বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:৩৭ অপরাহ্ন

বিশ্ব ইজতেমা ও একজন চেড়া পাঞ্জাবীওয়ালা

মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম মিলন | তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম

 

আমি মদিনার মসজিদে বসা ছিলাম, এক মদিনাবাসী টঙ্গী ইজতেমার পর বাংলাদেশে কিছু সময় লাগিয়ে মদিনায় গেছেন। মসজিদে আমি দৌড়িয়ে এসে তাকে ইজতেমা করলাম। এরপর তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, ভাই, আমার দেশের ইজতেমা তোমার কেমন লাগলো?  সে কোন জবাব দিচ্ছেনা,  কিছুক্ষন পর ঠোট ভেঙ্গে কেঁদে দিলো।

 

পরে বুঝলাম, অাসলে এতক্ষন কান্নাকে থামানোর চেষ্টা করছিলেন,  কিন্তু পারলেন না।  আমি বললাম, ভাই কাঁদছ কেন?  আমার দেশ থেকে কি কোন কষ্ট পেয়ে এসেছ? উনি কাঁদতে কাঁদতে বললেন, না ভাই, বরং তোমার দেশে সাহাবায়ে কেরামের নমুনা দেখে আসলাম ! কেমনে?

 

তোমাকে কয়টা বলবো! খুবই বৃদ্ধ এক লোককে দেখলাম, তার মাথায় ছিড়া  ঝুলঝুলা টাইপের কাঁথার পুটলা, বৃদ্ধ শীতে কাঁপছে। বৃদ্ধের পিছনের দিকে তাঁকিয়ে দেখি, তার পড়নে ছিড়া পাঞ্জাবী । আমার মনে হলো, যতটুকুন দূর থেকে সে ভাড়া দিয়ে এসেছে, ইজতেমায় না আসলে, ঐ ভাড়ার টাকা দিয়ে সে একটি নতুন জামা কিনতে পারতো! কিন্তু তা না করে, ঐ টাকা দিয়ে ইজতেমায় এসেছে। আবার কাঁদা শুরু হইলো।

 

আবার বলছে, তোমাদের মাঠ কত অসমতল! বাঁশের খুটি, সামিয়ানা ছিরা, কত শীত! সব কষ্টকে উপেক্ষা করে কত সুন্দরভাবে তাঁরা ইজতেমা করছে! তাঁদের চেহারার দিকে তাকালে মনে হয় কোন কষ্টই নাই!

 

এরপর বলেন,আমার দেশের একটা মরুভূমিতে তোমাদের দেশের ঐরকম  টঙ্গীর মাঠ শতটা ঢুকবে। আমার দেশে ইজতেমা হলে এ্যালোমিনিয়ামের খুটি দিতাম, প্লাস্টিকের চট দিতাম, আর পাউয়ার (বিদুৎ) সাপ্লাই এটাতো আমি একাই দিতে পারতাম।

 

কিন্তু আমি বুচ্ছি যে, এরকম ইজতেমা আমার দেশে না হয়ে কেন তোমার দেশে হয় !

 

বর্ণনাকারী বলেন, সেই ছিরা পাঞ্জবীওয়ালার কোরবানীর বদৌলতে একটা আরবীর দ্বীলে ধাক্কা লাগছে ! সে তাতে সাহাবায়ে কেরামের সৌরভ অনুভব করেছেন!

 

এজন্য, বাহ্যিক চাকচিক্য, দল ভারী করণের জজবা, হিংসা, অহংকার, প্রতিশোধের জজবা ইত্যাদি নাপাকের দ্বারা বিশ্ব ইজতেমা প্রতিষ্ঠিত হয়নি, হয়েছে গ্রাম বাংলার সাদামাটা মানুষের খাস কোরবানীর বিনিময়ে।

 

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com