রবিবার, ০৭ মার্চ ২০২১, ০৮:১৩ অপরাহ্ন

হঠাৎ করে কেন অপরাধের পথে পা বাড়াল কিছু আলেম? সোচ্চার হওয়া সময়ের দাবী

হঠাৎ করে কেন অপরাধের পথে পা বাড়াল কিছু আলেম? সোচ্চার হওয়া সময়ের দাবী

 

মুফতী মিজানুর রহমান কাসেমী

এদেশের ধর্মপ্রান মুসলমানদের আশা ভরসার প্রতীক ছিল মাদরাসা শিক্ষা। দেখানো যুগে যুগে জন্ম নিয়েছেন দেশের সেরা আর্দশিক মানুষ। যাদের অনুসরণ করেছে আপমার জনসাধারণ। কিন্তু হঠাৎ  করে গত দুবছর যাবৎ এই অঙ্গনের কি হলো। নিচ থেকে উপর পর্যন্ত এজটি অস্তিরতা কাজ করছে।

 

কোন অপরাধে, কার অভিশাপে মারাত্মক অপরাধে জড়িয়ে পড়ার মতো ঘটনা ঘটছে একের পর এক। সমকামিতার মতো ভয়ংকর চিত্র এখন উঠে আসছে প্রতিদিন প্রত্রিকার পাতায়। নিয়মিত মাদ্রাসার উস্তাদ দের এ-ই অপরাধের জন্য সারাদেশে হাতকড়া পড়াচ্ছে পুলিশ। পাবলিক গনধোলাই দিচ্ছে।

 

গত দুই বছরে একাধিক ছাত্র খুনের মতো ভয়ংকর ঘটনা ঘটেছে। এ-ই কুলাঙ্গারদের জন্য বদনাম হচ্ছে গোটা আলেম সমাজের। এখনি এই লোকদের বিরূদ্ধে এখনি সোচ্চার না হলে সামনে ইসলামি অঙ্গনের জন্য ভয়াবহ দুর্দিন অপেক্ষা করছে।

 

সম্প্রতি তিনটি আলোচিত হত্যাকান্ড ঘটেছে মাদ্রাসায়। দুটি কওমী মাদ্রাসায়, একটি আলিয়া মাদ্রাসায়। আরও এ-র সাথে সরাসরি শিক্ষক জড়িত থাকার কথা গনমাধ্যমে আলোচিত হচ্ছে। আলেমদের হাতে যদি ছোট্ট শিশুরা নিরাপদ না থাকে তাহলে এই দেশ,ধর্ম ও জাতি কিভাবে নিরাপদ থাকবে। একের পর এক এই ঘটনাগুলো কলংকিত করছে গোটা মাদরাসা অঙ্গনকে।

 

গেল সাপ্তাহে রাজধানীর ডেমরায় নূরে মদিনা মাদ্রাসার শিশু ছাত্র মনির হোসেনকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ ও মসজিদে-এ আয়েশার ইমামসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা হলেন ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবদুল জলিল এবং দুই শিক্ষার্থী আকরাম হোসেন ও তোহা। গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, মনিরকে মসজিদের সিঁড়িতেই শ্বাসরোধে হত্যা করেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবদুল জলিল। এ সময় তাকে সহযোগিতা করেন আকরাম হোসেন ও তোহা। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ ফরিদ উদ্দিন। তিনি জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী মনিরকে অপহরণ করে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ চেয়েছিলেন আটকরা। কিন্তু মুক্তিপণ পাওয়ার আগেই তারা শিশুটিকে হত্যা করেন। আহ! কী মর্মান্তিক ঘটনা!

 

 

চট্টগ্রামে আবু বক্কর সিদ্দিক আল ইসলামিয়া মাদরাসা থেকে এক ছাত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত হাবিবুর রহমান (১২) খাগড়াছড়ির দীঘিনালা এলাকার বাসিন্দা। সে পরিবারের সাথে চট্টগ্রাম নগরের শেরশাহ বাংলাবাজার এলাকায় থাকতো। বুধবার রাত ১২টার দিকে মহানগরীর বায়েজিদ থানার অক্সিজেন এলাকার ওই মাদরাসা থেকে এই শিশু ছাত্রের লাশ উদ্ধার করা হয়। বায়েজিদ থানার ওসি আতাউর রহমান খন্দকার জানান, মাদরাসায় এক ছাত্রের ঝুলন্ত লাশ রয়েছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। শিশুটির পিতা আনিসুর রহমান বলেন, চারদিন আগে মাদরাসার শিক্ষক তারেক আহমেদ ছেলেকে মারধর করেন। এ কারণে ছেলে মাদরাসা থেকে পালিয়ে বাসায় চলে যায়। পরদিন বুঝিয়ে-শুনিয়ে ফের তাকে মাদরাসায় পাঠানো হয়। এরপর গতরাতে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।

 

 

আলোচিত হত্যকান্ড নুসরাত যার হাতে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি একজন মাদরাসার অধ্যক্ষ। সেই অধ্যক্ষ সিরাজুদ্দৌলা একজন আলেমের লেবাস নিয়ে এই অপকর্মে লিপ্ত হয়েছেন। এমনকি বোন নুসরাতকে ওই অধ্যক্ষ নিজের মতো করে পটাতে না পেরে সর্বশেষ অন্যদের দিয়ে তাকে হাত পা বেঁধে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে মারতে চান। যদিও সেদিন নুসরাত আগুনে পুড়েও কোনোরকমে প্রানে বেঁচে যান, কিন্তু শেষমেশ তাকে ইহজগত ত্যাগ করে পরপারে পাড়ি জমাতে হয়। এখানে লক্ষনীয় বিষয় হলো, অনেকে মনে করছেন এই ঘটনা যেহেতু একজন সরকারি তথা আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষের দ্বারা সংঘটিত হয়েছে সেহেতু আমরা কওমীরা বেঁচে যাব। আমি মনে করি এই ধারণা ভুল। কারন সিরাজুদ্দৌলা একজন আলেম বলা মাওলানা হিসাবে এ-র খেসারত দিতে হবে পুরো আলেম সমাজকেই।

 

এই তিনটি ঘটনা আগামি দিনের মাদরাসা শিক্ষার জন্য্য ভয়াবহ অশনিসংকেত দিচ্ছে। অপরাধ জগত থেকে কওমী শিক্ষকরা দ্রুত তওবা করে ফিরে না এলে আরও এভাবে শিশু নির্যাতন চলতে থাকলে আগামী দিনে আরো ভয়ংকর পরিস্থিতিতে পড়তে হবে আমাদেরকে।

Facebook Comment





© All rights reserved © 2020 TabligNewsBD.Com
Design & Developed BY PopularServer.Com