মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ১১:৩৭ অপরাহ্ন

কাকরাইলের আহলে শুরাদের পক্ষ থেকে মাওলানা যুবায়ের সাহেবকে খোলা চিঠি

কাকরাইলের আহলে শুরাদের পক্ষ থেকে মাওলানা যুবায়ের সাহেবকে খোলা চিঠি

মাওলানা যুবায়ের সাহেব (দা. বা.)-কে তাবলীগের আহলে শুরা ও দেশের পুরাতন সাথীদের পক্ষ থেকে লেখা খোলা চিঠি

সংগ্রহ ও সম্পাদনায়ঃ তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম।

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

বখেদমতে মুহতারাম হযরত মাওলানা যুবায়ের সাহেব (দা. বা.), সাবেক ফায়সাল, তাবলীগ জামাত বাংলাদেশ।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের মেহেরবানিতে আশা করি শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। আপনার দীর্ঘদিনের পুরানো বন্ধু ও দ্বীনী মেহনতের সাথী আমরা। দীর্ঘ কতোটা সময়ই না আমরা একসাথে কাকরাইলে দাওয়াত ও তাবলীগের মোবারক মেহনত করেছি! দুনিয়ার কোণায় কোণায় কতো দেশেই না একসঙ্গে আল্লাহর রাস্তায় সফর করেছি! সারা পৃথিবীর কতো দেশেই না আমরা একসাথে কত ইজতেমায় শরিক হয়েছি! আজ আপনি আমাদের কাছ থেকে কতো দূরে! বিষয়টি আমাদেরকে ভীষণ কষ্ট দেয়! বর্তমান মওজুদা হালতে আপনার অবস্থা দেখে আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়! শেষ রাতের রোনাজারিতে তাবলীগের লক্ষ লক্ষ সাথী আপনার জন্য নিয়মিত চোখের পানি ফেলে মাওলাপাকের কাছে দোয়া করছে…।

হযরত মাওলানা!

আপনার কি সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়ে, যখন আপনি আমাদেরকে তাকওয়ার কথা বলতেন? মনে পড়ে, তাবলীগের এই নবীওয়ালা মোবারক কাজকে সভা-সমাবেশ, মিছিল, মিটিং ও রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে সবাইকে তারগীব দিতেন? হজরতজী মাওলানা সা’দ কান্ধলভী সাহেব (দা. বা)-কে আপনি কতোটা সমীহ ও শ্রদ্ধা করতেন?

হযরতজীর খান্দানের কতোই না ইহসান রয়েছে আমাদের উপর! ২০১৫ সালে পাকিস্তানের ইজতিমায় যখন ‘আলমী শুরা’র প্রস্তাব পেশ করা হয়, তখন আপনিসহ আমরা সবাই বাংলাদেশ থেকে সর্বপ্রথম এই বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলাম। আমরা কেউ সেই কাগজে স্বাক্ষর করিনি। আপনি তাদের ষড়যন্ত্রের উপর কতোই না রাগ করেছিলেন সেদিন! পরবর্তীতে আপনার সামনেই তো মাওলানা সা’দ কান্ধলভীকে ২০১৭ সালে বাংলাদেশের ইজতিমায় ‘আমির’ হিসাবে আমাদের দেশের সকল শুরাসহ সারা দুনিয়ার জিম্মাদার সাথী, ফায়সাল, আহলে শুরা, আহলে রায়গণ সর্বসম্মতিক্রমে ফায়সালা করেন। আমাদের শুরাদের পক্ষ থেকে হালের ফায়সাল হজরত মাওলানা ফারুক সাহেব সেই ফায়সালার কাগজে স্বাক্ষর করে সেই ইজতিমার মাঠ থেকেই সারা দুনিয়ায় চিঠিটি পাঠিয়েছিলেন। এতো আহাম ও গুরুত্বপূর্ণ একটি আলমী মাশোয়ারাকে আমরা কিভাবে অস্বীকার ও খেয়ানত করতে পারি? বলুন!!

হযরত মাওলানা,

এদেশের লক্ষ লক্ষ সাথী স্বাক্ষী, কোন ইজতিমায় আপনার বয়ান কেউ মোবাইলে রেকর্ড করতে চাইলে বা আপনার ছবি তুলতে চাইলে আপনি কতোই না রাগ করতেন! নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস ও ছবি অঙ্কনের শক্ত ধমকিসমূহ শুনিয়ে দিতেন। মাওলানা যুবায়ের সাহেব, আপনি কি সবই ভুলে গেলেন আজ? এখন আপনি ‘অদৃশ্য শক্তি’র চাঁপে সাংবাদিক সম্মেলনে শত শত ক্যামেরার সামনে কথা বলতে বাধ্য হচ্ছেন। আপনার জ্ঞাতসারে সেসব ভিডিও করা হচ্ছে, প্রচার করা হচ্ছে! শুধু কি তাই? তাবলীগের নামে করা ওজাহাতি জোড়ে আপনি বয়ান করেন। সেসবের ভিডিও এখন মিডিয়াতে প্রচার করা হয়। আপনার ছবি পত্র-পত্রিকায় আসে!

আমরা যারা কাকরাইলের ‘আহলে শুরা’ আছি, তাঁরা সবসময় এসব থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করেছি এবং করে যাচ্ছি। আমরা আজও মূলধারায় থেকে চেষ্টা করছি- এসব ‘সিয়াসী স্টাইল’-এর কাজ থেকে যেন বেঁচে থাকতে পারি। আপনার দু’আ চাই, যেন আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত আমাদের সবাইকে তার খাস মেহেরবানিতে সকল ‘খুরাফাত’ থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করেন।

শ্রদ্ধেয় মাওলানা!

আপনি আজ কোন্ ষড়যন্ত্রের চোরাবালিতে আটকে গেলেন!? আপনার হাতে থাকা তাবলীগের ক্ষুদ্র বিদ্রোহী অংশটির নিয়ন্ত্রণও আজ সিয়াসী লোকদের হাতে চলে গেছে! তাবলীগের নামে নতুন আবিষ্কৃত ওজাহাতি জোড়ে আপনাকে হাজির করা হয়। আর সেখানে হযরতজীর নামে অসংখ্য মিথ্যা ও বানোয়াট তোহমত দেয়া হয়। আপনিতো হযরতজী মাওলানা সা’দ কান্ধলভী (দা. বা.)-এর বয়ান গত ২০ বছর ধরে তরজমা করেছেন। বিগত প্রায় দুইযুগ আপনার কাছে তো কখনো হযরতজীর বয়ানের একটি দোষও ধরা পড়েনি! আমাদেরকে বলেননি।

কোথা থেকে হঠাৎ করে কারা আজ এতো এতো রং আর মিথ্যা লাগিয়ে হযরতজীর বয়ানকে কাটছাট করে আপনার সামনে বলছে? আমরা জানি এসব শুনে এখন আপনি ভালো নেই, মানসিক কষ্টে আছেন। কিন্তু এমন জায়গায় আজ আপনি আটকা পড়লেন, যেখানে অদৃশ্য শক্তিবলে আপনার হাত-পা বাঁধা। আপনার আজকের অসহায়ত্ব দেখে আমাদের কষ্ট হয়। দোয়া করি, আল্লাহ যেন নিজ কুদরত দ্বারা আপনাকে এই রাজনৈতিক বলয়ের মুসিবত থেকে রক্ষা করেন।

মাওলানা যুবায়ের সাহেব!

আপনি ‘মুন্তাখাব হাদিস’-এর তরজমা করেছেন আমাদের চোখের সামনে কত দরদ ও মহব্বতের সাথে। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে এই কিতাব আমভাবে পড়ার জন্য আপনি কতো তারগীব দিতেন, সাধারণ সফরে, হজ্জের সফরে, কাকরাইলের মিম্বরে। হঠাৎ কী এমন হয়ে গেলো- যার ফলে আপনার অনুদিত নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সহিহ হাদিসের কিতাব আজ মসজিদের পর মসজিদ থেকে আপনার নাম ব্যবহার করেই বের করে দেয়া হচ্ছে! মাওলানা, আমরা দোয়া করি, এই কষ্ট থেকে মুক্তি পাক পুরো জাতি। বেইজ্জতি, অবহেলা আর এহানত থেকে আপনার প্রচেষ্টায় রক্ষা পাক নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীস শরীফ।

মাওলানা সাহেব,

আপনি মসজিদ আবাদির মেহনত নিয়ে কত বয়ান করলেন টঙ্গীর ইজতিমার ময়দানে, সারা দেশে। আজ আপনার নাম নিয়েই পেশী শক্তির বলে মসজিদে মসজিদে তাবলীগের কাজ বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। মসজিদ থেকে জোর করে আল্লাহর রাস্তার মেহমানদের বের করে দেয়া হচ্ছে। তাঁরাতো মসজিদে ৬ সিফাতের কথাই বলতেন! মানুষকে দাওয়াত দিয়ে মসজিদে নিয়ে আসতেন! আল্লাহর রাস্তায় বের করতেন! আগে যখন বিভিন্ন মাসলাকের লোকজন মসজিদ থেকে জামাত বের করে দিতো, তখন আপনি আমাদেরকে কুরআনের সেই আয়াত শুনিয়ে দিতেন,

وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ مَنَعَ مَسَاجِدَ اللَّهِ أَنْ يُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ وَسَعَىٰ فِي خَرَابِهَا ۚ أُولَٰئِكَ مَا كَانَ لَهُمْ أَنْ يَدْخُلُوهَا إِلَّا خَائِفِينَ ۚ لَهُمْ فِي الدُّنْيَا خِزْيٌ وَلَهُمْ فِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ

হজরত!

আপনি কি আজ রাজনৈতিক বেড়াজালে আটকে পড়ে এই আয়াতটিও (সুরা বাকারা, আয়াত নম্বর: ১১৪) ভুলে গেলেন? আজ আপনার নাম ব্যবহার করেইতো মসজিদ থেকে আল্লাহর রাস্তার জামাত বের করে দেয়া হচ্ছে। আমাদের ভয় হয়, ময়দানে মাহশারে এই গোনাহের দায়ভার কার কাঁধে যে চাঁপিয়ে দেয়া হয়…!

প্রিয় মাওলানা,

আপনি এক আলমী মেহনতের সাথে কাজ করনেওয়ালা সাথীদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। আজ আপনার নাম ব্যবহার করে বলা হচ্ছে, “আমরা যুবায়ের সাহেবের সাথে ‘স্বতন্ত্র বাংলাদেশ তাবলীগ’ নামের মেহনত করবো”। এছাড়াও কখনো কখনো বলা হচ্ছে, “আলমী শুরা মানতে হবে”। আবার হযরতজী মাওলানা সা’দ কান্ধলভীকে নিয়ে এমন কথা বলা হচ্ছে যে, “তিনি মুসলমানই নন”। অথচ আলমীশুরার লিস্টে এখনো তার নাম বহাল রয়েছে! এসব দ্বিমূখি বক্তব্য আসছে আপনাদের কাছ থেকেই। একেকদিন একেক কথা। আপনার ঘনিষ্ঠজনদের অনেকেই বলছেন, “সা’দ সাহেব শুধু আলমী শুরা মেনে নিলেই সব ফতোয়া ও অভিযোগ শেষ হয়ে যাবে”। যদি তাই হয়, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে যে ওজাহাতি মিথ্যা ছড়ানো হলো, সেসবের ক্ষতিপূরণ কীভাবে হবে? আদৌ কি হবে? আজ আপনিই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি উম্মতের সামনে সত্য উম্মোচন করে দিলে মূহুর্তেই বাংলাদেশের এই ফেৎনা খতম হয়ে যাবে ইনশা-আল্লাহ। আমরা আজো আপনার কাছে এমনটিই প্রত্যাশা করি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আপনাকে ও আমাদেরকে আপোষহীনভাবে সত্যের উপর অবিচল থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

মাওলানা!

হয়তোবা আপনার জানা নেই যে, এদেশে এই নববী মেহনতকে খানখান করতে আপনার নামই ছলে-বলে-কৌশলে ব্যবহার করা হচ্ছে! আপনার নামকেই পুঁজি করা হচ্ছে! তাবলীগের লক্ষ লক্ষ সাথী আপনার কথা শুনতে ব্যাকুল থাকতো। আপনাকে জানের চেয়েও বেশি মহব্বত করতো। আজ তারাও আপনার থেকে কত দূরে! আজ আপনি এক মেরুতে দাঁড়িয়ে আছেন, আর দাওয়াতের কাজ করনেওয়ালা সাথীরা অপর মেরু থেকে আপনার দিকে তাকিয়ে আছে। আমরা যদি কোন ব্যক্তিকে দেখে মেহনত করতাম, খোদার কসম বাংলাদেশে আপনার চেয়ে অধিক মহব্বতের মুরুব্বী আর কে ছিলেন? কিন্তু আপনিইতো শিখিয়েছিলেন, “কাজের সাথে জুড়ো, কাজের মূল ও প্রধান মারকায নিজামুদ্দিনের সাথে জুড়ো”। সাথীরা তাই আপনার মহব্বত দিলে রেখেই কাজের সাথে জুড়ে আছেন। কাজের প্রধান ও মূল মারকায নিজামুদ্দিনের সাথেই জুড়ে আছেন, আলহামদুলিল্লাহ। শত বছরের এই সুপ্রতিষ্ঠিত মেহনতের মোকাবেলায় কেবল মাদরাসার ছাত্রদের পুঁজি বানিয়ে ওজাহাতি করে টিকে থাকা যায় না- সেটা আপনিও ভালোভাবে বোঝেন।

আপনার কাছে করজোড়ে অনুরোধ, আপনি আবার ফিরে আসুন আপন অঙ্গণে, দাওয়াতের ময়দানে, মেহনতের মোবারক পরিবেশে। আপনার সাজানো বাগান আপন মালীর অপেক্ষায় চেয়ে রয়েছে। সাথীরা ইনশা-আল্লাহ সব ভুলে আবার আপনাকে পরম শ্রদ্ধা ও বুকভরা ভালবাসা দিয়ে মাথার তাজ হিসাবে হৃদয়ে আগলে নেবেন।

আপনি গত বছর নিজামুদ্দীনে গেলেন প্রায় ১৮ বছর পরে। আপনি হযরতজীর সামনে কোন কথাই বললেন না। আপনার এতো মহব্বতের হযরতজী, যাঁর বয়ানের তরজমা করেছেন প্রায় দুই যুগ! আপনি তার কাছে দাবী খাটিয়ে কোন কথা বললে তিনি কি ফেলে দিতেন? তারপরও আপনি সেখানে নিজ কানে রুজু শুনে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছিলেন। অথচ বাংলাদেশে এসে সত্য গোপন করে কী বললেন!? আহ…! আমরা আপনার পুরাতন বন্ধু ও দ্বীনী সাথী হিসাবে আর পুরানো ক্ষতকে স্মরণ করে এসব কষ্টকে তাজা করতে চাই না একদমই…!

আমরা আশা করেছিলাম, আপনি এ বছরও দেওবন্দে যাওয়া সরকারি প্রতিনিধিদলের সদস্য হবেন। কিন্তু শুনতে পাচ্ছি, আপনি রাজি হচ্ছেন না। কেন ভয় পাচ্ছেন হযরত? লজ্জারইবা কী আছে? কাজ করলে একটু-আধটু ভুল তো হতেই পারে! আল্লাহ ক্ষমাশীল। চলুন, আবার নিজামুদ্দীনে যাই। আপনি সেখানে বসেই মওজুদা সমস্যার সমাধান বের করে আনতে পারবেন, ইনশাআল্লাহ। কারণ, বাংলাদেশে আপনাকে পুঁজি করেই একটি ছোট বলয় তৈরি করে উলামায়ে কেরামকে ভুল তথ্য দিয়ে দল ভারী করা হচ্ছে। এখানে আপনিই সমাধানের মূল ভুমিকা পালন করলে পথ বেরিয়ে আসবে, ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ পাক এমন কোন বিষয় রাখেননি, যার সমাধান তিনি দেননি।

হযরত!

এটি আজ সূর্যের ন্যায় পরিস্কার, শুধু বাংলাদেশ নয়; সারা দুনিয়ার কাজকরনেওয়ালা সাথীরা নিজামুদ্দীন মারকাযের সাথেই জুড়ে আছে। অথচ বাংলাদেশে রাজনৈতিক আলেমরা আপনি ও আপনার সঙ্গীদের নিয়েই ‘তাবলীগ পরিচালনা কমিটি’ গঠন করলেন। তারা আজ আপনাদের হাত থেকে কর্তৃত্ব কেড়ে নিয়ে আবার আপনাদেরকেই ঢাল হিসাবে ব্যবহার করছে! আফসোস…!

আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের শীর্ষ হযরত উলামায়ে কেরামের কোনো দোষ নেই। তাঁদের কাছে কেবল আপনার নাম ব্যবহার করে ভুল তথ্য পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। আর তাঁরাও সরলমনে আপনার নামের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে সব কথা বিশ্বাস করছেন- যা মূলত কাকরাইলের মুরুব্বিদের প্রতি উলামায়ে কেরামের অগাধ বিশ্বাস ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ মাত্র। আপনি কি পারবেন, তাদের এই আস্থা ও ভরসার মূল্যটুকু রক্ষা করতে? যেখানে কুলহিন্দসহ সারাবিশ্বের কিবার উলামায়ে কেরাম হযরত সা’দ সাহেবের ব্যাপারে ইতিবাচক কথা বলছেন, সেখানে কতদিন বাংলাদেশের উলামায়ে কেরামকে এভাবে আলাদা করে রাখা সম্ভব?!

‘তৃতীয় শক্তি’ আজ আপনার নাম ভাঙ্গিয়ে এই মেহনতকে তছনছ করতে তৎপর। ওরা আজ আমাদের অবর্তমানে আপনার কানকে ভারী করছে। আমরা আশা করি, আপনি আবার আপনার পুরানো মেজাজ, স্বাভাবিক জীবন, দাওয়াতের কাজের সহিহ নেহাজ, তারতিব ও উসুলের মাঝে ফিরে আসবেন।

মাওলানা,

আপনার নির্দেশে মাদরাসার ছাত্রদের দিয়ে তাবলীগের মূলধারার সাথীদের জোড়ে বাধা দিয়ে দুজন সাথীকে শহীদ করা হলো। মুনাফেক চক্রের ইন্ধনে দুঃখজনকভাবে সাথী ও ছাত্র ভাইদের রক্ত ঝরলো। দুনিয়া-আখেরাতে এর দায় আপনি কি এড়িয়ে থাকতে পারবেন?

আপনি আমাদের কলিজার টুকরো হযরত! মহব্বত যেখানে বেশি, সেখানে কথা অল্পতে শেষ হয় না। কতদিন ধরে আপনার পাশে বসে আমরা কথা বলতে পারি না! উলামায়ে কেরামের নানান বিষয়ে যুগযুগ ধরে ইখতিলাফ ও ভুল বুঝাবুঝি নতুন কিছু নয়। কিন্তু ইখতিলাফের নামে ভয়ংকর জালিয়াতি ও মিথ্যাচার চলছে আপনার আশেপাশের লোকজনের কাছ থেকে। মাদরাসার কোমলমতি ছাত্রদের ব্ল্যাকমেইল করে উত্তেজিত করে উগ্রপন্থার দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে আপনার অবর্তমানেই। আল্লাহ’র দায় থেকে বাঁচতে আপনার দীর্ঘদিনের সাথী হিসাবে আপনার সামনে তাই কিছু সত্য তুলে ধরা আমাদের জিম্মাদারী বলে মনে করি। আমাদের এতটুকু অধিকার আপনার কাছে আছে যে, যা সঠিক, সত্য, সুন্দর; সেই আমানত আল্লাহর ওয়াস্তে আপনাকে জানানো।

আমাদের আফসোস হয়, আপনার সম্প্রতিকালের রাজনৈতিক মেজাজ ও ত্বরীকা দেখে! সাথীদের শহীদ করার মতো কাজ করেও আপনার বুক আল্লাহর ভয়ে একটু কেঁপে উঠলো না?! উল্টো নিরপরাধ আলেম-উলামা ও দ্বীনদার মুসল্লীদের নামে সারাদেশে ছবিসহ রং-বেরঙের মিথ্যা পোস্টার করা হলো! একাধিক ছাত্র নিহত হবার গুজব সারাদেশে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম মিথ্যাচার করে ছড়িয়ে দিলেন আপনারা! আমরা সব দেখে সীমাহীন আশ্চর্য হলাম, জগতে এরকম নির্লজ্জ মিথ্যাচারের ঘটনা ইতিহাসে বিরল। উল্টো কোটি কোটি টাকা অপচয় করে জীবন্ত মানুষের ছবি টাঙ্গিয়ে আজ আপনার নেতৃত্বে নিজেদের দোষ আড়াল করতে নিরপরাধ মানুষকে ফাঁসি দিতে হারাম ত্বরীকায় ভুয়া আন্দোলন করা হচ্ছে।

হযরত, আপনি হয়তো জানেনই না, তাবলীগবিরোধী প্রোপাগান্ডার এসব কথিত ফাঁসির পোস্টারে ২০১৩ সালে হেফাজতের গণ্ডগোলে আহত মিডিয়ায় আসা আলোচিত ছবি, ২০১৫ সালে মিডিয়ায় প্রকাশিত সোমালিয়ায় শিশু নির্যাতনের ছবি, রোহিঙ্গা মুসলিম নির্যাতনের ছবি ইত্যাদি সাঁটানো হয়েছে! এসব পুরাতন ও বিদেশি ছবি টঙ্গীর দুর্ঘটনার নামে চালিয়ে সাধারণ মুসলমানদের ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে। হযরত! দ্বীনের নামে সাধারণ মানুষকে ইমোশনাল বা উত্তেজিত করার জন্য এমন ভয়ঙ্কর মিথ্যাচার না করলে কি হত না?! এসব কাজতো নিম্নশ্রেণীর কোন মুসলমানও করতে পারে না। তাহলে আলেমদের শানে কিভাবে বৈধ হলো!

মাওলানা,

যা বলা হলো, সেসব দেখলে আপনার নিজেরও লজ্জায় মাথা নিচু হয়ে আসবে। আপনিতো রাজনীতিবীদ নন! আপনি তাবলীগওয়ালা। তাবলীগওয়ালার সন্তান। আপনার নেতৃত্বে লোকজন এমন মিথ্যাচার আর ধর্মীয় সংঘাত তৈরিতে এমন হীন-মিথ্যা অপ-রাজনৈতিক আচরণ করবে ইসলামের নাম ব্যাবহার করে- এসব আমরা ভাবতেও পারি না। আজ এসব নিজ চোখে না দেখলে, এমন মিথ্যার মুখোমুখি না দাঁড়ালে, আমরাও কখনোই বিশ্বাস করতাম না যে, আপনাদের পক্ষ থেকে এসব হতে পারে! হযরত, আপনি এই মিথ্যাচারের রাজনৈতিক জগত থেকে বেরিয়ে আসুন। কথা দিলাম, আমরা সব ভুলে যাব।

হযরত মাওলানা যুবায়ের!

আপনি কখনো সিয়াসী মেজাজের ছিলেন না। বরং নববী আখলাকের এক জলন্ত নমুনা ছিলেন। কিন্তু সেদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে আপনি গাড়ি থেকে নামলেন না! শুনেছি, আপনি নাকি বলেছেন, আমাদের সাথে বসবেন না কখনো! আমাদের বিশ্বাস, আপনি কখনো এমন আচরণ করতে পারেন না। আমরাতো আপনার পুরানো দ্বীনী বন্ধু ও মহব্বতের সাথী। জানিনা কারা আপনাকে ইদানিং বারবার ভুল পথে পরিচালিত করছে? কী তাদের আসল উদ্দেশ্য?

আপনি নানান স্থানে বলছেন, আমরা নাকি তাবলীগ থেকে দূরে সরে গেছি, দ্বীন থেকে বের হয়ে গেছি। নিজামুদ্দিনের অনুসারীরা নাকি এখন আর তাবলীগ ও দ্বীনের সাথে এবং ইসলামে নেই। আপনার এই অভিযোগ যদি উপমহাদেশের শীর্ষ ৩/৪জন বড় মুফতির দ্বারা তাসদিক করিয়ে প্রমান দিতে পারেন তাহলে আমরা তওবা আর রুজু করতে সব সময় তৈরি। কেন এসব কথা বলে পুরো উম্মতকে বিভ্রান্তিতে ফেলার চেষ্টা করছেন? এসব প্রতিটি মিথ্যাচারের জবাব ময়দানে মাহশারে আল্লাহ রব্বুল ইজ্জতের সামনে অবশ্যই দিতে হবে।

তবুও আমরা আশাবাদী, আপনি আবার সঙ্গীদের নিয়ে আপন জায়গায় ফিরে আসবেন। আমরা কাকরাইলের শুরা ও ফায়সাল হিসাবে আপনাকে আবার মাথার তাজ করেই রাখবো। আসুন না, এক বিছানায় বসে আবার আলোচনা করি। বহিরাগতদের হস্তক্ষেপ ছাড়া আমরা নিজেরা বসে আলোচনা করে উম্মতকে এক কঠিন মুসিবত থেকে উদ্ধার করি। প্রয়োজনে সংকট নিরসনে হযরতজীর সাথে বারবার আমরা বসি। পথ বের করি। কেনো আমরা যোজন যোজন দূরে থাকব? এক হই, নেক হই। আল্লাহর হুকুমের উপর উঠি। এই ইজতেমাইয়াত হয়তো লাখো কোটি উম্মতের হেদায়তের জরিয়া হতে পারে। হেদায়তের পথ খুলে দিতে পারে। আমরা এক হয়ে গেলে- মাদরাসাওয়ালাগণ দরসে চলে যাবেন, খানকাওয়ালাগণ ফের খানকায় চলে যাবেন, সিয়াসী হযরতগণ তাদের শো’বাতে মশগুল হয়ে যাবেন। তাবলীগের উলামাগণই দ্বীনী সাথী ভাইদের নিয়ে পূর্বের মতো কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে উম্মতের দ্বারে দ্বারে বারে বারে গিয়ে ইখলাসের সাথে দাওয়াতের মুবারক নবীওয়ালা মেহনত করতে থাকবেন।

আমরা দোয়া করছি, হে রব্বুল আলামিন, আমাদের এক ও নেক করে দাও। আমাদের গোনাহগুলোকে মাফ করে দাও। আমাদের সকল ভুল-ক্রটি ক্ষমা করে খাঁটি মুমিন হিসাবে কবুল করে নাও। আমাদের হেদায়ত দান কর ও হেদায়তের জরিয়া হিসাবে কবুল করে নাও। মাওলাপাক, উলামা-ত্বোলাবা, সাধারণ সকল মুসলমানের মাঝে ইত্তেহাদ, ইজতেমায়িয়াত ও জোড়-মিল-মহব্বত আবার পয়দা করে দাও। হযরত যুবায়ের সাহেব ও তার সঙ্গীদের নেক হায়াত দান কর। বর্তমান এইসব ফেৎনা থেকে আমাদেরকে তোমার খাস মেহেরবানিতে হেফাজত কর।

আমিন। সুম্মা আমিন।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com