শনিবার, ০৬ মার্চ ২০২১, ০৬:৪০ অপরাহ্ন

এবার তাবলীগ ইস্যুতে ভাঙ্গনেরমূখে কওমী শিক্ষাবোর্ড

এবার তাবলীগ ইস্যুতে ভাঙ্গনেরমূখে কওমী শিক্ষাবোর্ড

ষ্টাফ রিপোর্টার, তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম তাবলিগ জামাতের দুই গ্রুপের বিরোধের প্রভাব পড়ছে কওমি মাদরাসার শিক্ষা বোর্ডগুলোর সমন্বয়ে গঠিত সর্বোচ্চ শিক্ষা বোর্ড ‘আল হায়আতুল উলিয়ায়। তাবলিগের সা’দপন্থী হওয়ার অভিযোগে সংবিধান ও বেআইনিভাবে কোন প্রকার লিখিত নোটিশ ছাড়াই দেশের বৃহৎ ৮টি মাদ্রাসার নামে দাওরায়ে হাদিস (মার্স্টাস) ও মিশকাত (স্নাতক) পরিক্ষা নিচ্ছে না হাইয়াতুল উলিয়া ও বেফাক। ফলে এসব মাদরাসা যদি এবছর পরিক্ষায় অংশ না পারে তাহলে দুইশাতাধিক পরিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন হুমকীর মূখে পড়বে।

এছাড়া এই মাদরাসাগুলোর সাথে থাকা দেড় শতাধিক সাদ কান্ধালভীর অনুসারী মাদরাসা এসব বোর্ড থেকে বেরিয়ে আলাদা অবস্থান নিতে পারে। এতে করে  ভাঙ্গনের মূখে পড়তে পারে সরকারে নবগঠিত স্বীকৃতি প্রাপ্ত কওমী শিক্ষাবোর্ড হাইয়াতুল উলিয়া। এনিয়ে উভয়পক্ষ নিজ নিজ অবস্থানে অনড়।

এ নিয়ে কওমি ঘরানার কিছু অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

জানা যায়, কওমী মাদরাসা সবোর্চ্চ শিক্ষাবোর্ড হাইয়াতুল উলিয়া লিল জামিয়াতুল কওমীয়া বাংলাদেশ ও বেয়াকুল মাদারিসিল আরাবীয়া নিয়ম বহিভুত করার্যক্রমে শিকার হচ্ছে ৮টি মাদরাসা। সম্পূর্ণ বেআইনি ভাবে গতকাল (২৭মার্চ বুধবার) ৮টি মাদ্রাসার কাছে এই দুটি বোর্ড ছাত্রদের সমাপনি পরিক্ষার প্রবেশপত্র প্রেরণ করে।এতে চিঠির খামে প্রেরক ও প্রাপক দুটি জায়গা বেফাকের নাম লিখা রয়েছে। ভেতরে সকল প্রবেশপত্রে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার নাম না লিখে “বেয়াকুল মাদারিসিল আরাবিয়া” লেখা রয়েছে।

মাওলানা সাদ কান্ধালভীর অনুসারী আটটি বৃহৎ কওমী মাদ্রাসার দুই শতাধিক ছাত্রকে বেফাক ও হাইয়াতুল উলিয়া মাদ্রাসার নাম ব্যাবহার না করে বোর্ডের নামে সরাসরি পরিক্ষা নিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার মুহতামিমগন বলছেন, কোন প্রকার লিখিত নোটিশ ছাড়া আমাদের এ-ই মাদরাসাগুলোর সাথে এমন আচরণ কোনভাবেই আইন ও সংবিধান সম্মত নয়।

বেফাকারুল মাদারিসুল আরাবিয়ার (বেফাক) মহাপরিচালক মাওলানা যোবায়ের আহমদের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন,  আমাদের কওমীর মুরুব্বিগন এ-ই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, যারা মাওলানা সাদ কান্ধালভীর  অনুসারী সেসব কওমী মাদ্রাসা তাদের প্রতিষ্ঠানের নামে পরিক্ষা নেয়া হবে না। তাদের বিষয়টি লিখিত জানানো হয়েছে কি না প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না লিখিত জানানো হয় নি।

গত বছর দশম সংসদের শেষ অধিবেশনে ‘কওমি মাদরাসাগুলোর দাওরায়ে হাদিসের (তাকমিল) সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) সমমান আইন, ২০১৮’ পাসের মধ্য দিয়ে ‘আল-হায়আতুল উলয়া লিল জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ নামে যে সর্বোচ্চ বোর্ডের অধীনে কওমি শিক্ষাক্রমের দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের মানের সনদ প্রদানের দায়িত্ব দেয়া হয়। সেই আইন পাস হওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ৮ এপ্রিল।

এবিষয়ে আল মাদরাসাতুল মইনুল ইসলাম বারিধারা মাদ্রাসার মুহতামি মুফতী আতাউর রহমান বলেন, আমরা বিভিন্ন সংবাদপত্রের  মাধ্যমে জানতে পারি আমাদের মাদরাসায় হায়আতুল উলইয়া মাদ্রাসার নামে পরিক্ষা নিবে না। যেহেতু কোনো আইনানুগ ধারাকে সামনে রেখে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি এবং তা সাংগঠনিক নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কোনো নোটিশের মাধ্যমে আমাদেরকে জানানো হয়নি, সে জন্য আমরা এ সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক মনে করি। অসাংবিধানিক মনে করি।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com