মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ০৩:৪২ পূর্বাহ্ন

‘আপনারা হলেন আমাদের দেশের জন্য কূটনীতিকের মতো’ বঙ্গবন্ধু

‘আপনারা হলেন আমাদের দেশের জন্য কূটনীতিকের মতো’ বঙ্গবন্ধু

তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম  তাবলিগ জামাত বিশ্বব্যাপী ইসলাম প্রচারের জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করে। কাকরাইল মসজিদ বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের জন্য মারকায বা কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। তাবলিগের প্রচারমূলক কাজ বিশ্বব্যাপী সম্প্রসারিত হওয়ায় প্রতি বছর সারাবিশ্বের অনেক মুসলমান বিশ্ব ইজতেমায় শরিক হন। আন্তর্জাতিক খ্যাতির দিক দিয়ে কাকরাইল মসজিদের গুরুত্বও বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত অতিথিদের ভিড়ের কারণে স্থান সংকুলানের সমস্যা হওয়ায় মসজিদ সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। বাংলাদেশের মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে বিষয়টি পেশ করা হলে তিনি তাবলিগ জামাতের কাজের সুবিধার্থে রমনা পার্কের বেশ কিছু জায়গায় কাকরাইল মসজিদ সম্প্রসারণের ব্যবস্থা করে দেন।

 

টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমার স্থান নির্ধারণ:

তাবলিগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমা আন্তর্জাতিক সমাবেশ হিসেবে সমগ্র বিশ্বে স্বীকৃতি লাভ করেছে। মুসলমানদের এটি অন্যতম বৃহত্তম সমাবেশ। তিন দিনের এই সমাবেশ প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে ধর্মীয় ওয়াজ নসিহত করা হয়। এছাড়া শেষের দিনে সারাবিশ্বের মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, সুখ-সমৃদ্ধি, মঙ্গলকামনা করে আখেরি মুনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বের প্রায় সকল দেশের বরেণ্য আলেম-উলামা ও সাধারণ লোকজন এই সমাবেশে যোগদান করে থাকেন। তাবলিগ জামাত সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ধর্মীয় দাওয়াতের সংগঠন। সারা বছর দাওয়াতি কাজ করে এ সংগঠন। বছরের শুরুতে ঢাকার অদূরে টঙ্গীতে এই আন্তর্জাতিক মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এই আন্তর্জাতিক সমাবেশ বিশ্ব ইজতেমা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্থায়ী বন্দোবস্ত হিসেবে তুরাগ নদীর তীরবর্তী জায়গাটি প্রদান করেন। তাবলিগ জামাত বঙ্গবন্ধুর প্রদত্ত ওই স্থানেই প্রতি বছর বিশ্ব ইজতেমা করে আসছে।

 

স্বাধীনতা উত্তরকালে তাবলিগ জামাতের এক প্রতিনিধিদল বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে  সাক্ষাত করেন। প্রতিনিধিদলকে বঙ্গবন্ধু বলেন—’আপনারা কাজ করুন, আপনাদের কোনো অসুবিধা নেই। কারণ, আপনারা হলেন আমাদের দেশের জন্য কূটনীতিকের মতো। পাকিস্তানিরা সমগ্র বিশ্বে, বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বে অপপ্রচার করছে, আমরা হিন্দু হয়ে গেছি, এখন আপনারা যখন ওইসব দেশে ধর্মের দাওয়াত নিয়ে যাচ্ছেন বা যাবেন, তখন তারা বুঝবে যে আমরা হিন্দু হইনি। আমরা যেমন ছিলাম তেমনিভাবে আজও মুসলমান আছি।’

 

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন দেশে তাবলিগ জামাতের যেসব দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে তার ভিত্তিও রচনা করেছিলেন  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। স্বাধীনতা যুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়ন তথা রাশিয়া সহযোগিতা করায় বঙ্গবন্ধুর সাথে সেদেশের নেতৃবৃন্দের একটি সুদৃঢ় বন্ধুত্বের ভিত্তি রচিত হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে স্বাধীনতার পর রাশিয়াতে প্রথম তাবলিগ জামাতের একটি দলকে প্রেরণের ব্যবস্থা করেন। বঙ্গবন্ধুর এসব মহান কাজের ওসিলায় আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করুন।সূত্র :ইসলামিক ফাউন্ডেশন

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com