শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:৫৮ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম ::
ভিডিওটিই প্রমাণ করে আমানুল হকদের মিথ্যাচার

ভিডিওটিই প্রমাণ করে আমানুল হকদের মিথ্যাচার

নিজস্ব প্রতিবেদক; তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম

গতকাল পুরান ঢাকার সদরঘাট হকার্স মার্কেট মসজিদে ভিক্টোরিয়া পার্ক সংলগ্ন মসজিদের খতীব ও উগ্র হেফাজতনেতা আমানুল হকের নেতৃত্বে তাবলীগের ৩জন সাথী ও মুবাল্লিগ আলেমদের উপর ন্যাক্কারজনক হামলার প্রেক্ষিতে বেরিয়ে আসছে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তারা এই লজ্জাজনক ঘটনা ঢাকতে নানান মিথ্যাচার ও ছলচাতুরীর আশ্রয় নিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানান মিথ্যাচার ছড়িয়ে দিলেও আমানুল হক গংদের ধারণকৃত স্বল্প ভিডিওটিতেই তাদের অধিকাংশ মিথ্যাচারের জবাব ফুটে ওঠেছে। যদিও আমানুল হক পুরো ঘটনাটি রেকর্ড করেছে, তবুও লোকলজ্জার ভয়ে এবং নিজেদের ভরাডুবি ঢাকতে ২৪ ঘন্টা পার হয়ে গেলেও সেই রেকর্ড প্রকাশ করছে না। এদিকে তারা বাহাসটিকে পূর্ব নির্ধারিত বলে অনলাইনে প্রচার করলেও গতকালের আগ পর্যন্ত সোস্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে কোন আলোচনা ছিলো না। এতে প্রতীয়মান হয় যে, মসজিদ কমিটিকে তাৎক্ষণিক ব্ল্যাকমেইল করে আমানুল হক গং মুবাল্লিগ আলেমদেরকে হত্যার উদ্দেশ্যেই বাহাসের নাটক সাঁজিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছিলো। এর আগে গতকাল সকালে কমিটির তরফ থেকে দু’জন মুবাল্লিগ আলেমকে ডাকা হলে তারা সেখানে গিয়ে দেখেন, আমানুল হকের নেতৃত্বে মসজিদের দোতলা দখল করে আছে আলেম, ছাত্র ও ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা। তাবলীগের পক্ষে মাওলানা মু’আয বিন নূর ও মুফতি মুতিউর রহমান কাসেমী সেখানে যেতেই আমানুল হক তাৎক্ষণিক বাহাস করার ঘোষণা দেয় এবং সেখানে আলেম ছাড়া অন্য কোন সাথী থাকতে পারবে না বলেও জানিয়ে দেয়। তখন সাহসী মুবাল্লিগ আলেম দু’জন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন।

আরো পড়ুনঃ বাহাসে পরাজিত হয়ে হেফাজতপন্থীদের হামলা (ভিডিও সহ)

তখন আমানুল হক স্থানীয় জামালুল কুরআন মাদ্রাসার মুহতামিমকে সভাপতি বানিয়ে আলোচনা শুরু করার ঘোষণা দেয়। শুরুতেই মাওলানা সাদ কান্ধলভীকে নিয়ে আমানুল হক সম্পূর্ন বানোয়াট, উদ্ভট, কাল্পনিক ও মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গ ঘুড়িয়ে উত্তেজনা তৈরীর চেষ্টা করে। তখন মুবাল্লিগ আলেমদের প্রতিনিধি মাওলানা মু’আয বিন নূর অত্যন্ত শান্ত ও সাবলীলভাবে তার বক্তব্য তথ্যভিত্তিক খণ্ডন করে বর্তমান তাবলীগ বিরোধী মূল ষড়যন্ত্রের বাস্তবতা পেশ করেন। তখন আমানুল হক দাঁড়িয়ে দু’হাত নাড়িয়ে উশৃঙ্খল ছাত্রদের উত্তেজিত করে হট্টগোল শুরু করার চেষ্টা করলে সভাপতি মহোদয় তাকে থামিয়ে মু’আয বিন নূরকে আরো ১৫ মিনিট সময় অতিরিক্ত বাড়িয়ে দেন। মাওলানা মু’আযের কথা শেষ হলে আমানুল হক প্রসঙ্গ পাল্টিয়ে এলোপাতাড়ি ও আবোল তাবোল উত্তেজনা মূলক কথা বলতে থাকে। তখন সভাপতি দ্বিতীয়বার মাওলানা মু’আয বিন নূরকে জবাবমূলক আলোচনা করার সুযোগ দিলে বারবার আমানুল ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা উত্তেজিত হয়ে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করতে থাকে। কিন্তু এবার সবগুলো বিভ্রান্তিকর তথ্যের দাঁতভাঙ্গা জবাব পেয়ে স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো মজলিস। নেমে আসে মসজিদ জুড়ে নিস্তব্ধতা। পরষ্পর চোখাচোখি করতে থাকে ওজাহাতিরা। তখন অবস্থা বেগতিক দেখে আমানুল হক বলতে শুরু করে, “আলোচনা আর দীর্ঘায়িত করা উচিত হবে না। আমরা এখন সভাপতির কথা শুনবো।” কথাগুলো বলতে বলতে সে চরম উত্তেজিত হয়ে মাওলানা মু’আয বিন নূরের উপরে তার এক ছেলেসহ মাদ্রাসার ৩০ জন ছাত্র নিয়ে হামলা চালায়।

আরো পড়ুনঃ অবশেষে আমানুল হকের ইসরায়েলী তথ্যের গোঁমড় ফাঁস

তাদের ধারণকৃত ভিডিওটিতে দেখা যায়, প্রথমতঃ আমানুল হকের উত্তেজনামূলক বক্তব্য ও ছাত্রদের হৈহুল্লোড়ের মোকাবেলায় মাওলানা মু’আয বিন শান্তভাবে বসে কথা বলছেন। তার কথার মধ্যে কোন জড়তা কিংসা অস্পষ্টতা নেই। ছিলো সাহসী ও যৌক্তিক উচ্চারণ।
দ্বিতীয়তঃ অপ্রস্তুত অবস্থায় চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে ৭০ জনের মোকাবেলায় মাত্র একজন তরুণ আলেমের এমন সাহসী মুনাযারা বা বিতর্ক ইতিহাসের এক বিরল ঘটনার জন্ম দিয়েছে।
তৃতীয়তঃ তাদের হামলাই প্রমাণ করে, একজন তরুণের যুক্তিনির্ভর, জ্ঞানগর্ভ ও দলীলভিত্তিক আলোচনার সামনে ৭০ জন মিলেও কতটা অসহায় হয়ে পড়েছিলো। ৭০ জন মিলে একজনের উপর হামলার এমন বর্বর ঘটনা আইয়ামে জাহেলিয়াতকেও হার মানিয়েছে।
চতুর্থতঃ ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, সবাই যখন কথায় না পেরে তার উপর হামলা করতে উদ্যত হয়েছিলো তখনও মু’আয বিন নূর চরম দুঃসাহসিকতার সাথে কথা চালিয়ে তাদেরকে কুপোকাত করে যাচ্ছিলেন।
পঞ্চমতঃ ভিডিওতে আরো দেখা যাচ্ছে, মু’আয বিন নূরের বসার ধরণ ছিলো অবাক করার মত। ৭০জন প্রতিপক্ষের সামনে একাই বীর বাহাদুরের মত বসে চোখে আঙুল দিয়ে প্রমাণ করে দিচ্ছিলেন তাদের মিথ্যাচার।
ষষ্ঠতঃ ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ওজাহাতি নেতার হাতে মাইক্রোফোন ছিলো। পুরো অনুষ্ঠানটি ওজাহাতিরা স্পেশাল রেকর্ডার দিয়ে ধারণ করার পরও এখনো প্রকাশ করছে না, গোঁমড় ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে।
সপ্তমতঃ ইসলামের চিরাচরিত বিধান মুতাবিক মেহমান ও দূতের উপর আক্রমণ করা সম্পূর্ণ অবৈধ। হাদীসে বর্ণিত আছে, “যে আল্লাহ ও পরকালের উপর ঈমান রাখে সে যেন মেহমানকে সম্মান করে। (বুখারী ও মুসলিম)” তাছাড়া মেহমানদারীর রেওয়াজ হলো পুরান ঢাকার ঐতিহ্য। সেখানে পুরান ঢাকার একটি ঐতিহ্যবাহী মসজিদের কমিটি দু’জন আলেম মেহমানকে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে যে আচরণ করলেন তা ঈমানের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ ও অত্যন্ত লজ্জাজনক। তারপরও সেখান থেকে মাওলানা মু’আয বিন নূর সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় কিভাবে বেরিয়ে আসলেন, তা সম্পূর্ণ অলৌকিক ঘটনা।

আরো আসছে, পরবর্তী আপডেট। চোখ রাখুন………।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com