শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম ::
কওমী শিক্ষাবোর্ডের অনিয়মে হাইকোর্টের রোলঃ প্রসঙ্গ কথা

কওমী শিক্ষাবোর্ডের অনিয়মে হাইকোর্টের রোলঃ প্রসঙ্গ কথা

মন্তব্য প্রতিবেদন;

আবরার আবির; তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম

পরিকল্পনা ছিলো, তাবলীগের সাথে জড়িত কওমী মাদরাসাগুলোর অস্তিত্ববিলীন করে সমূলে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া। কিন্তু রাখে আল্লাহ, মারে কে? মহামান্য আদালতের নির্দেশে এসব কওমী মাদরাসা তাদের অস্তিত্বকে স্থায়ীভাবে জানান দিলো। এবার কিছু ব্যক্তির অনিয়মের খেসারত দিতে হচ্ছে গোটা কওমী অঙ্গনকে।

তাবলীগের আলেমদেরকে কোণঠাসা করতেই মূলত টার্গেট নিয়েছিলেন কতিপয় ব্যক্তি। হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন কওমী শিক্ষাবোর্ডকে। তাই পরীক্ষামূলক টার্গেট করা হয় বড় বড় কয়েকটি মাদরাসাকে। প্রথমত বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকায় বেফাকের নাম ভাঙ্গিয়ে তাদের রেজিষ্ট্রেশন বাতিল করার হুঙ্কার ছাড়া হয়। এ যেন ছিলো তীর দেখিয়ে কাক তাড়ানোর মত। অবশেষে কোন প্রকার লিখিত নোটিশ ছাড়াই এসব মাদরাসার ছাত্রদের পরীক্ষা না নেওয়ার ঘোষণা দেয় বেফাক ও হাইয়াতুল উলিয়া। এই ক্ষেত্রে জড়ানো হয় বয়োবৃদ্ধ অশতিপর আলেমে দ্বীন আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে। যা ছিলো খুবই দুঃখজনক।

আরো পড়ুনঃ কওমী শিক্ষাবোর্ডের অনিয়মঃ হাইকোর্টের ভর্ৎসনা | মূলধারার মাদরাসাগুলোর নিরঙ্কুশ বিজয়

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গুটি কয়েক ব্যক্তির কাছে জিম্মী হয়ে আছে এই দু’টি কওমী শিক্ষাবোর্ড। তাদের একচেটিয়া প্রভাব ও সাহেবজাদাসূলভ আচরণে কোণঠাসা হয়ে পড়েন বেফাক-হাইয়ার অধিকাংশ দায়িত্বশীল ও কর্মকর্তারা। এই গুটিকয়েক ব্যক্তিকে তারা বারবার বুঝানোর চেষ্টা করেন যে, শিক্ষাবোর্ডকে এসবে জড়ানো উচিৎ হবে না। কিন্তু পেশী শক্তির দাপট দেখিয়ে চলছিলো সবকিছু। মুহাম্মদপুর ও হাটহাজারীর দুই সাহেবজাদার কাছে জিম্মী হয়ে পড়েছিলো গোটা শিক্ষাবোর্ড।

দুই সাহেবজাদা ও তাদের দোসর মীযানুর রহমান সাঈদের যৌথ ষড়যন্ত্রের কবলে প্রভাবাণ্বিত হয়ে পড়েন হাইয়া-বেফাকের শীর্ষ মুরুব্বীরা। তাবলীগের সাথে জড়িত মাদরাসাসমূহের মুরুব্বীরা বারবার দেখা করলেও তারা কোন সদুত্তর দিতে পারে নি। অবশেষে হাইয়াতুল উলিয়ার কো-চেয়ারম্যান ও বেফাকের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আশরাফ আলী এসব মাদরাসার মুহতামিমদের নিয়ে বৈঠক ডেকেও রহস্যজনক কারণে সেই বৈঠকে আসেন নি। হাজির হন নি বেফাক নেতারা। বরং প্রতিনিধির মাধ্যমে লিখিত কিছু না দিয়ে বারবার হুঙ্কার দিতে থাকেন “আপনাদের যা ইচ্ছা, করতে পারেন। আমরা আপনাদের ছাত্রদের পরীক্ষা নিবো না”।

সংশ্লিষ্ট মাদরাসাগুলোর পরীক্ষার রেজিষ্ট্রেশন করে ফিস জমা নেওয়ার পরও শিক্ষাবোর্ডের এমন আচরণ ছিলো বিষ্ময়কর। তারা কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছিলেন না। একই ছাত্রকে বাগিয়ে নিয়ে ৩ মাদরাসা থেকে প্রবেশপত্র দেওয়ার মত অনৈতিক কাজও করেছেন বেফাক নেতারা। এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা মনে হয় কেবল কওমী শিক্ষাবোর্ডেই সম্ভব। পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্রে মাদরাসার নামের স্থলে লিখে দিয়েছে বেফাকের নাম। আবার নিচে লিখেছে ‘মুহতামিমের সীল ও স্বাক্ষর’। বেফাকের মুহতামিম পদ কবে থেকে সৃষ্ট হলো, সে আরেক নতুন রহস্যের দ্বার উম্মোচন করে। ফলে অসংখ্য ছাত্রদের প্রবেশপত্র পাওয়ার পরও পরীক্ষা দেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। আরো কিছু মাদরাসার ফীস গ্রহণ করলেও প্রবেশপত্র সরবরাহ করা হয় নি। এসব নাটকীয়তার কারণে তাবলীগসংশ্লিষ্ট মাদরাসাগুলোর মুহতামিমগণ গতকাল হাইকোর্টে রীট করতে বাধ্য হোন। দেখা করেন শিক্ষা সচিব, শিক্ষা উপমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর সাথে।

আরো পড়ুনঃ ২২১ জন ছাত্রের ভবিষ্যত নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে হাইয়াতুল উলিয়া ও বেফাক; নাটের গুরু মুফতি মিজান

পিঠ যখন দেওয়ালে। তখন শেষ চেষ্টা হিসেবে বাধ্য হয়েই বোর্ড দু’টির বিরুদ্ধে হাইকোর্টের স্মরণাপন্ন হতে হয়। মহামান্য আদালত দীর্ঘ ১ঘন্টার শুনানী শেষে বিষ্ময় প্রকাশের পাশাপাশি দুটি শিক্ষাবোর্ডের আচরণে হতবাক হয়ে যান। কোন শিক্ষাবোর্ড এমন অন্যায় ও গর্হিত কাজ করতে পারে না বলে মন্তব্য করেন। তখন মহামান্য আদালত কওমী শিক্ষাবোর্ডকে ভর্ৎসনা করে অতিদ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে যথাসময়ে বঞ্চিতদের পরীক্ষা নিতে নির্দেশ প্রদান করেন। হাইকোর্টের এই ঐতিহাসিক রায় শিক্ষাবোর্ড দু’টির ভবিষ্যতে পথ চলতে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

হাইকোর্ট পর্যন্ত যাওয়া এবং শিক্ষাবোর্ডের সীমাহীন অনিয়মকে হাইকোর্টের ভর্ৎসনা করা, এ লজ্জা গোটা কওমী অঙ্গনের (যদি আবেগী জুমহুরগণ বুঝেন)। এ জন্য দায়ী কতিপয় সাহেবজাদা ও তাদের দোসরদের মাত্রাতিরিক্ত বাড়াবাড়ি। জুলুমের পরিণাম কখনোই সুখকর হয় না।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com