মঙ্গলবার, ১৬ Jul ২০১৯, ১১:১৫ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম ::

এবার আরব জামাতকে বাঁধা: সাথীকে অপহরণ, মালামাল লুট, দেশজুড়ে নিন্দা ও ক্ষোভ

ফরিদপুর প্রতিনিধি, তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম

বিশ্ব ইজতেমা থেকে বাংলাদেশে তাবলীগের সফরে আশা আরবের একটি জামাতকে মসজিদে প্রবেশে বাঁধা প্রদান করতঃ হামলা করে হেফাজতপন্থী কিছু আলেম। তখন মারধর করে সামানাপত্রও লুটপাট করে । জামাতের সাথী মুফতী শরীফ আহমদকে অপহরণ করে প্রথমে ছোলনা মাদ্রাসা ও পরে বদরপুর মারকাজ মসজিদে আটকিয়ে রাখে সন্ত্রাসীরা। পরদিন রাতে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ফরীদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা থানায় ৫ জন ওজাহাতি সন্ত্রাসীদের বিবাদী করে একটি সাধারণ ডাইরি করা হয়েছে। ঘটনায় দেশজুড়ে শান্তিকামী ধর্মপ্রান মানুষ তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

জানা যায়,গত ১৪মার্চ ফরীদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা থানার শিরথম বায়তুল আমান জামে মসজিদে মূলধারার একটি আরব জামাত গেলে হেফাজত নেতা মুফতি সিরাজুল ইসলাম ও তামিম আহমদ মিলন গংদের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসীরা আরব মেহমানদের মসজিদে আমল করতে বাঁধা প্রদান করে। একপর্যায়ে তাদের নাজেহাল করে মসজিদ থেকে বের করে দেয় তারা। জামাতের আরব জিম্মাদারের মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। এসময় জামাতের সাথী মুফতী শরীফ আহম্মদ বাঁধা দিলে সন্ত্রাসীরা তাকে অপহরণ করে নিয়ে গেলে পরদিন রাতে পুলিশ থাকে ফরিদপুর বদরপুর ওজাহাতি মারকাজ মসজিদ থেকে উদ্ধার করে। এঘটনায় আলফাডাঙ্গা তাবলীগের মূলধারার সাথী মােঃ রাসেল সিকদার বাদী হয়ে থানায় একটি সাধারণ ডাইরি করেন। বর্তমানে এই মজলুম আরব জামাতটি কাকরাইল মসজিদে অবস্থান করছে।

এঘটনায় সাড়াদেশের দ্বীনদার মানুষ ও শান্তিকামী ধর্মপ্রাণ মুসল্লী এবং হক্কানী আলেমদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। ইসলামে যেখানে মেহমান ও আরবদের বিশেষ সম্মান দেয়ার কথা বলা হয়েছে। সেখানে আল্লাহর রাস্তায় দ্বীনের দাওয়াত নিয়ে চলা আরব জামাতের সাথে এমন অন্যায় গর্হিত রাষ্টদ্রোহী ও ধর্মদ্রোহী কাজ কোন মুসলমান করতে পারে না। এই ঘটনায় বিশ্বব্যাপি একটি শান্তিপ্রিয় দেশ হিসাবে বাংলাদেশের অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ হবে এবং দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তারা মনে করছেন দ্রুত এই সন্ত্রাসীদের ও তাদের নির্দেশ দাতাদের গেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা উচিত। বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন জঘন্য ও বর্বর কাজ এই প্রথম, এখনি তাদের আইনের আওতায় না আনলে এরা বাংলাদেশকে চরমপন্থার দিকে নিয়ে যাবে। যার পরিনাম ভয়াবহ হতে পারে বলে মনে করছেন ধর্মীয় নেতারা।

নিম্নে থানায় দাখিলকৃত অভিযোগপত্রটি হুবহু দেয়া হল।

বরাবর

অফিসার ইনচার্জ

আলফাডাংগা থানা, ফরিদপুর।

বিষয়ঃ অভিযােগ।

জনাব,

বিনীত নিবেদন এই যে, আমি মােঃ রাসেল সিকদার(৩৬), পিং- মােঃ মতিয়ার রহমান সিকদার, সাং-শেখপুর, থানা-বােয়ালমারী, জেলা-ফরিদপুর থানায় হাজির হইয়া এই মর্মে অভিযােগ করিতেছি যে, ই-১৩/০৩/২০১৯ তারিখ সকাল অনুমান ১১.৩০ ঘটিকার সময় আমি আলফাডাঙ্গা উপজেলার তাবলীগের মূল ধারার সাথীরাসহ বিদেশী আরব জামাতের ০৮ জন বিদেশী মেহমান সহ শিরথম বায়তুল আমান জামে মসজিদে দ্বীনের দাওয়াত দেওয়ার জন্য আবস্থান করি । ইং-১৪/০৩/১৯ তারিখ বেলা অনুমান ১২.৩০ ঘটিকার

সময় বিবাদী-

✓১।মােঃ তামিম আহম্মেদ মিলন(৩২)

পিং- মােঃ বাচ্চু শেখ, সাং- কুসুমদী

✓২। মুফতি সিরাজুল ইসলাম(৩৫)

(মিঠাপুর মাদ্রসা) পিং- অজ্ঞাত, সাং- বানা,

✓৩। মাওলানা আমিনুল্লা(৪০)

পিং- নুরুজ্জামান, সাং- চান্দড়া,

✓৪। মাওলানা আমিরুল(৪২) পিং- অজ্ঞাত,

সাং- গােপালপুর, সর্ব থানা- আলফাডাঙ্গা,

✓৫। ওবায়দুর রহমান(৫০) পিং- দলিল উদ্দীন শরীফ,

সাং- সুখদেব নগর, থানা- বােয়ালমারী, সর্ব জেলা- ফরিদপুরগন সহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন আমাদের সহ আরব জামাতের মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের হইয়া যাইতে বলে। আমরা আর জামাতের মুসল্লীদের নিয়া মসজিদ থেকে বের হইয়া ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হইলে বিবাদীগণ আমাদের ঠেলাধাক্কা দেয় ও ভয়ভীতি দেখায়। আরব জামাতের আমীর সাহেবের

একটি HUAWEI মােবাইল ফোন সেট, যাহার মূল্য অনুমান ১২০০০/- টাকা।

অন্যান্য বিবাদীরা তবলিগ জামায়েতের রান্নার কাজে ব্যবহারের একটি মেট্রোম্যাক্স এলপিজি ১২কেজি গ্যাস সিলিন্ডার, একটি মিয়াকো গ্যাসের চুলা, দুইটি সসপেন ও একটি পেশার কুকার যাহার মূল্য অনুমান – ৫৫০০/- টাকা খুজিয়া পাওয়া যায় নাই। মুফতি শরীফ আহম্মেদকে পাওয়া যায় না।

পরবর্তীতে তাহাকে খুজতে থাকি এমন সময় সংবাদ পাই তাকে বােয়ালমারী থানাধীন ছােলনা মাদ্রাসায় আটকে রাখা হইয়াছে। আমরা উক্ত মাদ্রসা মসজিদে যাওয়ার পূর্বেই সংবাদ পাই তাহাকে ফরিদপুর জেলাধীন বদরপুর মারকাজ মসজিদে তাকে নিয়ে যাওয়া হইয়াছে ।

ঐ দিন রাত্র অনুমান ৮.৩০ ঘটিকার সময় ফরিদপুর কোতয়ালী থানা পুলিশের সহায়তায় ফরিদপুর বদরপুর মারকাজ মসজিদ থেকে জামাতের সাথী মুফতি শরীফ আহম্মেদকে উদ্ধার করিয়া, আমাদের জিম্মায় গ্রহন করি । উল্লেখিত বিবাদীগন আমাদের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদান করিতেছে।

তারা যে কোন সময় আমাদের উপর হামলা করিয়া জান মালের ক্ষয়ক্ষতি করিতে পারে।

ঘটনার সাক্ষী-

১। মােঃ ফারুক খান(৩৫) পিং- মৃত

আঃরহমান খান, সাং- শিয়ালদী

২। মনির আহম্মেদ(৩৬) পিং- মৃত আঃ মান্নান মােল্যা

৩। মােঃ মুরাদুজ্জামান(৪০)

পিং- মৃত রুস্তুম খান, উভয় সাং- কামারগ্রাম,

সর্ব থানা- আলফাডাঙ্গা,

৪। মামুন হােসেন(২৫) পিং- মােঃ সুলতান মাতুব্বর,

সাং- মেহেরদিয়া, থানা- সালথা,

সর্ব জেলা- ফরিদপুর।

অতএব, মহােদয় সমীপে আবেদন উক্ত বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করিতে মর্জি হয়। |

বিনীত

মা: রাসেল

মােঃ রাসেল সিকদার

মােঃ ০১৭১১-০০২৩৫১

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!