শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:১৯ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম ::
হাটহাজারী মাদরাসা বন্ধ ঘোষনা এক আল্লাহ জিন্দাবাদ… হাটহাজারী মাদরাসায় ছাত্রদের বিক্ষোভ ভাঙচুর : কওমীতে নজিরবিহীন ঘটনা ‘তাবলিগের সেই ৪ দিনে যে শান্তি পেয়েছি, জীবনে কখনো তা পাইনি’ তাবলীগের কাজকে বাঁধাগ্রস্থ করতে লাখ লাখ রুপি লেনদেন হয়েছে: মাওলানা সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী দা.বা. (অডিওসহ) নিজামুদ্দীন মারকাজ বিশ্ব আমীরের কাছে বুঝিয়ে দিতে আদালতের নির্দেশ সিরাত থেকে ।। কা’বার চাবি দেওবন্দের বিরোদ্ধে আবারো মাওলানা আব্দুল মালেকের ফতোয়াবাজির ধৃষ্টতা:শতাধিক আলেমের নিন্দা ও প্রতিবাদ একান্ত সাক্ষাৎকারে সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী :উলামায়ে হিন্দ নিজামুদ্দীনের পাশে ছিলেন, আছেন, থাকবেন তাবলীগের হবিগঞ্জ জেলা আমীর হলেন বিশিষ্ট মোহাদ্দিস মাওলানা আব্দুল হক দা.বা.
অবশেষে হেফাজতে যোগ দিলেন তাবলীগের জুবায়ের!

অবশেষে হেফাজতে যোগ দিলেন তাবলীগের জুবায়ের!

নিজস্ব প্রতিনিধি, তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম

গতকাল চট্টগ্রাম জমিয়তুল ফালাহ ময়দানে হেফাজতে ইসলামের সম্মেলনে অন্যতম প্রধান মেহমান হিসাবে বক্তব্য রাখেন কাকরাইল মসজিদের তাবলীগের মূলধারাচ্যুত মুরুব্বি মাওলানা জুবায়ের। এর মধ্য দিয়ে তিনি প্রকাশ্যে হেফাজতে যোগ দিলেন।

তাবলীগের একজন শীর্ষ মুরুব্বী এভাবে সরাসরি হেফাজতের সমাবেশে অংশ গ্রহণ এবং তার নামে প্রধান মেহমান হিসাবে পোষ্টারিং করা নিয়ে বিষ্মিত তাবলীগের সাথীরা। তারা বলছেন, তাবলীগের অতীতে কোন মরুব্বী এরকম কোন মাহফিল বা সমাবেশে যোগদান করার ইতিহাস নেই। সেখানে স্পষ্ট পোস্টার ছেপে প্রচলিত প্রধান অতিথি সেজে তাদের এসব মাহফিল করায় এখন স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, তারা তাবলীগের চিরাচরিত মূলধারা থেকে ছিটকে পড়ে করুণ পরিণতির দিকে ধাবিত হচ্ছেন।

দেশের আলোচিত সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। কিছুদিন আগে গণমাধ্যমে সংবাদ ছাপা হয়েছিল, সারাদেশে হেফাজত সমর্থকদের মাঝে ব্যাপক গুঞ্জন চলছে তাবলীগের মূলধারা থেকে বিচ্যুত সাবেক আহলে শুরা মাওলানা ক্বারী জুবায়ের তাদের দলে যোগ দিচ্ছেন।

গতকাল বাংলাদেশে চমকে উঠার মতো একটি খবর গোটা ইসলামী অঙ্গনে আলোচনার ঝড় তুলেছে। তাবলীগ জামাতের শত বছর চিরচেনা নিয়ম ও কাকরাইলের চিরাচরিত রক্ষণশীলতা ভেঙ্গে প্রচলিত ওয়াজ মাহফিলে নেমেছেন তাবলীগের মূলধারাচ্যুত এই শীর্ষ মুরুব্বী। গত একবছর ধরে তাবলীগের বিশ্ব আমীর মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বিরোধীতা করতে গিয়ে তাবলিগের উসুলের খেলাফ এসব মুরুব্বিরা নব আবিষ্কৃত নানান ওজাহাতি জোড়/সমাবেশ করলে সরাসরি ওয়াজের মাঠে তাদের শীর্ষ মুরুব্বীদের কখনো দেখা যায় নি। তবে এবার শীত মওসুম থেকে তাবলীগের মূলধারাচ্যুত ২য় সারির কিছু মুরুব্বী নানান মৌসুমি ওয়াজে বয়ান করতে দেখা গেলেও এবার প্রথম সারির শূরাপন্থী নেতারাও ওয়াজ/সম্মেলনে মাঠে নেমেছেন।

গত ২ডিসেম্বর তাবলীগের শূরাদের চিরচেনা রক্ষণশীলতা ভেঙে সাংবাদিক সম্মেলন ও মিডিয়ায় টিভি ক্যামেরার সামনে রাজনৈতিক নেতাদের মতোই প্রেসবিফিং করেন। তার আরেক সহকর্মী মাওলানা ওমর ফারুকসহ হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে তিনি এই সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সাংবাদিকদের নানান প্রশ্নের জবাবে হেফাজতের ডিগবাজ নেতা জুনাইদ আল হাবিব কিংবা মুফতী ফয়জুল্লার মতো মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়ে গোটা দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষকে বিস্মিত ও হতাশ করেন।

এতে করে হেফাজতের প্রতি তার ঝোঁক ও ঘনিষ্ঠতা নতুন করে সর্বমহলে আলোচনা চলছিল তিনি গতকাল সে সংশয় কাটিয়ে হেফাজতের সাথে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন । নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় বলয়ের হেফাজত নেতাদের রাজনৈতিক শোডাউনের মতোই তাবলীগের নামে এসব সমাবেশ ছিল মাওলানা জুবায়েরকে কেন্দ্র করেই। মাঠে ময়দানে বিপর্যস্ত হেফাজতের সামনে নির্বাচনের আগে তাদের শক্তি প্রদর্শনে আর কোন ইস্যু ছিল না। কেউ কেউ এই শক্তি দেখিয়ে নানান জোটে যোগদান ও নমিনেশনের জোর চেষ্টা করেন। আওমী লীগ ও জাতীয় পার্টির বলয়ে আস্থাহীন এই আলেমরা এ নির্বাচনে তেমন কোন সুবিধা করতে না পারলেও বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফন্ট থেকে জামাত লবিং এর কারনে মাওলানা সাদ বিরোধী আন্দোলনের নেপথ্যের মূল কারিগর, ক্বারী জুবায়েরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক সহ কয়েকজন শীর্ষনেতা ধানের শীষ প্রতীকে নমিনেশন পেয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন।

রাজনৈতিক অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন, বর্তমান সরকার বিরোধী বিএনপি জামাত বলয়কে শক্তিশালী করতেই মূলত পাকিস্তানপন্থী মাওলানা জুবায়েরকে দিয়ে হেফাজতের বড় একটি অংশ তাবলীগ নিয়ন্ত্রণ করে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করে স্বার্থ হাসিল করতে চায়। তারা এক্ষেত্রে জুবায়েরকে হাত করে ওজাহাতি শক্তি দেখিয়ে নিজেদের নমিনেশন টিকেটকে অনেকটা নিশ্চিত করতে পেরেছে। এবার মওলানা জুবায়েরকে হেফাজতের সমাবেশক নিয়ে গিয়ে নতুন কোন চালবাজি ও স্বার্থসিদ্ধির রাজনীতি হচ্ছে কি না তা গোয়েন্দা সংস্থার লোকদের খোজে বের করতে হবে।

গত কয়েকদিন আগে একটি বেসরকারী টেলিভিশনে মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ তাবলীগের সংঘাতে তৃতীয় শক্তির কথা বলেছেন। তিনি গত রবিবার সরাসরি এর সাথে পাকিস্তান ও জামাতে ইসলামীর সম্পর্কের কথা বিস্তারিত তুলে ধরেন।

এবিষয়ে, সাভার মারকাজুল উলুম আশ শারয়িয়ার মুহতামিম মাওলনা জিয়া বিন কাসিম বলেন, এরকম সমাবেশে কয়করাইলের আহলে শুরার মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বয়ান করা তাবলিগের শাশ্বত মেজাজ ও ইতিহাসে নেই। মসজিদ ছেড়ে মাঠে ময়দানে রেওয়াজী ওয়াজ কখনো আমাদের বড়রা করেন নি। যে মাহফিলে তাশকিল নেই, খুরুজের ফিকির নেই, বয়ানের পর খুরুজের তরতিব নেই তাবলীগীধারার কোন কাজ নয়।

হেফাজতের শানে রেসালত সম্মেলন তো ইজতেমার মতোই একটি দ্বীনী মাহফিল, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইজতিমায় “ আসসালাতু জামিয়া” সেই এলানের উপর সবাই জমা হয়। আল্লাহর রাস্তায় বের হওয়ার জন্য সবাই জমা হয় বয়ান শুনার জন্য কেউ যায় না।এই শানে রেসালত কি উদ্দেশ্যে হয়েছে আর ইজতিমাগুলো কি উদ্দেশ্যে হয়?দুইটা সম্পূর্ন ভিন্ন জিনিস। জোবায়ের সাহেব যে জন্য পরিচিতি পেয়েছেন সেই নিযামুদ্দিনের তাবলিগ বা ‘ইলিয়াস রহ তাবলিগের’ সাথে এখন উনাদের যে কোন সম্পর্ক নেই এটিই প্রমানিত হচ্ছে।।যুবায়ের সাহেব হয়ত ভিন্ন ধারার কোন তাবলিগ চালু করছেন, করুক আমাদের কোন আপত্তি নাই।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com