শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:৩৭ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম ::
হাটহাজারী মাদরাসা বন্ধ ঘোষনা এক আল্লাহ জিন্দাবাদ… হাটহাজারী মাদরাসায় ছাত্রদের বিক্ষোভ ভাঙচুর : কওমীতে নজিরবিহীন ঘটনা ‘তাবলিগের সেই ৪ দিনে যে শান্তি পেয়েছি, জীবনে কখনো তা পাইনি’ তাবলীগের কাজকে বাঁধাগ্রস্থ করতে লাখ লাখ রুপি লেনদেন হয়েছে: মাওলানা সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী দা.বা. (অডিওসহ) নিজামুদ্দীন মারকাজ বিশ্ব আমীরের কাছে বুঝিয়ে দিতে আদালতের নির্দেশ সিরাত থেকে ।। কা’বার চাবি দেওবন্দের বিরোদ্ধে আবারো মাওলানা আব্দুল মালেকের ফতোয়াবাজির ধৃষ্টতা:শতাধিক আলেমের নিন্দা ও প্রতিবাদ একান্ত সাক্ষাৎকারে সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী :উলামায়ে হিন্দ নিজামুদ্দীনের পাশে ছিলেন, আছেন, থাকবেন তাবলীগের হবিগঞ্জ জেলা আমীর হলেন বিশিষ্ট মোহাদ্দিস মাওলানা আব্দুল হক দা.বা.
সাক্ষৎকার। তাবলীগের সংকট শীঘ্রই কেটে যাবে, মুআররিখুল হিন্দ রাশেদ কান্ধলভী দা.বা. (১ম পর্ব)

সাক্ষৎকার। তাবলীগের সংকট শীঘ্রই কেটে যাবে, মুআররিখুল হিন্দ রাশেদ কান্ধলভী দা.বা. (১ম পর্ব)

সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ, দিল্লী থেকে, তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম| গতকাল মাওলানা ইলিয়াস রহ এর বাড়ি কান্ধালায় গিয়েছিলাম, তারই খান্দানের আরেক জীবন্ত কিংবদন্তিকে দেখতে। ইতিহাসের ছাত্র হিসাবে ও আযাদী আন্দোলনে ১৮৫৭ সাল নিয়ে ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখায় কান্ধালার এই মনীষীর লেখালেখির সাথে পরিচিত অনেকদিন ধরে। কেবল কান্ধালা দেখতেই নয় বরং ভারতবর্ষের ইতিহাসবিদ নূরুল হাসান রাশেদ কান্ধালভীর সান্নিধ্য লাভ করতে এবার সেখানে গিয়েছিলাম। যাকে বলা হয় বর্তমান সময়ের মুয়াররিখুল হিন্দ বা ভারতবর্ষের ইতিহাসবিদ।

আমার আজকের আলোচিত মনীষী একাধারে তারিখ, উলুমে হাদীস ও ফিক্বহে অগাধ পান্ডিত্যের অধিকারী। তার পৈত্রিক নিবাস হিন্দুস্তানের উত্তর প্রদেশের মুজাফফার নগর জেলার কান্ধলায়। মাওলানা ইলিয়াস রহ. এর বাড়িতেই তার বসবাস। উনার পিতা প্রবীন বুজুর্গ, ‘ওয়ালিউল্লাহ বাগান’ এর শতবর্ষী মনীষা, হযরত আব্দুল কাদির রায়পুরী রহ এর একমাত্র জীবিত খলিফা মাওলানা ইফতিখারুল হাসান কান্ধলভি হাফিযাহুল্লাহ। (যিনি হযরতজী মাওলানা সাদ সাহেবকে খেলাফতি দিয়েছেন)

মাওলানা নুরুল হাসান রাশেদ কান্ধলভীর পিতা মাওলানা ইফতিখারুল হাসান কান্ধলভী

মুয়াররিখুল হিন্দ নূরুল হাসান রাশেদ কান্ধালভীর ১০০ এর ওপর কিতাব লিখেছেন ও সম্পাদনা করেছেন। যার মধ্যে ৩৭ টি আরবিতে লেখা। তিনি পড়ালেখা করেছেন তার চাচা শায়খুল হাদিস মাওলানা যাকারিয়া রহ. এর কাছে মাজাহিরুল উলুম সাহারাহানপুর মাদ্রসায়। উল্লেখযোগ্য সময় কাটিয়েছেন হজরতজী মাওলানা মুহাম্মদ ইউসুফ কান্ধলভি রহ. এর সাথে।

ব্যক্তিগত পাঠাগারে আলাপরত নুরুল হাসান রাশেদ কান্ধলভী

জীবনের বড় একটি সময় কাটিয়েছেন তার উস্তাদ এবং প্রিয় মুরুব্বি, সাহারহানপুর মাদ্রাসার শায়খুল হাদিস, উস্তাজুল আরব ওয়াল আজম হজরত শায়খ ইউনুস জৌনপুরী রহিমাহুল্লাহর সাথে।

তার ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে আছে ৭০হাজারের বেশি কিতাব এবং ১১০০০ এর বেশি বিভিন্ন কিতাবের পান্ডুলিপি রয়েছে। এই দুর্লভ গ্রন্থাশালা দেখার জন্যই বেশ কয়েকবার ভারতে আসার নিয়ত করেছিলাম। অাজ সেই মনীষার সাথে খোলামেলা কিছু আলোচনা হয়েছে।

সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহঃ আসসালামু আলাইকুম
নুরুল হাসান রাশেদ কান্ধালভীঃ ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়ারাহমাতুল্লাহ

সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহঃ হযরত কেমন আছেন?
নুরুল হাসান রাশেদ কান্ধালভীঃ আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর রহমতে ভাল আছি। দুদিন ধরে ঠান্ডা লেগেছে। গলা বসে আছে। কাজ করতে পারছিনা অসুস্থতা নিয়ে। আর তুমিতো জান, আমি কাজ ছাড়া মুহূর্ত সময় পার করতে পারি না।

সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহঃ আপনাদের পারিবারিক এই সুবিশাল গ্রন্থশালায় কিভাবে এত দুর্লভ কিতাব সংগ্রহ হল?
নুরুল হাসান রাশেদ কান্ধালভীঃ আপনিতো অনেকটা জানেনই, হযরত সিদ্দিকে আকবর রা.এর রক্তধারার এই কান্ধালায় এত বেশি উলামা মাশায়েখ জন্মেছেন এবং এখনো আছেন, যা কেবল উপমহাদেশে নয়, ইতিহাসে ধারাবাহিকভাবে একই খান্দানে এতো আলেম এবং তাদের ধারা দ্বীনী সেক্টরে এতো বেশি খেদমত হয়েছে যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। এছাড়া উপমহাদেশের বড়বড় আলেমদের সুতিকাগার এই কান্ধালা। তাদের নিজেদের প্রত্যেকের একটি নিজেস্ব এলমি সংগ্রহ ছিল। সব একত্র করার পর এমনিই একটি বড় সংগ্রহ হয়ে যায়। তরপর সারা দুনিয়ায় মুসলিম সভ্যতার নানান স্থান রাশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা, সমরখন্দ, বোখারা, কাশগড়, স্পেন, ইরাক, ইরান, তুরস্ক থেকে শুরু করে সারা দুনিয়ার কোনায় কোনায় দাওয়াত ও তাবলীগের নিসবতে সফর করেছেন বিগত ১শ বছর আমাদের পরিবারের মনীষীরা। পৃথিবীর এমন অনেক স্থানে গিয়েছি যেখানে তাদের পূর্ব পুরুষ বিখ্যাত লেখক ছিলেন কিন্তু তাদের মাঝে দ্বীন বা ইসলাম ছিল না। ঘরে পান্ডুলিপি পড়ে ছিল। আমরা দাওয়াতের কাজের ফাঁকে ফাঁকে সারা দুনিয়া থেকে এলেমও সংগ্রহ করছি। এভাবেই পৃথিবীর একেক কোনা থেকে দুর্লভ ও দুস্প্রাপ্য একেক কিতাব এসেছে।

সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহঃ আপনাদের পরিবারে মশহুর আলেম কে কে ছিলেন?
নুরুল হাসান রাশেদ কান্ধালভীঃ তালিকাতো অনেক দীর্ঘ। ভারতভর্ষে মোঘল আমল থেকে এলমি নেতৃত্বের মূলে আমাদের পরিবারের মনীষীরাই ছিলেন। তাদের মধ্যে নিকট অতিতে উল্লেখযোগ্য হলেন, মাওলানা ফয়জুল ইসলাম কান্ধালভী, মাওলানা হাকীম মুহাম্মদ ছাহেব, মাওলানা আহমদ হাসান কান্ধালভী, মুফতী এলাহি বক্স কান্ধলভী, মাওলানা মুজাফফর হাসান কান্ধালভী, মাওলানা ইদ্রিস কান্ধালভী, হযরতজী মাওলানা ইলিয়াস কান্ধালভী, শায়খুল হাদীস জাকারিয়া কান্ধালভী, হযরতজী মাওলানা ইউসুফ কান্ধালভী, মাওলানা এনামুল হাসান কান্ধালভী, মাওলানা এহতেসামুল হাসান কান্ধালভী, মাওলানা যুবায়রুল হাসান কান্ধালভী, মাওলানা হারুন সাহেব কান্ধালভী, মাওলানা পীর ইফতেখারুল হাসান কান্ধালভী, হযরতজী মাওলানা মোহাম্মদ সাদ কান্ধলভী, মাওলানা ত্বালহা কান্ধালভী দা.বা।

সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহঃ দাওয়াতের ক্ষেত্রেতো আমরা কান্ধালাকে অনুসরণ করি। আর এলেমের ক্ষেত্রে দেওবন্দকে। এলমি খেদমতে কান্ধালার অর্থাৎ হযরতজীর খান্দানের কী কী অবদান আছে?
নুরুল হাসান রাশেদ কান্ধালভীঃ দেওবন্দের এলেমের ইতিহাসতো ১৮৫৭ সালের পর ইংরেজ আমল থেকে। কিন্তু ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলামের ইতিহাসতো হাজার বছরের। মোঘল আমলে একমাত্র কান্ধালার খান্দানের মনীষীরা রাষ্ট্রীয়ভাবে এলেমচর্চার মূল নেতৃত্বে ছিলেন। শাহ ওয়ালী উল্লাহর খান্দান গিয়ে এই রক্তধারাতেই মিলেছে। মুজাদ্দিদে আলফে সানীও এই খান্দানেরই চেরাগ ছিলেন। দোওবন্দের প্রথম উস্তাদ মোল্লা মাহমুদতো এ পরিবারেরই নিকটাত্মীয়। তাদের বাদ দিয়ে উপমহাদেশের ইসলামের ইতিহাসিতো নেই। হুজ্জাতুল ইসলাম কাসেম নানুতবীর উস্তাদ ছিলেন, মাওলানা আহমদ আলী সাহরানপুরী। যিনি সাহরানপুর মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা এই কান্ধালা খান্দানের সুপ্রসিদ্ধ আলেম। তিনিই উপমহাদেশে প্রথম বোখারী ও সিহা সিত্তা ছাঁপিয়েছেন। নানুতুবী রহ জীবনের বড় একটি অংশ এই কান্ধালায় কাটিয়েছেন। এভাবে সে আমলের কোন বড় আলেম পাবেন না, যিনি কান্ধালার মাশায়েখদের কাছ থেকে এলেম হাসিল করেন নি। মোঘল আমলের প্রধান মাদরাসা “মাদরাসায়ে রহিমিয়া” এর বড়বড় এলমি ব্যক্তিরা এই কান্ধালারই। ইতিহাসে পাঠক ছাড়া অনেকেই তাদের নাম এখন জানেন না। দিল্লীর বস্তি নিজামুদ্দিন আওলিয়ায় প্রতিষ্ঠিত যে মাদরাসা “মাদরাসায়ে কাশিফুল উলুম” এটিওতো কান্ধালার মনীষীরা ১৮৫৪ সালে দেওবন্দের আগেই প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। দেওবন্দ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৬৬ সালে। দেওবন্দের শান শওকত বাড়ানোর পেছনে কান্ধালার আলেমদের অবদান স্বর্ণাক্ষরে লিখিত আছে। আমার কাছে দেওবন্দের পুরানো সব রেজুলেশনে তাদের পরিচয় পাওয়া যায়।

সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহঃ দেওবন্দ থেকে এই যে কান্ধালার খান্দানের নক্ষত্র বর্তমান হযরতজীর উপর ফতোয়া দিল এটিকে কিভাবে দেখছেন?
নুরুল হাসান রাশেদ কান্ধালভীঃ এটি কোন ফতোয়ার উসুল বা ক্যাটাগরিতে পড়ে না। তবুও বিনয়ের পাহাড় হযরতজী মাওলানা সাদ কান্ধলভী দা.বা. এর রুজু নিয়ে যখন আমি দেওবন্দে গেলাম তখন আরশাদ মাদানী, নোমানী ছাহেব ও শায়খুল হাদীস দা.বা আমাকে দেখে লজ্জিত হলেন। অনলাইনে এটি দেয়ার জন্য মৌখিক ক্ষমা চেয়ে নিলেন। সাথে সাথে তৎক্ষনাৎ শিক্ষকদের ডেকে পড়ে শুনালেন। তখন সকল শিক্ষক আমার সামনে বললেন “রুজু কবুল।” একটি রশীদনামা তখন লিখেও দিলেন। পরে একই কথা তিনি (সাদ কান্ধলভী) বারবার বলেন বলে একটি এলজাম লাগানো হয়েছে যা সম্পূর্ণই অসত্য। দারুল উলুমের কাছে আমরা এমনটি আশা করি নি। তারা এখন যা করছেন, এটি পরিস্কার একটি রাজনীতি। যা দেওবন্দের শান, মেজাজ, গ্রহনযোগ্যতা ও ঐতিহ্যের সাথে কোনভাবেই যায় না। এসব কথায় দলীল থাকার পরেও তিনি রুজু করেন। এরপর তিনি এসব একবারের জন্যও মূখে উচ্চারণ করেন নি। এ পর্যন্ত এসব উলামায়ে কেরামকে নিয়ে তার জবানে একটি ‘টু’ শব্দও বের হয় নি। হযরতজীর চেয়ে বড় “সবর”কারী হুসনে আখলাকের বুজুর্গ আমি কয়েক শতাব্দীর ইতিহাস অধ্যায়ন করে দ্বিতীয় আর কাউকে পাইনি। আমার আব্বা হযরত দা.বা. বলেছেন, “মাওলনা সাদ সাহেবের সাথে সার্বক্ষণিক আল্লাহর সাহায্য রয়েছে। তিনি আরো বলেন, মাওলানা সাদের চেহারার একদিকে হরতজী ইউসুফ আরেক পাশে মাওলানা ইলিয়াছ রহ এর হুবহু মিল। আমিতো দেখি, এ যেন দুই হযরত মিলিত হয়ে মাওলানা সাদ হয়ে হাজির হয়েছেন।

সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহঃ আপনার আব্বা সম্পর্কে জানতে চাই।
নুরুল হাসান রাশেদ কান্ধালভীঃ মুফতী ইফতেখারুল হাসান কান্ধালভী দা.বা। তিনি আহলে কাশফ ও ‘মুস্তাবাদুদ দাওয়া’ পর্যায়ের বুজুর্গ বলে কুলহিন্দের পীররা মনে করেন। এখন ছাহেবে ফিরাশ (শয্যাশায়ী)। হযরত আব্দুল কাদির রায়পুরী রহ. ও মাওলানা ইলিয়াছ রহ এর একমাত্র জীবিত খলিফা তিনি। হযরত গাঙ্গোহী রহ এর শাগরেদ। ১০৪ বছর বয়স। হযরতজী ইলিয়াস রহ সহ আমাদের নিকট অতিতের সকল আকাবিরদের ঘনিষ্ঠ সোহবত পেয়েছিলেন। হযরতজী মাওলানা সাদ কান্ধলভীকে তিনি খেলাফত বা এজাজত দিয়েছেন।

সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহঃ সাদ সাহের উপর আনীত অভিযোগগুলো কতটুকো সত্য?
নুরুল হাসান রাশেদ কান্ধালভীঃ এসব হল আলমী শুরার রাজনীতির অংশ। এর বাহিরে কিছুই না। যুগে যুগে এমন অপপ্রচার আর ফতোয়া দিয়েই যুগের নকীবদের ঘায়েল করা হয়েছিল। হযরত উসমান রা, হযরত আলী ও হাসান হুসাইন রা দের উপরেও ফতোয়া দেয়া হয়েছে। তাদের মৃত্যুর পর একশ বছরের বেশি সময় উমাইয়া খেলাফতের বড় বড় আলেম ‘আহলে বাইত’ এর মৃত ও শহীদদের উপর জুমআর খুৎবায় লানত দিত। আল্লামা ইবনে সিরিন, আল্লামা ইবনে খালদুন, ইবনে কাসির, আহমদ ইবনে হাম্বল, ইমাম বুখারী, ইমাম শাফী, আবু হানীফা, ইমাম গাজ্জালি রহ. থেকে শুরি এমন কোন সংস্কারক মনীষা নেই যিনি এমন অপপ্রচারে শিকার হন নি। যদি থাকে তাহলে আমাকে ইতিহাসের ছাত্র হিসাবে দেখাও। ভারতবর্ষে শাহ ওয়ালী উল্লাহ, মুজাদ্দিদে আলফে সানী, সৈয়দ আহমদ শহীদ, ঈসমাইল শহীদ, হুজ্জাতুল ইসলাম, কাসেম নানুতবী, রশীদ আহমদ গাঙ্গোহী, উবায়দুল্লাহ সিন্ধি, শায়খুল হিন্দ, আবুল কালাম আযাদ, আল্লামা ইকবাল, মাওলানা শওকত আলী, হাকীমুল উম্মত থানভী, (থানভী রহ এতো বেশি রুজু করেছেন তা নিয়ে রুজুনামা আলাদা কিতাবই হয়েছে) মাওলানা মাদানী রহ সহ কোন যুগের নকীব-ই ‘কুফরী ফতোয়া’ থেকে বাঁচতে পারে নি। সাদ সাহেবের উপরতো এখনো কাফের ফতোয়া আসে নি (তিনি বাংলাদেশী আলেমদের লাগামহীন কুফরি ফতোয়া সম্পর্কে হয়তো ওয়াকিফহাল নন)। আহলে দেওবন্দ থেকে ভুল বুঝাবুঝির ফলে আগেও এমন ফতোয়া এসেছে। পরে ভুল বুঝে দেওবন্দ থেকে রুজু করা হয়েছে। আফসোস, আজ দেওবন্দওয়ালাদের কাছে সেই হুসনে আখলাক আর পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমান হালত বুঝতে হলে তোমাকে ইতিহাস পাঠ করতে হবে। সেখান থেকে বাতিলের কুটচালের ধরণ ও উম্মাহকে বারবার বিভ্রান্ত করা হয়েছে ভুল ওজাহাত করে। এসব ভুলের মাশুল দিতে দিতেই আজ আমরা সিংহাসনহারা। তাই বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। সব স্বাভাবিক হয়ে আসছে। ভোরের সূর্য আঁধার কেটে আলো ফোটাচ্ছে।

সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহঃ আলমী শুরা মানলে সমস্যা কি?
নুরুল হাসান রাশেদ কান্ধালভীঃ এমন উদ্ভট শরীয়াহ বহিভূত আলমী শুরার অস্তিত্ব না ইসলামে আছে, না রাসুলের জিন্দেগীতে ছিল, না খুলাফায়ে রাশেদা বা কোন সাহাবীর আমলের মাঝে পাওয়া যায়! না ছিল আমাদের কোন আকাবির আসলাফের আমলে। না ছিল নিজামুদ্দিনে কখনো। না তাবলীগের ইতিহাসে। না আগামীতে হবে। ১৯২০সালে মুসলিম বিশ্বের খেলাফত পতনের ফর্মূলা তোমরা পাঠ করলে পরিস্কার হয়ে যাবে, কোন ত্বরীকায় বাতিল অপশক্তিরা খেলাফতকে চুর্ণবিচুর্ণ করেছিল। আমি আগেই বলেছি, ইতিহাস ও সিরাত সামনে না থাকলে সাধারণ মানুষ ও ইতিহাসবিমূখ আলেম উলামারা এই ফেৎনায় ধোঁকায় পড়ে যাবেন। মুসলিম উম্মাহর ‘একক আমীর পদ্ধতি’ তথা ‘খেলাফতনীতি’ই বাতিল শক্তির সবচেয়ে বড় ভয়ের কারণ। তারা দূর থেকে কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট আলেমরা যে ব্যবহত হচ্ছে তা বুঝতেও পারছে না। কেবল স্রোতের বাইরে আমীরের বিরোধিতা করছে অনেকেই।

সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহঃ বলা হয় যে, আগে দশজনের আলমী শুরা নিজামুদ্দিনে ছিল। সেটিই আবার বাস্তবায়ন করতে চান উনারা।
নুরুল হাসান রাশেদ কান্ধালভীঃ কে বলছে? আমার কাছে নিয়ে আসুন। দশজনের আলমী শুরা থাকলে আবার তিনজনের আরেকটি জামাত কেন ছিল? অপরদিকে তখন নিজামুদ্দিনে আটজনের আরেকটি শুরা ছিল। এক জামাত কয় শুরায় চালাতেন? কখনোই শুরা ছিল না।

>>> চলবে >>>

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com