সোমবার, ১২ অগাস্ট ২০১৯, ০৬:২৩ অপরাহ্ন

এক আরব অধ্যাপকের সাথে তাবলীগের সাথীদের কথোপকথন

এক আরব অধ্যাপকের সাথে তাবলীগের সাথীদের কথোপকথন

মনিরুল ইসলাম | আমরা মিশর সফরে গেলাম।
যে মসজিদে আমাদের রুখ পড়ল, সেই মসজিদের পাশেই একজন শায়েখ ছিলেন। তিনি মদিনা ইউনিভার্সিটি ও জামেয়া আযহার থেকে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেছেন।
স্থানীয় সাথিরা আগেই তার সম্পর্কে আমাদেরকে অবগত করেছেন- উনি তাবলিগ ও তাবলিগের কাজের ধরন-পদ্ধতি পছন্দ করেন না।

আমি তার সাথে সাক্ষাতের ইচ্ছা পোষণ করলাম।
স্থানীয় সাথীরা আমাকে শায়েখের কাছে নিয়ে গেলেন।

আমি কিছু হাদিয়া-তুহফা নিয়ে তার সাথে সাক্ষাত করলাম।
সালাম ও কুশলাদি বিনিময়ের পর তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন-
কোন উদ্দেশ্যে আপনারা এদেশে এসেছেন?
– আমরা এসেছি আপনাদের যিয়ারত করার জন্য।
– বর্তমানে কোথায় আছেন?
– ওমুক মসজিদে আছি।

– তাহলে কি আপনারা দাওয়াতে তাবলিগের উদ্দেশ্যে এসেছেন?
– জ্বি শায়েখ।

– আপনারা দাওয়াতে তাবলিগের মধ্যে একচিল্লা, তিনচিল্লা, একসাল ইত্যাদি কোথায় পেলেন? এটা কি শরী’আতের মধ্যে অতিরিক্ত করন নয়?

আপনি কোথায় লেখাপড়া করেছেন?
– মদিনা ইউনিভার্সিটি ও জামিয়া আযহার মিশরে।
– আপনার লেখাপড়া শেষ করতে কত বছর সময় লেগেছে?
– সর্বমোট ষোলো বছর লেখাপড়া করেছি। চার বছর মদিনা ইউনিভার্সিটিতে, দু’বছর জামেয়া আযহারে।
অবশিষ্ট দেশে করেছি।

– শায়েখ, মদিনা ইউনিভার্সিটিতে চার বছরের কমে কোর্স করা সম্ভব ছিল না? জামিয়া আজহারে দু’বছরের কম কোর্স করা সম্ভব ছিল না?
দেশে দশ বছরের কম পড়াশোনা করা সম্ভব ছিল না?
– এটা একটা কোর্স। তার চেয়ে কম সময়ে করা সম্ভব ছিল না। করলেও সার্টিফিকেট বা পূর্ণাঙ্গতা অর্জন হতো না।

– এটা কি দিনের মধ্যে অতিরিক্ত করা নয়?
সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম আল্লাহর রাসূল ﷺ থেকে কোর্স মোতাবেক এলেম অর্জন করেছেন কি? যদি না করে থাকেন, তাহলে নিশ্চয় এটা দ্বীনের মধ্যে বাড়াবাড়ি।

– তুমি কি জানো না! ফাতওয়ায়ে আলমগিরির মধ্যে এ’কথা লেখা আছে, কল্যাণমূলক কাজের জন্য সময়কে নির্দিষ্ট করা জায়েয।
– জ্বি শায়েখ জানি। তাহলে দাওয়াতে তাবলিগ কি কল্যাণমূলক কাজ নয়? আপনার মতামত কি?

– (শায়েখ মাথা ঝুঁকিয়ে বললেন) এভাবে তো কোনদিন চিন্তা করিনি।
তুমি তো সত্যই বলেছ। যেহেতু দাওয়াতে তাবলিগ কল্যাণমূলক কাজ, সেহেতু সেখানে বিভিন্ন কোর্স- একচিল্লা ,তিনচিল্লা, একসাল ইত্যাদি জায়েয হওয়ার কথা! তুমি আমার চোখ খুলে দিলে!

সেই শায়েখ আমাদের সাথে তিনদিন মসজিদে ছিলেন। উনি আমাদের কথা গুরুত্বসহকারে শুনেছেন। আমাদেরকেও বিভিন্ন নসিহত করেছেন।
(আল্লাহু আকবার)
এভাবেই একজন শাইখের চোখ আল্লাহ তায়ালা খুলে দিয়েছেন।

যেই ভাইদের উদ্দেশ্যে আমার এই লেখা, তাদের উদ্দেশ্যে আমার আর কিছু বলার নেই।
আল্লাহ তায়ালা যদি সেই ভাইদেরকে সুপথপ্রাপ্ত করতে চান; তাহলে এই ‘কারগুজারিই’ তাদের জন্য যথেষ্ট।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!