমাদের আমীর”

৬। বুলন্দশহর আলমি ইজতেমাঃ আল্লাহ তায়ালার ফজলে পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মুসলিম জমায়েতের সৌভাগ্য লাভ করে উত্তর প্রদেশের বুলন্দসহর। অনেক আগে থেকেই জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মাহমুদ মাদানি(দা বা) এই ইংগিতই দিচ্ছিলেন। শুধু ইজতেমা ময়দানের নামাজের জায়গা ছিল ৪৬০ একর। শেষ দিনে হজরতজীর দোয়ার সময় ২৩ কিমি. দূর পর্যন্ত মজমা ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। উলামায়ে কেরামের উপস্থিতি ছিল ৪০,০০০ এর বেশি। যাদের একটা বড় অংশই ছিল দেওবন্দ, সাহারানপুর এর উলামায়ে কেরাম। শেষ পর্যন্ত ১৭,০০০ জামাত খুরুজ হয়েছে বলে জানা যায়।.২০,০০০ এর উপর বিদেশি সাথি এই ইজতেমায় উপস্থিত ছিলেন।

৭। ভুপাল ও কারনুল ইজতেমাঃ বুলন্দ শহরের ইজতেমার আগে ও পরে হয় আর দুইটি আলমি ইজতেমা। যথাক্রমে মধ্য প্রদেশের ভুপাল আর অন্ধ্র প্রদেশের কারনুলে । এই দুই ইজতেমাও আকৃতি এবং খুরুজের লাইনে টঙ্গী ইজতেমাকে ছাড়িয়ে যায় ।

৮। উলামা মাশায়েখদের জিয়ারতে হজরত জীর সফর সমূহঃ
বছরের শুরুতে হজরতজী দারুল উলুম দেওবন্দ (ওয়াকফ) এর আমন্ত্রনে দেওবন্দ যান। তাদের নতুন ভবনের উদ্বোধনের শেষে হজরতজী দোয়া করেন।

হজরতজী নিযামুদ্দিনের সাবেক মুরব্বি মাওলানা ইব্রাহিম সাবের (দা বা) সাথে দেখা করার জন্য গুজরাট যান । অত্যন্ত সৌহার্দ পূর্ণ পরিবেশে তাদের মুলাকাত হয়।

হজরতজী হজরত মাওলানা তালহা সাব (দা বা) এর বিবির ইন্তেকালের পর তার জানাজায় শরিক হন। হিন্দুস্থানের প্রায় সব আকাবির উলামায়ে কেরামের উপস্থতিতে মাওলানা তালহা সাব হজরতজীকে জানাজার নামাজ পরানোর অনুরুধ করলে হজরতজী জানাজার নামায পরান। উল্লেখ্য হজরত মাওলানা তালহা সাব (দা বা) শায়েখ যাকারিয়া (রহঃ) এর একমাত্র ছেলে।

ভুপাল সফরের মধ্যেই হজরতজি মধ্য প্রদেশের শরিয়াহ আমীর মুফতি আব্দুর রাযযাক (দা বা) এর সাথে মোলাকাত করেন

হজরতজী সাহারানপুর মাদ্রাসার প্রবীণ মুহাদ্দিস মাওলানা আকেল সাবের (দা বা) সাথে মুলাকাত করেন।

বছরের শেষের দিকে হজরতজী দারুল উলুম নদ্ওয়া সফর করেন। সাথে উনার বড় সাহেবজাদা মাওলানা ইয়ুসুফ সাব ছিলেন।

আল্লাহ তায়ালা আনেওয়ালা টঙ্গী ইজতেমা কে কবুল ফরমান। এই ইজতেমার জন্য হজরতজীকে কবুল ফরমান।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com