মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ০৬:৩১ পূর্বাহ্ন

নাভিশ্বাস উঠে গেছে ওজাহাতিদের। যেকোন সময় পাল্টে যেতে পারে পরিস্থিতি, ঘটতে পারে ইতিহাস।

নাভিশ্বাস উঠে গেছে ওজাহাতিদের। যেকোন সময় পাল্টে যেতে পারে পরিস্থিতি, ঘটতে পারে ইতিহাস।

ইবনে আবদে রাব্বিহী; তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম। প্রায় একটি বছর সরলমনা মুসলমানদেরকে ‘দেওবন্দ সূধা’ গুলিয়ে খাওয়ালেও ধারণাতীত দ্রুত সময়ে বেড়িয়ে গেছে থলের বিড়াল। সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দেওবন্দ তাদের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করলে এমন শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। অনুসারীদের তীব্র চাঁপে অস্বস্তিতে পড়েন ওজাহাতি নেতারা। গতকাল থেকে অনেক ওজাহাতি নেতার ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। অনুসারীদের একের পর এক তীর্যক প্রশ্নের সদুত্তর দিতে না পারায় তারা যোগাযোগবিচ্ছিন্ন রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, গত ১৭ই জানুয়ারী ‘১৯ তারিখে তাবলীগ নিউজ বিডিডটকমে “বাংলাদেশের তাবলীগের সংকট নিয়ে দেওবন্দের শীর্ষ আলেমরা কী ভাবছেন?” শিরোনামে প্রচারিত প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার পরপরই রীতিমত ঝড় ওঠে ওজাহাতি মহলে। অনেকে সত্যতা যাচাইয়ের জন্য দেওবন্দে যোগাযোগ করে কোন সদুত্তর পায় নি। ততক্ষণে বাঙ্গালী ছাত্রদের কল্যাণে প্রতিবেদনে উল্লেখিত উস্তাদদের কাছে তাদের বক্তব্যের সত্যতাও নিশ্চিত হয়। যা দেওবন্দের গুরুত্বপূর্ণ আসনে সমাসীন কতিপয় ঘাপ্টি মেরে থাকা গুটিবাজদের জন্য ‘কেয়ামত’ হয়ে দাঁড়ায়। তড়িঘড়ি করে দেওবন্দের চৌহদ্দির ভিতরে দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়। অন্যথায় ছাত্রদেরকে কঠিন শাস্তির হুশিয়ারীও দেওয়া হয়। অতিরিক্ত তাড়াহুড়ার করণে নোটিশের তারিখটিও দেওয়া যায় নি। এতেও অবদমিত হয়নি কোন মুবাল্লিগ ছাত্র-শিক্ষক। সেদিনই বৃহঃবার দেওবন্দ মাদরাসার মাত্র ৩০০ মিটার দূরে অবস্থিত মোহাম্মদী মসজিদে শবগুজারীতে অংশ নেয় শত শত ছাত্র। পরদিন ১৮ তারিখ শুক্রবারে ছাত্র, শিক্ষক ও মহল্লাবাসী মিলে ৩৮টি জামাত বের হয়। যা দেওবন্দের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজে নতুনমাত্রা যোগ করে।

প্রায় ৩বছর ধরে ‘ওজাহাতি’ ধকল সামলাতে গিয়ে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে দেওবন্দ। স্বদেশেই ভাব-মূর্তি ক্ষুন্ন হওয়াসহ গোটা বিশ্বের মুসলমানের আস্থা ও শ্রদ্ধা হারিয়ে প্রায় একঘোরে হওয়ার উপক্রম হয়েছে দ্বিশতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি। পুরাতন গ্লানি কাটিয়ে উঠার আগেই নতুন কোন ফাঁদে পা দিতে চাচ্ছে না হতবিহ্বল কর্তৃপক্ষ। তাই গত ২০শে জানুয়ারী ‘১৯ তারিখে ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের হাইকমিশনের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে দেওবন্দ। স্বরাষ্ট্র ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সমণ্বয়ে গঠিত ১০সদস্য বিশিষ্ট সরকারী প্রতিনিধি দলের সাথে বৈঠক করে দেওবন্দের অবস্থান পরিষ্কারের বিষয়ে চিঠিতে অপারগতা প্রকাশ করা হয়। এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে ওজাহাতি মহলে যতটা হতাশা নেমে আসে ততটাই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে ভারতবর্ষসহ গোটা বিশ্বের আলেম সমাজে। প্রশ্নবিদ্ধ হয় দেওবন্দের আমানতদারিতা, সততা ও আল্লাহভিরুতা। অনেকেই বিষ্ময়ভরে প্রশ্ন করেন “আমরা তাহলে এই দেওবন্দ নিয়ে গর্ব করতাম? যে নাকি এই বেহাল দশায় উম্মতের হাল ধরতে সাহস পাচ্ছে না! সত্য প্রকাশে লুকোচুরি খেলছে!” ইন্দো-বঙ্গের কোন কোন আলেম আশঙ্কা করে বলছেন “আল্লাহ না করুক, হয়তো সেদিন খুব নিকটে, যেদিন আমরা ‘দেওব্ন্দকে না বলুন’ বলতে বাধ্য হবো।”

ঘটনা এখানেই শেষ নয়। দেওবন্দের অপারগতার সংবাদকে অস্বীকার করে গতকাল কয়েকটি ভূইফোঁড় নিউজ পোর্টাল চিরাচরিত নিয়মে যাচাই-বাছাই ছাড়াই একটি জাল চিঠি প্রকাশ করে। দেওবন্দের সিনিয়র মুহাদ্দিস আরশাদ মাদানীর স্বাক্ষর জালিয়াতী ও তার পরিচালিত জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের অফিসিয়াল প্যাডের লেটারহেড নকল করে উক্ত চিঠিটি প্রকাশ করা হয়। আবারো প্যাড ও স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ধরা খেলো ওজাহাতিরা। প্রমাণাদি সহ শীর্ষক প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে সচেতন মহল। গতকাল রাতেই জরুরী বৈঠক বসে যাত্রাবাড়ির জয়নাল ওরফে মাহমুদুল হাসানের মাদরাসায়। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, অরাজনৈতিক আলেমরা আর এগুতে চাচ্ছেন না। তাদের রাগতঃ মন্তব্যে কয়েকবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মজলিস। বিতর্কের ঘটনাও ঘটে। কিন্তু অস্তিত্ব সংকটের এই করুণ মূহুর্তে ‘যেকোন মূল্য’-এ আলেমদের ঐক্য ধরে রাখার স্বার্থে সকলকে শান্ত থাকার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু গতরাত থেকেই পট-পরিবর্তন শুরু হয়েছে। মূলধারার উলামায়ে কেরামের নিকট অনেকেই জানতে চাচ্ছেন “প্রকৃত সত্যটা আসলে কী? একপক্ষের কথাতো বহুত শুনেছি। আপনাদের কথাও শুনতে চাই।” মূলধারার আলেমদের কথা শুনে অনেকেই দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। কেউ কেউ বলেন, “আগেই আশঙ্কা করেছিলাম যে, তৃতীয় পক্ষ ঢুকে গেছে। কিন্তু এই তৃতীয় পক্ষটা যে আমাদের ভিতরের লোক, সেটা ধীরে ধীরে ফাঁস হয়ে যাচ্ছে।” রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার মসজিদে মসজিদে ওজাহাতি ভাইদের মূলধারায় ফিরে আসার হিড়িক পড়ে গেছে।

এব্যপারে কথা বলতে চাইলে মূলধারার একজন তরুণ আলেম বলেন, “আরেকটু সবর করতে হবে। সত্যের বিজয় অতিসন্নিকটে। তবে বাতিল এত সহজে ছাড় দিবে না। সর্বোচ্চ মরণ কামড় দিতে চাইবে। কিন্তু লাভ নেই। সত্যের পক্ষে আল্লাহ আছেন। আর আসমান-জমিনের সমস্ত মাখলুকই আল্লাহর অনুগত, আল্লাহর সৈনিক। দেখুন, তারা করেছে হামলা, মামলা, অপবাদ, গালাগালি, রক্তারক্তি। পক্ষান্তরে আমাদের আমল হলো তাহাজ্জুদ, তেলাওয়াত, ইকরাম, মহব্বত, দুআ। এমতাবস্থায় আল্লাহর সৈনিকরা কার পক্ষে যুদ্ধে করবে? প্রায় ১৪ মাস পার হতে যাচ্ছে। আমরা তেমন আমলও করতে পারিনি। তবুও সকল চক্রান্তের বিপরীতে আল্লাহর সাহায্য আমাদের পক্ষেই রয়েছে। যদি আমরা হক্বের উপর টিকে থাকতে পারি তাহলে পরিস্থিতি ঘুরে যেতে কালবিলম্ব হবে না, ইনশা আল্লাহ। নিজেরাও আমলে জুড়ে থাকবো। আর যেসব ভাইয়েরা ফিরে আসছেন তাদেরকে মুহাব্বত ও ইকরামের সাথে আগলে নিবো ইনশা আল্লাহ।”

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com