মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন

তাবলীগের মূল থেকে পাকিস্তান মারকাজের বিচ্যুতি যেভাবে…

তাবলীগের মূল থেকে পাকিস্তান মারকাজের বিচ্যুতি যেভাবে…

শামীম হামিদীঃ

◆ পাকিস্তানের রায়বেন্ড মারকাজ হযরত ইলিয়াস রহমতুল্লাহি আলাইহির তরতীব ও নিজামুদ্দিন এর সিদ্ধান্তের বাইরে পরিবর্তনসমূহঃ

এক,
রায়বেন্ড (পরিবর্তন): সাধারণ মানুষের এক বছর লাগানোর তাশকীল, এক বছরের জামাত পাঠানো।
নিজামুদ্দিন (উসূল): সাধারণ মানুষের জন্য চার মাসের তাশকীল হবে।

দুই,
রায়বেন্ড (পরিবর্তন): বিদেশ সফরের নূন্যতম বয়স ৪০। এর কম কেউ বিদেশে সফরে যেতে পারবেন না। ইল্লা মাশা আল্লহ।
নিজামুদ্দিন (উসূল): এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই। কাজের সমঝ আছে, কাজ নিয়ে চলেন এমন যে কেউ বিদেশ সফর করতে পারবেন।

তিন,
রায়বেন্ড ( পরিবর্তন): পুরনোদের জোড়ে ৩-৫-৩ তরতীব।
নিজামুদ্দিন ( উসূল): এমন কোন ‘লাকি নাম্বার’ তরতীব নেই।

চার,
রায়বেন্ড (পরিবর্তন): এক সাল ও আধা সালের তরতীব।
নিজামুদ্দিন (উসূল): আওয়ামদের জন্য চার মাস, উলামাদের জন্য এক বছর।

পাঁচ,
রায়বেন্ড (পরিবর্তন): মুজাকারার জামাত।
নিজামুদ্দিন (উসূল): যাওয়ার আগে হেদায়েতি বয়ান শুনা, মেহনত করে ফিরে কারগুজারী শুনানো।

ছয়,
রায়বেন্ড (পরিবর্তন): সুপ্রিম শূরা। প্রথমে রায়বেন্ডের শূরাগণ কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন। এরপর সুপ্রিম শূরাদের নিকট পেশ করবেন। তাঁরা এই ফয়সালাকৃত উমুর বিশ্লেষণ করবেন। তাঁরা অনুমোদন দিলেই কেবল এসব ফয়সালা বাস্তবায়ন হবে। এই সুপ্রিম শূরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নতের খোলাখুলি বিরোধিতা এবং কম্যুনিস্ট পার্টির সুপ্রিম কাউন্সিল ও পলিট ব্যুরোর সাথে চমৎকারভাবে মিলে যায়। (আমরা দাওয়াতে তাবলীগে একটা কথা সব সময়ে শুনে এসেছি, মাসোয়ারার আগে কোন মাসোয়ারা নেই, মাসোয়ারার পরেও কোন মাসোয়ারা নেই।)
নিজামুদ্দিন (উসূল): এমন কোন সুপ্রিম শূরা নেই।

সাত,
রায়বেন্ড (পরিবর্তন): পুরানো মাস্তুরাতের জোড় (স্বামীসহ) ১৫ দিনের জন্য।
নিজামুদ্দিন (উসূল): এমন কোন জোড় নেই। তবে কয়েকঘন্টার জন্য কোন পুরান সাথীর বাসায় কারগুজারী ও মুজাকারা হতে পারে। এর বেশি কিছু নয়।

আট,
রায়বেন্ড (পরিবর্তন): পুরাতন সাথী নতুন সাথীদের সাথে মশক করবে এবং তাদের কাছে মেহনত ব্যাখ্যা করবে।
নিজামুদ্দিন (উসূল): এমন কোন উস্তাদ শাগরেদ তরতীব থাকবে না। বরং সকলেই মারকাজের হেদায়েত নিয়ে জামাতের মধ্যে সাথী হয়ে চলবেন।

এভাবে আরো অসংখ্য নতুন নতুন ব্যাপার স্যাপার তারা পাকিস্তানে চালাচ্ছেন যা কেউ কোনদিন না নিজামুদ্দিনে শুনেছে আর না কেউ কোনোদিন দেখেছে।

এর মানে হল, একেবারে প্ৰথম থেকেই রায়বেন্ড মারকাজের অভ্যন্তরীণ এক রাজনৈতিক চক্র তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডাই বাস্তবায়ন করে চলেছে। এজন্য না তারা নিজামুদ্দিনে কোন মাসোয়ারা করেছে, আর না তারা একটিবার জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন বোধ করেছে।

এই গভীর দুঃখ নিয়েই হজরতজী মাওলানা ইনআমুল হাসান রহমতুল্লাহি বলেছিলেন, “রায়বেন্ডের হযরতগণ কখনো আমাদের আমীর হিসাবে গণনাই করেন নি। বরং আমরাই যেচে তাঁদের সাথী/মামুর হিসাবে রেখে চলেছি।”

আমরা যদি এই বাক্যের শব্দগুলো গভীর ভাবে খেয়াল করি, সারা আলমের জিম্মাদার হৃদয়ে কত গভীর দুঃখ এবং কষ্ট নিয়ে কথা গুলো বলেছেন।

◆ রায়বেন্ড মারকাজের খ্যাতিঃ
এ কথা বিশ্বব্যাপী বেশ ছড়ানো হয়েছে যে, মারকাজ নিজামুদ্দিন হল ভারতবর্ষের মারকাজ, আর বিশ্বের মারকাজ হল রায়বেন্ড।

গোদরাতে ১৯৭৮ সালে পুরানোদের জোড়ে হজরতজী মাওলানা ইনআমুল হাসান সাহেব রহমাতুল্লাহি আলাইহি আক্ষেপ করেন, “ভারতের ব্যাপারে ভাবনা হচ্ছে, সারা দুনিয়ার জন্য রায়বেন্ড রয়েছে!”

শায়খুল হাদীস হযরত মাওলানা যাকারিয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহির অন্যতম খলীফা মাওলানা ইউসুফ মুত্বলা দামাত বারকাতুহুম সম্প্রতি বলেছেন, এক স্বপ্নে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রায়বেন্ডের লোকদের ‛রাজনৈতিক চক্র’ হিসাবে আখ্যা দিয়েছেন।

◆ আলমী শূরা এবং রায়বেন্ড:
রায়বেন্ড মারকাজে ঘাপটি মেরে থাকা ঐ রাজনৈতিক চক্রই কথিত আলমী শূরা অযুদে আনার কারণ হয়।

কোন অপশক্তির কারণে হোক বা অভিমান করে হোক বা ইখতিলাফের কারণে হোক, মোদ্দা কথা যেভাবেই হোক কিছু হযরত নিজামুদ্দিন মারকাজ থেকে বের হয়ে গেছেন। কিন্তু তাঁরা চলে যেতে না যেতেই রায়বেন্ডের রাজনৈতিক চক্র তাঁদের লুফে নিয়েছে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্য। তারা আশা করেছিল তাদের প্রায় ৫০ বছরের স্বপ্ন সাধনা এই আলমী শূরার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। এই কাজে তারা নিজামুদ্দিনের ক্ষুব্ধ হযরতদের ব্যবহার করে। এ যেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসের বাস্তবায়ন, দল ত্যাগকারী বকরীকে বাঘে খাইয়া ফেলে। নিজামুদ্দিনের এই হযরতগণ নিজামুদ্দিন থেকে বিচ্ছিন্ন হতে না হতেই এই অশুভ চক্রের খপ্পরে পড়েন। ফলশ্রুতিতে সারা দুনিয়াতে ফিৎনা ছড়িয়ে পড়ে। হযরতদের প্রতি আমাদের সবিনয় প্ৰশ্ন, তাবলীগের নাহাজ কি ফিৎনা ছড়ানো?

সেই স্বপ্নে এই লোকগুলোকে রাজনৈতিক চক্র হিসাবে অভিহিত করা হয়ে ছিল। ওদের সাথে কি এই মেহনতের আদৌ কোন সম্পর্ক আছে!

এটা ছিল যাকারিয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহির মত মহান ব্যক্তিত্বের দূরদৃষ্টি সম্পর্কিত, বাস্তবে বহু পূর্বেই এদের রাজনৈতিক চক্রের সাথে তুলনা করে উম্মতকে সতর্ক করা হয়েছিল।

এরাই আজ বিশ্বব্যাপী প্রোপাগান্ডা করে বেড়াচ্ছে যে মাওলানা সাদ সাহেব পূর্ববর্তীদের মানহাজ হতে সরে গেছেন। অথচ বাস্তবে এরা সেই শুরু থেকেই মাওলানা ইলিয়াস রহমাতুল্লাহি আলাইহির মাসলাক থেকে যোজন যোজন দূরত্ব বজায় রেখে আসছে!

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com