রবিবার, ০৯ মে ২০২১, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন

মুফতী জিয়া বিন কাসেমের মারকাজুল উলুম আশ শরইয়্যাহ : এলেমে ওহির বাতিঘর

মুফতী জিয়া বিন কাসেমের মারকাজুল উলুম আশ শরইয়্যাহ : এলেমে ওহির বাতিঘর

সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ |তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম|

আমার দেখে বাংলাদেশে আহলে হক উলামায়ে  কেরামের নিগরানীতে দারুল উলুম দেওবন্দের উসুল ও তরবিয়তের আলোকে যে কয়টি কওমী মাদরাসা চোখে পড়ার মতো মারকাজুল উলুম আশ শরইয়্যাহ তাদের অন্যতম। মুবাল্লীগ আলেমেদ্বীন দারুল উলুম দেওবন্দের সুর্য সন্তান মাওলানা জিয়া বিন কাসেম দা.বা. এর প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম।

কওমি মাদরাসা। আমাদের প্রাণের ঠিকানা। প্রেমের আশ্রয় স্থল। শিকড়ের গভীরতা। রক্তের সংমিশ্রন। আত্মার স্পন্দন বলা চলা। নবিজী সা. এর হেরার জ্যোতির আলোকিত ভুবন। সাহাবাদের স্বর্ণালি চেতনার নববী ইলম চর্চার এক বাগিচা। দারুল উলুম দেওবন্দ চেতনা ফেরি হয় যেখানে। এখনো এদেশের কোটি কোটি মানুষের দ্বীনী পথচলার বাতিঘর। সেই ধারার স্বার্থক এক দ্বীনী শিক্ষা প্রতিষ্টান মারকাজুল উলুম আশ শরইয়্যাহ।

 

আজ এদেশে কওমী মাদরাসার অভাব নেই।  কিন্তু দারুল উলুম দেওবন্দের  মেজাজ, ত্বরীকা, আমল, আখলাক, ত্বরবিয়তের আলোকে কয়টি দ্বীনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাওয়া যাবে? স্বকীয়তা হারিয়ে যেখানে অধিকাংশ কওমী মাদরাসা এখন আপন ঐতিহ্য হারানোর পথে ঠিক সে মুহুর্তে মারকাজুল উলুম আশ শরইয়্যাহ আঁকড়ে আছে আকাবিরদের মেজাজ, ত্বরীকা, ত্বরবিয়ত আর সুন্নাহের পুনাঙ্গ অনুসরণ।

মাদরাসার বর্তমান দৃষ্টিনন্দন ক্যাম্পাস

 

 

মারকাজুল উলুম আশ শরইয়্যাহ দেখলেই আপনি বুঝতে পারবেন ছাত্রদের তায়াল্লুকমায়াল্লা, (আল্লাহর সাথে সম্পর্ক তৈরি) সুন্নতের এহতেমাম, এলমি এস্তেদাদ (যোগ্যতা),  ঈমানের গভীরতা, একীনের মজবতু, আখলাকের বুলন্দি, মোয়ামালাতে পাকিজি (পবিতত্রা), মোয়াশারাতে উন্নতির ক্ষেত্রে তারা কতোটা মনযোগী। কেবল কিছু কিতাব পড়িয়ে তরবিয়ত ছাড়া কোন আলেম তৈরির পক্ষে নন তারা। মাদরাসার আইন কানুনের ক্ষেত্রে কোনপ্রকার ছাড় দেয়া হয় না।

 

মুহতারাম মাওলানা  জিয়া বিন কাসেমের স্বপ্ন তার রুহানী সন্তানরা গড়ে উঠবে সাহাবাদের মতো এয়াকীন, আকাবিরদের মতো তাকওয়া, নবীদের মতো উম্মাহর দরদ, পূর্বসূরী আকাবির আসলাফদের মতো আপোসহীনতা, সততা, ন্যায়,  নীতি, আমানত, পদের নির্মোহতা, ক্ষমতার প্রতি অনীহা, চেয়ারের লোভহীনতা, মখলুকের একীন থেকে বেপরোয়া জান্দাদিল মুবাল্লীগ একদল যুগ নির্মাতা হিসাবে। যারা একদিন বদলে দিব এই ঘুনে ধরা জাহেলি সমাজ ব্যাবস্থাকে। যারা দ্বীনের ফেরি করে বেড়াবে গোটা জাহানে। সারা দুনিয়ায় দ্বীন নিয়ে সকল বর্ণ ও ভাষার উম্মতের দ্বারে দ্বারে ঘুরবে। গত দেওবন্দ সফরে দারুল উলুম দেওবন্দে পড়ছে  মারকাজুল উলুম আশ শরইয়্যাহর অনেক ত্বালেবে এলিমকে দেখলাম। যারা পরম শ্রদ্ধেয় উস্তাদ মাওলানা জিয়া বিন কাসেমকে অনেক একরাম,শ্রদ্ধা করল। নিজেরা পাক করে খাবার খাওয়াল আমাদের।

বিদগ্ধ  আলেমেদ্বীন,  মারকাজুল উলুম আশ শরইয়্যাহ’র মুহাতামিম, তাহযিব ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মাওলানা জিয়া বিন কাসেম দা.বা কিভাবে নিজের ছাত্রদের মহব্বত আর ভালবাসা দিয়ে গড়ে তুলছেন নিজের কলিজাট টুকরো সন্তানের মতো, তা মারকাজুল উলুম আশ শরইয়্যাহ কেউ না দেখলে বিশ্বাস করবে না। মাদরাসার মুহতামিম একদিকে যেমন একজন মুহাক্কিক আলেমেদ্বীন অপরদিকে একজন মুবাল্লীগে ইসলাম। বাংলাদেশ থেকে দারুল উলুম দেওবন্দ পড়ুয়া তুখোর মেধাবী আলেমদের একজন। এককথায় যাকে নিসংকোচে দেওবন্দের সূর্য সন্তান বলা চলে। তার বহুমূখি কর্মতৎপরতা চোখে পড়ার মতো। চিন্তাশীল হাজার হাজার আলেমেদের চিন্তক আইডল তিনি। কাজ করেন দুহাতে। একজন অনলবর্ষী বাগ্মী তিনি। তার কুরআন হাদীসের দলীল ভিত্তিক আলোচনা স্রোতাদের আত্মার খোরক যোগায়। হৃদয়ে হেদায়তের স্পৃহা জাগ্রত করে।

 

শুধু বাংলাদেশ নয়, আন্তর্জাতিকভাবে গোটা বিশ্বে এখন মাওলানা  দ্বীনী খদমত বৃস্তিত। সারা দুনিয়ার বহু দেশে তিনি দাওয়াত ও তাবলীগের মোবারক মেহনত নিয়ে সফর করেছেন। পৃথিবীর অর্ধ শতাধিক দেশে তিনি দ্বীনের মেহনত নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে বারে বারে সফর করেছেন। বর্তমান সময়ে একদিকে যেমন বিভিন্ন দেশের ইজতেমায় শরিক হচ্ছেন নিয়মিত, আবার বাংলাদেশের প্রতিটি জেলাতে দাওয়াতের কাজ নিয়ে তিনি ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

মাওলানা জিয়া বিন কাসেম বলেন আমি চাই, আমার মাদরাসার ছাত্ররা

যেন একেকজন ছাত্র শায়খুল হিন্দের মতো বিপ্লবী হওয়া, কাসেম নানুতবীর মতো তাকওয়া ওয়ালা হওয়া, রশিদ আহমদ গাঙ্গোহীর মতো মুখলেস  হয়, হুসাইন আহমদ মদনীর মতো আল্লাহ ওয়ালা হয়, আবুল কালাম আযাদের মতো যুগ সচেতন হওয়া, হাকীমুল উম্মত থানভীর মতো বিদগ্ধ লেখক ও বুর্যুর্গ হয় হযরতজী ইলিয়াস এর মতো দরদী দা’য়ী হয়, শায়খুল হাদীস জাকারিয়ার মতো গভীর এলেমের অধিকারী হয়। আলী মিয়া নদভীর মতো আরবী পন্ডিত ও জ্ঞান তাপস হয়, মাওলানা মোহাম্মদ ইউসুফের মতো মেজাজে সাহাবাওয়ালী আলেম হয়। জিয়াউল হক ফারুকীর মতো মুজাহিদ হয়।  আতাউল্লাহ বোখারির মতো জান্দাদিল মর্দে মুমিন হয়।

 

মাওলানা জিয়া বিন কাসেম মনে করেন, আমাদের এলেমের গভীরতা, ঈমানী মেহনত, আমলের পাবন্দি, তাকওয়ার প্রজ্জলতা, সুন্নতের পুনাঙ্গ

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com