শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:২৫ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম ::
হাটহাজারী মাদরাসা বন্ধ ঘোষনা এক আল্লাহ জিন্দাবাদ… হাটহাজারী মাদরাসায় ছাত্রদের বিক্ষোভ ভাঙচুর : কওমীতে নজিরবিহীন ঘটনা ‘তাবলিগের সেই ৪ দিনে যে শান্তি পেয়েছি, জীবনে কখনো তা পাইনি’ তাবলীগের কাজকে বাঁধাগ্রস্থ করতে লাখ লাখ রুপি লেনদেন হয়েছে: মাওলানা সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী দা.বা. (অডিওসহ) নিজামুদ্দীন মারকাজ বিশ্ব আমীরের কাছে বুঝিয়ে দিতে আদালতের নির্দেশ সিরাত থেকে ।। কা’বার চাবি দেওবন্দের বিরোদ্ধে আবারো মাওলানা আব্দুল মালেকের ফতোয়াবাজির ধৃষ্টতা:শতাধিক আলেমের নিন্দা ও প্রতিবাদ একান্ত সাক্ষাৎকারে সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী :উলামায়ে হিন্দ নিজামুদ্দীনের পাশে ছিলেন, আছেন, থাকবেন তাবলীগের হবিগঞ্জ জেলা আমীর হলেন বিশিষ্ট মোহাদ্দিস মাওলানা আব্দুল হক দা.বা.
কাঁদছেন ক্বারী জুবায়ের, খেলছেন মাওলানা উমর ফারুক (অডিও সহ)

কাঁদছেন ক্বারী জুবায়ের, খেলছেন মাওলানা উমর ফারুক (অডিও সহ)

-ফাইল ফটো

কাকরাইল প্রতিনিধি; তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম

কাকরাইলের সাবেক শূরা মাওলানা জুবায়েরের ব্যাকুলতা ও অস্বাভাবিক অবস্থা এবং বাচ্চাসূলভ আচরণের কথা জানান দিলেন দীর্ঘদিনের সহচর মাওলানা উমর ফারুক। গত সোমবার রহিম মেটাল মসজিদে এক ওজাহাতি জোড়ে তাবলীগের শূরাপন্থী মুরুব্বী মাওলানা উমর ফারুক তাবলীগের অপর মুরুব্বী মাওলানা জুবায়ের সাহেবের সার্বিক অবস্থা জানালেন।

তার দীর্ঘ বয়ানের পুরোটা জুড়েই ছিলো রাজনৈতিক ষ্টাইলে নির্লজ্জ মিথ্যাচার ও বানোয়াট কল্পকাহিনী। আরো ছিল উগ্রতা, ক্ষিপ্রতা ও হাস্যকর ভণিতা। যা তাবলীগের চিরচেনা বয়ানের সাথে অপরিচিত ও বেমানান। বয়ানের সর্বশেষে তিনি মাওলানা জুবায়ের সাহেবের অসুস্থতা, হতাশা, বাচ্চা সূলভ আচরণ ও অস্বাভাবিক অবস্থার কথাও জানালেন। মাওলানা জুবায়েরের ফায়সালাকৃত ‘নজম’ চালালেও তাকে তার চিরচেনা কাকরাইলে কেন ও কীভাবে আসতে দেয়া হচ্ছে না, সেই রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির রহস্যও ফুটে ওঠে তার বয়ানে। পাঠকের সুবিধার্থে পূর্ণ বয়ানের অডিও নিচে সংযুক্ত করা হলো।

বয়ানের ৫০:৪৭ মিনিটে মাওলানা উমর ফারুক বলেনঃ মাওলানা জুবায়ের সাহেব অসুস্থ মানুষ। মানুষ যখন অসুস্থ হয়ে যায় তখন মানুষের ধৈর্য্য শক্তি একটু কমে যায়। তার উপর এখন এত চাঁপ, প্রেশার, নানান রকমের হুমকি। গতকাল ফজরের পরে আমাকে ফোন দিলেন। আমার মোবাইল তখন বন্ধ ছিল। পরে মাওলানা নূরুর রহমান সাহেবকে কল দিয়ে কথা বলেছেন। আমি যখন বয়ান শেষে নাস্তা করে আসলাম তখন মাওলানা নুরুর রহমান সাহেব আমাকে জানালেন, ইমাম সাহেব হুজুর (মাওলানা জুবায়ের) ফোন দিয়েছিলেন। তিনি আসবেন। আমি একটু কড়া ভাষায় বললাম, কোথায় আসবেন? তিনি বললেন, কাকরাইলে আসবেন। আমি বললাম, তিনি তো মাত্র ৫ মিনিটের জন্য আসবেন। কিন্তু এটি একটি জায়েজের রাস্তা খুলবে। এরপরে তো দিনের পর দিন উনি (সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম) কাকরাইলে পড়ে থাকবে। আর বলবে, উনিও (মাওলানা জুবায়ের) তো কাকরাইলে আসছেন উনাদের বারিতে। এখন আমাদের বারিতে আমরা থাকবো।

এটি বলতে না বলতেই হুজুর (জুবায়ের) কল দিলেন।

-আপনি এখন কোথায়?
=আমি রুমে।
-ভাল লাগছে না। আপনার সাথে দুটি কথা বলতে চাই।
=কোথায় আসবেন?
-কাকরাইলে আসতে চাই।
=না কাকরাইল আসতে পারবেন না।
-তাইলে কোথায় যাবো? বাচ্চাদের মতো।
=অমুক জায়গায় যান আমি আসতেছি।….

আমার হাটুতে ব্যঁথা। একটি ছেলেকে নিয়ে আস্তে আস্তে গেলাম। হুজুর উনার অস্থিরতা বললেন। জানতে চাইলেন, কী হবে এভাবে? আমি হুজুরের সাথে বিভিন্নভাবে কথাবার্তা বললাম। আস্তে আস্তে তিনি স্বাভাবিক হলেন।

সেদিন মাওলানা উমর ফারুকসহ অন্যান্য বক্তাদের লাগামহীন বেফাঁস বয়ানের পর ‘ওজাহাতি’ অঙ্গনে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। আপত্তিকর বিভিন্ন রহস্যময় বিষয় ও জুবায়েরগ্রুপের দেওলিয়াত্বপূর্ণ অবস্থান ফাঁস হওয়ার পরপরই সারাদেশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দ্বিধান্বিত হয়ে পড়ে মাদরাসা বোর্ড। দ্রুত আহ্বান করা হয় বেফাক মিটিং। গত বুধবার আয়োজিত বেফাকের বৈঠকেও দিনভর নানা নাটকীয়তার পরও কোন সন্তোষজনক সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারে নি বেফাক কতৃপক্ষ। এ নিয়ে একজন মধ্যমপন্থী সাথীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমরা তো জুবায়ের সাহেবকে দেখেই নিযামু্দ্দীন ছেড়ে দিয়ে ‘ওজাহাতি’ হয়েছি। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, মাওলানা জুবায়ের তো স্বাধীন নন। এমনকি দায়িত্বশীলও নন। বরং তাকে জিম্মী করে অন্যরা খেলছে। যার যার স্বার্থ হাসিল করে নিচ্ছেন। আর তিনি (মাওলানা জুবায়ের) বাচ্চাদের মত ব্যকুলতা দেখিয়েও দয়া-দাখ্যিন্য পাচ্ছেননা নিজের সহচরদের কাছ থেকেও। যা আমাদেরকে নতুনভাবে ভাবাচ্ছে। আমরা তাহলে এতদিন কার পিছে ছুটেছি?”

অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এতো দিনে যা বুঝলাম, মাওলানা উমর ফারুকই জুবায়ের সাহেবকে জিম্মি করে মূলত এসব করছে। যেহেতু মাওলানা জুবায়েরের অনুপস্থিতিতে মাওলানা উমর ফারুক কাকরাইলের ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন তাই তিনি জুবায়ের সাহেবকে কাকরাইলে ঢুকতে দিতে চাচ্ছেন না। যা তার আজকের বয়ানে সুস্পষ্ট হয়ে গেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ঐক্যবদ্ধ ইজতেমার বিরুদ্ধে কলমযুদ্ধ শুরু করে তারা। ১লা ডিসেম্বরের আতঙ্ক চোখ থেকে ঝেঁড়ে পড়ার আগেই নতুন আতঙ্কে সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন মাদরাসার ছাত্র, শিক্ষক, বিভিন্ন ইসলামী রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক দলের নেতা, কর্মী ও সমর্থকগণ। প্রতিদিনই ‘ঐক্যবদ্ধ ইজতেমা’ বর্জন ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লীদের মাঝে ইজতেমা নিয়ে আতঙ্ক তৈরীর জন্য তারা নিরলসভাবে লেখালেখি করে যাচ্ছেন। এসব বিষয়ে মাতামাতি থেকে প্রবীণ ইসলামী লেখক, বর্ষীয়ান ইসলামী রাজনীতিক, মাহফিল বক্তা থেকে শুরু করে কেউই বাদ পড়ছেন না।

দারুল ঊলূম উত্তরার প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মু’আয বিন নূর এ প্রসঙ্গে বলেন, “আল্লাহ তা’আলা না-হক্বদের অন্তরে দু’টি মোহর মেরে দেন। ১. যিল্লাত (হীনমন্যতা) ২. মাসকানাহ (অসহায়ত্ব)। তাই দেখা যায়, যারা হক্ব থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে তারা সর্বদা আতঙ্কগ্রস্ত থাকে। কারণ, তাদের দিল মোহরাঙ্কিত। তাদের সাথে কথা বললেও অন্যরা হীনমন্য হয়ে পড়ে, সাহস হারিয়ে ফেলে, চুপসে যায়। পক্ষান্তরে হক্বপন্থীরা সংখ্যায় কম হলেও তাদের কথাবার্তা, চালচলন থেকে শুরু করে সর্ববিষয়ে অন্যরকম দাপট্য মনোভাব দেখা যায়। এটা মূলত ঈমানী শক্তি ও হক্কানিয়াতের দৃঢ়তা। তারা আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন কিছুর পরোয়া করে না। ভবিষ্যতের ব্যপারে আল্লাহর ফায়সালাকেই চূড়ান্ত মনে করে। ‘রেযা বিল কাযা’ সম্বল করে চলে। তাই তারা থাকে নির্ভার, ভাবনাহীন, সাহসী, দৃঢ়প্রত্যয়ী, দ্বীনের ব্যপারে জানবায। আলহামদু লিল্লাহ, তাবলীগের শতাব্দীব্যপী ইতিহাসের সবচে বড় এই ক্রান্তিকালেও সকল কুরবানীওয়ালা, আল্লাহর উপর ভরসাকারী ও সাহসী সাথীরা মূলধারার সাথেই জুড়ে রয়েছেন। তাই আমরা আগামীর ব্যপারে নির্ভিক, নিশ্চিন্ত, ইজতেমার ব্যপারে আপোষহীন।

মাওলানা মু’আয বিন নূর আরো বলেন, সীরাতে সাহাবার একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, কোন ভীতিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়ার সময় কর্মীদেরকে সাহস যুগিয়ে আশ্বস্ত করে রাখা। তাদেরকে সাহসী করে তোলা। কোন খুঁত বা দূর্বলতা থাকলেও সেগুলো লুকিয়ে ফেলা। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, ওজাহাতি মুরুব্বীরা আগামী বিশ্ব ইজতেমাকে চরম ভীতিকর পরিস্থিতি প্রমাণিত করার চেষ্টা করছেন। আবার এমনই এক ক্রান্তিলগ্নে তাদের অভ্যন্তরীণ যাবতীয় খেলবাজি প্রকাশ করে দিচ্ছেন। এতে অনুসারীদের মনে ভয় ঢুকছে। তারা হিম্মত হারিয়ে ফেলছে। এমতাবস্থায় তারা যদি মাঠে আসেও তবে নাস্তানাবুদ না হয়ে কোন উপায় থাকবে না। পক্ষান্তরে আমাদের মূলধারার মুরুব্বীরা নিজ গতিতে কাজ করে যাচ্ছেন। অতিরঞ্জিত কিছু বলা বা না বলা ছাড়াই সাথীদের হিম্মত দিনদিন আকাশ ফুঁড়ে আরো উপরে উঠতে চলছে। যেকোন মূল্যে ইজতেমা করতে মূলধারার প্রতিটি সাথী বধ্যপরিকর। এই পার্থক্যটিও আমাদের হক্কানিয়াতের অন্যতম দলীল।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com