রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:২৯ অপরাহ্ন

মাওলানা জুবায়ের ও উমর ফারুকের মিথ্যাচার পৃথিবীর সকল নিলজ্জতাকে হার মানিয়েছে

মাওলানা জুবায়ের ও উমর ফারুকের মিথ্যাচার পৃথিবীর সকল নিলজ্জতাকে হার মানিয়েছে

আদনান হাবিব, তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম

গত এক সাপ্তাহে বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে সরকারের মধ্যস্থতায় ঐক্যের পর তাবলীগের মূলধারাচ্যুত দুই সাবেক আহলে শূরার ডিগবাজি, চরম মিথ্যাচার, বানোয়াট কথাবার্তা ও পল্টিবাজী দুনিয়ার তাবৎ নির্লজ্জতাকে হার মানিয়েছে। বাংলাদেশের ডিগবাজি রাজনীতিতে এরশাদের সকাল বিকাল কথা বদলের কথা মশহুর থাকলেও মাওলানা জুবায়েরের ডিগবাজির রাজনীতি দুনিয়ার সকল বেহায়া রাজনৈতিক নেতাদের পিছে ফেলে দিয়েছে।

দুনিয়ার সেরা মিথ্যাবাদী বলা হয়, লাইন মাইনরকে। মাওলানা জুবায়ের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে বৈঠকের পর থেকে যতো মিথ্যাচার, ধোঁকাবাজী ও প্রতারণা করেছেন তা মাইনরকেও হার মনিয়েছে। চিন্তাশীল উলামায়ে কেরাম মনে করছেন মাওলানা জুবায়ের ও উমর ফারুকের মিথ্যাচারে খোদ শয়তানও লজ্জিত। একজন আলেম কখনো মুনাফিক চরিত্রের হতে পারেন না।

তিনি বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে ঐক্যের দুদিন পরই কাকরাইলের আহলে শূরা সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলামের সাথে কোন প্রকার পরামর্শ ছাড়াই মাওলানা জুবায়েরের সাক্ষর স্কেন করে বিদেশিদের কাছে আলমিশুরার নামে ভুয়া চিঠি প্রেরণ করে তৃতীয়পক্ষ। গত শনিবার টঙ্গীর ময়দানের জিম্মাদারের নেতৃত্বে মূলধারার সাথী মাঠের কাজের ব্যাপারে মাওলানা জুবায়েরের সাথে দেখা করতে গেলে তাদেরকে দেখা করতে দেয়া হয় নি। রবিবার দিন প্রসাশন ও উভয়পক্ষের সাথে পরামর্শ ছাড়াই কিছু লোক ময়দানের কাজ উদ্ভোধন করতে গিয়ে পুলিশের বাঁধার মূখে পরে। এসব বিষয় নিয়ে মাওলানা জুবায়ের তাবলীগের মূলধারা ও প্রসাশনের পক্ষ থেকে তিনি ব্যাপক চাপের মধ্যে পরেন। তখন তার সাথে যোগাযোগ করলে, মাওলানা জুবায়ের বলেন, তিনি এই বিষয়গুলো সম্পর্কে কিছুই জানেন না। তৃতীয় পক্ষের কারো কাজ এটি।

গত মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে তাবলীগের দুই পক্ষ থেকে দুজন করে সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম, মাওলানা জুবায়ের, মাওলানা উমর ফারুক ও খান শাহাবুদ্দীন নাসিমকে দিয়ে বিশ্ব ইজতেমার যাবতীয় কাজ করার জন্য কমিঠি করে দেয়া হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার ধর্মমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহর সভাপতিত্বে এই চারজনের বৈঠকে মাওলানা জুবায়ের ও সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলামকে আগামী বিশ্ব ইজতেমার যাবতীয় কাজ যৌত্রভাবে পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু এর পর দিন থেকেই একের পর এক ঐক্য বিরোধী কাজ শুরু হয় মাওলানা জুবায়েরের নামে।

এদিকে ধর্মমন্ত্রীর সাথে এই চার জনের প্রথম বৈঠকে, সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম, মাওলানা জুবায়েরকে বলেন, আপনারাতো মনে করেন আমরা ইসলাম থেকে বের হয়ে গেছি, এই অবস্থায় আমদের সাথে ইজতেমা করা কিভাবে সম্ভব? তখন মাওলানা জুবায়ের চোখের পানি ফেলে বলেন, আমরা পেছনের সব ভুলেই ঐক্য করেছি।

কিন্তু গত পরশু রহিম মেটাল মসজিদে কথা পাল্টিয়ে বলেন, দুঃখ কষ্ট ভুলার কথা বলেছি, মাওলানা সাদের ঈমান আকীদার সাথে কোন ঐক্য বা আপোষ হয় নি।

এদিকে তার সহচর মাওলানা উমর ফারুক, ঐক্যের বৈঠকে খান সাহাবুদ্দিন নাসিমকে জড়িয়ে ধরে কান্নার অভিনয় করে আমরা পেছনের সব ইতিহস ভুলে এবার মন থেকে ঐক্য করেছি বলে চোখের পানি চাড়লেও এখন সুর বদলিয়ে চরম মিথ্যাচার ও উস্কানীমূলক কথা বলছেন নিলজ্জতার সাথে। হেফাজতকে বাদ দিয়ে তাবলীগের ঐক্য প্রক্রিয়ার বিষয়ে হেফাজতের নেতা কর্মিদের উস্কে দিতে বলেন, হেফাজতীদের বাদ দিতে বলে, এর হেফাজতী বলে একটি জঘন্যতম গালি দিল। তিনি অপব্যাখ্যা দিয়ে আরো বলেন, মাওলানা সাদ আসবে না এর অর্থ তারা তওবা করে আমাদের সাথে ইজতেমা করছে। কিন্তু বাস্তবে ঐ বৈঠকে এসবের কোন আলেচনাই হয় নি।

তাদের এহেন মিথ্যাচার নিয়ে কাকরাইলের একাধিক মুরুব্বী বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, এসব নিঃসন্দেহে চরম মোনাফেকী ও জঘন্য প্রতারণা ছাড়া কিছুই নয়। তাদের পরস্পর বিরোধী বক্তব্য কখনো দায়ী কিংবা উলামাদের শান হতে পারে না। এটি মূলত মূলথেকে বিচ্যুত ও পথহারা হওয়ার ফলাফলই প্রকাশ পাচ্ছে।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com