রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ০৩:৩৫ অপরাহ্ন

খন্ডিত বয়ান ও একটি পর্যালোচনাঃ মাওলানা সাদ থেকে আল্লামা আহমদ শফী

খন্ডিত বয়ান ও একটি পর্যালোচনাঃ মাওলানা সাদ থেকে আল্লামা আহমদ শফী

নিজস্ব রিপোর্টার; তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম। আবারো নারীশিক্ষা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে গুলিয়ে ফেলেছেন হেফাজত-আমীর। প্রথমে ‘ক্লাস ফোর-ফাইভের পর মেয়েদেরকে না পড়ানো’র কথা বললেও পরবর্তীতে সেই কথা থেকে ফিরে এসে লিখিতভাবে নতুন বক্তব্য দেন হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা আহমদ শফী। গত ১১ই জানুয়ারী ‘১৯ তারিখে হাটহাজারীতে অনুষ্ঠিত বাৎসরিক মাহফিলে তিনি এই কথা বলেন। বক্তব্যের পর পত্র-পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল আলোচনা ও সমালোচনার এক পর্যায়ে হেফাজত-আমীর তার বক্তব্যের লিখিত ব্যখ্যা দিতে বাধ্য হোন। ঘটনার একদিন পর রবিবার হেফাজতের কার্যালয় থেকে “কারো বক্তব্যকে বিকৃত করবেন না” শিরোনামে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। বিবৃতিটি হেফাজত-আমীরের স্বাক্ষরসহ হুবহু নিচে দেওয়া হলো।

আল্লামা আহমদ শফী বনাম আল্লামা সা’দ কান্ধলভী; একটি পর্যালোচনা
———————————————————————–

এই লিখিত বিবৃতিটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই সচেতন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, দীর্ঘদিন যাবত যারা ভারতের আল্লামা সা’দ কান্ধলভীর খণ্ডিত বক্তব্যকে ভুলভাবে প্রচার করে মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়েছে আজ তারাই বলছে “কেউ কেউ আমার খণ্ডিত বক্তব্যকে ভুলভাবে প্রচার করে মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে। এসব হীন কাজ করবেন না।” আইন কি তাহলে ক্ষেত্র বিশেষে ভিন্ন ভিন্ন?

উল্লেখ্য যে, বিশ্বব্যপী দাওয়াত ও তাবলীগের বিশ্ব আমীর শায়খুল হাদীস আল্লামা সা’দ কান্ধলভী হাফিযাহুল্লাহর কয়েকটি খণ্ডিত বক্তব্যকে পূঁজি করে এই সার্বজনীন দাওয়াতী মেহনতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে একটি কুচক্রি মহল। এরই ধারাবাহিকতায় তারা গত ১১ নভেম্বর ‘১৭ তারিখে উত্তরায় একটি ‘ওজাহাতি জোড়’ করে সেই খণ্ডিত বক্তব্যগুলো শুনিয়ে সারা বাংলাদেশের সঙ্কীর্ণমনা উলামায়ে কেরামকে ক্ষেপিয়ে তুলে। ‘চিলের কান নেওয়া’ কাহিনীর মত হুজুগে আলেমরাও মালকোঁচা দিয়ে লেলিয়ে যান আল্লামা সা’দ কান্ধলভী ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। কালপরিক্রমায় প্রায় ১৪ মাস অতিক্রান্ত হয়ে গেলো। কিন্তু খণ্ডাংশের খপ্পর থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি লেলিয়ে যাওয়া স্বার্থাণ্বেষী বিপথগামী আলেমগণ। আজ নিজেরাই চোঙ্গায় লেজ ঢুকিয়ে কিছুটা সোঁজা হওয়ার প্রয়াস চালাচ্ছেন। কিন্তু ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস! যাদের একমাত্র পূঁজিই হলো বক্তব্যের ‘কাটপিস’ বিকৃতি, আজ তারাই বিবৃতির শিরোনাম দিচ্ছে “কারো বক্তব্যকে বিকৃত করবেন না”।

এবার আমরা বিবৃতিটির প্রতিটি বাক্যের পর্যালোচনা করে দেখবো, কোন ইনসাফের ভিত্তিতে ‘যত দোষ, নন্দঘোষ’ নীতি অবলম্বন করেছেন হেফাজতী জুমহুর উলামায়ে কেরাম।

১। কারো বক্তব্যকে বিকৃত করে প্রচার না করার অনুরোধ জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমির শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী। কেননা এতে সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয় ও ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়।
পর্যালোচনাঃ একটু দেরীতে হলেও আহমদ শফী সাহেব বুঝতে পেরেছেন যে, বিকৃত বক্তব্যের প্রচারে সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ও ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। ঠিক যেমনিভাবে আল্লামা সা’দ কান্ধলভীকে কেন্দ্র করে ‘ওজাহাতি’বর্গ জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করে চলেছেন।

২। তিনি আরো বলেন, কারো বক্তব্যকে ব্যাখ্যা দিতে হলে আপনাকে তাঁর কথা বুঝতে হবে। অনুধাবন করতে হবে।
পর্যালোচনাঃ ওজাহাতি আলেমরা কি আল্লামা সা’দ কান্ধলভীর বক্তব্যের ব্যখ্যা দেওয়ার আগে তার কথা বুঝেছিলেন বা অনুধাবন করেছিলেন? নাকি এই নীতির স্বত্ব কেবলই হেফাজত কর্তৃক সংরক্ষিত?

৩। না বুঝে নিজের মতো করে ব্যাখ্যা দাঁড় করানো একধরণের অপরাধ।
পর্যালোচনাঃ আমীরে হেফাজতের বিবৃতি মুতাবিক ‘ওজাহাতি জোড়’এর আয়োজকগণ অপরাধী। কারণ, তারা আল্লামা সা’দ কান্ধলভীর প্রতিটি খণ্ডিত বক্তব্যের ব্যখ্যা নিজেদের মত করে দাঁড় করিয়েছে।

৪। আর খন্ডিত বক্তব্যকে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা আরো বড় অপরাধ।
পর্যলোচনাঃ প্রায় দেড় বছর পার হয়ে যাচ্ছে। ওজাহাতি জনগোষ্ঠীর কেউ এখনো পর্যন্ত আল্লামা সা’দ কান্ধলভীর কোন আপত্তিকর(?) বয়ানের আদ্যোপান্ত পেশ করতে পারে নি। “আল্লাহর হাতে হেদায়াত নাই” টাইপের কয়েকটি খণ্ডাংশকে পূঁজি করে যারা উম্মতকে টুকরো টুকরো করে দিলো তারা আমীরে হেফাজতের বিবৃতি অনুযায়ী বড় অপরাধী সাব্যস্ত হয়েছেন। চাই তিনি যেই হোন। আসলে ‘আল্লাহর হাতে হেদায়াত’ প্রসঙ্গে আল্লামা সা’দ কান্ধলভী কী বলেছিলেন সেটা জানতে এই নীল লেখাটিতে ক্লিক করুন।

৫। কোন কিছু লিখতে চাইলে সুস্থ মস্তিষ্কে চিন্তাশীল হয়ে সঠিক কথাটি লিখবেন।
পর্যালোচনাঃ সুস্থ মস্তিষ্কের চিন্তাশীল কয়েকজন ওজাহাতির নমুনা দেখতে চাইলে এই নীল লেখাটিতে ক্লিক করুন। পোষ্টের একদম নিচেও ‘নমুনা’টি দেওয়া আছে।

৬। তিনি বলেন, একটি মহল আমাকে বিতর্কিত করতে মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে।
পর্যালোচনাঃ ঠিক যেমনিভাবে একটি মহল আপনার নাম ভাঙ্গিয়ে আল্লামা সা’দ কান্ধলভীকে বিতর্কিত করতে মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে। ইহুদীদের দালাল, বাতিলের গুপ্তচর, নাস্তিক-মুর্তাদ থেকে শুরু করে অশ্লীল ও অশ্রাব্য সব গালাগালেরই ষোলকলা পূর্ণ করে ছেড়েছে।

৭। আমাকে নারী বিদ্বেষী, নারী শিক্ষা বিরোধী হিসেবে উপস্থাপন করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে।
পর্যালোচনাঃ ঠিক যেভাবে আপনার অনুসারীরা আল্লামা সা’দ কান্ধলভীকে আলেম বিদ্বেষী ও মাদরাসা শিক্ষা বিরোধী হিসেবে উপস্থাপন করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ‘কুরআন পড়িয়ে বেতন নেওয়া’র খণ্ডিত বক্তব্যতো ওজাহাতি পাড়ায় ‘হট কেক’ সমতূল্য। আসলে এ ব্যপারে কী বলেছিলেন আল্লামা সা’দ কান্ধলভী, তা জানতে এই নীল লেখাটিতে ক্লিক করুন।

৮। আমি এসব কথার জবাব দিয়েছি। জবাবটি ভালোভাবে পড়ুন এবং বুঝার চেষ্টা করুন। মিথ্যাচার করবেন না।
পর্যলোচনাঃ হায়! ঠিক এভাবেই আল্লামা সা’দ কান্ধলভী তার দ্বিতীয় রুজুনামায় জবাব দিয়েছিলেন। সেটা কেউ ভালোভাবে পড়ে নি। বুঝারও চেষ্টা করেনি। বরং উল্টো মিথ্যাচার করেছে। তিনি সব দেখে শুনে মুখ বুঁজে বুকে ব্যথা নিয়ে সহ্য করেছেন। আজ আপনিও একই পথে চলছেন। তবুও হয়তো তার কষ্টটা আঁচ করতে পারেন নি। দেখুন, সরাসরি দারুল উলূম দেওবন্দের ওয়েবসাইট থেকে সেই জবাবসম্বলিত দ্বিতীয় রুজুনামাটি।

৯। আমি আবারও বলছি, নারীদের জন্যে নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষার ব্যবস্থা করুন এবং তাদের জীবন ও ইজ্জতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। কেউ কারো কন্যাকে অনিরাপদ পরিবেশের দিকে ঠেলে দিতে পারে না। কারণ, দৈনিক পত্রিকা খুললেই প্রতিদিন চোখে পড়ছে কোথাও না কোথাও কোন নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে অথবা খুন করা হয়েছে। নৈতিকতা অর্জন না হলে ধর্ষণ, খুন ও উত্যক্তকরণ বন্ধ হবে না। নারীর প্রতি বৈষম্যতা দূর হবে না। ইসলামই ফিরিয়ে দিয়েছে নারীর প্রকৃত সম্মান।
পর্যালোচনাঃ হয়তো একেই বলে বার্ধক্যের ‘রূজু’। আমীরে হেফাজত আসলে এই কথাটি আগে বলেন নি। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে কোন রকম মান বাঁচাতে গিয়ে কথাটি ঘুরিয়ে ফেলেছেন। অথচ তিনি কী বলেছিলেন সেটা জানতে এই নীল লেখাটিতে ক্লিক করুন। ঠিক যেমনিভাবে কয়েক বছর আগে নারীদেরকে তেতুলের সাথে তুলনা দিতে গিয়ে জনরোষে পড়েছিলেন আল্লামা আহমদ শফী। তখনও মান বাঁচাতে গিয়ে উল্টোকরে বলেছিলেন যে, আমি নারীদেরকে ফুলের সাথে তুলনা করেছি। বাহ, এক ঠেলায় তেতুলও ফুল হয়ে গেলো? উপরের নীল লেখাগুলোতে ক্লিক করে সেই ভিডিওগুলো দেখে নিতে পারেন।

১০। কিন্তু কেউ কেউ আমার খণ্ডিত বক্তব্যকে ভুলভাবে প্রচার করে মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে। এসব হীন কাজ করবেন না। কারো বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করবেন না। আমার কথার সারাংশ হলো উচ্চশিক্ষা কিংবা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াতে চাইলে বোরকা গায়ে দিয়ে পড়বে এবং তাদের শিক্ষকও মহিলা হতে হবে।
পর্যালোচনাঃ একটু দেরীতে হলেও খণ্ডিত বক্তব্যকে ভুলভাবে প্রচার করে মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার পর সমালোচিত ব্যক্তির ব্যথা কেমন হয় তা হয়তো কিঞ্চিত আঁচ করতে পারছেন। মাত্র দু’দিনেই যদি এত জ্বালা হয় তাহলে দু’বছরে আপনারা আল্লামা সা’দ কান্ধলভীকে কী পরিমাণ জ্বালিয়েছেন তাও একটু আঁচ করতে চেষ্টা করুন। ঠিক যেভাবে আপনারা সা’দ কান্ধলভীকে কষ্ট দিয়েছেন ঠিক সেভাবেই অক্ষরে অক্ষরে আপনাদেরকেও সব সহ্য করতে হচ্ছে। একেই হয়তো বলে, পরের জন্য গর্ত খুঁড়লে সেখানে নিজেকেই পড়তে হয়


তরুণ মুবাল্লিগ আলেম, দারুল উলূম উত্তরার মুহতামিম মাওলানা মু’আয বিন নূরকে উক্ত ‘বিবৃতি’ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, “আসলে এ ক্ষেত্রে সর্বজন শ্রদ্ধেয় আল্লামা আহমাদ শফী হাফিযাহুল্লাহ সম্পূর্ণ নির্দোষ। তিনি মূলত আমাদেরকে একটি ‘সবক’ শিক্ষা দেওয়ার জন্য আল্লাহ কর্তৃক ব্যবহৃত হয়েছেন। তিরমিযী শরীফে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইরশাদ বর্ণিত হয়েছে, مَنْ عَيَّرَ أَخَاهُ بِذَنْبٍ لَمْ يَمُتْ حَتَّى يَعْمَلَهُ অর্থাৎ, যে ব্যক্তি কোন গুনাহের কারণে তার ভাইয়ের ইজ্জতহানী করবে, সে ঐ গুনাহে লিপ্ত (হয়ে বেইজ্জত) না হয়ে মরবে না। হাদীসে গুনাহগারকে বেইজ্জত করার উপর এত শক্ত ধমকি এসেছে। তাহলে কাউকে যদি মিথ্যা, বিকৃত ও খণ্ডিত বক্তব্যের কারণে জোর করে অপরাধী বানিয়ে বেইজ্জত করা হয় তাহলে তার পরিণতি কত ভয়ঙ্কর হবে? হাদীসের এই মর্মার্থের বাহ্যিক ‘সবক’টিই আমাদেরকে মুহতামিম হযরত শিখিয়ে দিলেন।”

এই নবতিপর বৃদ্ধ মানুষটি তো আল্লামা সা’দ কান্ধলভীর বক্তব্য বিকৃত করে নাই। অন্যরা সেটি করেছে। তাহলে তিনি কেন উপরোক্ত হাদীসের ‘মিসদাক’ হবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে মাওলানা মু’আয বিন নূর বলেন “আল্লাহর হিকমত বুঝা বড় দায়। এখানে যদি অন্য কোন হযরত এগুলো বলতেন তাহলে সবাই তার উপর দায় চাঁপিয়ে নিজেরা সাধু বনে যেতো। কেউ শিক্ষা গ্রহণ করতো না। ঠিক যেমনটি করা হয়েছিলো ‘কওমী জননী’ উপাধিদাতার সাথে। সবাই তার উপর দায় চাঁপিয়ে নিজেরা কেটে পড়েছিলো। কিন্তু এবার ‘অন্তর্চক্ষুষ্মাণ’রা ভাবতে শুরু করেছে যে, কথা বিকৃত করলে ‘শায়খুল ইসলাম’ খ্যাত শতবর্ষী আলেমও ফেঁসে যেতে পারেন। ঠিক যেভাবে আল্লামা সা’দ কান্ধলভীকে ফাঁসাতে চেষ্টা করেছেন এই ‘শায়খুল ইসলাম’ এর অনুসারীরা।”

মাওলানা মু’আয বিন নূর আরো বলেন, “এখানে আরেকটি কথা না বললেই নয়। আবু দাঊদ, বায়হাক্বী ও মুসনাদে আহমদ সহ আরো বহু কিতাবে হযরত আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহুর একটি মজাদার ঘটনা বর্ণিত আছে। হযরত আবু হুরাইরা রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, জনৈক ব্যক্তি আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহুকে গালিগালাজ করছিলো। রাসূল এই দৃশ্য দেখছিলেন আর মুঁচকি হাসছিলেন। যখন গালিবাজ লোকটি সীমালঙ্ঘন করে ফেললো তখন আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু অধৈর্য্য হয়ে দু’একটি কথা বলে ফেললেন। সাথে সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাগাণ্বিত হয়ে উঠে চলে গেলেন। পিছে পিছে আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু গিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি তার গালাগালি দেখছিলেন আর হাসছিলেন। কিন্তু আমি যখন দু’একটি উত্তর দিলাম তখনই আপনি রাগাণ্বিত হয়ে উঠে চলে আসলেন! রাসূল তখন বললেন ” إِنَّهُ كَانَ مَعَكَ مَلَكٌ يَرُدُّ عَنْكَ ، فَلَمَّا رَدَدْتَ عَلَيْهِ بَعْضَ قَوْلِهِ ، وَقَعَ الشَّيْطَانُ ، فَلَمْ أَكُنْ لِأَقْعُدَ مَعَ الشَّيْطَانِ” অর্থাৎ “যতক্ষণ তুমি চুপ ছিলে ততক্ষণ একজন ফেরেশতা তোমার পক্ষ থেকে তাকে জবাব দিচ্ছিলো। যখনই তুমি মুখ খুলে ফেলেছো তখনই (ফেরেশতা চলে গেছে আর) শয়তান এসে পড়েছে। আর আমি শয়তানের পরিবেশে থাকি না।” তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হে আবু বকর! তিনটি বিষয় অবশ্যই হক্ব। ১. যে ব্যক্তি যুলুম সহ্য করবে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যালেমকে ক্ষমা করে দিবে তাকে অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা সম্মান ও বিজয় দান করবেন। ২. যে ব্যক্তি সম্পর্ক অটুট রাখার জন্য দানের দরজা খুলবে তাকে অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা আরো বাড়িয়ে দিবেন। ৩. যে ব্যক্তি বেশি পাওয়ার আশায় মানুষের কাছে ভিক্ষার দরজা খুলবে আল্লাহ ত’আলা তার অভাব আরো বাড়িয়ে দিবেন।

এই হাদীস থেকে আমরা শিখতে পারি, কেউ যদি অপপ্রচারকারীদের জবাব না দিয়ে ধৈর্যধারণ করে এবং চুপ থাকে তাহলে আল্লাহর পক্ষ থেকেই জবাবের ‘ইন্তেযাম’ করা হয়। আজ আল্লামা সা’দ কান্ধলভীকে নিয়ে যত অপপ্রচার হয়েছে, তিনি কিন্তু কারো কোন কথার জবাব এখনো দেন নি। তাই আল্লাহ তা’আলা এভাবে ‘শায়খুল ইসলাম’দের মাধ্যমে জবাবের গায়েবী ‘ইন্তেযাম’ করে দিচ্ছেন। অপরদিকে আল্লামা সা’দ কান্ধলভীর ইজ্জত ও বুযুর্গী গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়েছেন। এই বিষয়টা আমাদের জুমহুর হযরতরা যত তাড়াতাড়ি বুঝবেন ততই মঙ্গল হবে। নতুবা আরো বড় কোন ‘জবাব’ চলে আসতে পারে, যার মাশুল হয়তো ইহকালে অসম্ভব।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!