রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:২৪ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম ::
আল্লামা শফীর ইন্তেকালে আরশাদ মাদানীর শোক আল্লামা আহমদ শফী রহ. এর মাগফিরাত কামনায় সাভারের মারকাজুল উলুমে বিশেষ দোয়া আল্লামা শফীর ইন্তেকালে মাহমুদ মাদানীর শোক আল্লামা শাহ আহমদ শফীর ইন্তেকালে জাতীয় কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড এর শোক হাটহাজারী মাদরাসা বন্ধ ঘোষনা এক আল্লাহ জিন্দাবাদ… হাটহাজারী মাদরাসায় ছাত্রদের বিক্ষোভ ভাঙচুর : কওমীতে নজিরবিহীন ঘটনা ‘তাবলিগের সেই ৪ দিনে যে শান্তি পেয়েছি, জীবনে কখনো তা পাইনি’ তাবলীগের কাজকে বাঁধাগ্রস্থ করতে লাখ লাখ রুপি লেনদেন হয়েছে: মাওলানা সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী দা.বা. (অডিওসহ) নিজামুদ্দীন মারকাজ বিশ্ব আমীরের কাছে বুঝিয়ে দিতে আদালতের নির্দেশ
বাহাসে পরাজিত হয়ে হেফাজতপন্থীদের হামলা (ভিডিও সহ)

বাহাসে পরাজিত হয়ে হেফাজতপন্থীদের হামলা (ভিডিও সহ)

নিজস্ব প্রতিবেদক; তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম

পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্ক মসজিদের খতীব ও হেফাজতের উগ্রপন্থী নেতা আমানুল হক বাহাসে টিকতে না পেরে কথিত জুমহুরদের নিয়ে মুবাল্লিগ আলেম মাওলানা মু’আয বিন নূরের উপর নির্লজ্জ হামলা চালায়। এ ঘটনায় ইকবাল সারওয়ার (৪৭) নামে স্থানীয় একজন সাধারণ সাথী মারাত্মক আহত হলেও মাওলানা মু’আয বিন নূর সম্পুর্ণ অক্ষত রয়েছেন।

একটি বাহাসে মাত্র দু’জন আলেম ও একজন তাবলীগের সাথীর বিপরীতে প্রায় অর্ধ শতাধিক ওজাহাতি আলেম ও মাদ্রাসার ছাত্রদের এমন বর্বরোচিত হামলাকে নৈতিক পরাজয় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষক মহল।

জানা যায়, সদরঘাট হকার্স মার্কেট মসজিদে ওজাহাতিদের চক্রান্তে কয়েক মাস যাবত তাবলীগের আমল বন্ধ রয়েছে। সেখানে দাওয়াতের আমল পূণঃচালু করার উদ্দেশ্যে তাবলীগের স্থানীয় সাথীরা কমিটির কাছে গাশতে যান। তখন কমিটির লোকজন জানান, উভয় পক্ষের দু’জন করে আলেম নিয়ে আলোচনা করে তারা সিদ্ধান্ত নিবেন। সেই লক্ষ্যে আজ সকাল ১১টায় কমিটির আমন্ত্রণে মাওলানা মু’আয বিন নূর ও মুফতী মতিউর রহমান কাসেমী একজন স্থানীয় সাথীকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। তাঁরা গিয়ে দেখেন, মসজিদের দোতলায় আমানুল হকের নেতৃত্বে অর্ধ শতাধিক ওজাহাতি ছাত্র-শিক্ষক ও ডজন খানেক স্থানীয় সন্ত্রাসী জড়ো হয়ে আছে। তারা বাহাস চায়!!! যদিও আজ বাহাসের কোন কথা ছিলো না। অপ্রস্তুত হলেও মাওলানা মু’আয বিন নূর বাহাসের জন্য তৈরী হয়ে যান।

মসজিদ কমিটির সভাপতির উপস্থিতিতে তাকে বাদ দিয়ে স্থানীয় জামালুল কুরআন মাদ্রাসার মুহতামিমকে সভাপতি বানিয়ে আলোচনা শুরু করা হয়। শুরুতেই মাওলানা সাদ কান্ধলভীকে নিয়ে আমানুল হক সম্পূর্ন বানোয়াট, উদ্ভট, কাল্পনিক ও মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গ ঘুড়িয়ে উত্তেজনা তৈরীর চেষ্টা করেন। তখন মু’আয বিন নূর অত্যন্ত শান্ত ও সাবলীলভাবে তার বক্তব্য তথ্যভিত্তিক খণ্ডন করে বর্তমান তাবলীগ বিরোধী মূল ষড়যন্ত্রের বাস্তবতা পেশ করেন। তখন আমানুল হক ও উশৃঙ্খল ছাত্ররা হট্টগোল শুরু করার চেষ্টা করলে সভাপতি মহোদয় মু’আয বিন নূরকে আরো ১৫ মিনিট সময় অতিরিক্ত বাড়িয়ে দেন। মাওলানা মু’আযের কথা শেষ হলে আমানুল হক প্রসঙ্গ পাল্টিয়ে এলোপাতাড়ি ও আবোল তাবোল উত্তেজনা মূলক কথা বলতে থাকে। তখন সভাপতি দ্বিতীয়বার মাওলানা মু’আয বিন নূরকে আলোচনা করার সুযোগ দিলে বারবার আমানুল ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা উত্তেজিত হয়ে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করতে থাকে। কিন্তু এবার সবগুলো বিভ্রান্তিকর তথ্যের দাঁতভাঙ্গা জবাব পেয়ে স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো মজলিস। পরষ্পর চোখাচোখি করতে থাকে ওজাহাতিরা। তখন অবস্থা বেগতিক দেখে আমানুল হক বলতে শুরু করে, “আলোচনা আর দীর্ঘায়িত করা উচিত হবে না। আমরা এখন সভাপতির কথা শুনবো।” কথাগুলো বলতে বলতে সে চরম উত্তেজিত হয়ে মাওলানা মু’আয বিন নূরের উপরে তার এক ছেলেসহ মাদ্রাসার ছাত্রদের লেলিয়ে দেয়।

আরো দেখুনঃ ভিডিওটিই প্রমাণ করে আমানুল হকদের মিথ্যাচার

প্রত্যক্ষদর্শী একজন বলেন, ক্ষুধার্ত কুকুর যেমনে শিকারীর উপরে হামলে পড়ে, সেভাবেই তারা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। যেটা আপনারা ভিডিওতে দেখেছেন। তারপরও তিনি (মু’আয বিন নূর) কিভাবে অক্ষত অবস্থায় বেরিয়ে আসলেন, সেটা আল্লাহ পাকের বিশেষ কুদরত ছাড়া সম্ভব নয়।

স্থানীয় তাবলীগী সাথীরা বলেন, অর্ধ শতাধিক আলেমের সামনে এমন সাহসী ভঙ্গিতে উচ্চস্বরে সত্য কথা বলতে পারাটাই আমাদের প্রাথমিক বিজয়। মাওলানা মু’আয বিন নূর সম্পূর্ণ অপ্রস্তুতভাবে একাই সবার মুকাবেলা করেছেন, বীরদর্পে। মূহুর্তের জন্যও তাকে বিচলিত দেখা যায় নি। তার উপস্থিত দলীলভিত্তিক মুখস্ত জবাবে পেরেশান হয়ে যায় পুরো মহল। এটাও আংশিক ভড়কে দিয়েছে ওজাহাতিদের।

অবশেষে আমানুল হকের ইসরায়েলী তথ্যের গোঁমড় ফাঁস

মসজিদ কমিটির নিরপেক্ষ একজন সদস্য বলেন, আমরা এক পক্ষের অনেক কথা শুনেছি। আজ দু’পক্ষের আলোচনা শুনে সিদ্ধান্ত নিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এক পক্ষের মারমুখী আচরণে আমরা তাদের অসারতা ও মিথ্যাচারিতার প্রমাণ পেয়ে গেছি। এখন সিদ্ধান্ত নিতে আমাদের জন্য সহজ হবে।

মাওলানা মু’আয বিন নূরের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, জাতীয় কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের ব্যপারে একটি রীট আবেদন নিয়ে তিনি হাইকোর্টে আছেন। পরে তিনি জানান, তার আসন্ন বিদেশ সফর নিয়ে জরুরি মাশোয়ারা করতে আজ সকালে গুলিস্তান সেন্ট্রাল মসজিদে এসেছিলেন। সেখান থেকে অবসর হলে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে তাকে সেখানে পাঠানো হয়। সম্পূর্ণ অপ্রস্তুতভাবে গেলেও আল্লাহ তায়ালার মেহেরবানীতে তার দলীল সমৃদ্ধ বক্তব্যে ওজাহাতিদের যবনিকাপাত ঘটে। যা তাদের কল্পনারও বাহিরে ছিলো। তাই পরিবেশ নষ্ট করে বৈঠকটি বানচাল করার জন্য তারা অতর্কিত হামলা চালায়। আল্লাহর কুদরতে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ও অক্ষত অবস্থায় সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন।

মু’আয বিন নূর আরো বলেন, তারা যদি বিজয়ী হতো তাহলে তাদের পক্ষে সিদ্ধান্ত আদায় করে নিতো। কিন্তু দাবার গুটি উল্টে যাওয়ার আশঙ্কায় তারা সিদ্ধান্ত গ্রহণের মজলিসটি নগ্ন হামলার মাধ্যমে বানচাল করে দেয়। যা কেবল পরাজিতদের দ্বারাই সম্ভব।

এ ঘটনার পেক্ষিতে চিন্তাশীল আলেম সমাজ মনে করছেন, তাবলীগের মাত্র দু’জন তরুণ আলেমের যুক্তি, ইলমী তত্ব ও বিশ্লেষণের কাছে টিকতে না পেরে এমন নগ্ন হামলার মাধ্যমে তারা নিজেদের দেওলিয়াত্বের পূণঃ জানান দিয়েছেন।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com