বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:৫৪ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম ::
সরকারের দৃষ্টি ঘুরাতে এবার তাবলীগের নামে ভূয়া লিফলেটবাজি

সরকারের দৃষ্টি ঘুরাতে এবার তাবলীগের নামে ভূয়া লিফলেটবাজি

ষ্টাফ রিপোর্টার, তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম|এবার তাবলীগের মূলধারার সাথীদের নামে ভুয়া ও মিথ্যা লিফলেট ছেড়েছে হেফাজতপন্থী লোকজন। নির্বাচনের পরপরই সরকার গঠনের সাথ সাথে সরকারী উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের নামে বিষোদগার করে আসন্ন বিশ্ব ইজতেমাকে বানচাল করতে এমন ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে তাবলীগের মূলধারার মুরুব্বীরা মনে করছেন।

১লা ডিসেম্বর টংগী ইজতেমা ময়দানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে একের পর এক মিথ্যাচার করে দেশের ভিতরে ধর্মীয় সহিংসতা সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালাচ্ছে এই চিহ্নিত মহলটি।

এরই ধারাবাহিকতায় তারা সর্বপ্রথম পোস্টার জালিয়াতির মাধ্যমে টংগীর ময়দানের প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করে নিজেদেরকে নির্দোষ প্রমান করার ব্যর্থ চেষ্টা করে। সোমালিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সহিংসতার ছবি, হেফাজতের ৫ই মে শাপলা চত্তরের ছবি সহ টংগী ময়দানে অসংখ্য ছাত্র-শিক্ষক নিহত হওয়ার মিথ্যা তথ্য দিয়ে গুজবের পোস্টারিং করে।

উল্লেক্ষ্য যে, আজ পর্যন্ত উক্ত ঘটনায় ২ জন মূলধারার মুবাল্লিগ সাথী নিহত হন। এছাড়া টংগীর ময়দানে অন্য কোন নিহতের নির্ভরযোগ্য খবর পাওয়া যায়নি।

এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন পাকিস্তানপন্থী ভূঁইফোড় অনলাইন পত্রিকা ও সোশ্যাল মিডিয়ায় অদ্য ০৫.০১.২০১৯ তারিখে নতুন মিথ্যাচার শুরু করে। যার বিস্তারিত নিম্নে দেয়া হলঃ

১। লিফলেটের ১নং পয়েন্টে তারা উল্লেখ করেছে ‘জোড় ৪ থেকে ৮ জানুয়ারী’ যা সম্পূ্র্ণ বাস্তবতা বিবর্জিত।

বাস্তবতা হল মূলধারার সাথীদের জোড়ের নির্ধারিত তারিখ ছিল ৩০ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর ২০১৮। উক্ত নির্দৃষ্ট তারিখে মূলধারার সাথীদের জোড় করতে বাধা দেয়ায় ১লা ডিসেম্বরে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সুত্রপাত হয়। যা তখনকার সময়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার করা হয়েছে।

২। লিফলেটের ২ নম্বর পয়েন্টে তারা উল্লেখ করেছেন তাবলিগের মূলধারার সাথীরা নাকি তাবলীগের বর্তমান সংকটের জন্য দায়ী করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব আসাদুজ্জামান খান কামাল এর পদত্যাগ দাবি করেছে।

অথচ বাস্তবতা এটাই যে পহেলা ডিসেম্বর টঙ্গির ময়দানে সংঘর্ষ পরবর্তী সময়ে খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মহোদয়ের মধ্যস্থতায় আশ্বস্ত হয়ে মূলধারা সাথীগণ ময়দান ত্যাগ করে যা পরবর্তীতে জাতীয় বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। শুধু তাই নয় ময়দান ত্যাগ পরবর্তীতে একই দিন সন্ধ্যায় আবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে মূলধারা সাথীগণ সচিবালয়ে বৈঠকে উপনীত হন। বৈঠকের সিদ্ধান্ত মূলধারার সাথীরা মেনে নেয়।অতএব ঘটনাপ্রবাহে তা পরিষ্কার যে উক্ত পরিস্থিতি বিবেচনায় তৎকালীন সময়ে যিনি পুরো ঘটনার সঞ্চালক তারই পদত্যাগ দাবী করার কোনো যৌক্তিকতাই নেই।

৩।অনুরূপভাবে লিফলেটের ৩ নম্বর পয়েন্টে উল্লেখিত ‘জনাব শেখ আব্দুল্লাহ’ এর পদত্যাগের দাবির ব্যাপারে দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনতের বাংলাদেশের মূলধারার সাথীগণের এরকম রাজনৈতিক ভাষা ব্যবহার করে ইতিপূর্বে কখনো কারো পদত্যাগ দাবি করেন নি এখনো করছেন না এবং অদূর ভবিষ্যতে এরকম কোন দাবির পরিকল্পনাও নেই।

বিষয় সংশ্লিষ্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় অনুধাবনযোগ্য যে দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনতে লিফলেট ছাপানোর কোন নিয়ম নীতি ইতিপূর্বে পরিলক্ষিত হয়নি। অথচ হেফাজত ও পাকিস্তান পন্থী আলমি শুরাগংদের দাবী পহেলা ডিসেম্বর কথিত এই লিফলেট সর্ব সাধারণের নিকট বন্টন করা হয়েছে এবং আরো আশ্চর্যজনক যে যখন পুরো বাংলাদেশ থেকে শুরু করে পুরো বিশ্বের মিডিয়ার চোখ টঙ্গীর মাঠ কেন্দ্রিক ছিল তখন কোন মিডিয়া ও প্রশাসনিক বিভিন্ন সংস্থার ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও উক্ত কথিত লিফলেট কারো দৃষ্টিগোচর হয়নি।

ঘটনার পরবর্তীতে পর পর দুইটি সাংবাদিক সম্মেলনেও উক্ত কথিত এই লিফলেটের কথা তারা প্রকাশ করেনি। অথচ ঘটনার ১ মাস পরে যখন বিশ্ব ইজতেমা সন্নিকটে তখন আলমী শূরাপন্থীরা এই রকম মিথ্যা লিফলেট প্রচার করে সরকারের দৃষ্টি অন্য দিকে ঘুরিয়ে বিশ্ব ইজতেমা বানচালের এক ঘৃন্য ষড়যন্ত্রের পায়তারা করছে।

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশের মূলধারার তাবলীগের সাথীগণ, হেফাজত ও আলমি শুরাগংদের এই ধারাবাহিক মিথ্যাচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য দেশের জনসাধারণ, সরকার ও প্রশাসনিক দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গকে অনুরোধ সহ তদন্তপূর্বক কার্যকরী পদক্ষেপ কামনা করেনছেন।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com