মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ১১:৩৮ অপরাহ্ন

বিভ্রান্তিকর “উদাত্ত আহবান” এর জবাবে হক্কানী উলামায়ে কেরামের “খোলা চিঠি”

বিভ্রান্তিকর “উদাত্ত আহবান” এর জবাবে হক্কানী উলামায়ে কেরামের “খোলা চিঠি”

হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব ও হাটহাজারী মাদ্রাসার সহকারী মহাপরিচালক আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরীসহ চট্টগ্রামের ১১জন শীর্ষ আলেমের স্বাক্ষরিত বিভ্রান্তিকর প্রচারপত্রের জবাবে তাবলীগের মূলধারার উলামায়ে কেরামের পক্ষ থেকে খোলা চিঠি

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ

শ্রদ্ধেয় উলামায়ে কেরাম,

আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী, আল্লামা হাফেজ কাসেম, আল্লামা ইদ্রিস, মাওলানা সালাহ উদ্দীন নানুপুরী, মাওলানা জালাল আহমদ, মাওলানা আবু বকর, মাওলানা মাহমুদুল হক, মুফতি মাহমুদ হাসান
মাওলানা সলিমুল্লাহ, মাওলানা আনোয়ার হোসেন সাহেব দামাত বারাকাতুহুম। আশা করি আল্লাহর ফজলে ভাল আছেন।

পর কথা হলো, আজ আপনাদের স্বাক্ষরিত একটি লিফলেট আমাদের কাছে এসে পৌঁছেছে। তাতে দাওয়াত ও তাবলীগের চলমান পেক্ষাপটে ফটিকছড়ির সকল মুসলমানের প্রতি আপনারা একটি *উদাত্ত আহ্বান* জানিয়ে আগামীকাল ২৭শে মার্চ বুধবার এ বিষয়ে ফটিকছড়ি মারকাজ ও ঈদগাহ সংলগ্ন ময়দানে একটি সমাবেশের আয়োজন করেছেন। তাই অদ্য ২৬শে মার্চেই আপনাদের সমীপে এই চিঠিটি প্রেরণ করা হলো।

হযরত উলামায়ে কেরাম!
যদিও আপনারা ফটিকছড়ি উপজেলার মুসলমানদের উদ্দেশ্য করে এই স্বাক্ষরিত লিফলেট বা প্রচারপত্র ছেড়েছেন। কিন্তু আমরা মনে করি, আপনারা সারাদেশের সকল উলামায়ে কেরামের প্রতিনিধিত্ব করেন। বিশেষ করে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব ও হাটহাজারী মাদ্রাসার সহকারী মহাপরিচালক আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী সারাদেশের প্রথম সারীর একজন প্রতিনিধিত্বশীল আলেম।

এতদসত্ত্বেও উক্ত প্রচারপত্রে কয়েকটি এমন মারাত্মক ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য (সম্ভবত অসতর্কতায়) চলে এসেছে, যা আমাদের মাথার তাঁজতূল্য উলামায়ে কেরামের চরম সম্মানহানি ঘটাচ্ছে।

সম্মানীত উলামায়ে কেরাম,
আপনাদের স্বাক্ষরিত এই প্রচারপত্রে প্রধানত দু’টি চরম মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য এসেছে।
১. বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল শীর্ষ স্থানীয় উলামায়ে কেরাম সা’দপন্থী এতায়াতী গ্রুপকে বাতিল বলে সিদ্ধান্ত ও ফতোয়া দিয়েছেন।
২. উলামায়ে কেরামের ফতোয়ার আলোকে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় সা’দপন্থী এতায়াতী গ্রুপের কার্যক্রম প্রশাসনিকভাবে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রথমতঃ বিশ্বের শীর্ষ স্থানীয় উলামায়ে কেরাম তাবলীগ জামাতের বিশ্ব আমীর শায়খুল ইসলাম আল্লামা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীদেরকে কবে/কোথায় “বাতিল” বলে সিদ্ধান্ত ও ফতোয়া দিয়েছেন তা আজও কেউ প্রমাণিত করে দেখাতে পারেনি। আপনাদের কাছে সবিনয়ে নিবেদন, সেই ফতোয়ার কপিগুলো আমাদেরকে দিলে উপকৃত হতাম।

তাছাড়া এই মূহুর্তে ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের শীর্ষ ৩জন মুরুব্বি বাংলাদেশে অবস্থান করছেন।
১. মুহতামিম আবুল কাসিম নোমানী দা.বা.
২. সদরুল মুদাররিসিন মাওলানা আরশাদ মাদানী দা.বা.
৩. সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা ইউসুফ তাওলভী দা.বা
এই ৩ হযরতই এখন বাংলাদেশে অবস্থান করছেন ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে সফররত রয়েছেন।

আপনারা হলেন দেশের শীর্ষ নীতিনির্ধারক আলেম সমাজ। আপনারা চাইলেই আমাদেরকে নিয়ে দেওবন্দের হযরতদের সাথে বসতে পারেন। অথবা দেওবন্দওয়ালাদের দিয়ে প্রকাশ্যে একটি ‘ওজাহাতি জোড়’ করাতে পারেন। কিন্তু তা না করে দেওবন্দের নাম অপব্যবহারের মাধ্যমে যেভাবে যাকে তাকে ‘বাতিল’ ঘোষণা করা হচ্ছে, এতে চরমভাবে বিভ্রান্ত হচ্ছেন সরলমনা মুসলিম সমাজ। ক্ষুন্ন হচ্ছে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের আদর্শ ও সুনাম। দেওবন্দ কি কখনো আল্লামা সা’দ কান্ধলভী কিংবা তার অনুসারীদেরকে ‘বাতিল’ ঘোষণা করেছে? তাহলে আমাদের আগে বেড়ে এসব বলে বেড়ানো কি দেওবন্দের সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা, দ্বীনের সাথে তামাশা ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানের সাথে খেয়ানতের অন্তর্ভুক্ত নয়?

আসুন না, দেওবন্দের এই তিন হযরতকে নিয়ে আমরা একটু বসি। প্রচারপত্র বিলির পরিবর্তে এটি আরো সহজে করা যেতে পারে। তাদের সামনে যদি আমাদের একটু সরাসরি বুঝিয়ে দিতেন যে, আপনাদের এসব কথার সাথে দারুল উলুম দেওবন্দের এই নীতিনির্ধারকগণ একমত রয়েছেন, তাহলে কতোই না ভাল হতো!!!

বরং আমাদের চূড়ান্ত তাহকিক অনুযায়ী আপনাদের এসব কথার সাথে দারুল উলুম দেওবন্দ ও বিশ্ববরেণ্য আলেমদের কোন সমর্থন নেই। তাহলে কেন/কার স্বার্থে সরলমনা সাধারন মুসলমানদের এভাবে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে?

দ্বিতীয়তঃ উলামায়ে কেরামের ফতোয়ার আলোকে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় সা’দ সাহেবের এতেয়াত (আনুগত্যকারীদের) কার্যক্রম প্রশাসনিকভাবে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে আপনাদের প্রচারপত্রে যে মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছে, সেটি কোন দায়িত্বশীল ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব নয়। বরং এতে দায়িত্বহীনতার পাশাপাশি যুগ-সচেতনতার মারাত্মক অভাব ফুটে উঠেছে। যা আপনাদের মতো মহান ব্যক্তিদের কাছে কখনো আশা করা হয় নি।

খোদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব আসাদুজ্জামান খান কামাল ও ধর্মপ্রতিমন্ত্রী জনাব শেখ আবদুল্লাহসহ সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক সহযোগিতায় সম্প্রতি বাংলাদেশে টঙ্গীর ময়দানে আল্লামা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীদের স্বতন্ত্রভাবে তিন দিনব্যপী বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রসাশনের আন্তরিক সহযোগিতায় আজও (২৬শে মার্চ ২০১৯ ইং) বাংলাদেশের তাবলীগের প্রধান মারকাজ ‘কাকরাইল মসজিদ’-এ মাওলানা সাদ কান্ধালভীর অনুসারীগণ অবস্থান করে সারাদেশে জেলা ইজতেমাসহ তাদের সকল কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।

সদয় অবগতির জন্য জানাচ্ছি, চলতি সপ্তাহের বৃহঃবার থেকে ৪টি জেলায় সম্পূর্ণ সরকারি প্রহরায় ইজতেমা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, ইনশাআল্লাহ। গত সপ্তাহেও একই সময়ে ৪ জেলায় ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সাদ কান্ধলভীর অনুসারীদের বাঁধা দিলে তাৎক্ষণিক প্রশাসন বাঁধাদানকারীদের আইনশৃঙ্খলা, শান্তি, নিরাপত্তা ও ধর্মীয় সম্প্রতি বজায় রাখার স্বার্থে কঠোর হস্তে দমন করে যাচ্ছে। এমনকি ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা থানায় আরব সাথীসহ জামাতকে মসজিদ থেকে বের করে দেওয়া ও তাবলীগের কাজে বাঁধা প্রদানের অপরাধে মহামান্য আদালত একজন আলেমকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতেও প্রেরণ করেছে।

রাষ্ট্র, সরকার ও প্রসাশনের এমন আন্তরিকতার পরেও কিভাবে বলা যায় “সাদপন্থীদের সকল কার্যক্রম প্রশাসন নিষিদ্ধ করেছে”? এমন জ্বলজ্যান্ত মিথ্যাচার ও গুজব রটিয়ে সাধারণ মুসলমানদের বিভ্রান্ত করা কখনো হাক্কানী উলামায়ে কেরানের কাজ হতে পারে না।

যেখানে বিশ্ব ইজতেমায় ও কাকরাইল মসজিদে অবস্থান করে সাদ কান্ধালভীর অনুসারীরা তাবলীগের কাজ করছেন, সেখানে আপনাদের স্বাক্ষরিত প্রচারপত্রে “কার্যক্রম প্রশাসনিকভাবে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে” বলে একটি হকপন্থী জামাত ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অনুসারী মুসলমানদেরকে হেয় প্রতিপন্ন করতে যে মিথ্যা ও গুজব ছড়ানো হয়েছে, তা খুবই দুঃখজনক ও উলামায়ে কেরামের শানের খেলাফ।

আমরা মনে করি, একটি বিশেষ চক্র আপনাদেরকে ভুল তথ্য দিয়ে আপনাদের নাম অপব্যবহার করে বিভিন্ন অপপ্রচার চালিয়ে সমাজে ভ্রাতৃঘাতী গৃহযুদ্ধের পায়তারা করছে। সারাবিশ্বের কোন একটি দেশে আল্লামা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীদের কাজে বাঁধা প্রদান না করলেও বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সুনাম-সুখ্যাতি বিনষ্টের লক্ষ্যে এই আত্মঘাতী কাজ করা হচ্ছে বিশেষ কুচক্রি মহলের ইন্ধনে।

তাই আমরা চাই, এখনই পারস্পরিক আলাপ আলোচনার মাধ্যমে এই ভুল বুঝাবুঝি নিরসন করা অতি জরুরী। যেন তৃতীয়পক্ষ আমাদের মাঝে অনুপ্রবেশের সুযোগ গ্রহণ করতে না পারে। সেই লক্ষ্যে আমরা (আল্লামা সা’দ কান্ধলভীর অনুসারীগণ) যেকোন সময়, যেকোন স্থানে, ঘরোয়া কিংবা উম্মুক্ত জায়গায় আপনাদের সাথে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসতে প্রস্তুত রয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ।

ওয়াস সালাম

১. মুফতি মুহাম্মাদ ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী (লালখান বাজার, চট্টগ্রাম)
২. মুফতি আতাউর রহমান (বারিধারা, ঢাকা)
৩. মুফতি নূরুল ইসলাম কাসেমী (মাইজদি, নোয়াখালী)
৪. মাওলানা জিয়া বিন কাসিম (সাভার, ঢাকা)
৫. মুফতী শফিউল্লাহ শাফী (খিলগাঁও, ঢাকা)
৬. মুফতী শিহাবদ্দীন (মৌলভিবাজার)
৭. মাওলানা আব্দুর রহিম (মাইজদি, নোয়াখালী)
৮. মাওলানা মু’আয বিন নূর (উত্তরা, ঢাকা)

Facebook Comment





© All rights reserved © 2019 Tablignewsbd.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com
error: Content is protected !!