রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৫:৫৯ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম ::
আল্লামা শাহ আহমদ শফীর ইন্তেকালে জাতীয় কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড এর শোক হাটহাজারী মাদরাসা বন্ধ ঘোষনা এক আল্লাহ জিন্দাবাদ… হাটহাজারী মাদরাসায় ছাত্রদের বিক্ষোভ ভাঙচুর : কওমীতে নজিরবিহীন ঘটনা ‘তাবলিগের সেই ৪ দিনে যে শান্তি পেয়েছি, জীবনে কখনো তা পাইনি’ তাবলীগের কাজকে বাঁধাগ্রস্থ করতে লাখ লাখ রুপি লেনদেন হয়েছে: মাওলানা সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী দা.বা. (অডিওসহ) নিজামুদ্দীন মারকাজ বিশ্ব আমীরের কাছে বুঝিয়ে দিতে আদালতের নির্দেশ সিরাত থেকে ।। কা’বার চাবি দেওবন্দের বিরোদ্ধে আবারো মাওলানা আব্দুল মালেকের ফতোয়াবাজির ধৃষ্টতা:শতাধিক আলেমের নিন্দা ও প্রতিবাদ একান্ত সাক্ষাৎকারে সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী :উলামায়ে হিন্দ নিজামুদ্দীনের পাশে ছিলেন, আছেন, থাকবেন
মহামান্য হাইকোর্টের রায় কি মানবে না হাইয়াতুল উলয়া কতৃপক্ষ?

মহামান্য হাইকোর্টের রায় কি মানবে না হাইয়াতুল উলয়া কতৃপক্ষ?

আদনান হাবিব, তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম

আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ এর দ্বায়িত্বশীলরা মহামান্য হাইকোর্টের রায়কে অবজ্ঞা করে মিথ্যা তথ্য ও ভুল ব্যাখ্যা দাড় করানোর চেষ্টা করছেন। আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’র কো-চেয়ারম্যান আল্লামা আশরাফ আলী একটি মিডিয়াকে স্পষ্ট করেই বলেছেন, “এত স্বল্প সময়ে হাইয়াতুল উলইয়ার পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা সম্ভব নয়”।

আজ ৬ এপ্রিল ২০১৯ বেলা ১২:৫১ মিনিটে আওর ইসলাম২৪.কম নামে একটি পোর্টালে রকিব মুহাম্মদ এর লেখা “সাদপন্থী মাদরাসার পক্ষে হাইকোর্টের নির্দেশ, পূর্ব সিদ্ধান্তে অটল হাইয়াতুল উলইয়া” শিরোনামে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন মাওলানা আশরাফ আলী।

এই সংবাদে সষ্পট মহামান্য হাইকোর্টের প্রতি অবজ্ঞা ও অবমাননা ফুটে উঠেছে। আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’র কো চেয়ারম্যান এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে বসে একজন ব্যাক্তি কখনো এমন দ্বায়িত্বহীন বক্তব্য মিডিয়ায় দিতে পারেন না বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

হাইকোর্ট আমাদের একটি আস্থা, ভরসা ও শ্রদ্ধার জায়গা। দেশের সবোর্চ্চ বিচারালয়। পেশিশক্তির বলে যদি কোন ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠান মহামন্য আদালতকে অবমাননা ও অবজ্ঞা করে তাহলে এজাতীর সংকট যা সমস্যা নিরসনে যাবার মতো শেষ কোন ঠিকানা আর থাকবে না।

এখন হাইয়ার নেতারা কোন পথে হাটবেন তা দেখতে আরেকটি দিন অপেক্ষা করতে হবে

উল্লেখ্য যে, কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডগুলোর সমন্বয়ে সরকারের অধিনে গঠিত সর্বোচ্চ শিক্ষাবোর্ড ‘আল হাইআতুল উলিয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ এর অধিনে দাওরায়ে হাদীস (মাস্টার্স) ও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার অধিনে মেশকাত (স্নাতক) পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চিত ১৭৭জন শিক্ষার্থীর যথাসময়ে মাদ্রাসার নামে পরিক্ষা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করেছে হাইকোর্ট। আগামী রোববারের মধ্যে প্রবেশপত্র প্রদান করে পরিক্ষা নিতে মহামান্য আদালত এই নির্দেশ দিয়েছেন।

কোন প্রকার লিখিত অভিযোগ ছাড়া মাদ্রাসার ছাত্রদের রেজিস্ট্রেশন ও ফীস জমা নেয়ার পরও ভুল প্রবেশপত্র প্রদান করার মত অপরাধ করেও আবার মহামান্য আদালতের নির্দেশকে অবজ্ঞাসূচক বক্তব্যে এড়িয়ে যাওয়ার ঘটনায় বিষ্মিত হক্কানী উলামায়ে কেরাম ও শিক্ষাবিদগন। তারা বলছেন, কোন প্রকার অপব্যাখ্যা ও নতুন ষড়যন্ত্র না করে আদালতের নির্দেশকে মান্য করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’র কো চেয়ারম্যান আল্লামা আশরাফ আলী আরো বলেন, আমরা কোনও শিক্ষার্থীর পরীক্ষা স্থগিত করিনি বরং যেসব মাদরাসায় হাইয়ার পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল, সে সব কেন্দ্র স্থগিত করি।”

শিক্ষার্থীদের আল-হাইয়াতুল উলইয়ার অধীনে পরীক্ষা দিতে দেওয়ার ব্যাপারে হাইকোর্ট যে নির্দেশনা দিয়েছে তা মেনে নতুন করে মাদরাসার নামসহ পরীক্ষার্থীদের কাগজ তৈরি করা হবে কিনা – এমন প্রশ্নের উত্তরে আল্লামা আশরাফ আলী বলেন, আদালতের কোনও নির্দেশনা এখনো আমরা হাতে পাইনি। এছাড়া, মাদরাসাগুলোর পরীক্ষা কেন্দ্র কেন বা কী কারণে স্থগিত করা হয়েছে তা সম্পর্কে আদালত কিছুই জানেন না। প্রয়োজনে আমরা বিচারপতীদের সঙ্গে আলোচনায় বসব। তবে এত স্বল্প সময়ে হাইয়াতুল উলইয়ার পূর্ববর্তী পরিবর্তন করা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা প্রক্রিয়া কী হবে জানতে চাইলে হাইয়ার জেষ্ঠ এই নেতা বলেন, “শিক্ষার্থীরা বেফাক বা অন্য কোন মাদরাসার নামে যেভাবে কাগজপত্র তৈরি হয়েছে সেভাবে পরীক্ষায় অংশ নিতে কোন বাধা নেই।”

আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’র কো-চেয়ারম্যান আল্লামা আশরাফ আলীর পুরো বক্তব্যই যেমন মহামান্য আদালতের নির্দেশ অমান্য করে, অবমাননা ও অবজ্ঞা করার শামিল তেমনি সত্য আড়াল লকরেছেন এই অশতিপর বৃদ্ধ। তিনি বলেছেন, আমরা কোনও শিক্ষার্থীর পরীক্ষা স্থগিত করিনি বরং যেসব মাদরাসায় হাইয়ার পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল, সে সব কেন্দ্র স্থগিত করি।

অথচ সরেজমিনে অনুসন্ধান করে দেখা যায়, কোন কেন্দ্র স্থগিত করা হয় নি। বরং ভুল প্রবেশপত্র দিয়ে ১৭৭জন ছাত্রের পরীক্ষা দেওয়াকে তারা অনিশ্চিত করেছেন।

সংশ্লিষ্ট মাদরাসাগুলোর পরীক্ষার রেজিষ্ট্রেশন ফিস জমা নেওয়ার পরও শিক্ষাবোর্ডের এমন আচরণ ছিলো বিষ্ময়কর। তারা কোন নিয়মনীতির পরোয়া করছিলেন না। একই ছাত্রকে বাগিয়ে নিয়ে ৩ মাদরাসা থেকে প্রবেশপত্র দেওয়ার মত অনৈতিক কাজও করেছেন বেফাক নেতারা। যার মূলকপি গতকাল হাইকোর্টে দেখানো হয়। এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা মনে হয় কেবল কওমী শিক্ষাবোর্ডেই সম্ভব।

পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্রে মাদরাসার নামের স্থলে লিখে দিয়েছে বেফাকের নাম। আবার নিচে লিখেছে ‘মুহতামিমের সীল ও স্বাক্ষর’। বেফাকের মুহতামিম পদ কবে থেকে সৃষ্ট হলো, সে আরেক নতুন রহস্যের দ্বার উম্মোচন করে দিয়েছে। ফলে অসংখ্য ছাত্রদের ভুল প্রবেশপত্র পাওয়ার পরও পরীক্ষা দেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। আরো কিছু মাদরাসার ফিস গ্রহণ করলেও প্রবেশপত্র পায় নি আজ পর্যন্ত।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com