শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:২২ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম ::
হাটহাজারী মাদরাসা বন্ধ ঘোষনা এক আল্লাহ জিন্দাবাদ… হাটহাজারী মাদরাসায় ছাত্রদের বিক্ষোভ ভাঙচুর : কওমীতে নজিরবিহীন ঘটনা ‘তাবলিগের সেই ৪ দিনে যে শান্তি পেয়েছি, জীবনে কখনো তা পাইনি’ তাবলীগের কাজকে বাঁধাগ্রস্থ করতে লাখ লাখ রুপি লেনদেন হয়েছে: মাওলানা সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী দা.বা. (অডিওসহ) নিজামুদ্দীন মারকাজ বিশ্ব আমীরের কাছে বুঝিয়ে দিতে আদালতের নির্দেশ সিরাত থেকে ।। কা’বার চাবি দেওবন্দের বিরোদ্ধে আবারো মাওলানা আব্দুল মালেকের ফতোয়াবাজির ধৃষ্টতা:শতাধিক আলেমের নিন্দা ও প্রতিবাদ একান্ত সাক্ষাৎকারে সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী :উলামায়ে হিন্দ নিজামুদ্দীনের পাশে ছিলেন, আছেন, থাকবেন তাবলীগের হবিগঞ্জ জেলা আমীর হলেন বিশিষ্ট মোহাদ্দিস মাওলানা আব্দুল হক দা.বা.
বাংলাদেশী আলেমদের পক্ষ থেকে আল্লামা সাদ কান্ধলভীর কাছে ক্ষমা চাইলেন মুফতি ইজহার।

বাংলাদেশী আলেমদের পক্ষ থেকে আল্লামা সাদ কান্ধলভীর কাছে ক্ষমা চাইলেন মুফতি ইজহার।

নিজস্ব রিপোর্টার; তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম

শায়খুদ দাওয়াহ, শায়খুল ইসলাম আল্লামা সাদ কান্ধলভীর কাছে ক্ষমা চেয়ে চিঠি লিখেছেন মুফতী ইজহার। গত দুটি বছর যাবত মাওলানা সাদ কান্ধলভীর ব্যপারে হেফাজতে ইসলামসহ বাংলাদেশের কতিপয় আলেমের অনাকাঙ্খিত আচরণের কারণেই ক্ষমা চেয়েছেন বলে জানা যায়। মুফতি ইজহার তার চিঠিতে লিখেন, “বাংলাদেশের যে সকল উলামায়ে কেরাম অজ্ঞতাবশতঃ তাহকিক ছাড়াই এই অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন তাদের সকলের পক্ষ থেকে আপনার নিকট ক্ষমা চাচ্ছি।”

তিনি চিঠিতে ক্ষমা চাওয়ার কারণ উল্লেখ করে লিখেন, “যেন বাংলাদেশের মুসলমানদেরকে আল্লাহ তা’আলা বেয়াদবীর কু-পরিণতি থেকে হেফাযত করেন।”

উল্লেখ্য যে, ২০১৭ সনে বাংলাদেশের বিশ্ব ইজতেমায় মাওলানা সাদ কান্ধলভীর আসাকে কেন্দ্র করে কতিপয় অপরিণামদর্শী বিপথগামী আলেম যে সহিংসতার সৃষ্টি করেছিলেন, সেটাই ধীরে ধীরে একটি আত্মঘাতি আন্দোলনে রূপ নেয়। তারই অংশ হিসেবে গোটা দেশব্যপী ‘ওজাহাতি জোর’এর নামে জনসাধারণকে ভুল ও বিভ্রান্তিমুলক তথ্য দিয়ে দাওয়াত ও তাবলীগের মোবারক মেহনত ও তার মারকাযের ব্যপারে ক্ষিপ্ত করে তোলা হয়। এসব লোকসভায় বিষোদগার চলতে থাকে বিশ্ব আমীর শায়খুল হাদীস আল্লামা সাদ কান্ধলভী ও বিশ্ব মারকাজ নিযামুদ্দীনের ব্যপারে। এরই ধারাবাহিকতায় ১লা ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে তাবলীগের দুজন সাথীকে শহীদও করা হয়। আহত হয়ে এখনো কাতরাচ্ছেন অগণিত দাঈ ও মুবাল্লিগ। এসব আত্মঘাতি কর্মকাণ্ডের ফলে সদ্য অনুষ্ঠিত ৫৪তম বিশ্ব ইজতেমা প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিলো।

লাগাতার এধরণের সহিংসতা ও ভাতৃঘাতি সংঘাতের ফলে বিশ্ব আমীর বাংলাদেশে আসতে অনিহা প্রকাশ করেন। তাই বাংলাদেশের সচেতন ও পরিণামদর্শী শীর্ষ উলামায়ে কেরাম শায়খুল ইসলাম সাদ কান্ধলভীর কাছে ক্ষমা চেয়ে তাকে এদেশে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন।

ইজতেমায় অংশগ্রহণ করতে আসা নিযামুদ্দীনের মুরুব্বীদের জামাতের মাধ্যমে উক্ত চিঠিটী গতকাল রাতে নিযামুদ্দীনে পাঠানো হয়েছে।

পাঠকের সামনে মুফতি ইজহারুল ইসলাম সাহেবের চিঠিটির বঙ্গানুবাদ হুবহু পেশ করা হলোঃ

 

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

বরাবর
আমার নেতা ও মুরুব্বী হযরতজ্বী (চতুর্থ) মাওলানা মুহাম্মদ সাদ সাহেব দামাত বারাকাতুহুমুল আলিয়া
আমীর, জামাতে তাবরীগ মারকায নিজামুদ্দীন, দিল্লী

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাহুতু।

মাসনূন সালাম ও অজস্র সম্মান প্রদর্শন করতঃ বান্দা মুহাম্মদ ইজহারুল ইসলাম, খাদেম জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়া লালখান বাজার চট্টগ্রাম এবং হযরত মুফতিয়ে আজম মুফতি ফয়যুল্লাহ সাহেব কুদ্দিসা সিররুহুম বাংলাদেশ এর উত্তরসূরী হওয়ার কারণে সংকটময় মূহুর্তে তারই পদাঙ্ক অনুসরণ করে দীর্ধদিন সত্য অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যে ইস্তেখারা করতে থাকি। অবশেষে আল্লাহর পক্ষ হতে বেশকিছু সুসংবাদ দ্বারা ধন্য হয়ে টঙ্গী ইজতেমায় অংশগ্রহণকারী নিযামুদ্দিনের থেকে আগত জিম্মাদারগণের সাথে নিজেও অংশ গ্রহণ করেছি। বান্দা মুহাম্মদ ইজহারুল ইসলাম, হযরত মুফতি রিয়াছাত আলী সাহেবসহ নিযামুদ্দীন-এর  ০৬ জন জিম্মাদারের সাথে দীর্ঘ সময় এই সঙ্কটময় মূহুর্তে আমার ইস্তেখারার রহস্য সম্বলিত বিষয়ে মুযাকারা করার পর পূর্ণাঙ্গ আত্মবিশ্বাস অর্জন করে হযরতওয়ালার সহিত একাত্মতা ঘোষণা করছি।

পাশাপাশি গতকাল (১৯/০২/২০১৯) ঢাকার একটি দ্বীনি জলসাতে বান্দা মুহাম্মদ ইজহারুল ইসলাম, হযরত মাওলানা আবুল কাসেম নুমানী দামাত বারাকাতুহুমুল আলিয়া (মুহতামিম, দারুল উলূম দেওবন্দ) এর সাথেও নিজের অবস্থান প্রকাশ করেছি।

সাথেসাথে আগামী ৮ই মার্চ রোজ শুক্রবার আমাদের মাদরাসার বাৎসরিক জলসাতেও মাওলানা শাহ আহমাদ খিজির দামাত বারাকাতুহুমুল আলিয়া (শাইখুল হাদীস, দারুল উলূম ওয়াকফ দেওবন্দ)কেও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত করানোর আশা করছি। পাশাপাশি অত্র জলসাতে হাটহাজারী মাদরাসাসহ অন্যান্য বড় বড় মাদরাসাসমূহের আকাবির উলামায়ে কেরাম উপস্থিত থাকবেন। আমি সেখানেও বিষয়টি সম্পর্কে স্পষ্ট করবো ইনশা আল্লাহ। যার মাধ্যেম কওমের ভুল ধারণার নিরসন ঘটবে বলে আশা করছি।

হযরতওয়ালার নিকট দু’আর দরখাস্ত এবং ইংশা আল্লাহ মার্চের মাঝামাঝি সময় হযরতওয়ালার খেদমতে হাজিয়া দেওয়ারও ইরাদা করছি।

বাংলাদেশের যে সকল উলামায়ে কেরাম অজ্ঞতাবশতঃ তাহকিক ছাড়াই এই অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন তাদের সকলের পক্ষ থেকে আপনার নিকট ক্ষমা চাচ্ছি। যেন বাংলাদেশের মুসলমানদেরকে আল্লাহ তা’আলা বেয়াদবীর কু-পরিণতি থেকে হেফাযত করেন।

ফাকাত ওয়াস সালাম
মুহতাজে দুআ

মুহাম্মদ ইজহারুল ইসলাম
খাদেম, জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়া
লালখান বাজার, চট্টগ্রাম
১৭ই জুমাদাল উখরা
১৪৪০ হিজরী

চিঠিটি প্রকাশের সাথে সাথে অজাহাতি অঙ্গনে তুমুল ঝড় উঠেছে। অনেকেই চিঠিটি পড়ে নীরব হয়ে গেছেন। অনেকেই ভাবছেন, ৮ই মার্চ অনুষ্ঠিতব্য লালখান বাজারের মাহফিলে উপস্থিত থেকে আরো বিস্তারিত জেনে নিবেন। কেউ কেউ মুফতি ইজহারকে ফোন দিয়েও সাক্ষাতের জন্য সময় নিচ্ছেন বলে তার খাদেমের কাছ থেকে জানা যায়।

এ প্রসঙ্গে দারুল উলূম উত্তরার প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মু’আয বিন নূর বলেন, কোন কোন ক্ষেত্রে নীরবতাই শ্রেষ্ঠ জবাব। বিশ্ব আমীর শায়খুল ইসলাম আল্লামা সাদ কান্ধলভী এখনো মুখ খুলেন নি। আমাদেরকেও মুখ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। তাই আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকেই জবাব চলে আসছে। এব্যপারে মুসনাদে আহমদ, আবু দাঊদ, বাইহাক্বীসহ হাদীসের বিশ্বস্ত একাধিক কিতাবে একটি মজার ঘটনা রয়েছে। হযরত আবু হুরাইরা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, “এক ব্যক্তি রাসূলের সামনেই হযরত আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহুকে গালাগালি করতে লাগলো। এসব শুনে রাসূল আনন্দিত হলেন ও হেসে দিলেন। গালাগালি যখন চরমমাত্রায় পৌঁছলো তখন আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু দু’একটি কথার জবাব দিয়ে ফেললেন। সাথে সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাগান্বিত হয়ে উঠে চলে গেলেন। হযরত আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহুও পিছনে পিছনে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! লোকটি গালি দিচ্ছিলো আর আপনি বসে বসে শুনছিলেন। কিন্তু যখনই আমি দু’একটি কথা বললাম সাথে সাথে রাগান্বিত হয়ে উঠে চলে এলেন! রাসূল জবাবে বললেন, যতক্ষণ তুমি চুপ ছিলে ততক্ষণ একজন ফেরেশতা তোমার পক্ষ থেকে জবাব দিচ্ছিলো। আর যখনই তুমি জবাবে দু’একটি কথা বলে ফেললে সাথে সাথে ফেরেশতা চলে গেছে এবং শয়তান চলে এসেছে। আর আমি শয়তানের সাথে এক জায়গায় কখনোই বসি না। ”

তাই আমাদের আরো কিছুদিন মুখ বন্ধ রেখে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। ইনশা আল্লাহ অতিসত্বর আল্লাহ তা’আলা পুরো ধোয়াশা কুদরতের মাধ্যমে পরিষ্কার করে দিবেন।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com