বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:৩৭ অপরাহ্ন

ধর্ষিতা নারীকে নিয়ে ফটোশেসনের রাজনীতি অমানবিকতা

ধর্ষিতা নারীকে নিয়ে ফটোশেসনের রাজনীতি অমানবিকতা

সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ, তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম| ধর্ষক যে কোন দলেরই হোক তার বিচার চাওয়া এবং বিচারের জন্য জোরালো আন্দোলন করা একজন মানুষের নৈতিক কর্তব্য। কিন্তু এই কর্তব্য আদায় করতে গিয়ে হাসপাতালে ধর্ষিতাকে দেখার নামে ছবি তোলা ও ভিডিও করা এটি ধর্ষনের মতোই আরেকটি অমানবিক ব্যাপার। ধর্ষিতাকে নিয়ে ছবি ও ভিডিও ভাইরাল করা নীতিহীন অন্যায় গর্হিত কাজ।

স্বাভাবিকভাবেই একজন নারীর জন্য, একজন মা’র জন্য, একজন সম্ভ্রান্ত গৃহিনীর জন্য ধর্ষিত হওয়া লজ্জাকর বিষয়। অপমানের খবর। একজন বুনেদী ঘরের স্ত্রীর জন্য এটি বিব্রর্তকর অবস্থা। ফলে মিডিয়ার আইনে কখনো ধর্ষিতা নারীর ছবি প্রচার করা অনুমোদিত নয়। যাতে সামাজিকভাবে নারীটি আরো সংকোচ ও লজ্জার মধ্যে না পড়ে। আবার আপনি তাকে দেখার জন্য শত শত লোক নিয়ে ভীর করে খোঁজ নিলেন। খোঁজখবরতো তার কেবিনের বাহিরে দাঁড়িয়ে তার আত্মীয়স্বজন ও কর্তব্যরত চিকিৎসকের মাধ্যমে নেয়া যায়।

এক্ষেত্রে উচিত তার ছবি ছড়িয়ে না দিয়ে, ভাইরাল না করে, অমানুষ ধর্ষকের ছবি প্রচার করা। যেন ধর্ষককে সামাজিকভাবে বয়কট করা হয়। তাকে যেন মানুষ ঘৃণা করে। তার বিচারের দাবীতে সোচ্চার হওয়া। ধর্ষকের বিচারের দাবীতে আন্দোলন করা প্রয়োজন। ধর্ষিতাকে প্রচার করে তাকে লজ্জায় ফেলার অধিকার কারো নেই। এটি অনৈতিক কাজ।

যেকোন নির্যাতিত নারী ও বোনের পাশে মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে দাঁড়ানো দরকার। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগীতা করা। অসহায় পরিবারটির নিরাপত্তা ও আইনী বিষয়ে সহযোগীতা করা সকলের মানবিক দ্বায়িত্ব।

কিন্তু ইদানীং দুঃখজনক হলেও সত্য, ধর্ষিতা নারীকে দেখার জন্য কথিত রাজনীতিবিদরা হাসপাতালে সদলবলে নানান ভুঁইফোড় পরিচয় নিয়ে হাজির হচ্ছেন।

ধর্ষিতা নারীকে সহযোগিতা করতে চাইলে তারপক্ষে রাজপথে আওয়াজ তুলুন। তার অভিভাবকের নিকট বাহির থেকে আর্থিক অনুদান পৌছে দিন। কথা বলে আসুন। তাদের আইনগত সহযোগিতা করুন। তা না করে ধর্ষিতা মানসিকভাবে বিধ্বস্ত নারীকে নিয়ে ফটোসেশন নিন্দনীয় ও অসামসজিক কাজ। ধর্ষকের মতোই এই সেলফিবাজি ঘৃণীত বিষয়।

নিজেকে বড়মাপের মানবধিকার ব্যক্তিত্ব পরিচয় দিয়ে এটিতো আরেক মানবধিকার লঙ্গনের শামিল। বড় রাজনীতিবিদ পরিচয় ধর্ষিতা নারীকে নিয়ে ফটোসেশনতো অপরাজনীতির আরেক নষ্ট খেলা। নিজেকে বড় আলেম পরিচয় দিয়ে স্বদলবলে নারীকে দেখার জন্য তার কেবিনে হুমরী খেয়ে পড়াতো বড় জালেমের কাজ। ধর্মের নামে অর্ধমের চর্চা। শায়খুল হাদীস হয়ে ধর্ষিতা নারীকে নিয়ে ফটোসেশন করে, অসুস্থ নারীকে সেবা করার ফতোয়া যারা বিলান তাদের কাছে জানতে বড় ইচ্ছে করে?

তাও কর্তব্যরত নার্স, ডাক্তার চরম বিরক্ত হয়ে ধমক দিল, আর আপনি স্যরি স্যরি বলে ধর্ষীতাকে নিয়ে নিজেকে জহির করতে ফটোশেসন করলেন ফেসবুকে ভাইরাল করার জন্য, যে আপনি কত বড় আলেম! কত বড় রাজনৈতিক নেতা!! কত বড় হাদীস বিশারদ!! কত বড় মানবধিকার ব্যাক্তিত্ব!!! তা প্রমান করার জন্য।

সম্প্রতি ধর্ষিতা নারীকে নিয়ে এক ইমোশনাল রাজনৈতিক আলেম মাওলানা মামুনুল হকের এমন একটি হাসপাতাল ফটোসেশন ও বিব্রর্তকর ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যা বিবেকমান মানুষের মাঝে ব্যাপক ঘৃনার জন্ম দিয়েছে। চিন্তক সমাজকর্মিরা বলছেন, ধর্ষিতা নারীর কাছে এরকম সদলবলে ভীর করে ভিডিও ও ধর্ষিতাকে নিয়ে সেলফিবাজী বা ফটোসেশন নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক বেলকিবাজী ও অমানবিক কাজ। কেবল নিজেকে মিডিয়ায় আলোচিত করতেই সমসাময়িক ধর্ষন ইস্যুতে ধর্ষিতা নারীকে হাসপাতালে দেখতে যাওয়া ও তাকে নিয়ে ছবি তুলে নিজেকে বড় নেতা জাহিরের হীন রাজনীতি ও ঘৃনীত অমানবিক চর্চা চলছে সম্প্রতি সময় বাংলাদেশে।

এসব ভেলকিবাজি ও অন্যায় অমানবিক কাজ করে ধর্ষিতাকে বিবর্তকর লজ্জাজনক পরিস্থিতিতে ফেলা কোন সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষের কাজ হতে পারে না। এমন ভেলকিবাজী ও ধর্ষিতা নারীদের নিয়ে ফটোসেশনের রাজনীতি বন্ধ করা হোক। ধর্ষিতার সাথে ছবি না তুলে তাকে মানবিকভাবে সহযোগীতা করুন। তার পরিবারের পাশে দাড়ান। সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে কাজ করুন৷ প্রতিবাদ করন।

প্লীজ! ধর্ষিতার সাথে ফটোশেসন করে তার ছবি ভাইরাল করে তাকে লজ্জিত করবেন না।

লেখক, সাংবাদিক ও মানবিধিকার কর্মী, সেক্রেটারী জেনারেল, আলেম মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম ফোরাম।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com