শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৫:০৫ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম ::
দেওবন্দের নতুন রাজনীতি! বিস্মিত হক্কানী উলামায়ে কেরাম!!

দেওবন্দের নতুন রাজনীতি! বিস্মিত হক্কানী উলামায়ে কেরাম!!

ষ্টাফ রিপোর্টার, তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম

তাবলীগ জামাতে তালিম হওয়া, গোট বিশ্বের জনপ্রিয় হাদিসের কিতাব “মুনতাখাব হাদিস” সম্পর্কে সম্প্রতি একজন দারুল উলুম দেওবন্দে ফতোয়া জানতে চেয়েছেন। তার প্রশ্নের উত্তরে দারুল উলুম দেওবন্দের নির্দেশনা আসে। দেওবন্দের রাজনৈতিক ম্যারপ্যাচের এই ফতোয়া দেখে শুধু ভারতবর্ষই নয় গোটা বিশ্বের আহলে হক উলামায়ে কেরাম বিস্মিত।

বিশ্বের বিদগ্ধ হক্কানী উলামায়ে কেরাম বলছেন, দারুল উলুম দেওবন্দ মুন্তাখাব হাদীসের মতো গ্রহনযোগ্য কিতাব নিয়ে কথা বলে আকাবিরদেরকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। মুফাক্কিরুল ইসলাম আল্লামা আবুল হাসান আলী নদভী রহ যিনি এর ভূয়াসী প্রসংশা করে তাবলীগের সাথীদের কিতাবটি পড়তে উৎসাহ করেছেন, আকাবিরদের উজ্জল নক্ষত্র হযরতজী মাওলানা ইউসুফ রহ এটি লিখেছেন। এমন ফতেয়া মূলত পূর্ববতর্তি এই দুই আকাবিরের কাজকে হেয় করার শামিল বলেই মনে করছেন। তৎক্ষনাৎ অনেকেই বলেছেন, এটি দারুল উলুম দেওবন্দের রাজনীতির একটি অংশ। যা দেওবন্দের মতো প্রতিষ্ঠানের শানের খেলাফ।

একজন ব্যক্তি দারুল উলুম দেওবন্দের কাছে প্রশ্নটি ছিলো এমন, ‘হযরত আমার প্রশ্ন হলো, বিভিন্ন মসজিদে মুনতাখাব আহাদিস কিতাবের তালিম করা হয়। আমি জানতে চাই এ কিতাব তালিম সম্পর্কে শরিয়তের বিধান কী? প্রশ্ন নং: ১৬৮১৬৭১

এ প্রশ্নের উত্তরে দারুল উলূম দেওবন্দের দারুল ইফতার পক্ষ থেকে জানানো হয়,‘মুনতাখাব আহাদিস গ্রন্থে হাদিসসমূহের ব্যাখ্যা নেই। যার ফলে জনসাধারণ হাদিসগুলোর মর্ম বুঝতে সমস্যা হয়। এজন্যে ফাজায়েলে আমাল তালিম করা জনসাধারণের জন্যে ভালো হবে। ফতোয়া নম্বর: 657-533/B=05/1440

উল্লেখ্য, তাবলিগ জামাতের তালিমের জন্য যেসকল হাদিসের কিতাবাদি পড়া বা শোনা হয়ে থাকে তারমধ্যে ‘মুন্তাখান হাদীস’ অন্যতম একটি।

মুন্তাখাব হাদিস বা ‘মুন্তাখাব’ শব্দটি অর্থ হচ্ছে ‘নির্বাচিত’। অর্থাৎ মুন্তাখাব হাদিস এর পূর্ণ অর্থ দাড়ায় ‘নির্বাচিত হাদিস’। অর্থাৎ এ কিতাবের প্রতিটি হাদিস ই নির্বাচিত সহিহ।

মুন্তখাব হাদিস কিতাবটিতে গুরুত্বপূর্ণ হাদিস রয়েছে তাই এটি গোটা দুনিয়ায় খুবই জনপ্রিয়, বিশেষকরে তাবলিগের সাথী-শুভাকাংঙ্খীদের কাছে এটি খুবই প্রিয় একটি ইসলামি হাদিসের কিতাব।

বইটির মূল লেখক হযরতজির মাওলানা মুহাম্মদ ইউসুফ কান্ধলভি রহ. উর্দু অনুবাদ মাওলানা সাদ কান্ধলভি। বাংলা অনুবাদ মাওলানা জুবায়ের আহমদ।সূত্র: দারুল উলুম দেওবন্দের ওয়েব সাইট।

এর আগে 2009 সালের 24 মে দারুল উলুম দেওবন্দের ইফতা বিভাগ থেকে আরেকটি ফতোয়া প্রকাশ করা হয়েছিল যে,

” আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে ঘরে বরকত আনায়নের জন্য প্রতিনিয়ত কোরআন শরীফ তেলাওয়াত করা এবং ফাজায়েলে আমল, মুন্তাখাব হাদিস এর তালিম করা চাই”।

আজ থেকে 22 বছর আগে হযরত আবুল হাসান আলী নদভী রহমতুল্লাহি আলাইহি মুন্তাখাব হাদিস এর কিতাব এর ভূমিকা লিখেছিলেন,

” এই (দাওয়াত ও তাবলীগের) মূলনীতি ও উপাদানসমূহ যাহা এই দাওয়াত ও জামাতের জন্য জরুরী সাব্যস্ত করা হয়েছে,কুরআন ও হাদিস হতে সংগৃহীত এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও দ্বীনের হেফাজতের ক্ষেত্রে একজন প্রহরী ও নিরাপত্তারক্ষীর মর্যাদা রাখে। এই সবগুলি উৎস আল্লাহ তাআলার কিতাব ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ ও হাদিস।

একটি স্বতন্ত্র ও আলাদা কিতাবে এই সকল আয়াত, হাদিস ও উৎস সমূহ কে একত্রিত করার প্রয়োজন ছিল। আল্লাহতালার শোকর যে, এই দাওয়াত ও তাবলীগের (প্রথম দায়ী বা আহ্বায়ক হযরত মাওলানা মোঃ ইলিয়াস সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি এর সুযোগ্য উত্তরাধিকারী) দ্বিতীয় দায়ী বা আহ্বায়ক হযরত মাওলানা মোঃ ইউসুফ সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি এর দৃষ্টি হাদিসের কিতাব সমূহে অত্যন্ত গভীর ছিল। তিনি এই সকল মূলনীতি ও নিয়মাবলী ও সতর্কতামূলক বিষয়াবলীর উৎস গুলি কে একটি কিতাবে একত্রিত করে দিয়েছেন। আর পূর্ণাঙ্গ পরিপূর্ণভাবে এই ব্যাপারটি আঞ্জাম দিয়েছেন।”

যেখানে হযরত মাওলানা আবুল হাসান আলী নদভী রহমতুল্লাহি আলাইহি মুন্তাখাব হাদিস এর ব্যাপারে আল্লাহ তাআলার কাছে শোকর আদায় করেছেন এবং ইউসুফ সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি এর ইলম এর প্রশংসা করেছেন। আর সেখানে বর্তমান দারুল উলুম দেওবন্দের পক্ষ থেকে এই ধরনের বিতর্কিত ফতোয়া প্রকাশ করা, তাদের এলমের দৈন্যতার পরিচয় বহন করে এবং আকাবিরদের ব্যাপারে তাদের হীনমন্যতা প্রকাশ করে। পৃথিবীতে দারুল উলুম দেওবন্দের যে গ্রহণযোগ্যতা ছিল, তা আস্তে আস্তে মানুষের মন থেকে নষ্ট হয়ে যাওয়ার জন্য এই ধরনের ফতোয়া ই যথেষ্ট বলে মনে করছেন অনেকেই।

তৎক্ষনাৎ প্রতিক্রিয়ায় একজন পাঠক বলেন, আমি থাকি লন্ডনে, আমার লোকাল মসজিদ যেখানে আমি দাওয়াতের মেহনত করি এটা দেওবন্দি মসজিদ না। বিভিন্ন ন্যাশনালিটির মুসলিম এখানে নামাজ পড়ে আলহামদুলিল্লাহ তালিমেও বসে । এদের অধিকাংশই ফাজায়েলে আমালের অনেক গল্প ও বেখ্যার সাথে একমত পোষণ করে না এমনকি অনেক বাংলাদেশী ইয়ং বয়েজ ফাজায়েলে আমালের তালিমে বসতে চায় না। আরবরাতো মুন্তাখাব হাদীসই পড়ে সবচেয়ে বেশি।

এই অবস্থায় আমি কি তাদেরকে ফাজায়েলে আমালের দাওয়াত দিবো নাকি আল্লাহ কালাম ও রাসূলের হাদিসের দাওয়াত দিবো ?

দাওয়াত এর মেহনত অনেক আগেই দেওবন্দএর গন্ডি পেরিয়ে সারা বিশ্বে পৌঁছে গেছে, মাওলানা ইউসুফ (র:) এটা খুব ভালোভাবে অনুধাবন করতে পেরেছিলেন । এজন্যই উনি হায়াতুস সাহাবা রচনা ও মুন্তাখাব হাদিস এর কাজ শুরু করেছিলেন।

আলহামদিলিল্লাহ এখন মানুষকে আল্লাহ কালাম ও রাসূলের হাদিসের দিকে দাওয়াত দিতে পারি, ফাজায়েলে আমালের বিতর্কে অযথা সময় নষ্ট করতে হয়না। একসময় দেওবন্দি আলেমরাই ফাজায়েলে আমলের কিতাবের দুর্বল হাদীস নিয়ে তাবলীগওয়ালাদের উপর হাজারো এশকাল করতেন। আজ এটি কেবল মাওলানা সাদ কান্ধলভী ছাপানোর কারণেই হিংসা থেকে নাহক এই রাজনৈতিক বিরোধীতা ও ফতোয়াবাজি করা হচ্ছে।

দারুল উলূম উত্তরার প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মু’আয বিন নূর বলেন, ফতুয়াবাজরা ফতুয়া দিতে থাকবে আর কাম করনেওয়ালারা কাম করতে করতে থাকবে।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com