রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:৫৭ অপরাহ্ন

মসজিদ থেকে জামাত বের করে দিলে করণীয়

সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ; তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম

সম্প্রতি বাংলাদেশে একটি প্রবণতা লক্ষ্যণীয় যে, কিছু উগ্রপন্থী লোকজন তাবলীগের মূলধারার সাথীদের উপর নানানস্থানে আক্রমন ও জঙ্গী হামলা করে আল্লাহর রাস্তার মেহমনাদেরকে মসজিদ থেকে বাহির করে দিচ্ছে। পৃথিবীর ইতিহাসে এভাবে ব্যাপকহারে মসজিদ থেকে জামাত বের করে দেয়া ও মসজিদে আল্লাহর নাম নিতে বাঁধা প্রদানের ইতিহাস বিরল ঘটনা। খাওয়ারিজ সম্প্রদায়ের পূর্ববর্তি ইতিহাস পাঠ করলেও এমন জঘন্যতম কাহিনী খোঁজে পাওয়া যায় না। মসজিদে বাঁধা দিয়ে এদেশে তাবলীগের কাজ আটকানো যাবে না। কারণ, সৌদি আরব যেখানে মসজিদে কাজ করতে দেয় না, সেখানেও তাবলীগের কাজ চলে। রাশিয়া যেখানে কাজের কোন পরিবেশই নেই, সেখানেও তাবলীগের কাজ চলে। মসজিদে বাঁধা দিলে বাসায় চলবে। বাংলাদেশের বহু জেলায় বর্তমানেও বিদাতী লোকজনের কারণে বাসা ভাড়া নিয়ে নামাজ, গাশত, তালিম চলে। এভাবে চলবে। জুজুর ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। এই বাঁধা প্রদানের উগ্রতা প্রমাণ করে বিরোধীরা আর বেশিদিন ঠিকতে পারবেন না।

এর দ্বারা দুটি বিষয় স্পষ্টঃ

(১) তারা নৈতিকভাবে পরাজিত: মানুষ যখন আর্দর্শিক জায়গায় টিকতে পারে না, পরাজিত হয়, তখন তার শেষ ভরসা-ই হল গায়ের জোড়ে মাঠ দখল রাখা। তখন পরাজিত শক্তি নৃশংসতা ও বর্বরতার পথ বেছে নেয়। তবে এটি সত্য গায়ের জোড়ে মাঠ দখল রাখা যায়, কিন্তু মানুষের দীলের ময়দান দখল করা যায় না। এটি এখন স্পষ যে, মেহনতের ময়দানে তাদের কাজ নেই। মাদরাসার ছাত্র দিয়ে তাবলীগ হয় না বা হবে না, এটি তারা ভাল করেই বুঝেছেন। দেশের সকল মাদরাসা ছুটি দিয়ে ছোট ছোট বাচ্চা দিয়ে মাঠ ভরা যায়, কিন্তু জামাত বের করা যায় না।

(২) জামাতের হিম্মত বাড়ছে: বিরোধীরা মূলধারার মেহনতকে প্রচন্ড ভয় পান। তারা জানেন, মেহনতের গতির সামনে টিকা যাবে না। তাই মসজিদে মসজিদে তাড়িয়ে দিয়ে দুর্বল করতে চান। তবে আশার কথা হল, এর দ্বারা হক -বাতিলের অবস্থান আরো স্পষ্ট হচ্ছে। সাথীদের ভেতর ইস্তেকামাত, হিম্মত ও ঈমানী জজবা বাড়ছে। তাবলীগের শুরুর জামানায় বেদাতী, ভন্ডরা সারা ভারতবর্ষেই এই কাজগুলো করত। মসজিদ থেকে জামাত বের করে দিত। ওহাবিরা মসজিদে ঢুকলে সাবান দিয়ে মসজিদ পরিস্কার করত। জামাতকে মারপিট করত। আমরা আকাবিরদের কুরবানী ও নির্যাতনের এসব গল্প শুনেছিলাম। এখন এই সুন্নতের উপর নিজেরাও আমল করছি। বাংলাদেশে তাবলীগের শুরুর জামানা মনে করেই এখন আবার কাজ করতে হবে। যতো ধাক্কা আসবে ঈমান ততো মজবুত হবে। মাইর খাওয়াই সুন্নত। এই কাজের সাহাবীওয়ালা নকশাই হল, ময়দানে বাঁধাগ্রস্ত হওয়া।

মসজিদে তাবলীগের কাজে বাঁধাগ্রস্ত হওয়ার উপকারিতা:-

(১) রাসুলুল্লাহ (সা:) ও সাহাবাদের সুন্নত জিন্দা হওয়া
(২) ঈমামদ্বার হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়া। কারণ, যারা মুমিন তারাই মসজিদ আবাদ করে।

﴿ إِنَّمَا يَعۡمُرُ مَسَٰجِدَ ٱللَّهِ مَنۡ ءَامَنَ بِٱللَّهِ وَٱلۡيَوۡمِ … ١٨ ﴾ [التوبة: ١٨]
“একমাত্র তারাই আল্লাহর মসজিদসমূহ আবাদ করবে, যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে।”
(৩) আকাবির আসলাফের নকশে ক্বদমে আবার পথ চলা শুরু হওয়া
(৪) তাবলীগের শুরুর জামানার পরিবেশের স্বাদ ও আছর আবার লাভ করা
(৫) সাথীদের দোয়া কান্নাকাটি বাড়িয়ে দেয়ার পরিবেশ তৈরি হয়
(৬) মজলুম অবস্থায় দোয়া কবুলের সুবর্ণ সুযোগ মিলে
(৭) সাধারণ মানুষ হক বুঝে কাজে ঝুঁকার বড় মওকা পায়
(৮) শান্তিকামি মানুষ বিশেষ করে যুব সমাজকে এরদ্বারা আকৃষ্ট করা যায়
(৯) এরদ্বারা প্রশাসনের কাছে গাশত করার পরিবেশ তৈরি হয়
(১০) সর্বোপরি: আল্লাহর রাস্তায় চিল্লা কবুল হওয়ার এটি বড় লক্ষন

মসজিদে তাবলীগ জামাতকে বাঁধা প্রদানের ক্ষতি:-
(১) বাঁধাদানকারী জালেম হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়া। আল্লাহ পাক, কুরআনুল কারিমে বলেছেন,
﴿وَمَنۡ أَظۡلَمُ مِمَّن مَّنَعَ مَسَٰجِدَ ٱللَّهِ أَن يُذۡكَرَ فِيهَا ٱسۡمُهُۥ وَسَعَىٰ فِي خَرَابِهَآۚ ﴾ [البقرة: ١١٤]
“আর তার চেয়ে অধিক জালেম কে, যে আল্লাহর মসজিদসমূহে তার নাম স্মরণ করা থেকে বাধা প্রদান করে এবং তা বিরান করতে চেষ্টা করে?”
(২) মানুষের ঘৃণার পাত্রে পরিণত হওয়া
(৩) বাতিল হওয়ার প্রমাণ সাব্যস্ত হওয়া
(৪) রাষ্টিয়ভাবে গোয়েন্দা জরিপে উগ্রপন্থী প্রমান হওয়া
(৫)সারা দুনিয়ার আহলে হক উলামায়ে কেরামের কাছে ঘৃনীত হওয়া
(৬) মুসলিম বিশ্বের শান্তিকামী মানুষ থেকে এরা বিচ্ছিন্ন হওয়া
(৭) স্থানীয় প্রসাশনের কাছে জঙ্গী ও সন্ত্রাসী হিসাবে চিহ্নিত হওয়া
(৮) এরদ্বারা ক্রমশ জনবিচ্ছিন্ন হওয়ার পথে হাটা
(৯) শন্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী ও সাম্প্রদায়িক সংঘাত সৃষ্টিকারী প্রমানিত হওয়া
(১১) দুনিয়া ও আখেরাতে বেজ্জত ও লাঞ্ছিত হওয়া

মসজিদে তাবলীগ জামাত প্রবেশে বাঁধা দিলে করণীয়:-
(১)প্রথম সকল সাথীকে আমলে লাগিয়ে দেয়া
(২) সকল সাথী মিলে এলাকায় ব্যাপক গাশত করা (বিশেষ করে যুব শ্রেনীর কাছে গাশত করা, মসজিদে দাওয়াত দেয়া )
(৩) প্রসাশনের কাছে গাশতে যাওয়া (পরচার ফটোকপি ও মোবাইল নাম্বার থানায় জমা দিয়ে আসা)
(৪) প্রসাশনের লোকজন খবর পেয়ে আসলে তাদেরকে ও গনমান্য ব্যক্তিদের একরাম করা ও দস্তারখানাও শামিল করা।
(৫) স্থানীয় চেয়ারম্যান , মেম্বার ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাদেরকে গাশত করা।
(৬)রাতে তাহাজ্জুদ, কিয়ামুল লাইল ও লম্বা দেয়ার এহতেমাম করা।
(৭) সালাতুল হাজতের নামাজ ও খতমে ইউনুস পড়তে থাকা
(৮) মসজিদে থাকতে না পারলে তাবু টানিয়ে মসজিদের বাহিরে থেকে আমল করা। তাও সম্ভব না হলে রাস্তার পাশে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করে আমল চালিয়ে যাওয়া। তবুও স্থান ত্যাগ না করা।
(৯)কেউ গায়ে হাত তুললে সবর করা। কখনো পাল্টা আক্রমন না করা
(১০)এসব পরিস্থিতিতে স্থানীয় জেলা মারকাজ ও কাকরাইলের বড়দের রাহবারি ও পরামর্শ নেয়া।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com