শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:৪২ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম ::
হাটহাজারী মাদরাসা বন্ধ ঘোষনা এক আল্লাহ জিন্দাবাদ… হাটহাজারী মাদরাসায় ছাত্রদের বিক্ষোভ ভাঙচুর : কওমীতে নজিরবিহীন ঘটনা ‘তাবলিগের সেই ৪ দিনে যে শান্তি পেয়েছি, জীবনে কখনো তা পাইনি’ তাবলীগের কাজকে বাঁধাগ্রস্থ করতে লাখ লাখ রুপি লেনদেন হয়েছে: মাওলানা সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী দা.বা. (অডিওসহ) নিজামুদ্দীন মারকাজ বিশ্ব আমীরের কাছে বুঝিয়ে দিতে আদালতের নির্দেশ সিরাত থেকে ।। কা’বার চাবি দেওবন্দের বিরোদ্ধে আবারো মাওলানা আব্দুল মালেকের ফতোয়াবাজির ধৃষ্টতা:শতাধিক আলেমের নিন্দা ও প্রতিবাদ একান্ত সাক্ষাৎকারে সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী :উলামায়ে হিন্দ নিজামুদ্দীনের পাশে ছিলেন, আছেন, থাকবেন তাবলীগের হবিগঞ্জ জেলা আমীর হলেন বিশিষ্ট মোহাদ্দিস মাওলানা আব্দুল হক দা.বা.
পরিপত্র পুণর্বহাল ও বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট | আগামীকাল শুনানী

পরিপত্র পুণর্বহাল ও বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট | আগামীকাল শুনানী

হাইকোর্ট প্রতিনিধি, তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম | বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠানের নির্দেশনা ও ধর্মমন্ত্রনালয়ের ৫দফা পরিপত্র পূণর্বহাল চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে তাবলীগের মূলধারার এক সাথীর পক্ষ থেকে। রিটে বাংলাদেশে দাওয়াত ও তাবলিগের কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে পাঁচ দফা নির্দেশনা দিয়ে জারিকৃত পরিপত্রটি পুণর্বহালের আদেশ চাওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের বেঞ্চে রিট আবেদনটি শুনানির জন্য উত্থাপন করা হয়।

আদালত আগামীকাল মঙ্গলবার এ আবেদনের উপর শুনানির দিন ধার্য করেছে বলে জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু। রিটে ধর্ম মন্ত্রণালয় ও ধর্ম সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিট আবেদনটি দায়ের করেন ঢাকার তেজগাঁও এলাকার বাসিন্দা এডভোকেট মোহাম্মদ ইউনূস মোল্লা। রিট আবেদনে গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর জারি করা পরিপত্র পুনর্বহালের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, পাঁচ দফা নির্দেশনা দিয়ে যে পরিপত্র জারি করা হয়েছিল তার পরিপ্রেক্ষিতে শান্তিপূর্ণ তাবলিগের মেহনত সুন্দর, সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার পরিবেশ সৃষ্টি হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয়, মাত্র পাঁচ দিন পরই ওই পরিপত্রের কার্যকারিতা স্থগিত করা হয়। যার ফলে দেশের প্রায় প্রত্যেকটি জনপদে হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন নতুন মাত্রা লাভ করে।

রিটে আরও বলা হয়, দ্বীনের দাওয়াত ও তাবলিগের ব্যপারটি ইসলাম ধর্মীয় বিষয়। এ বিষয়ে সংকট নিরসনের দায়িত্ব ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের। এই সংকট নিরসনে পাঁচ দফা নির্দেশনা দিয়ে যে পরিপত্র জারি করা হয়েছিল তা সঠিক ছিল। তবে ওই পরিপত্র স্থগিত করায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে ও দায়িত্ববোধ প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

এর আগে গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর দাওয়াতে তাবলিগের কার্যক্রম সুষ্ঠু, সুন্দর ও সুশৃঙ্খলরূপে পরিচালনার জন্য পরিপত্র জারি করে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

ওই পরিপত্রে বলা হয়, সমগ্র বিশ্বে তাবলিগের কার্যক্রম একটি অরাজনৈতিক, অহিংস, শান্তিপূর্ণ ও সম্পূর্ণভাবে ধর্মীয় কার্যক্রম হিসেবে পরিচিত। মুসলমান জনসাধারণ তাদের আত্মশুদ্ধি ও ইসলামের দাওয়াতের প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে এ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে আসছে। সম্প্রতি এ সংগঠনের মধ্যে দৃশ্যমান বিভক্তি পরিলক্ষিত হচ্ছে। ফলে সংগঠনের দুটি গ্রুপের মধ্যে দেশের প্রায় সব এলাকায় প্রায়শই বিবাদ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এটা ধর্মীয় রীতিনীতি তথা সার্বিক শান্তিশৃঙ্খলার অন্তরায়। এ কারণে দেশের জানমালের নিরাপত্তা, ধর্মীয় সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখা তথা সার্বিক শান্তি শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণে পাঁচ দফা নির্দেশনা জারি করা হলো।

তাবলিগের সংকট নিরসনে সরকারের পাঁচ নির্দেশনা –

১. বর্তমানে তাবলিগে বিদ্যমান দুটি পক্ষ সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসনের সাথে আলোচনা/পরামর্শক্রমে কাকরাইল মসজিদ ও টঙ্গী ইজতেমা ময়দানসহ দেশের সকল জেলা ও উপজেলা মারকাজে সপ্তাহের ভিন্ন ভিন্ন দিনে/তারিখে তাঁদের কার্যক্রম (সাপ্তাহিক বয়ান ও রাত্রি যাপন, পরামর্শ ও তালীম, মাসিক জোড় ইত্যাদি) পরিচালনা করবে।

তবে কোন পক্ষ চাইলে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে পরামর্শক্রমে মারকাজ ব্যতিত অন্য কোন মসজিদে/জায়গাতেও তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

২. তাবলিগের আদর্শ ও চিরাচরিত রীতিনীতি অনুযায়ী কোন পক্ষ অপর পক্ষের বিরুদ্ধে কোনরূপ লিখিত বা মৌখিক অপপ্রচার চালাবেনা।

৩. দেশের সকল মসজিদে পূর্বের ন্যায় শান্তিপূর্ণভাবে দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সে লক্ষ্যে যে কোন মসজিদে উভয় পক্ষের জামাতই যেতে পারবে। এতে কোন পক্ষই কাউকে বাধা দিবেনা।

তবে একই সময়ে দুই পক্ষের দেশী ও বিদেশী জামাত একই মসজিদে অবস্থান করা যুক্তিসংগত হবেনা। এক্ষেত্রে যে পক্ষের জামাত আগে আসবে সেই পক্ষের জামাত অবস্থান করবে। অন্য পক্ষের জামাত পার্শ্ববর্তী অন্য কোন সুবিধাজনক মসজিদে চলে যাবে।

৪. উভয় পক্ষ তাঁদের ইজতেমা/জোড়ে তাবলিগের দেশী-বিদেশী মুরুব্বিদের আমন্ত্রণ জানাতে পারবে। এতে এক পক্ষ অন্য পক্ষের কার্যক্রমে কোনরূপ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবেনা।

৫. কোন এলাকায় দুপক্ষের মধ্যে কোন বিরোধ দেখা দিলে স্থানীয় প্রশাসন উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

এই নির্দেশনা সংক্রান্ত পরিপত্রের কার্যকারিতা স্থগিত করে গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয় থেকে আরেকটি পরিপত্র জারি করা হয়।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com