বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ০৭:৩১ পূর্বাহ্ন

বেনাপোল স্থল বন্দরে দালাল-প্রতারকদের দৌরাত্ম বেড়েই চলছে। যারা স্থলপথে নিযামুদ্দীন যাবেন…

বেনাপোল স্থল বন্দরে দালাল-প্রতারকদের দৌরাত্ম বেড়েই চলছে। যারা স্থলপথে নিযামুদ্দীন যাবেন…

সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ, ষ্টাফ রিপোর্টা, কলকাতা থেকে। বাংলাদেশ এবং ভারত দক্ষিণ এশিয়ার দুইটি ঘনিষ্ঠতম প্রতিবেশি দেশ। দুই দেশের সম্পর্ক বিশ্বের ইতিহাসে রোল মডেল। বাংলাদেশ ভারতের শুধু নিকট প্রতিবেশীই নয়; বরং দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত অকৃত্রিম বন্ধু ও সুহৃদ। ১৯৭১-এর মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে ভারতের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন ও সহযোগিতা সর্বদাই স্মরণ করা হয়ে থাকে। তাই ভারত বাংলাদেশ যোগাযোগ ব্যাবস্থা, ইমিগ্রেশন সহজ ও আন্তরিকপূর্ণ ও দালালদের দৌরাত্মমুক্ত থাকবে, এটিই আশা করেন দুই দেশের ভ্রমন পিপাসু মানুষ।

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ ভারতের মানুষ সবচেয়ে বেশি যাত্রায়াত করে। বিশেষ করে বাংলাদেশীদের চিকিৎসা, পড়ালেখা, ভ্রমণ ও দুই দেশের নিকটাত্মীয়দের কাছে যাতায়াত করে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ। সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই স্থলবন্দর ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যশোর স্থলবন্দর বাসস্ট্যান্ডে প্রবেশ করতেই যাত্রীদের ইমিগ্রেশন সহযোগীতার নামে দালালরা প্রভাবিত করতে থাকে। ৫৫০টাকা ইমিগ্রেশন ফি থাকলেও দালালরা পাসপোর্টে ইমিগ্রেশন থেকে সহজে সীল মেরে এনে দ্রুত পার করে দেয়ার নামে যাত্রীদের প্রতারিত করে হাতিয়ে নেয় ৭শ থেকে ১হাজার পর্যন্ত টাকা।

ইমিগ্রেশনের আগে আশপাশের মার্কেটগুলোতে রয়েছে দালালদের অসংখ্য দোকান। দোকানগুলোতে ফ্লেক্সিলোড, বিকাশ, রকেট এসবের সাইনবোর্ড থাকলেও মূলত ইমিগ্রেশনে দালালীই তাদের মূল ব্যবসা। শুধু বাংলাদেশ ইমিগ্রশন এলাকাতেই দালালদের দৌরাত্ম সীমাবদ্ধ নয়, ভারতে প্রবেশের সাথে সাথে ছদ্মবেশী প্রতারকদের ফাঁদে আটকে পড়ছেন প্রতিদিন হাজার হাজার নতুন যাত্রী। বেনাপোল স্থলবন্দরে দালালদের নানান কায়দায় অভিনব প্রতারণা ও দৌরাত্ম ক্রমশ বেড়েই চলছে। উভয়দেশের ইমিগ্রেশন থেকে এসব দেখার যেন কেউ নেই। ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যে সুগভীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে তাতে এই ‘ইমিগ্রেশন’ হয়রানী দুঃখজনক বলে জানান একাধিক ভ্রমনকারী।

ভারতে প্রবেশের সাথে সাথেই ইমিগ্রেশনের গেইটে আইডিকার্ড গলায় ঝুলিয়ে একদল প্রতারক দাঁড়িয়ে থাকে। অধিকাংশ যাত্রীরা মনে করেন, এরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য কিংবা কাসটমসের দ্বায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা। তাদের গলায় ঝুলানো পরিচয়পত্রগুলো পুরানো ও ইংরেজিতে অস্পষ্ট লেখা। যা পড়তে পারেন না অনেকেই। এরা ইমিগ্রেশন গেইট পেরুলেই ভিতরের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকদের মতো অভিনব কায়দায় যাত্রীদের পার্সপোট দেখতে চায়। নতুন যাত্রীরা তাদের ইমিগ্রেশনের লোক মনে করে তাদের হাতে পাসপোর্ট দিতেই প্রতারণার ফাঁদে আটকে যায়।

ভারতীয় এসব প্রতারকরা সর্বপ্রথম তাদের কাছে কোন রূপি কিংবা টাকা আছে কি না জানতে চায়। প্রত্যেক যাত্রীই বাংলাদেশী কমপক্ষে ১০/১২হাজার টাকা সাথে রাখেন। সে দেশে গিয়ে রূপি কিনবেন ভেবে। কারো কাছে কমবেশি টাকাও থাকে। তখন প্রতারকরা নিজেদেরকে ইমিগ্রেশনের লোক পরিচয় দিয়ে সব টাকা তাদের হাতে নিয়ে নেয়। এমনকি যাত্রীদের সারা শরীর তল্লাশী করে এক ধরণের আতঙ্ক তৈরী করে। তখন এরা এসব টাকার বিনিময় নামমাত্র কিছু রূপি ভ্রমনকারীদের হাতে ধরিয়ে দেয়। আকষ্মিক এমন জটিলতায় পড়ে অধিকাংশ যাত্রীই কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন।

গতকাল ১৪জানুয়ারী সোমবার সকালে দৈনিক ভোরের পাতার এই প্রতিবেদক ভারত ভ্রমনকালে বেনাপোল স্থলবন্দরে এভাবেই প্রতারকদের মুখোমুখি হন। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তারা সটকে পড়লেও এর আগে আমাদের চোখের সামনে একাধিক যাত্রী প্রতারকদের হাতে স্ববস্ব খোয়াতে দেখা যায়। একজন বৃদ্ধার পকেট থেকে ১২হাজার টাকা নিয়ে ওরা ৬হাজার টাকা ধরিয়ে দেয়।

এসময় ভারতে ভ্রমনকারী ফজলুর রহমান নামে এক যাত্রী বলেন, এখানে দালাল ও প্রতারকদের এই দৌরাত্ম বন্ধ করা জরুরী। এটি উভয় দেশের কূটনৈতিক ভারসাম্যতার জন্য বড়ধরনের লজ্জাজনক বিষয়।

স্বপরিবারে ভারত যাচ্ছিলেন মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ। তিনি বলেন, ভারতে প্রবেশ করতেই একদল প্রতারক আমাদের গোটা পরিবারকে ঘিরে ধরে নাজেহাল করে। একজনের পকেটে হাত দিয়ে টাকা ও মোবাইল নিয়ে নেয়। তখন তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্য চেয়েও পান নি। তিনি মনে করেন ভারত বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নায়নের পাশাপাশি ইমিগ্রেশন জটিলতা ও স্থলবন্দরগুলোকে দালাল ও প্রতারক মুক্ত করতে উভয় দেশের সরকারকে উদ্দ্যোগী হতে হবে।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com