রবিবার, ০৯ মে ২০২১, ০৬:২৮ পূর্বাহ্ন

বিশ্ব ইজতেমা বানচাল করতে সক্রিয় ঐক্যবিরোধী ২৪ আলেম

বিশ্ব ইজতেমা বানচাল করতে সক্রিয় ঐক্যবিরোধী ২৪ আলেম

ষ্টাফ রিপোর্টার, তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম |

আগামী ১৫,১৬,১৭ ফেব্রুয়ারী টঙ্গীর তুরাগ ময়দানে ৫৪তম বিশ্ব ইজতেমার তারিখ নির্ধারন করা হয়েছে। গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা আহমদ শফির সাথে দেখা করে আসন্ন ১৫ ফেব্রুয়ারী বিশ্ব ইজতেমার সফলতার জন্য দোয়া চেয়েছেন। এদিকে তাবলীগের মূলধারার মুরুব্বীগণ ও ৬৪জেলার সাথীদের বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে সার্বিক প্রস্তুতি একেবারে শেষের দিকে।

এই পরিস্থিতিতে যখন গোটা জাতী বিশ্ব ইজতেমার জন্য অধির আগ্রহে ঐক্যবদ্ধ, ঠিক তখনি কথিত তাবলীগ পরিচালনা কমিটির নেতারা মাওলানা উমর ফারুক, মাহফুজুল হক, কেফায়তুল্লাহ আজহারীসহ ২৪জন আলেম তাবলীগের বিশ্ব ইজতেমার ব্যপারে একের পর এক ঐক্যবিরোধী বক্তৃতা দিয়ে চলছেন। গতকাল জুমআর খুৎবায় এই ২৪জন আলেমের অনেকেই বিশ্ব ইজতেমার ব্যপারে ঐক্যবিরোধী উস্কানিমূলক  বক্তব্য দিয়েছেন।

গত সাপ্তাহে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে তাবলীগের দুই পক্ষ থেকে দুজন করে মুরুব্বীদের নিয়ে বিশ্ব ইজতেমার যাবতীয় কাজ করার জন্য কমিঠি করে দেয়া হয়। উক্ত কমিটিতে মূলধারার পক্ষ থেকে সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম ও খান শাহাবুদ্দীন নাসিম এবং অপর পক্ষ থেকে মাওলানা জুবায়ের ও মাওলানা উমর ফারুককে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তকারী নিযুক্ত করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার ধর্মমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে এই চারজনের বৈঠকে মাওলানা জুবায়ের ও সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলামকে আগামী বিশ্ব ইজতেমার যাবতীয় কাজ যৌথভাবে পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়।

এদিকে ধর্মমন্ত্রীর সাথে এই চার জনের প্রথম বৈঠকে মাওলানা জুবায়েরকে সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম বলেন, আপনারাতো মনে করেন, আমরা ইসলাম থেকে বের হয়ে গেছি। এই অবস্থায় আমদের সাথে ইজতেমা করা কিভাবে সম্ভব? তখন মাওলানা জুবায়ের চোখের পানি ফেলে বলেন, আমরা পেছনের সব ভুলেই ঐক্য করেছি।

কিন্তু উপরোক্ত আলেমদের চাঁপে পরবর্তীতে তারা তাদের কথা থেকে দূরে সরে আসেন। এদিকে বেফাক অফিস থেকে তাবলীগের সাদ কান্ধলভীর অনুসারীদের সাথে ইজতেমা করার ব্যপারে শঙ্কা প্রকাশ করে বেফাক নেতারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে দেখা করার কথা বলেন। তারা কোনভাবেই এক্যবদ্ধ ইজতেমা চান না। একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে, কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সদস্যদের নিয়ে গঠিত উড়ে এসে জুড়ে বসার চেষ্টায়  “কথিত তাবলীগ পরিচালনা কমিটি” র সদস্যারা নেতৃত্ব বিনষ্টের লোভে কোনভাবেই তাবলীগের ঐক্য চান না।

গত ১৯ ডিসেম্বর বুধবার বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ এর বোর্ড অফিসে  হেফাজত নেতাদের ও তাবলীগের বিদ্রোহী মুরুব্বীদের যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উপস্থিত ছিলেন, বেফাক মহাসচিব মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস,  মাওলানা ওমর ফারুক, মুফতী নূরুল আমীন, মাওলানা মাহফুযুল হক, মাওলানা যোবায়ের আহমদ চৌধুরী, মাওলানা বাহাউদ্দিন যাকারিয়া, ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজ প্রমুখ।

সভায় বিগত ১০ ডিসেম্বর হাটহাজারী মাদরাসার বেঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শীর্ষ রাজনৈতিক আলেমদের সমন্বয়ে খেলাফত মজলিস নেতা মাওলানা আশরাফ আলীকে আহব্বায়ক করে সম্পূন্ন বেআইনি প্রক্রিয়ায় তাবলীগ জামাত পরিচালনার জন্য ২৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।

তাবলীগের উভয় পক্ষ সমঝোতার ভিত্তিতে একত্রে বিশ্ব ইজতেমা ও তাবলীগের কার্যক্রম করতে চাইলেও কথিত তাবলীগ পরিচালনা কমিটির ২৪সদস্য এই ঐক্য ভাঙ্গতে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তারা সরকারে সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে সারাদেশে বিশ্ব ইজতেমার দাওয়াত ও তাবলীগের কাজকে বাঁধা দিতে উস্কানি দিচ্ছেন। তারা নিজেদের কৃতিত্ব , বয়ান বক্তৃতা এবং ওজাহাতি মঞ্চ হারানোর কারনে আবার মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠছেন নানান অযুহাতে।

এবিষয়ে তাবলীগের মুরুব্বী মাওলানা সাইফুল্লাহ তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম কে জানান, আসলে তৃতীয় পক্ষ কোনভাবেই তাবলীগের ঐক্য চায় না। তারাই দ্বীতিয় পক্ষের লোকজনকে মিসগাইট করে ঐক্য ভঙ্গের সব চেষ্টাই করছে। এই এক্যবিরোধী আলেমরাই এদেশের সকল ইসলামী দলকে ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডকে ভেঙ্গে খানখান ও খন্ড বিখন্ড করে এখন তাবলীগের ঐক্য ভাঙ্গতে সক্রিয় হয়ে মাঠে নেমেছে। মুনাফেকদের চক্রান্ত হয়তো তাই হতে পারে আলামতে মনে হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, তারা যে ষড়যন্ত্রই করুক আমরা বিশ্ব ইজতেমা করার ব্যাপারে পুরোপুরি প্রস্তুত।

সচেতন ঐক্যকামি আলেমরা বলেছেন, যারা মাওলানা জুবায়েরকে ব্যবহার করে বিশ্ব ইজতেমার ঐক্য বিরোধী কাজ করছে তাদের আইনের আওতায় আনা জরুরী। যেকোন মূল্য তাবলীগের সাথীদের ঐক্য ধরে রেখে বিশ্ব ইজতেমা সফল করতে হবে।

এবিষয়ে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ গত শুক্রবারে বলেছেন, তাবলীগের ঐক্যে তৃতীয়পক্ষের গায়ে জ্বালাপোড়া শুরু হয়ে গেছে। মুনাফিকরা কোনভাবেই তাবলীগের ঐক্য সহ্য করতে পারছে না। তারা আবারো সক্রিয়। জঙ্গে জামাল ও জঙ্গে সিফফিনের মতো হযরত আলী রা.ও হযরত আয়শা রা.এর মাঝে যেভাবে ফাটল তৈরি করে যুদ্ধ লাগিয়ে দিয়েছিল, বাংলাদেশেও তারা তাবলীগের উভয় পক্ষের মাঝে এই কাজটি করেছে। মুনাফিকদের সম্পর্কে সতর্ক  থেকে তাবলীগের ঐক্যকে ধরে রেখে ইজতেমা সফল করতে   হবে।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com