বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:১৩ অপরাহ্ন

একজন জমহুরী আলেমের সাথে কথোপকথন: মুফতী এহিয়া মাহমুদ

একজন জমহুরী আলেমের সাথে কথোপকথন: মুফতী এহিয়া মাহমুদ

মুফতি ইয়াহ্ ইয়া মাহমুদ, অতিথি লেখক, তাবলীগ নিউজ বিডি ডটকম

 

একজন আলেম অধমকে প্রশ্ন করলেন, মাওলানা সা’দ সাহেবের ব্যাপারে আপনি বাংলাদেশর সব ওলামাদের বিপক্ষে কেন?

অধমের উত্তর: এই কথাটা ঠিক না যে, সব ওলামায়ে কেরাম উনার বিরুদ্ধে, বরং বিশ্বের অনেক ওলামায়ে কেরাম উনার পক্ষে আছেন , দাওয়াতের এই মুবারক মেহনত যেহেতু বিশ্ব ব্যাপী , আর হজরত জী মাওঃ সা’দ সাহেব এই মেহনতের বিশ্ব আমির ,তাই আমাদের কে শুধু বাংলাদেশ কে দেখলে হবে না, বিশ্ব কে দেখতে হবে । আর বাংলাদেশেও বহু ওলামায়ে কেরাম উনার পক্ষে আছেন,কেউ আছেন প্রকাশ্যে, আর কেউ আছেন পর্দার আড়ালে। কাজেই এঅধম ও উনার পক্ষে থাকা অপরাধ না।

 

প্রশ্নঃ-মাওঃ সা’দ সাহেব ইদানিং ক্বোরআন হাদীস বিরোধী যে সব বয়ানাত দিচ্ছেন এসব বয়ানাত কে আপনি কোন দৃষ্টিতে দেখেন ?

উত্তরঃ-এই অধম তো আজ বাইশ বছর যাবত টঙ্গীর ইজতেমায় উনার বয়ানাত ওহিদায়াত নিয়মিত শুনে আসছে ,আমি উনার কোন কথা ক্বোরয়ান হাদীস বিরোধী শুনতে পায়নি , বাংলাদেশ সহ আরো বহু দেশের ওলামায়ে কেরামগণ ও উনার বয়ানাত শুনেছেন, কিন্তু এই পর্যন্ত কারো মুখে উনার কোন কথার ব্যাপারে কোন অভিযোগ কিঙবা আপত্তি শুনতে পাইনি ।

মাওঃ যোবায়েরুল হাসান রহঃএর ইন্তেকালের পর যখন তিনি নিয়ম মুতাবিক বিশ্ব আমির হলেন, তখনই কিছু স্বার্থান্বেষী মহল হতে এইসব ভিত্তি হীন অভিযোগ প্রকাশ হতে শুরু হলো । কারন কতিপয় বয়োবৃদ্ধ তাবলীগের মূরুব্বীদের সামনে উনাকে বিশ্বের তাবলীগের সাথীরা হজরতজী বলবে এই টা হয়তো তারা মেনে নিতে পারছেন না ,তাই তাদের ভক্তরা উনাকে কলন্কিত

করার লক্ষ্যে এই সব অপবাদ এবং অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।

 

প্রশ্নঃ দারুল উলুম দেওবন্দ তো উনার বিরুদ্ধে ফাতাওয়া প্রকাশ করেছে যে,উনি গোমরাহ উনাকে আমীর মানা যাবে না, আপনি কি দারুল উলুম দেওবন্দকে মানবেন না ?

উত্তরঃ নাউজু বিল্লাহ ! এইটা ডাহা মিথ্যা এইটার কোন প্রমাণ আপনি আমাকে দেখাতে পারবেন না, দেখাতে পারলে আমি আমার বর্তমান মাওক্বেফ থেকে ফিরে আসবো। দারুল দেওবন্দ উনার কিছু আঙশিক বয়ানের উপর শুধু আসন্কা প্রকাশ করেছেন যে , এধরনের বয়ানাত আগামীতে চলতে থাকলে এই মুবারক জামায়াত ভবিষ্যতে বাতিল ফেরক্বায় পরিনত হওয়ার আসন্কা রয়েছে, হজরত জী এই আসঙ্কানামা পাওয়ার সাথে সাথেই সতর্ক হয়ে গিয়েছেন এবং নেজামুদ্দীনের ভরা মজমায় তিনি সেই ভুল গুলো হতে রুজু করেছেন, বাংলাদেশের পাঁচ জনের প্রতিনিধি দল ঐ মজমায় উপস্থিত ছিলেন এবং তারা হজরতের ঐ রুজুর উপর সন্তুষ্টিও প্রকাশ করেছেন । ঐ প্রতিনিধি দলের অন্যতম সদস্য ক্বারী যোবায়ের হজরতজীর হাতে বায়য়া’ত করেছেন এবং সারা জীবন নেজামুদ্দীনের অধিনে থেকে দাওয়াতের মেহনত করবেন বলে প্রতিশ্রুতি ও দিয়ে আসছেন। ঘটনা সত্য কিনা এই তাকে আপনারা জিজ্ঞেস করুন।

 

প্রশ্নঃ-উনি উনার ভুল থেকে রুজু করছেন তো ঠিক , কিন্তু উনিঐ ভুল কথা গুলো আবার বার বার উনার বয়ানে বলে যাচ্ছেন।

উত্তরঃ এই টা ও ডাহা মিথ্যা , অপবাদ, অপপ্রচার, আপনি কি নিজ কানে শুনেছেন? উত্তরে ঐ মুফতি সাহেব বললেন না ,আমি নিজ কানে শুনেনি ,আমি বিডিও রেকর্ডিং এর মাধ্যমে শুনেছি,আমি পাল্টা প্রশ্ন করে বললাম আপনি একজন মুফতি সাহেব, বলুন তো দেখি কারো বিডিও রেকর্ডিং শুনে তাকে গোমরাহ কিংবা কাফের বলা যাবে ? উত্তরে তিনি বললেন ,না ,

তবে সম্ভাবনা তো আছে। উত্তরে আমি বললাম ,

ﺍﺫﺍ ﺟﺎﺀ ﺍﻻﺣﺘﻤﺎﻝ ﺑﻄﻞ ﺍﻻﺳﺘﺪﻻﻝ

এইটা একটা উসুলী ক্বায়েদা যে, কোন দলীলে

যখন দ্বিধাদ্বন্দ্ব এসে যায় তখন ঐ দলীল দিয়ে কোন বিষয়ে দলীল পেশ করা বাতিল হয়ে যায়।

অবশেষে ঐ মুফতি সাহেব বললেন ঠিক আছে, আপনি আপনার মওক্বেফে থাকেন , তবে আপনি ফেসবুকে লেখা লেখি করেন না।

উনার এই কথার উদ্দেশ্য হলো আমরা মাওঃ সা’দ সাহেবের বিরুদ্ধে সব ধরনের অপবাদ অপপ্রচার

করতেই থাকবো, আপনি কোন প্রতিবাদ করেন না। অথচ হাদীসে আছে ।

ﺍﻟﺴﺎﻛﺖ ﻋﻦ ﺍﻟﺤﻖ ﺷﻴﻄﺎﻥ ﺍﺧﺮﺱ

হক্ব কথা না বলে চুপ থাকা বোবা শয়তানের লক্ষণ ,

ﻗﻞ ﺍﻟﺤﻖ ﻭﺍﻥ ﻛﺎﻥ ﻣﺮﺍ

শ্রোতার কাছে তিক্ত লাগলেও হক্ব কথা বলতে থাক ।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com