শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:১১ অপরাহ্ন

সম্পাদকীয়: চোখের পানি ফেললেন মুরুব্বীরা, হাউমাউ করে কাঁদলেন সাথীরা

সম্পাদকীয়: চোখের পানি ফেললেন মুরুব্বীরা, হাউমাউ করে কাঁদলেন সাথীরা

সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ, তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম|আজ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে এক অন্যরকম আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। হৃদয় বিদারক এই দৃশ্যের সাক্ষী দেশের শীর্ষ উলামা মাশায়েখ ও রাষ্ট্রের সরকারি সর্বোচ্চ মহলের কর্তা ব্যক্তিরা।

সকাল ১১টা থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে দীর্ঘ সময়ধরে কোন সিদ্ধান্তই আসছিল না। এক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত ছাড়াই রাগ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় উঠে যাবার উপক্রম হয়েছিল। কারণ, এক টেবিলে তাবলীগের উভয় পক্ষকে বসানোর জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ধর্মমন্ত্রীর আন্তরিক প্রচেষ্টা ভুলার মতো নয়। কোন সিদ্ধান্তে পৌছা যখন কঠিন হয়ে পড়েছিল, ঠিক তখন তৃতীয় পক্ষকে বাদ দিয়ে তাবলীগের দু’পক্ষের মুরুব্বীরা একত্রে বসার প্রস্তাব করেন আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।

তখনি প্রশাসন ও সরকারের উচ্চ মহলের টনক নড়ে। তারা বিষয়টি নিয়ে ভাবতে থাকেন। এক এক করে আসতে থাকে উভয় পক্ষের মুরুব্বীদের নিয়ে একত্রে বসা ও পূর্বের মতো কাকরাইল মসজিদ পরিচালনার প্রস্তাব। এতে করে তৃতীয় পক্ষের লোকজন নাখোশ হলেও আশার আলো ফুটে উঠতে থাকে তাবলীগের উভয়ধাঁরার সাথী ও মুরুব্বীদের মাঝে। তারা ক্রমশ নরম ও আবেগী হয়ে উঠছিলেন একত্রে বসার পরিবেশ তৈরিতে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের পক্ষ থেকেও সেটিই চাওয়া হচ্ছিল।

একপর্যায়ে বৈঠকের সভাপতি মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল প্রস্তাব দিলেন, তাবলীগের দুই পক্ষের দুজন করে চারজন মুরুব্বীর নাম। হাফেজ মাওলানা জুবায়ের আহমদ, সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম, খান শাহাবুদ্দিন নাসিম ও মাওলানা উমর ফারুক। তাদের নিয়ে ধর্মপ্রতিমন্ত্রী হাফেজ এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ কিভাবে একত্রে ইজতেমা করা যায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন। এমন ঘোষণায় ও আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদের আবেগ তাড়িত ঐক্যের কথায় আবেগী হয়ে উঠেন তাবলীগের মুরুব্বী ও সাথীরা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ও তখন অনেক আবেগপূর্ণ ভালবাসাময় কথা বলেন।

তখন সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম ও মাওলানা যুবায়ের সাহেব একে অপরের দিকে এগিয়ে গেলেন। একপর্যায়ে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে ডুকরে কেঁদে উঠলেন। একসময় দীর্ঘ সময় এই দুজন ছিলেন মানিক জোড়ার মতো। কত পুরানো বন্ধুত্ব। কত দীর্ঘ সময়ের মহব্বতের সাথী। যাদের একজন ছাড়া অন্যজন চলতেই পারতেন না। আজ কতদিন ধরে উভয়ের কোলাকুলি হয় না। দুজনই আবেগী হয়ে উঠলেন।

খান সাহাবুদ্দীন নাসিম সাহেবের সাথে এমনি দৃশ্যের অবতারণা হল। মাওলানা উমর ফারুক সাহেবসহ উভয় পক্ষের কাকরাইলের মুরুব্বীরা একে অপরকে জঁড়িয়ে কেঁদে উঠলেন। তখন হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন বৈঠকে থাকা তাবলীগের সকল সাথীরা। এ দৃশ্য দেখে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে হয়ে যান আলেম উলামারা।

ভসলবাসা একেই বলে। একেই বলে আল্লাহর জন্য পৃথক হওয়া, আবার আল্লাহর জন্য একত্র হওয়া। এই মাত্র কয়দিন আগে সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলামের ফাঁসি চাওয়া হল। তার নামে হাজারো বদনাম রটনা করা হল। আজ তৃতীয় পক্ষের ষড়যন্ত্রের সকল জাল ছিন্ন করে তাবলীগের মুরুব্বীরা এক হয়ে গেলেন। গভীর আঁধার কেটে সুবহে সাদিকের একটু আভা দেখা যাবে। ভোরের প্রতিক্ষায় এখন গোটা জাতি।

এরচেয়ে খুশির সংবাদ আর কী হতে পারে যে, আমাদের পরম মহব্বতের দুই শায়েখ আবার এক হলেন, কোলাকুলি করলেন! কাঁদলেন একে অপরকে জড়িয়ে। কাঁদালেন সবাইকে। এখন আবার তৃতীয় পক্ষের কোন ষড়যন্ত্র যদি না হয় শেষ রাতে। ভুল তথ্য আর মিথ্যা সংবাদ ছড়িয়ে দিয়ে যদি জাতিকে আর বিভ্রান্ত না করে তৃতীয় পক্ষ, তাহলে আমরা আশা করতে পারি, তাবলীগের মুরুব্বীরা একত্রে বসে কল্যাণের বার্তা নিয়ে আসবেন আমাদের জন্য।

এমন সব আশাব্যঞ্জক সংবাদের মাঝেও আমরা আশাহত হচ্ছি, কিছু মিডিয়া ও ব্যক্তির আজকের এই ঐক্য দেখে নাখোশ হওয়া দেখে। আজকের এই দিনেও তাদের গালাগালি ও আক্রমনাত্মক ভাষা দেখে। তৃতীয় শক্তির মিথ্যা পোষ্ট, বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ আর বিষাক্ত কমেন্ট দেখে। এরাই গভীর রাতে বিভ্রান্ত করে আমাদের সহজ সরল বুজুর্গ উলামায়ে কেরামকে ভুল ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে আসছে। আল্লাহ এই তৃতীয় শক্তির ষড়যন্ত্র থেকে পুরো জাতিকে হেফাজত করুন।

আমরা দোয়া করি, বড়দের মতো সারাদেশে আমরাও যেন একে অপরকে মাফ করে দিয়ে এক হয়ে যাই। উলামায়ে কেরামের প্রতি শ্রদ্ধা ও মহব্বত আগের চেয়ে আরো বেশি করি। তাদের ইকরামে নিজেকে বিলিয়ে দেই। আল্লাহর কাছে নিজেদের সকল ভুলভ্রান্তির জন্য ক্ষমা চাই। সাথীদের জন্যও ইস্তেগফার করি।

আমরা ঐক্যবদ্ধ হলে ইনশাআল্লাহ আল্লাহর পক্ষ থেকে ভালোর ফায়সালা আসবেই। আল্লাহ যেন আগামীকালের চুড়ান্ত বৈঠকে উত্তম ফায়সালা করেন, যেন তা সহজে সারা দেশের সাথীরা মেনে নিতে পারেন। আল্লাহ যেন এই প্রচেষ্টাকে পুরো উম্মাহর এক ও নেক হওয়ার ওসিলা হিসাবে কবুল করেন। আমিন।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com