শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম ::
হাটহাজারী মাদরাসা বন্ধ ঘোষনা এক আল্লাহ জিন্দাবাদ… হাটহাজারী মাদরাসায় ছাত্রদের বিক্ষোভ ভাঙচুর : কওমীতে নজিরবিহীন ঘটনা ‘তাবলিগের সেই ৪ দিনে যে শান্তি পেয়েছি, জীবনে কখনো তা পাইনি’ তাবলীগের কাজকে বাঁধাগ্রস্থ করতে লাখ লাখ রুপি লেনদেন হয়েছে: মাওলানা সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী দা.বা. (অডিওসহ) নিজামুদ্দীন মারকাজ বিশ্ব আমীরের কাছে বুঝিয়ে দিতে আদালতের নির্দেশ সিরাত থেকে ।। কা’বার চাবি দেওবন্দের বিরোদ্ধে আবারো মাওলানা আব্দুল মালেকের ফতোয়াবাজির ধৃষ্টতা:শতাধিক আলেমের নিন্দা ও প্রতিবাদ একান্ত সাক্ষাৎকারে সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী :উলামায়ে হিন্দ নিজামুদ্দীনের পাশে ছিলেন, আছেন, থাকবেন তাবলীগের হবিগঞ্জ জেলা আমীর হলেন বিশিষ্ট মোহাদ্দিস মাওলানা আব্দুল হক দা.বা.
হাইকোর্টের নির্দেশে মেনে নিয়েছে কওমী শিক্ষাবোর্ড| সর্বশেষ সিদ্ধান্ত জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

হাইকোর্টের নির্দেশে মেনে নিয়েছে কওমী শিক্ষাবোর্ড| সর্বশেষ সিদ্ধান্ত জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

ষ্টাফ রিপোর্টার, তাবলীগ নিউজ বিডিডটকম

কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে বঞ্চিত ছাত্রদের যথাযথ নিয়মে আজকের পরিক্ষা নিতে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছে। পরিক্ষায় অনিশ্চিত ১৭৭জন পরীক্ষার্থীর যথাসময়ে মাদ্রাসার নামে গতকাল রোববারের মধ্যে সংশোধিত প্রবেশপত্র ইস্যু করে পরিক্ষা নিতে মহামান্য হাইকোর্ট গত বৃহস্পতিবার রায় দিয়েছিল। সেই রায়ের কপি গতকাল এই শিক্ষাবোর্ডের কাছে হাইকোর্টের পক্ষ থেকে প্রেরণ করা হয়।

এদিকে আজ সারাদেশে বেফাক ও হাইয়াতুল উলিয়ার কেন্দ্রীয় পরিক্ষা শুরু হচ্ছে। তাই গতকাল রাত আনুমানিক ২টা ৩০মিনিটে বেফাকের পক্ষ থেকে একটি ‘জরুরী বিজ্ঞপ্তি’ সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা, পরিক্ষারকেন্দ্র, বিভাগীয় কেন্দ্রসহ সংশ্লিষ্ট থানায় ও বিভিন্ন অনলাইনে প্রেরন করা হয়।

যদিও এর আগে বেফাক ও আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’র কো-চেয়ারম্যান আল্লামা আশরাফ আলী একটি মিডিয়াকে স্পষ্টভাবেই বলেছিলেন, “এত স্বল্প সময়ে হাইয়াতুল উলইয়ার পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা সম্ভব নয়”। বেফাকের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায়, তারা মহামান্য হাহকোটের নির্দেশের আলোকে আদালতকে সম্মান জানিয়ে পূর্বের অবস্থান থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন এবং সেই আলোকে সর্বত্র নির্দেশনা প্রেরণ করেছেন।

বেফাক ও হাইয়াতুল উলয়ার পাঠানো জরুরী বিজ্ঞপ্তিতে যা আছে

জরুরী বিজ্ঞপ্তি

এতদ্বারা (১) আল মাদ্রাসাতু মুঈনুল ইসলাম, মাদ্রাসা নগর (টেক ঢালী বাড়ী), ছোলমাইদ, ভাটারা, ঢাকা-১২২৯, (২) মারকাজুল উলুম আশ শরইয়াহ, সাভার, পূর্ব শাহীবাগ, সাভার, ঢাকা, (৩) জামিয়া রহমানিয়া গাইটাল, নয়াপাড়া, সদর কিশোরগঞ্জ, (৪) জামিয়া মাদানিয়া আশরাফুল উলুম মাদরাসা ও ইয়াতীমখানা, বাসস্ট্যান্ড, তালতলা, চাঁদপুর-৩৬০০, (৫) মারকাযুস সুফফা আল ইসলামিয়া নন্দীপাড়া, হোল্ডিং নং ৫০, রোড-২, ওয়ার্ড-২, খিলগাও, ঢাকা-১২১৩ ও (৬) জামিয়া ইসলামিয়া রাহে জান্নাত রহিমা মহিলা মাদ্রাসা, জামিরদিয়া, মধ্যপাড়া, হাজীবাড়ী মোড়, হবিরবাড়ী, ভালুকা, ময়মনসিংহ নামীয় মাদ্রাসাসমূহের আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ এর পরীক্ষার্থীদের জ্ঞাতার্থে জানানো যাচ্ছে যে, অদ্য ০৭-০৪-২০১৯ ইংরেজী তারিখে বিকাল ৪:৪০ ঘটিকায় (আনুমানিক) মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের রীট পিটিশন নং ৩৭৪৮/২০১৯ এর গত ৪-৪-২০১৯ তারিখের আদেশ অত্র হাইআতুল উলয়া কর্তৃপক্ষের হস্তগত হয়েছে।

উক্ত আদেশের বরাতে এই মর্মে নির্দেশক্রমে জানানো যাচ্ছে যে, রীট পিটিশনে বর্ণিত ১৭৭ জন পরীক্ষার্থীর যথাযথ প্রবেশপত্র সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কেন্দ্রের মাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রেরিত হয়েছে এবং তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবেশপত্র রীট পিটিশনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

উল্লেখিত ১৭৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে প্রেরিত প্রবেশপত্র কোন কারণে হাতে না পেয়ে থাকলে তাদেরকে সরাসরি সংশ্লিষ্ট পরীক্ষাকেন্দ্রে তাদের রেজিস্ট্রেশন ফরমসহ উপস্থিত হয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের নির্দেশ দেয়া যাচ্ছে। এতদ্বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষাকেন্দ্রের পরিচালক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ৬টি মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট পরীক্ষাকেন্দ্র সংশ্লিষ্ট থানা কর্তৃপক্ষ (মাদ্রাসা ও পরীক্ষাকেন্দ্র সংশ্লিষ্ট) সংশ্লিষ্ট অভিভাবকসহ সকলের অবগতির জন্য অত্র জরুরী বিজ্ঞপ্তি বিভিন্ন অনলাইন মিডিয়া, ই-মেইল ও হাতে হাতে প্রেরিত হল।”

প্রসঙ্গতঃ রাজধনীর বারিধারার আল মাদরাসাতু মঈনুল ইসলাম, সাভারের মারকাজুল উলূম আশ শরীয়াহ, নন্দিপাড়ার মাদরাসাতুস সুফফা আল ইসলামিয়া, চাঁদপুরের জামিয়া মাদানিয়া আশরাফুল উলুম, কিশোরগঞ্জ গাইটাইলের মাদরাসায়ে রাহমানিয়া, ময়মনসিংহ ভালুকার জামিয়া ইসলামিয়া রাহে জান্নাত মহিলা মাদরাসার শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রীয় পরীক্ষা অন্যায় ও বেআইনিভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয় ‘আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’। পরে চাঁপের মুখে সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে হাইয়া সংশ্লিষ্ট মাদরাসাগুলোর পরীক্ষার রেজিষ্ট্রেশন ফিস জমা নেয় কিন্তু পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্রে মাদরাসার নামের স্থলে লিখে দেয় বেফাকের নাম। আবার নিচে লিখেছে ‘মুহতামিমের সীল ও স্বাক্ষর।

এ নিয়ে মাদরাসাগুলোর পক্ষে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবি মোহাম্মদ আব্দুল কদ্দুস বাদল হাইকোর্টে রিট করেন। এ রীটের প্রেক্ষিতে বিচারপতি এফ.আর.এম. নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে.এম. কামরুল কাদেরের দ্বৈত বেঞ্চ গত বৃহস্পতিবার রীটের শুনানি শেষে মাদরাসাগুলোর পক্ষে রায় দেন।

উল্লেখ্য যে, তাবলীগের সাথে সংশ্লিষ্ট মাদরাসাগুলোর পরীক্ষার রেজিষ্ট্রেশন ফিস জমা নেওয়ার পরও শিক্ষাবোর্ডের এমন আচরণ ছিলো বিষ্ময়কর। তারা কোন নিয়মনীতির পরোয়া করছিলেন না। একই ছাত্রকে বাগিয়ে নিয়ে ৩ মাদরাসা থেকে প্রবেশপত্র দেওয়ার মত অনৈতিক কাজও করেছেন বেফাক নেতারা। যার মূলকপি গতকাল হাইকোর্টে দেখানো হয়। এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা মনে হয় কেবল কওমী শিক্ষাবোর্ডেই সম্ভব। পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্রে মাদরাসার নামের স্থলে লিখে দিয়েছে বেফাকের নাম। আবার নিচে লিখেছে ‘মুহতামিমের সীল ও স্বাক্ষর’। বেফাকের ‘মুহতামিম পদ’ কবে থেকে সৃষ্ট হলো, সে আরেক নতুন রহস্যের দ্বার উম্মোচন করে দিয়েছে। ফলে অসংখ্য ছাত্রদের ভুল প্রবেশপত্র পাওয়ার পরও পরীক্ষা দেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিলো। আরো কিছু মাদরাসার ফিস গ্রহণ করলেও প্রবেশপত্র সরবরাহ করা হয় নি। এসব নাটকীয়তার কারণে সংশ্লিষ্ট মাদরাসাগুলোর মুহতামিমগণ হাইকোর্টে রীট করতে বাধ্য হোন।

বেফাক ও হাইয়াতুল উলিয়ার মতো জাতীয় শিক্ষাবোর্ড কোন প্রকার লিখিত নোটিশ ছাড়া এই মাদরাসাগুলোর সাথে এমন আচরণ কোনভাবেই আইনসম্মত ছিল না। এতে করে তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অস্তিত্ব সংকটে পড়ার পাশাপাশি ছাত্রদের পরিক্ষা দিতে না পারলে ভবিষ্যত অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যেত। যা অমানবিক, অন্যায়, বৈষম্যপূর্ণ ও বেআইনি। সংসদে কওমী স্বীকৃতির আইন পাশের পরই হাইয়াতুল উলিয়ার অধীনে প্রথম পরিক্ষায় এমন অনিয়ম দেখে মহামান্য আদালত বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। আদালত কওমী শিক্ষাবোর্ড দুটির কর্তৃপক্ষের এমন আচরণে ভর্ৎসনাও করেন। পরিক্ষার আগেই যথার্থ ব্যবস্থা গ্রহন করতে মহামান্য আদালত কওমী মাদ্রাসার এই দুটি শিক্ষাবোর্ডকে অতিদ্রুত জরুরী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেছেন।

জাতীয় সংসদের ২২ তম অধিবেশনে ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ‘কওমি মাদরাসা সমূহের দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল)-এর সনদকে আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ এর অধীনে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) সমমান প্রদান বিল ২০১৮’ পাস হয়।

আইন পাস হওয়ার পরে সংস্থাটির অধীনে প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে ২০১৭ সালের ১১ এপ্রিল ২০১৭ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কওমি শিক্ষা সনদের মান ঘোষণা করার পর হাইআতুল উলয়ার অধীনে ৬ বোর্ডের সম্মিলিত দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষা ইতোপূর্বেও দুইবার (১৬-১৭ ও ১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ) অনুষ্ঠিত হয়েছে।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com