শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০১:০৭ অপরাহ্ন

আপনি মাওলানা সাদ কান্ধলভী সম্পর্কে কতটুকু জানেন? সৈয়দ মবনুর কলাম (২য় পর্ব)

আপনি মাওলানা সাদ কান্ধলভী সম্পর্কে কতটুকু জানেন? সৈয়দ মবনুর কলাম (২য় পর্ব)

সৈয়দ মবনু। অতিথি লেখক; তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম

সুপ্রিয় হযরত মাওলানা…,
আপনি যে মাওলানা সাদ কান্ধালভীকে ইহুদ-খ্রিস্টানের দালাল বা অন্য কোন গালি দিচ্ছেন কখনও কি ভেবে দেখেছেন তাঁর উলামা এবং বুজুর্গদের সহবতের কথা? আপনি কি জানেন যে, বিশ্বব্যাপি দাওয়াতে দ্বীনের কাজের সাধনা ও চিন্তা তিনি লাভ করেছেন তাঁর মুরুব্বী উলামায়ে কেরামের সোহবতে থেকে? আপনার কি জানা আছে মাওলানা সাদ ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দ মোতাবেক ১৩৮৫ হিজরিতে দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজে জন্মগ্রহণ করেছেন, তিনি বিশ্বব্যাপি দ্বীনী দাওয়াতের কাজকে গভীরভাবে অবলোকন করেছেন পারিবারিকভাবেই জন্মলগ্ন থেকে, তিনি দেখেছেন শৈশব থেকে নিযামুদ্দীন মার্কাজের বিভিন্ন সংকট, সমস্যা ও নানান সময়ে বড়বড় ব্যক্তিদের বের হয়ে যাওয়ার মতো জটিল বিষয়ে মুফাক্কিরে ইসলামেরা উম্মাহকে আগলে রাখার মতো চিন্তা এবং সাধনা কীভাবে করেছেন?

সুপ্রিয় হযরত মাওলানা…,
আপনি কি জানেন, যাকে গালি দিচ্ছেন তিনি যে, তাবলিগের মধ্যে জ্ঞানের নবজাগরণের একটি নিরব চেতনা, বিশিষ্ট শায়খুলহাদিস, হাফিজে কোরআন কিংবা যুগসচেতনতা? আপনি কি জানেন, মাওলানা সাদ শুধু ভারত, পাকিস্তান কিংবা বাংলাদেশে নয়, তিনি তাঁর মুর্শিদ মুফাক্কিরে ইসলাম সাইয়্যিদ আবুল হাসান আলী মিয়া নদভী (র.)-এর মতো আরব বিশ্ব এবং ইউরোপ সহ গোটা বিশ্বে ইলম ও আমলের মাধ্যমে দ্বীনের মহান এক খাদেম হিসাবে আত্মনিযোজিত করেছেন? জনাব এতবড় ব্যক্তিত্ব হওয়ার পরও আপনি কি জানেন, তাঁর জীবন যে খুবই সাদাসিদে এবং চলাফেরা, লেন-দেনে সত্যিকারের ওয়ারাসাতুল আম্বিয়া? আপনি কি জানেন, তাঁর মধ্যে হযরত সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-দের মতো সবসময় উম্মতের চিন্তা বিদ্ধমান এবং তিনি দাওয়াত, তালিম ও তাযকিয়া ইত্যাদি দ্বীনের সকল ধারায় সাধনা করে যাচ্ছেন? আপনার কি জানা আছে, বর্তমানে বিশ্বব্যাপি তাবলিগের যে ব্যাপক কাজ চলছে তা মাওলানা সাদ কান্ধালভীর চিন্তা, যোগ্যতা ও মেহনতের ফসল?

সুপ্রিয় হযরত মাওলানা…,
আপনি নিশ্চয় জানেন, ‘সোহবাতে সালেহ তোরা সাহেল কুন’, অর্থাৎ ‘সঙ্গগুণে লোহাও জলে ভাসে’ এই কথার সত্যতা? আপনি যাকে ইহুদী-খ্রিস্টানদের দালাল কিংবা মুনাফিক বলে গালি দিচ্ছেন, আপনি কি জানেন তিনি নিজামুদ্দিন মার্কাজের নুরে জ্বলমল রোহানী আল্লাহ ওয়ালাদের এক পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন? শৈশব থেকেই সারা দুনিয়ার জামাতের আনাগোনা আর বুজুর্গদের কোলে কোলে তার বড় হওয়া? আপনি কি জানেন, তিনি শৈশবে বাবাকে হারিয়ে নানা তাবলিগের মহান দা’য়ী মাওলানা ইজহারুল হাসান (র.)-এর কাছে তালিম ও তারবিয়তের মধ্যে বড় হয়েছেন এবং নিযামুদ্দীনের কাশফুল উলুম মাদরাসায় লেখাপড়া করেছেন, আর সরাসরি সহবত ও খেলাফতি লাভ করেছেন বিংশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ সাইয়্যিদ আবুল হাসান আলি নদভি (র.)-এর? আপনি কি জানেন তার শিক্ষকদের মধ্যে ছিলেন, হযরতজী মাওলানা এনামুল হাসান (র.), মাওলানা উবায়দুল্লাহ বলিয়াভি (র.), মাওলানা ইলিয়াস বারাবানকি, মাওলানা ইবরাহিম দেওলা, মাওলানা মুঈন (র.), মাওলানা আহমদ গুদনা (র.), মাওলানা সাব্বির (র.) প্রমুখ। এছাড়া আরব আজম ও হিন্দের বড়বড় আকাবিরদের সোহবত ও নিগরানী পেয়েছেন তিনি সব সময়?

সুপ্রিয় হযরত মাওলানা…,
আপনার কি জানা আছে, মাওলানা সাদ কান্ধলভি লেখাপড়া শেষে নিজামুদ্দিনের কাশিফুল উলুমে শিক্ষকতা শুরু করে দীর্ঘদিন সুনানে আবু দাউদ ও হেকায়াতুস সাহাবার শিক্ষক ছিলেন এবং বর্তমানে তিনি সহী বোখারির নিয়মিত সবক পড়ান অর্থাৎ তিনি শায়খুলহাদিস? আপনি কি তা জানেন, তিনি যে ১৯৮৮খ্রিস্টাব্দে এক সাল অর্থাৎ এক বছর তাবলিগে সময় লাগিয়ে নিজেকে দ্বীনি কাজের জন্য আরও যোগ্য করে গড়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নিয়মিত তাবলিগের সফর করে আসছেন দীর্ঘদিন থেকে, বিশেষ করে আরব বিশ্ব ও আফ্রিকার দুর্গম অঞ্চলে তিনি ব্যাপক সফর করেন? আপনি কি জানেন, যাকে আপনি ইহুদী-খ্রিস্টানদের দালাল বলে গালি দিচ্ছেন তার হাতে ইউরোপ, আফ্রিকা ও আমেরিকা মহাদেশের বিভিন্ন দেশে অগনিত মানুষ ইসলাম গ্রহন করেছেন? আপনি কি জানেন, বিগত ২২বছর ধরে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ইজতেমাতে তিনি নিয়মিত বয়ান, হেদায়তি কথা ও মোনাজাত করে আসছেন এবং এখনও তিনি দৈনিক ৪ঘন্টা নিয়মিত তাবলিগে সময় লাগান? আপনি কি জানেন, তার মেহনতের সবচে উজ্জলতম দিকের মধ্যে একটি হলো, আরবদেরকে ব্যাপকভাবে দাওয়াতের কাজের সাথে সম্পৃক্ত করা? আপনার কি জানা আছে হযরতজী ইলিয়াস (র.) যখন তাবলিগের কাজ শুরু করেছিলেন তখন যে প্রায় বলতেন, ‘আমি চাই আরবের সওগাত আবার আরবদের মাঝে প্রচার ঘটুক। আরবরা এই কাজের নেতৃত্ব দিক। মদীনার সওগাত আবার মদীনা থেকে সারা দুনিয়াতে ছড়িয়ে পড়ুক।’?

সুপ্রিয় হযরত মাওলানা…,
আপনি কি জানেন, মাওলানা সাদ কান্ধালভী আলেম হয়ে দাওয়াতের কাজে লাগার পর তার অক্লান্ত মোজাহাদা, শ্রম ও নিষ্ঠার কারণেই হজরতজী মাওলানা এনামুল হাসান (র.) ১০ সদস্যের যে শূরা কমিটি গঠন করেছিলেন সেখানে তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন এবং অনেক প্রবীণ ও বিজ্ঞ লোকের উপস্থিতিতে তাকে ৩জন আমীরে ফায়সালের একজন মনোনীত করেছিলেন? আপনার কি জানা আছে হযরতজী এনায়মুল হাসান (র.) আমীর নির্ধারণে যে মাওলানা ওবাইদুল্লাহ (র.)-এর পরামর্শে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর ফারুক (রা.) অনুসরণ করেছিলেন? আপনার নিশ্চয় জানা আছে, হযরত ওমর (রা.) ছয়জনের এক শুরা তৈরি করেছিলেন পরবর্তী খলিফা নির্বাচনের জন্য। সেই শুরাই পরামর্শ করে হযরত ওসমান (রা.)-কে তৃতীয় খলিফা নির্বাচন করেছিলো? আপনি কি জানেন সেই শুরায় হযরত মাওলানা সাঈদ আহমদ খান, হযরত মাওলানা ইজহারুল হাসান, হযরত মাওলানা জোবায়রুল হাসান, হযরত মাওলানা মিয়াজি মেহরাব, হযরত মাওলানা মোহাম্মদ, হযরত মাওলানা সাদ, হযরত মাওলানা আজহার, ইঞ্জিনিয়ার হাজী আব্দুল মুকিত, হাজী আব্দুল ওয়াহাব-এর মতো ব্যক্তিরা সদস্য ছিলেন, হযরতজী এনামুল হাসানের ইন্তিকালের পর তিনদিন নিজামুদ্দীনে বৈঠক করেও তারা একক আমীর নির্বাচনে ব্যর্থ হলে অবশেষে তিনজন আমিরে ফায়সাল নির্বাচন করেন, যারা পালাক্রমে আমীরে হিসেবে ফায়সালা দেবেন? আপনি কি জানেন, এই তিন জনের একজন ছিলেন মাওলানা সাদ কান্ধলভী? আপনি চিন্তা করে দেখুন, তাবলিগের মতো একটি মোবারক জামায়াত দীর্ঘ ১৮ বছর আমীরশূন্য চলেছে? আপনি কি জানেন, হযরত মাওলানা ইজহারুল হাসান (র.)-এর ইন্তিকালের পর আমিরে ফায়সাল থাকলেন মাওলানা জোবায়রুল হাসান ও মাওলানা সাদ কান্ধালভী এই দুজন, অতঃপর মাওলানা জোবায়রুল হাসানের ইন্তেকালের পর আমিরে ফায়সাল বেঁচে থাকলেন শুধু মাওলানা সাদ কান্ধালভী? আপনি কি কুদরতের খেলা দেখেছেন জনাব, যখন তাবলিগের মতো জামায়াতে মতানৈক্যের কারণে আমির নির্বাচন করা সম্ভব হচ্ছিলো না তখন কুদরতই মাওলানা সাদকে আমির নির্বাচন করে দিয়েছে, এখানে আপনি ইহুদী-খ্রিস্টানদের দালালির কি দেখলেন?

সুপ্রিয় হযরত মাওলানা…,
আপনি কি জানেন, তাবলিগের মারকাজ নিজামুদ্দীনে ঠিক ঐভাবে শুরা আছে, যেভাবে খুলাফায়ে রাশেদীনের শুরা থাকতো? মাওলানা সাদ কান্ধালভী এই শুরার সাথে সেইভাবেই পরামর্শ করেন যেভাবে খলিফা তাঁর শুরার সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত দিতেন? আপনি কি জানেন, নিজামুদ্দীনে নয়জনের একটি শুরা আছে, আমিরে ফায়সাল মাওলানা সাদ কান্ধালভী সেই শুরার সাথে পরামর্শ করে বিশ্বব্যাপি তাবলিগের কাজ পরিচালনা করেন? এখানে দোষের কি দেখলেন আপনি? এখন যদি কোন মাদরাসার মুহতামীমকে অন্য মাদরাসার কিছু মুহতামীম মিলে বলেন তুমি মুহতামীমের দায়িত্ব ছেড়ে দাও, আমরা এখন থেকে তোমার মাদরাসা চালাবো, তখন কি আপনি মনে করেন তা যুক্তিসম্মত হবে? মাদরাসার মুহতামীম পরিবর্তন করতে হলে মাদরাসার নিজস্ব শুরা তা করবে, আপনার অভিযোগ থাকলে সেই শুরার কাছে করবেন, এটাই তো নিয়ম জনাব মাওলানা সাহেব?

সুপ্রিয় হযরত মাওলানা…,
আপনি হযতো জানেন না, ২২জানুয়ারী ২০১৭ খ্রিস্টাব্দে টঙ্গির বিশ্বইজতেমার ময়দানে বিশ্ব তাবলীগ জামাতের সারা দুনিয়ার জিম্মাদার সাথীদের আলমী পরামর্শে মাওলানা সাদ কান্ধালভীকে আমীর হিসাবে গ্রহণ করা হয়। এই পরামর্শে কাতার, কুয়েত, জর্ডান, দুবাই, সৌদিআরব, সুদান, মরোক্কস, ওমান, এয়ামান, লেবানন, উগান্ডা, ফিলিস্তিন সহ আরব জাহানের নানা দেশের জিম্মাদারগণ সর্ব প্রথম আলাদা আলাদাভাবে মাওলানা সাদ কান্ধালভীর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন, পরে এক এক করে ভারত পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ইউরোপ, আমেরিকা, রাশিয়া, চীন সহ সকল দেশের জিম্মাদারগণ মাওলনা সাদকে বিশ্ব আমির হিসাবে বাইয়াত গ্রহন করেন। ১২০টি দেশের কাজ নিয়ে চলনেওয়ালা সাথীদের পরামর্শে তাকে দাওয়াতের কাজের বিশ্ব আমির হিসাবে মনোনিত করা হয়, আর আপনি তাঁকে অপবাদ দিচ্ছেন স্বঘোষিত আমির ইহুদী-খ্রিস্টানদের দালাল বলে? আপনি কি জানেন, মাওলানা সাদের দাদা হযরতজী মাওলানা ইউসুফ (র.) কে কেউ কেউ তাবলিগের উসূল লিখে যেতে বললে তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, ‘তাবলিগের গঠনতন্ত্র বা উসূল হলো ‘হায়াতে সাহাবা’। আমি তাবলিগের কোন উসূল লিখে গেলে তা হবে আমার উসূল। এই কাজ কোন দল নয়, যে এর জন্য আলাদা কোন সংবিধান বা উসুলি নিয়ম হবে। এই কাজের উসুল চলবে সাহাবাদের পদাঙ্ক অনুসরন করে। আমি তোমাদের কাজের উসুল হিসাবে ‘হায়াতুস সাহাবা’ গ্রন্থ লিখে দিলাম।’? জনাব মাওলানা আপনি কি জানেন, মাওলানা সাদ কান্ধালভি তাঁর দাদার সেই মূলনীতিকে কাজের উসুল হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে প্রানপন চেষ্টা হিসাবে উলামায়ে দেওবন্দের উজ্জল নক্ষত্র আবুল হাসান আলী নদভী (র.)-কে দিয়ে ভুমিকা লিখিয়ে সুবিশাল ‘হায়াতুস সাহাবা’ গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন? আপনার কি জানা আছে, এই গ্রন্থ কাজের উসুল ও আরব জাহানে কাজের অগগ্রতির ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক ভুমিকা পালন করছে? আপনি কি কোনদিন শোনেছেন, বয়ানের মধ্যে তিনি সীরাতে নববী ও সীরাতে সাহাবাকে কতোটা খুলে খুলে গভীরভাবে উম্মতের সামনে পেশ করেন? আপনি কি পড়ে দেখেছেন, তাঁর দাদাজান মাওলানা ইউসুফ (র.)-এর লেখা ছয় সিফাতের উপর হাদিসের দলিল গ্রন্থ ‘মুন্তাখাব হাদিস’, যা মাওলানা সাদের প্রচেষ্ঠায় ফাজায়েলে আমল ও ফাজায়েলে সাদাকাত-এর পাশাপশি তাবলিগের নেসাবভুক্ত করা হয়েছে? আপনি জানেন এই গ্রন্থের ভুমিকা যে লিখেছেন, মুফাক্বিরে ইসলাম, শায়খুল আরব ওয়াল আজম সাইয্যিদ আবুল হাসান আলী নদভী (র.)?

সুপ্রিয় হযরত মাওলানা…,
আপনি কাকে ইহুদি-খ্রিস্টানদের দালাল বলছেন, চিন্তা করে দেখুন। আপনি কি জানেন, মাওলানা সাদের মজলিসে কি পরিমান আলেম-উলামা অংশগ্রহণ করে থাকেন? আপনি কি জানেন, ২০১৮খ্রিস্টাব্দের রমজানের কদিন পূর্বে দারুল উলুম দেওবন্দ (ওয়াকফ) এর নতুন ভবনের উদ্বোধক করে নেওয়া হয়েছে মাওলানা সাদদ কান্ধালভিকে? আপনি কি জানেন, সাহারানপুর মাদরাসা, পাকিস্তানের জামেয়া ফারুকিয়া, আফ্রিকার জামেয়া দারুল উলুম জাকারিয়ার মতো বড়বড় কওমি মাদরাসার সবকের ইফতিতা এখনো মাওলানা সাদ কান্ধালভীকে দিয়ে করানো হয়? আপনি তাও কি জানেন, ভারতের দ্বীতিয় বৃহত্তম দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাহরানপুর মাদরাসার খতমে বোখারির সবক নেন মাওলানা সাদ কান্ধালভী? এমনকী মদীনা মনওয়ারাতে হজ্ব ও উমরার সময় তার মজলিসে নিয়মিত আরব ও আজমের বড়বড় আলেমরা তার কাছ থেকে ইলমি ইস্তেফাদা নিয়ে থাকেন, তা কি আপনার জানা আছে? আপনি কি জানেন, মাত্র ক’মাস আগে ভারতের দিল্লীর আওরঙ্গবাদে তাবলিগের আলমি ইজতেমা হয়েছে, যেখানে প্রায় ৫০/৬০হাজার আকাবিরে দেওন্দের উলামাগণ বিশ্ব থেকে গিয়ে উপস্থিত হয়ে মাওলান সাদ কান্ধালভীর বয়ান শুনেছেন এবং দোয়ায় শরিক হয়েছেন? আপনি যে উলামা নেই উলামা নেই বলে চিৎকার করেন, আপনি কি জানেন, হাজারো উলামা নিজামউদ্দিনের তত্বাবধানে মাওলানা সাদ কান্ধালভীর সাথে তার আনুগত্যে কাজ করছেন প্রতিদিন? আপনি কি চিনেন, হযরত মিয়াজি মাওলানা ফুল হাফিযাহুল্লাহ মেওয়াত, যিনি হযরতজী ইউসুফ (র.)-এর সময় থেকে তাবলিগের সাথে আছেন? চিনেন কি, হযরত মিয়াজি আজমত হাফিযাহুল্লাহকে, যিনি হযরতজী ইউসুফ (র.) থেকে শুরু করে বিগত ৪০ বছরের মত তাবলিগের কাজের সাথে আছেন? চিনেন কি মাওলানা ইয়াকুব হাফিযাহুল্লাহকে, যিনি হযরতজী ইউসুফ (র.)-এর সময় থেকে তাবলিগের সাথে আছেন এবং মাদারাসায়ে কাশিফুল উলুমে শিক্ষিকতা করছেন? চিনেন কি শ্রীলংকার মাওলানা ইউসুফ হাফিযাহুল্লাহকে, যিনি ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দ থেকে তাবলিগে সময় দিচ্ছেন? চিনেন কি মুফতি আব্দুল সাত্তার হাফিযাহুল্লাহকে, যিনি হযরতজি ইউসুফ (র.)-এর সময় থেকে তাবলিগে কাজ করে যাচ্ছেন এবং কাশিফুল উলূমে বড় বড় কিতাব পড়াচ্ছেন? চিনেন কি মাওলানা আলাউদ্দিন মেওয়াতিকে, যিনি হযরতজী ইউসুফ (র.)-এর সময় থেকে তাবলিগের সাথে রয়েছেন? চিনেন কি শায়েখ ইলিয়াস বাড়াবাংকি, শায়েখ আলী মিয়া নদভীর খাছ শাগরিদ মাওলানা গাজাইল হাফিযাহুল্লাহ, মাওলানা শামসুর রহমান, মাওলানা আব্দুল হান্নান, মাওলানা উবায়দুল্লাহ (র.)-এর সাহেবজাদা শায়খুলহাদিস মাওলানা আব্দুর রশীদ, মুফতি আব্দুর রহীম, মাওলানা নাফিস, বিশ্ব বিখ্যাত আলেম মাওলানা ইউসুফ সালানি (র.)- এর ছেলে মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াকুব, মাওলানা জামশিদ, মুফতি শরিফ, মুফতি শওকত, মাওলানা যুয়ারুল হাসান, মাওলানা আসাদুল্লাহ প্রমূখ যারা হযরতজী মাওলানা এনামুল হাসান (র.)-এর সময় থেকে বিশ্ব মারকাজ নিজামুদ্দিনের মাশওয়ারা থেকে নিয়ে সকল দ্বীনি কাজে জড়িত রয়েছেন? আপনি কি জানেন, শুধু হিন্দুস্থানেই ১৫ থেকে ১৮ হাজার উলামা রয়েছেন যারা মারকাজের সাথে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন? গোটা বিশ্বে কত আলেম মাওলানা সাদ কান্ধালভীর নেতৃত্বে তাবলিগের কাজ করে যাচ্ছেন তা কি খবর রাখেন সুপ্রিয় হযরত মাওলানা…? আপনি কি জানেন তাবলিগে নিয়মিত সময় লাগানোওয়ালা আলেম সাথী ছাড়াও যে ভারতের দারুল উলূম দেওবন্দ ওয়াকফ, ভারতবর্ষের বিখ্যাত দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাজাহিরুল উলুম সাহরানপুর এবং বিশ্ববিখ্যাত দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নাদুয়াতুল উলামা, নিজামুদ্দিনের কাশিফুল উলূম, বৃটেনের দারুল উলূম বেরি সহ বিভিন্ন বড় বড় দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের উলামায়ে কেরাম যে প্রকাশ্যেই মাওলানা সাদ কান্ধালভীর বিরুদ্ধে তহমতকারিদের মোকাবেলা করে যাচ্ছেন? আপনি কি জানেন, দারুল উলূম দেওবন্দের ভেতরেও অনেক আলেম আছেন মাওলানা সাদ কান্ধালভীর বিরুদ্ধে আরোপিত অভিযোগের বিরুদ্ধে কথা বলে যাচ্ছেন, বিশেষ করে মাওলানা সৈয়দ মাহমুদ মাদানী, মাওলানা সালমান মনসুরপুরী প্রমূখ?

সুপ্রিয় হযরত মাওলানা…,
আপনি কি জানেন, খুদ সৈয়দ আরশদ মাদানী বলেছেন, দারুল উলূম দেওবন্দ মাওলানা সাদের বিরুদ্ধে কোন ফতোয়া জারি করেনি, তারা মূলত দিয়েছে একটি সতর্কবার্তা? আপনি কি জানেন, মাওলানা সাদ নিজেও মনে করেন, ‘ইলমের মজলিস ও আলেমদের ছোট মনে করা সবচে বড় ফিতনা ও জাহালত, এটি বড়ই মাহরুমীর কথা? আপনি কি জানেন, মাওলানা সাদ যে প্রায়ই বলেন, মসজিদগুলোতে কুরআন শিক্ষার যে মজলিস হয় এটি আল্লাহর অনেক বড় রহমত। এগুলোর মাধ্যমে উম্মতের অনেক ফায়দা হচ্ছে। এগুলোকে ছোট মনে করা অথবা এগুলোর উপকারিতাকে ছোট করে দেখা, বড়ই মূর্খতা?
আপনি কি কোনদিন শোনেছেন, মাওলানা সাদ প্রায় বলে থাকেন আমাদেরকে সবসময় উলামায়ে হক্কানীর অনুসরণ করতে হবে, আমরা ভিন্ন কোনো জামাত নই, আামাদের মেহনত নতুন কোনো মেহনতও নয়, আমরা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের অংশ। আমাদের সকলের রাহবারী এবং আমরা যে পথে পরিচালিত হবো, ইলমি ফায়দা অর্জন, দীনি ও দুনিয়াবি সব বিষয়ে আমাদের আদর্শ, এই মাদরাসাগুলোই। বিশেষ করে ইউপিতে আল্লাহ যে প্রতিষ্ঠানকে (দারুল উলুম দেওবন্দ) মারকাজী অবস্থান দিয়েছেন, এটিই আমাদের মারকায?

সুপ্রিয় হযরত মাওলানা…,
আপনি হয়তো জানেন যে, তাবলিগের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা ইলিয়াস (র.) থেকে মাওলানা সাদ কান্ধালভী পর্যন্ত এই পরিবারের সবাই দেওবন্দ ও আহলে দেওবন্দের রূহানী সন্তান? এখতেলাফ হতে পারে, ভুল বুঝাবুঝি তৈরি হতে পারে, কিন্তু এভাবে নিজের ভাইকে ইহুদী-খ্রিস্টানদের দালাল আপবাদ দেওয়া কি উচিৎ হচ্ছে? আমি বলছি না মাওলানা সাদ মাসুম, বলছি না তিনি ফেরেস্তা কিংবা নবী, আমিও বিশ্বাস করি তিনি মানুষ, তারও ভুল হতে পারে। হয়তো মাওলানা সাদের বয়ানাত থেকে সুনির্দিষ্ট কোন কথায় দেওবন্দের কারো কারো অভিযোগ থাকতে পারে, তাই বলে এভাবে ইহুদী-খ্রিস্টানের দালাল কিংবা অন্য কোন গালি দেওয়া কি উচিৎ জনাব হযরত মাওলানা…?

সুপ্রিয় হযরত মাওলানা…,
দেওবন্দ মাওলানা সাদকে যদি সর্তক করে থাকে, তা দেওবন্দের অধিকারের মধ্যে হয়তো আছে এবং মাওলানা সাদ নিজেই এই অধিকার দিয়ে রেখেছেন। অনেকে প্রশ্ন করেন, কেউ কেউ যখন অভিযোগ করছে, তিনি উত্তর দিচ্ছেন না কেন? জনাব, আপনি কি জানেন মাওলানা সাদ কান্ধালভীর কাছে দেওবন্দের এই সর্তকবার্তা আসার পরে মাজাহেরুল উলুম সাহরানপুর, দারুল উলুম ওয়াকফ দেওবন্দসহ অনেক বড়বড় দ্বীনী প্রতিষ্ঠান থেকে এর জবাব ও বয়ানাতের ব্যাখ্যা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন বড়বড় উলামায়ে কেরাম, কিন্তু সাদ কান্ধালভি সবাইকে থামিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি কে, যে আমি জিতে যাব, আর দেওবন্দের মতো আমাদের আত্মার সুতিকাগার হেরে যাবে, সারা দুনিয়াতে ভুল বার্তা যাবে, বরং দেওবন্দ জিতে যাক আর আমি নগন্য হেরে যাই।’ আপনি কি জানেন, শুধু এই কারণে আজ পর্যন্ত তার সমালোচনাকারীদের ব্যাপারে তিনি একটি টু শব্দও করেন নি কোথাও? বরং তিনি বারবার বলছেন, আমার কোন ভুল হলে আপনারা ক্ষমা করুন, তিনি চাচ্ছেন না দ্বীনের কাজ ফেলে মানুষ এগুলো নিয়ে তর্ক-বিতর্ক করে সময় নষ্ট করুক। তিনি দেওবন্দ থেকে সর্তকবার্তা পাওয়ার পর পরিস্কার ভাষায় নিজের বক্তব্যের লিখিত রুজু করে নেন। দেওবন্দকে লিখিতভাবে সেদিন বলেছেন, এবিষয়ে প্রথমতঃ আমি অধম কোন প্রকার চিন্তা- ভাবনা ছাড়াই স্পষ্ট ভাষায় নিজের অবস্থান পরিষ্কার করা জরুরি মনে করি যে, আমি আলহামদুলিল্লাহ আমাদের সমস্ত আকাবির উলামায়ে দেওবন্দ ও সাহারানপুর এবং তাবলিগ জামায়াতের আকাবির মাওলানা মুহাম্মাদ ইউসুফ ও মাওলানা মুহাম্মাদ এনামুল হাসান (র.)-এর মাসলাক ও আদর্শের উপর কায়েম আছি এবং এর থেকে সামান্য পরিমাণ বিচ্যুতিও পছন্দ করি না। লিখিত পত্রে যেসব পুরাতন বয়ানের হাওয়ালা উল্লেখ করা হয়েছে আমি অধম দ্বীনী দায়িত্ব মনে করে সেগুলো থেকে পরিষ্কার শব্দে ‘রুজ’ করছি এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। আমাদের মাশায়েখ– বুজুর্গদের রীতি এই ছিলো যে, যখন কোন বিষয়ে নিজেদের ভুলের কথা জানতে পারতেন তখনই তার থেকে রুজু করতেন। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে বুজুর্গদের নকশে কদমের উপর চলার তাওফিক দিন এবং ভুলভ্রান্তি থেকে হেফাযত করেন।’ এই রুজুর পরও কেন আপনারা সাম্প্রতিক সময়ে মাওলানা সাদ সাহেবের ব্যাপারে দেওবন্দের সতর্কবার্তা বাজারজাত করে পানি ঘোলা করছেন? আপনি কি দেখেনি এই রুজুর অডিও ইউটুবে রয়েছে? তা ছাড়া তাও কি দেখেননি যে, ৪ ডিসেম্বর ২০১৬ স্বাক্ষরিত ‘জরুরি ওয়াজাহাত’ শিরোনামে প্রকাশিত দেওবন্দের সেই গেজেটের নিচে দুই লাইনের নোটে লেখা আছে, ‘ঐ লেখা উলামায়ে কেরাম ও বিশেষ ব্যক্তিবর্গের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন মাধ্যমে এটি স্যুশাল মিডিয়ায় প্রচার হয়ে গেছে। লোকজন বিভ্রান্ত হচ্ছে। তাই দেওবন্দের ওয়েবসাইটে বিস্তারিত তুলে ধরাহল।’? জনাব হযরত মাওলানা… এই নোটে ‘ফতওয়া’ বলা হয়নি, ‘লেখা’ বলা হয়েছে। ফতোয়া আর লেখায় ব্যবধান কি আশা করি আপনি জানেন? আমরা কি এই নোট থেকে জানতে পারলাম না যে, যে সতর্কবার্তা দিয়েছিলো তা প্রচারের জন্য নয়, কিন্তু বিশেষ একটি মহল তা প্রচার করেছে। যার জন্য বিশ্বব্যাপি এই ফেতনা সৃষ্টি হয়েছে। দেওবন্দ এজন্য দুঃখ প্রকাশ করে নিজেদের ওয়েবসাইটে ব্যাখ্যাসহ সবগুলো চিঠি এবং সিদ্ধান্তপত্রটি আপলোড করে রেখেছে। এখন প্রশ্ন হলো, স্যোসাল মিডিয়াতে সেই সতর্কবার্তা প্রচার করলো কারা? আপনি নিশ্চয় স্বীকার করবেন, এই কাজ তারাই করেছে যারা দারুল উলুম দেওবন্দ এবং তাবলিগ বিশেষ করে মাওলানা সাদ কান্ধালভীর মাঝে দুরত্ব তৈরি করতে চায়। প্রশ্ন হলো, ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা সেই অপশক্তি কারা?
মাওলানা সাদ কান্ধালভীর সাথে যদি দেওবন্দের আকিদাগত সংঘাত হতো তবে নিশ্চয় দেওবন্দ ফতোয়া জারি করতো মাওলানা সাদের বিরুদ্ধে এবং মানুষকে নিষেধ করতো মাওলানা সাদের সাথে সম্পর্ক রাখতে। ২০১৮ খ্রিস্টাব্দে ভারতের সবচে বড় ভূপাল ও আওরঙ্গবাদ ইজতেমায় মাওলানা সাদ কান্ধালভী অংশগ্রহণ করে বয়ান ও মুনাজাত করেছেন। সেই ইজতেমায় দেওবন্দি প্রায় পঞ্চাশ হাজার আলেম উপস্থিত ছিলেন কেউ মাওলানা সাদের বয়ান কিংবা মোনাজাতে নিষেধ আপত্তি করেননি। আকিদার সংঘাত হলে নিশ্চয় তারা আপত্তি করতেন, কি বলেন?

হযরত মাওলানা…
দেওবন্দ থেকে বেশি আমাদের আলেমরা দেওবন্দি হয়ে মাওলানা সাদের বিষয়ে এত হৈ চৈ করার অর্থ কি? তারা কি তাদের ফতোয়া বুঝতে পারেননি? লাভটা কি নিজেদের মধ্যে সংঘাত করে? এই অদালিলিক তহমতের অপপ্রচার এবং তার ইস্যুতে ইহুদী-খ্রিস্টানদের দালাল ইত্যাদি গালাগালি করে তাবলিগ এবং দারুল উলুম দেওবন্দ উভয়ের ইজ্জতের হানি কি ঘটাছে না? জনাব, দয়া করে শান্ত হয়ে জ্ঞান, বুদ্ধি, কর্ম এবং প্রেমের সমন্বয়ে বিষয়ের সমাধানের চেষ্টা করুন। এতে দুনিয়া এবং আখেরাতে আমরা সবাই উপকৃত হবো।

প্রথম পর্ব লিংক : http://tablignewsbd.com/archives/3876

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com