বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:৫৪ অপরাহ্ন

বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে যে যা বললেন

বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে যে যা বললেন

নিজস্ব প্রতিবেদক, তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম | সোমবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে তাবলীগের মূলধারার মুরুব্বিদের সাথে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, সারাদেশের মানুষ বিশ্ব ইজতেমার জন্য অপেক্ষা করে থাকেন। নির্বাচনের জন্য আমরা ইজতেমার সময় ‘রিপ্লেস’করেছিলাম। তাবলিগ জামাত দুই ধারায় বিভক্ত আছেন সেটাও সবাই জানেন। তবে আমরা আশা করব আপনারা একত্রিত হয়ে সুন্দরভাবে বাংলাদেশে ইজতেমা  করুন, যেন এটি চালু থাকে এবং আগামীতেও একত্রিতভাবে করতে পারেন।  কোনো পক্ষের ওপর কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হবে না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আমরা কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছি না। আপনারা আপনাদের মতো সিদ্ধান্ত নেবেন।  একসঙ্গে করবে, না কিভাবে করবেন, কবে করবেন সে সিদ্ধান্ত আপনারাই নেবেন।

 

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন,  আমাদের চাপিয়ে দেওয়ার মতো একটি দাবী আছে, সেটা হলো- টঙ্গির ময়দানে বিশ্ব ইজতেমা হতে হবে। তারা সবাই মিলে একসঙ্গে করবেন এটা আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে দাবি থাকবে। আমাদের উদ্দেশ্য হলো, যেকোনো মূল্যে বাংলাদেশে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত করতে হবে। টঙ্গির ইজতেমা সারাবিশ্বে অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য। বাংলাদেশে কি কি গুন আছে, তার মধ্যে একটি মহৎ গুণ বিশ্ব ইজতেমা। প্রধানমন্ত্রীর কথা হলো- কে কি করল না করল সেটি আমাদের বিষয় নয়, টঙ্গিতে এতোদিন যাবত ইজতেমা হয়ে আসছে। ইজতেমা হচ্ছে না বা স্থগিত হয়েছে, এ ধরনের কথা কাউকে বলতে দেবো না। গত বছরও ভাগাভাগি হচ্ছিল, গতবার আমরা একত্রিত করতে পেরেছি। এবার আমরা সেই প্রক্রিয়া চালু রেখেছি।আপনারা এক হোন আমরা

তাবলিগের মূলধারার  আহলে শুরা সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম বলেন,  আপনারা একসঙ্গে ইজতেমা করবেন, কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির কেন্দ্র দিল্লিতে। সেই দিল্লিতে ডিভিশন হয়েছে। সেখান থেকে  ছোট একটি গ্রুপ বিদ্রোহী হয়েছে। বাংলাদেশের কিছু লোক তাদের সমর্থন দিচ্ছে। পাকিস্তান থেকে এনিয়ে ষড়যন্ত্রের ঝাল পাতা হয়েছে। সব কিছু বুঝতে হবে। কেন্দ্রে সমস্যা না মিটিয়ে সেটা এখানে মেটানো সম্ভব নয়। সমস্যা যেখানে সেখানে মিটাতে হয়। আমরা বলেছি, একসঙ্গে ইজতেমা করতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু বাইরের যারা আসবেন তাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে হবে। কিছুদিন আগে মারামারিতে আমাদের দু’জন সাথী শহীদ হয়েছেন।

 

শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্যান্ড ইমাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ  বলেন,

তএখন একসঙ্গে ইজতেমা করার বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসার আর কিছু নেই। আলোচনা করে যে যার মেহমানদের নিয়ে ইজতেমা করবে, সেটাই যুক্তিযুক্ত। জোর করে দুই পক্ষকে একসঙ্গে ইজতেমা করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সেটা ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। দুই পক্ষই যেহেতু ইজতেমা করবে সুতরাং যে যে নিজ নিজ জায়গা এবং নিজ নিজ সময় আসুক, সেটাই হবে নিরাপদ।

 

তাবলীগের শীর্ষ মুরুব্বী বীর মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা আশরাফ আলী বলেন,

আমাদের তারিখ মতো আমরা আমাদের ইজতেমা করব, তারা তাদের তারিখ মতো করল। সেটা ১৫ দিন পর হতে পারে। এ বিষয়ে আমরা প্রস্তাবনা দিয়েছি । সরকার বারবার একসঙ্গে বসার জন্য বলছে। দুই মাস আগে যেখানে আমাদের দু’জন মানুষ মারা গেল প্রায় দুইশত আহত হলো, তাদের লোকজনও আহত হলো- সেখানে এতো মানুষের একসঙ্গে জমায়েত করাটা বাস্তবসম্মত কিনা সেটা বুঝতে হবে। তাদের ছেলেদের উগ্রতা সম্পর্কে সব গোয়েন্দা সংস্থারইতো জানা। অন্তত এবছর তাদের সাথে এবছর ইজতেমার সুযোগ নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তখন পরবর্তীতে চিন্তা করা যেতে পারে। শুরাপন্থীদের পক্ষ থেকেও নিজেদের দুর্বলতা বুঝতে পেরে একসাথে ইজতেমার আওয়াক তুলেছে। এটিও তাদের একটি নতুন ওজাহাতি ষড়যন্ত্র।  তাদের সাথে অবশ্যই আমরা মিলে যাব, তারা রাজনৈতিক লোকদের বাদ দিয়ে আসুক। এরাতো তাবলীগ করতে এখানে আসেনি। এটি বুঝতে হবে।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আজ বৈঠকে মূলধারাীর মুরুব্বিদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন- শোলাকিয়া ঈদগাহের ইমাম মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ, কাকরাইল শুরার সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ওয়াসিফুল ইসলাম ও কাকরাইলের আহলে শুরা মাওলানা মোশাররফ হোসেন ও মাওলানা আশরাফ আলী।

 

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন, আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ উপস্থিত, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com