শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:০৬ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম ::
হাটহাজারী মাদরাসা বন্ধ ঘোষনা এক আল্লাহ জিন্দাবাদ… হাটহাজারী মাদরাসায় ছাত্রদের বিক্ষোভ ভাঙচুর : কওমীতে নজিরবিহীন ঘটনা ‘তাবলিগের সেই ৪ দিনে যে শান্তি পেয়েছি, জীবনে কখনো তা পাইনি’ তাবলীগের কাজকে বাঁধাগ্রস্থ করতে লাখ লাখ রুপি লেনদেন হয়েছে: মাওলানা সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী দা.বা. (অডিওসহ) নিজামুদ্দীন মারকাজ বিশ্ব আমীরের কাছে বুঝিয়ে দিতে আদালতের নির্দেশ সিরাত থেকে ।। কা’বার চাবি দেওবন্দের বিরোদ্ধে আবারো মাওলানা আব্দুল মালেকের ফতোয়াবাজির ধৃষ্টতা:শতাধিক আলেমের নিন্দা ও প্রতিবাদ একান্ত সাক্ষাৎকারে সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী :উলামায়ে হিন্দ নিজামুদ্দীনের পাশে ছিলেন, আছেন, থাকবেন তাবলীগের হবিগঞ্জ জেলা আমীর হলেন বিশিষ্ট মোহাদ্দিস মাওলানা আব্দুল হক দা.বা.
তারা জবাই করে রক্ত দিয়ে গোসল করতে চেয়েছিল, মুফতী শরীফ আহমদ

তারা জবাই করে রক্ত দিয়ে গোসল করতে চেয়েছিল, মুফতী শরীফ আহমদ

তাবলীগ নিউজ বিডি ডটকম

গত ১৪মার্চ ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় আরব জামাতের উপর হামলা, মালামাল লুট ও একজন মুফতী সাহেবকে অপহরণ করে পাকিস্তানপন্থী ওজাহাতি সন্ত্রাসীরা। তিনি হলেন মুফতী শরীফ আহমদ। একজন বিদগ্ধ তরুন আলেম। মারকাজুল ফিকিরিল ইসলামি বসুন্ধারা থেকে ফারেগ হয়ে তিনি তাবলীগের সাল লাগাচ্ছেন। একটানা ইন্ডিয়ায় নিজামুদ্দিন মারকাজের তরতীবের ছয়মাস  সময় লাগিয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশে এসেছেন। বিশ্ব ইজতেমা থেকে আরব জামাতের মুতারজিম (তরজমাকারী) হিসাবে ফরিদপুরে চিল্লার সফরে যান। আলোচিত এই জঘন্য  ও বর্বর সন্ত্রাসী আক্রমনে তিনি শিকার হলে দেশজুড়ে এনিয়ে চলছে নিন্দার ঝড়। এঘটনায়  থানায় সাধারণ ডায়রি করা হয়েছে। আজ রাতে তার সাথে কাকরাইল মসজিদে মুখামুখি হয়েছিলেন, তাবলীগ নিউজ বিডিডটকমের সিনিয়র কনসাপরেন্ট মাওলানা আহমদ জামিল

 

আহমদ জামিল: কেমন আছেন?

মুফতী শরীফ আহমদ: আলহামদুলিল্লাহ ভাল আছি। তবে উম্মতের এই নাজুক মুহুর্তে একটু পেরেশানীতে আছি। আপনি হয়তো জানেন, গত কয়েকদিন আগে আমার উপর কত বড় ধকল গেছে। আল্লাহর মেহেরবানীতে বেঁচে আছি,  এটি রাব্বুল আলামিনের খাছ মেহেরবানী ও বুজুর্গদের দোয়ার বরকতেই হয়তো।

 

আহমদ জামিল:আসলে সেদিন কি ঘটেছিল?

মুফতী শরীফ আহমদ: ১৪মার্চ ফরীদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা থানার শিরগ্রাম বায়তুল আমান জামে মসজিদে একটি আরব জামাত নিয়ে আমরা তালিম করছিলাম। তখন দুপুর আনুমানিক ১২.৩০মিনিট বাজে। হঠাৎ এসময় ২০/২৫টি  মটর সাইকেলসহ প্রায় দুই শতাধিক মাদ্রাসার শিক্ষক ছাত্র দিয়ে মসজিদের সামনে আমাদের ঘেরাও করে। হেফাজত নেতা মুফতি সিরাজুল ইসলাম ও তামিম আহমদ মিলন গংদের নেতৃত্বে আরব মেহমানদের সহ আমাদেরকে মসজিদে আমল করতে বাঁধা প্রদান করে। একপর্যায়ে আমাদের নাজেহাল করে মসজিদ থেকে জোড়পূর্বক  বের করে দেয় । তখন তারা আমাদের জামাতের সকল সাথীর মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়।

 

আহমদ জামিল: আরব জামাত দেখেও কি তাদের কোন সহানুভূতি তৈরি হয়ে নি?

মুফতী শরীফ আহমদ: তারা বরং আরবদের উপরই ক্ষিপ্ত ছিল বেশি। কেন তাঁরা আরব হয়ে হজরতজী মাওলানা সাদ কান্ধালভী দা.বা. কে আমীর মেনে দাওয়াতের কাজ করেন। তাদের সাথেই প্রথম সবচেয়ে হিংস্র ও খারাপ আচরণ করে।

 

আহমদ জামিল: তারা তখন আপনাদের সাথে কি কি আচরণ করে?

মুফতী শরীফ আহমদ: তখন তারা আমাদেরকে হযরতজী সাদ কান্ধালভী দামাত বারাকাতুহুম আমীর না মানতে ও তার আনুগত্য ছেড়ে আসতে চাপ প্রয়োগ ও অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে থাকে, এক পর্যায়ে তারা বলে, “তোদের গলা কেটে রক্ত দিয়ে গোসল করব, কেন তোরা সাদকে আমীর মানিস।” তাদের মারমূখি হিংস্র আচরণ এমন ছিল, যেন এখনি আমাদের হত্যা করবে।

 

 

আহমদ জামিল: জামাতের সাথে আপনি ছাড়া কি আরও কোন আলেম ছিলেন?

মুফতী শরীফ আহমদ: জামাতে আমি ছাড়াও আরো চারজন আলেম ছিলেন। তাদের প্রত্যেকেরই “মূলধারার তত্বাবধানে সালের সফর” চলছে। তারা হলেন, মুহাম্মদ পুরের মুফতী নূরুল ইসলাম সাহেব, ঢাকার মুফতী আব্দুল্লাহ সাহেব, বি-বাড়িয়ার মাওলানা মামুনুর রশিদ সাহেব, পিরোজপুরের মাওলানা আব্দুর রহিম সাহেব।

 

আহমদ জামিল: আপনাকে জামাত থেকে অপহরণ করল কিভাবে?

মুফতী শরীফ আহমদ: আমাদেরকে মসজিদ থেকে জোরপূর্বক বের করার পরে, অনন্য সাথীদেরকে একটি গাড়িতে জোড় করে  জঙ্গী স্টাইলে তুলে দেয় এবং আমাকে তারা জোর করে অপহরণ করে নিয়ে যায়। প্রথমে তারা একটি মাদারসায় আমাকে আটকে রাখে। সেখান থেকে তাদের কিছু উচ্চপর্যায়ের লিডারদের সাথে যোগাযোগ করে,  পাকিস্তানপন্থী ফরিদপুর জেলা মারকাজে নিয়ে আটকে রাখে। আমি তখন জানে বাঁচব ভাবি নি। জীবন নিয়ে আমি তখন চরম আতঙ্কিত ছিলাম। পরে রাত সাড়ে আটটায় ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে আমাকে উদ্ধার করে।

 

 

 

 

 

 

 

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com