রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১:৫৩ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম ::
কওমী মাদরাসার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা সময়ের দাবী : জাতীয় কওমী শিক্ষাবোর্ড আল্লামা শফীর ইন্তেকালে আরশাদ মাদানীর শোক আল্লামা আহমদ শফী রহ. এর মাগফিরাত কামনায় সাভারের মারকাজুল উলুমে বিশেষ দোয়া আল্লামা শফীর ইন্তেকালে মাহমুদ মাদানীর শোক আল্লামা শাহ আহমদ শফীর ইন্তেকালে জাতীয় কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড এর শোক হাটহাজারী মাদরাসা বন্ধ ঘোষনা এক আল্লাহ জিন্দাবাদ… হাটহাজারী মাদরাসায় ছাত্রদের বিক্ষোভ ভাঙচুর : কওমীতে নজিরবিহীন ঘটনা ‘তাবলিগের সেই ৪ দিনে যে শান্তি পেয়েছি, জীবনে কখনো তা পাইনি’ তাবলীগের কাজকে বাঁধাগ্রস্থ করতে লাখ লাখ রুপি লেনদেন হয়েছে: মাওলানা সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী দা.বা. (অডিওসহ)
একজন ঈমানদার ও তাকওয়া অবলম্বনকারী আলেমেদ্বীন এবং আল্লাহর ওলী

একজন ঈমানদার ও তাকওয়া অবলম্বনকারী আলেমেদ্বীন এবং আল্লাহর ওলী

সৈয়দ মবনু | অতিথি লেখক, তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম  

কেরামতি কার হয়, আল্লাহর না মানুষের? আমার কেন জানি মনে হয় প্রকৃতপক্ষে কেরামতি আল্লাহ পাকের, আর তা প্রকাশিত হয় কোন মানুষের মাধ্যমে। মহান আল্লাহপাক কোন মানুষের মাধ্যমে তাঁর কেরামতি প্রকাশ করেন? যারা আল্লাহর ওলি তাদের মাধ্যমে তিনি তাঁর কেরামতি প্রকাশ করে থাকেন। ‘ওলি’  বলা হয় তাকে, যিনি বেলায়াতপ্রাপ্ত। বেলায়াত হলো আরবী শব্দ। ‘ওয়াউ’, ‘লাম আলিফ’, ‘ইয়া’ এবং ‘তা’ দিয়ে লেখা হয় বেলায়াত। পৃথিবীর অনেক দেশে ‘ওয়াউ’-এর উচ্চারণ ‘বা’ দিয়ে আসে। আবার এখানে ‘ওয়াউ’ উচ্চারণ করলে হবে ‘ওয়ালায়েত’, যা উচ্চারণে ভুল হবে না। বেলায়ত কিংবা ওয়ালায়েত দুটারই অর্থ ; নৈকট্য, বন্ধুত্ব, অভিভাবক, ইত্যাদি।

 

এখন প্রশ্ন হলো, ‘ওলি’ কারা? পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে,

‘ওয়াল্লাজিনা আমানু ওয়াকানু ইয়াত্তাকুন’,

অর্থাৎ যারা ঈমান এনেছে এবং তাকওয়া অবলম্বন করেছে। (সূরা ইউনুস : ৬৩)।

 

আমরা এই আয়াত থেকে বুঝতে পারি, আল্লাহর ওলির প্রধানত দুটি বৈশিষ্ট্য;

১. ঈমানদার হওয়া,

২. তাকওয়া অবলম্বনকারি।

 

প্রশ্ন হলো তারা কিসের উপর ঈমানদার হবেন? সহজ উত্তর তারা ঈমানে মুফাস্সালের সকল বিষয়ের উপর পূর্ণাঙ্গ বিশ্বাস স্থাপন করে থাকেন। আর তাকওয়া হলো কোরআন এবং হাদিসে যা আদেশ করা হয়েছে তা পালন করা এবং যা নিষেধ করা হয়েছে তা বর্জন করা।

 

মাওলানা সাদ কান্ধালভী সম্পর্কে ওয়াকিফহাল সবাই অবগত তিনি একজন ঈমানদার ব্যক্তি এবং সারাটি জীবন তিনি ঈমানের মেহনত করেছেন। ঈমানের মেহনতের জন্যই তাঁর পূর্বপুরুষ মাওলানা ইলিয়াস (র.) দিল্লির বস্তি নিজামুদ্দিনের বাঙ্গালাওয়ালী মসজিদ থেকে তাবলিগের কাজ শুরু করেছিলেন। আর মাওলানা সাদ কান্ধালভীর তাকওয়ার ব্যাপারে তার শত্রুরা পর্যন্ত স্বীকার করেন। যারা আজ তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে নিজামুদ্দিন মারকাজ থেকে বেরিয়ে এসেছেন তাদের বক্তব্যগুলো সমন্বয় করলে মূলত মাওলানার তাকওয়ার বিষয়টিই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মাওলানার বক্তব্য শোনলে তাকওয়ার প্রতিই ঈমানদারদের মন জেগে ওঠে। হযরত মাওলানা যখন তাঁর বয়ানে কোরআন-হাদিস ভিত্তিক ইখলাস আর তাকওয়াকে সামনে নিয়ে হযরত সাহাবায়ে কিরাম (রা.)-এর আমল থেকে দ্বীনের দাওয়াত ও ইলমের খিদমাত প্রসঙ্গে কথা বলেছেন তখনই একদল মানুষের গায়ে আগুণ লেগে যায়। তারা শুরু করে দেয় অপপ্রচার। হক্কানি উলামায়ে কেরামদের অনেকই বিভ্রান্ত হলেন এই অপপ্রচারে। অতপর পক্ষ-বিপক্ষ হয়েগেলো হক্কানী উলামায়ে কেরামদের মধ্যে। অতপর প্রবেশ করে গোজরাটি-ননগোজরাটি, পাকিস্তানী-ইন্ডিয়ান, দেওবন্দ- ওয়াকফ দেওবন্দ, দেওবন্দ-সাহরানপুর, দেওবন্দ-নাদুয়াতুল উলামা, দেওবন্দের ভেতরে বিভিন্ন গ্রুপ ইত্যাদি অনেকগুলো পুরাতন সংঘাত।

 

আল্লামা সৈয়দ আবুল হাসান আলী নদভী (র.)-এর খলিফা এবং মাওলানা সালমান মাযহারীর দামান্দ হলেন মাওলানা সাদ কান্ধালবী, ফলে দেওবন্দের নদওয়া বিরোধীরা সাদ সাহেবের বিরুদ্ধে মাঠে কাজ শুরু করেন। শায়খুলহাদিস মাওলানা জাকারিয়া (র.) হলেন মাওলানা সাদ কান্ধালবীর বাবার নানা, তাই সাহরানপুরের সাথে যাদের মতানৈক্য তারা মাঠে আসেন। দারুল উলূম দেওবন্দের সাথে সংঘাতের মধ্যদিয়েই ওয়াকফ দেওবন্দ প্রতিষ্ঠিত হয়। ওয়াকফ দেওবন্দ মাওলানা সাদ কান্ধালবীর পক্ষ নিলে দেওবন্দের যাদের সাথে ওয়াকফ দেওবন্দের সংঘাত ছিলো তারা সাদ সাহেবের বিরুদ্ধে কথা বলতে শুরু করেন।

 

পাকিস্তানের একটি গ্রুপ সর্বদাই তাবলিগের বিশ্ব মারকাজ দিল্লি থেকে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্ঠায় ছিলেন, তারাও এই সুযোগে মাঠে কাজ শুরু করেন। ফলে চারদিকে এক সাথে সবাই মাঠে এসে আঘাত করলে বিষয়টি খুব দ্রুত বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং সবাই মাওলানা সাদ কান্ধালবীর দিকেই আঘাতের হাত নিয়ে এগিয়ে আসেন। কিন্তু ঘূর্ণি ঝড়ের মুখোমুখিও মাওলানা সাদ কান্ধালবী থাকেন তাঁর নীতিতে অটল এবং অবিচল। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ পাক বলেছেন, ‘মনে রেখো, যারা আল্লাহর ওলি (বন্ধু), তাদের না কোন ভয় ভীতি আছে, না তারা চিন্তান্বিত হবে। (সুরা ইউনুস : ৬২)। এই আয়াতের তাফসিরে আল্লামা মাহমুদ ইবনে আব্দুল্লাহ আলুসী (র.) বলেন, পার্থিব জীবনে ওলি-আল্লাহদের ভয় ও দুশ্চিন্তা থেকে নিরাপদ থাকা অর্থ হল, পৃথিবীবাসী সাধারণত যেসব ভয় ও দুশ্চিন্তার সম্মুখিন; পার্থিব উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ,আরাম-আয়েশ, মান-সম্ভ্রম ও ধনসম্পদের সামান্য ক্ষতিতেই যে তারা মুষড়ে পড়ে এবং সামান্য কষ্ট ও অস্থিরতার ভয়ে তা থেকে বাঁচার তদবিরে রাত-দিন ব্যস্ত থাকে, আল্লাহর ওলিরা থাকেন এ সবের অনেক উর্ধ্বে। তাঁদের দৃষ্টিতে না পার্থিব ক্ষণস্থায়ী মান-সম্ভ্রম ও আরাম-আয়েশের কোন গুরুত্ব আছে যা অর্জন করার জন্য সদা ব্যস্ত থাকতে হবে, আর না এখানকার দুঃখ-কষ্ট পরিশ্রম কোন লক্ষ্য করার মত বিষয় যা প্রতিরোধ করতে গিয়ে অস্থির হয়ে উঠতে হবে। বরং তাঁদের অবস্থা হল; তারা মহান আল্লাহ্ তা’আলার প্রেম-মহত্ত্ব, আর তাঁর ভয়ভীতিতে এমনভাবে আচ্ছন্ন থাকেন যে, এর মুকাবিলায় তাঁদের পার্থিব দুঃখ-বেদনা, আরাম-আয়েশ ও লাভ-ক্ষতির গুরুত্ব তৃণ-কণিকার মতও নয়। (তাফসিরে রূহুল মা’আনী)।

 

ওলিরা বিভিন্ন স্তরের হয়ে থাকেন। সর্বোচ্চ স্তর হলো নবী-রাসুলদের। কারণ, প্রত্যেক নবীর জন্য ওলী হওয়া অপরিহার্য। নবী ও রাসুলদের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তর হল সাইয়্যেদুল আম্বিয়া নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর এবং এ বেলায়েতের (নৈকট্যের) সর্বনিম্ন স্তর হল সুফি-সাধকদের। সুফি-সাধকদের মধ্যে সর্বোচ্চ হলেন তারা যাদের অবস্থান ‘মাকামে ফানা’য়। ‘মাকামে ফানা’ হলো আত্মবিলুপ্তির স্তর। তাদের অবস্থা এমন হয় যে, তাদের অন্তরাত্মা আল্লাহর স্মরণে এমনভাবে ডুবে যায় যে, পৃথিবীতে কারো মায়া-ভালবাসাই এর উপর প্রবল হতে পারে না। সে যাকে ভালবাসে, আল্লাহর জন্য ভালবাসে, যার প্রতি ঘৃণাপোষণ করে তাও আল্লাহর জন্য করে। এক কথায় তার প্রেম ও ঘৃণা, ভালবাসা ও শত্রুতা কোনটাই নিজের ব্যাক্তিগত কোন কারণে হয় না। এরই অবশ্যম্ভাবী পরিণতি হল যে তাঁর দেহ মন, বাহ্যাভ্যন্তর সবই আল্লাহ্র সন্তুষ্টির অন্বেষায় নিয়োজিত থাকে। তখন সে প্রত্যেক এমন কাজ থেকে বিরত থাকে যা আল্লাহ্ তা’আলার কাছে পছন্দ নয়। যারা মাওলানা সাদ কান্দালভীর সহবত লাভ করেছেন, তাদের জানা আছে তিনিও এই পর্যায়ের ওলি।

 

হযরত কাযী সানাউল্লাহ পানিপথী (র.) তাঁর তফসীরে মাযহারীতে বলেছেন, বেলায়েতের স্তর প্রাপ্তির পন্থা হলো ১. কোন ওলির সংসর্গ, ২. এই ওলির আনুগত্য ও ৩. আল্লাহর অধিক যিকর। এই তিনটাই মাওলানা সাদ কান্ধালভীর মধ্যে আমরা দেখতে পাই। তিনি অসংখ্য ওলির সংসর্গ লাভ করেছেন। মা এবং বাবার দিকে তাঁর জন্মই ওলির খান্দানে। তবে তিনি বিশেষ করে আল্লামা সৈয়দ আবুল হাসান আলী নদভী (র.)-এর কাছে আধ্যাত্মিক সাধনা করেছেন। তিনি সর্বদাই এই ওলির প্রতি আনুগত্যশীল ছিলেন। আর যিকির তো তাঁর মধ্যে সর্বদাই চালু রয়েছে।

 

হযরত আসমা বিনতে ইয়াযিদ (রা.) থেকে বর্ণিত হযরত রাসুল (স.) ওলিদের পরিচয় বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন,

 

الذ ين اذ ارء وا ذكرالله

অর্থাৎ, যাদেরকে দেখলে আল্লাহর কথা মনে হয়, তারাই ওলি। (ইবনে মাযা)।

অর্থাৎ যাদের সান্নিধ্যে বসে মানুষ আল্লাহর যিকরের তাওফিক লাভ করতে পারে এবং দুনিয়ার মায়া কম অনুভুত হয়, তারাই ওলি। মাওলানা সাদ কান্ধালভীর সহবতে বসলে এবং তাঁর কথা শোনলে কিংবা তাঁর কথা ভাবলে আল্লাহর কথা বেশি বেশি স্মরণ হয়, তাই আমার দৃষ্টিতে তিনি ওলি। তবে অন্য কারো দৃষ্টিতে এই লক্ষণগুলো নাও আসতে পারে। বিভিন্নজনের দৃষ্টিভঙ্গি বিভিন্ন রকম থাকে বলেই একেকজনের কাছে একেকজন ওলি বলে মনে হয়।

 

যদিও কেরামতি দিয়ে ওলি হওয়া, না হওয়া নির্ভর করে না। কেরামতি কারো থাকতে পারে, নাও থাকতে পারে। তবে মাওলানা সাদ কান্ধালভীর অনেক কেরামতি রয়েছে। তাঁর সবচে বড় কেরামতি দ্বীনের কাজ তাবলিগের মধ্যে যে আগাচাগুলো জড়িয়ে গিয়েছিলো তা ঝেড়ে ফেলে দিয়ে তিনি আমীরের দায়িত্ব গ্রহণে সক্ষম হয়েছেন। দীর্ঘদিন এতবড় একটি জামায়াত আমীর বা মুর্শিদ ছাড়া পরিচালিত হয়েছে, তা ভাবতেও শরীর শিউড়ে ওঠে। যেভাবে তাবলিগ আমির ছাড়া চলা শুরু করেছিলো তা দেখে সত্যই বিভ্রান্তির ভয় ছিলো। তিনি সাহস করে কাড়াল ধরেছেন এবং বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করেছেন। তিনি আমির হওয়ার পর আগাচাগুলো একটি লাফ দিয়েছে সত্য, তবে দীর্ঘদিন দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে না ইনশাল্লাহ। তাবলিগের কাজের শত বছর হয়েগেছে। কোন কাজের শত বছর অতিক্রম করলে তাতে কিছুটা সংস্কারের প্রয়োজন হয়। দক্ষ সংস্কারক ছাড়া তাবলিগের মতো মহান কাজের সংস্কার সম্ভব নয়। মহান আল্লাহ পাক মাওলানা সাদ কান্ধালভীকে সেই যোগ্যতা এবং ধৈর্য্য দিয়ে গড়েছেন বলে কার্যকারণে মনে হয়। যে ঝড় উঠেছে তা মূলত তাঁর কেরামতি। তিনি তাঁর দক্ষতা, ধৈর্য্য এবং আল্লাহর মদদে একদিন এই ঝড় থামাতে সক্ষম হবেন বলে আমাদের বিশ্বাস।

 

মাওলানা সাদ কান্ধালভী ইতিহাসে প্রথম সংস্কারক নয় যার বিরুদ্ধে সময়ের হাওয়া গর্জে উঠেছে। ইমাম আবু হানিফা (র.), ইমাম মুহাম্মদ, ইমাম ইবনে তাইমিয়া প্রমূখ অনেকের বিরুদ্ধেই সময়ের হাওয়া হৈহুল্লোর করেছে। তবে সময়ের হাওয়া অতিক্রমের পর প্রত্যেকের কেরামতিই প্রকাশ পেয়েছে এবং পরবর্তীরা স্বীকার করেছে তাদের মহত্ত্বের কথা। আমাদের বিশ্বাস, মাওলানা সাদ কান্ধালভীর ক্ষেত্রেও তা ঘটবে। মাওলানা সাদ তাবলিগের জন্য এই জামানার মুজাদ্দিদ, তা একদিন প্রমাণিত হবে ইনশাল্লাহ।

 

মাওলানা সাদ কান্ধালভীর সমর্থক আলেম-উলামা কিংবা তাবলিগী সাথী কেউ অসুস্থ্য হলে, এক্সেডেন্ট করলে, তাদের ছেলে-মেয়েদের কারো কোন সমস্যা হলে কিংবা তাদের কোন কর্মসূচী যে কোন রকমের সমস্যার মুখোমুখি হলে বিরোধী পক্ষের কেউ কেউ এগুলোকে আল্লাহর গজব বলে চিহ্নিত করে ফেসবুকে পোস্ট কিংবা বক্তব্য দিতে দেখা যায়। অথচ এইসব ঘটনা পৃথিবীতে ঘটছে স্বাভিক নিয়মে উভয়গ্রুপের মধ্যেই। যারা প্রতিপক্ষে কিছু ঘটলে সেদিকে আঙ্গুল উঠিয়ে গজব গজব বলে চিৎকার করছেন তারা নিজেদের মধ্যে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে দেখছেন না কিংবা দেখলেও না দেখার অভিনয় করছেন। কিছু কিছু চিৎকার দেখে মাঝেমধ্যে ইচ্ছে হয় আঙ্গুল উঠিয়ে বলি, এই তো গজব এখানেও এসেছে। কিন্তু আঙ্গুল উঠাতে গিয়ে মনে হয় ‘গালও আমার হাতও আমার’। উভয় পক্ষের আলেমরা আমার আকাবির কিংবা বন্ধু-সহযোদ্ধা, ইয়া আল্লাহ তুমি আমাদেরকে মাফ করো ভাই ভাইয়ের বিরুদ্ধে অপপ্রচার থেকে।

 

সবশেষে মাওলানা আমিন উদ্দিন শায়খে কাতিয়া (র.)-এর ভাষায় বলতে চাই ইয়া আল্লাহ তুমি আমাদেরকে এক করো, নেক করো, কালেমার সাথে মউত করো।

———

(বি. দ্র. : আমার এই লেখা সেইভ করে রাখবেন ঐ দিনের জন্য যেদিন আপনাদের ভুল ভাঙবে যারা আজ ঈমানের সাথে ঈমানী দায়িত্ব মনে করে মাওলানা সাদ কান্ধালভীর বিরোধীতা করছেন। কারণ, অতীতে এমন অসংখ্য ভুল ভাঙার ঘটনা রয়েছে। আমাদের নিকট অতীতেও হযরত হাফেজ্জী হুজুর, শায়খুলহাদিস আজিজুল হক, মাওলানা রিয়াসত আলী শায়খে চৌঘরি, মাওলানা লুৎফুর রহমান শায়খে বর্ণভী, মুফিতি আমিনী, প্রিন্সিপাল হাবিবুর রহমান, মাওলানা নুর উদ্দিন শায়খে গহরপুরী প্রমূখের বিরুদ্ধে অপপ্রচার হয়েছে। ওদের অনেকগুলো ঘটনার নীরব স্বাক্ষী আমি। হুবহু ঘটনা বর্ণনা করলে নতুন প্রজন্মের অনেকের তালু-জিহ্বায় লেগে যাবে। আল্লাহ মাফ করুন আমাকে আমাদের আকাবিরদের মধ্যকার ফিৎনার নতুন করে পর্যালোচনা থেকে। )

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com